ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ স্বীকৃতি দেন জিয়া: বিএনপির অসত্য দাবি বঙ্গবন্ধু সরকারের অবদান মুছে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা
ইউনূস সরকারের বাতিল করা বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো আবার শূন্য থেকে শুরু বিএনপি’রঃ গত দুইবছরে গ্রিডে যুক্ত হয়নি এক ইউনিট বিদ্যুৎ
দুর্ভিক্ষের সকল লক্ষণ দৃশ্যমান কৃষি ও উৎপাদন ব্যবস্থায়: তবে কি সেদিকেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ?
সামনে বিএনপি-আ.লীগ পেছনে প্রশাসন সিন্ডিকেট
চরম পর্যায়ে লোডশেডিং: ভোগান্তিতে বাড়ছে জনরোষ, নিরাপত্তা শঙ্কায় বিদ্যুৎকর্মীরা
সারাদেশে ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে লোডশেডিংয়ের নতুন রেকর্ডঃ বন্ধ ৪১ বিদ্যুতকেন্দ্র
রাষ্ট্র রক্ষার দায় ও বিচারবিভাগীয় তদন্ত বন্ধের রহস্য: শেখ হাসিনার ভাষণের দুটি মৌলিক প্রশ্ন
ফুলবাড়ি উন্মুক্ত কয়লা খনিতে কর্মসংস্থানের “অবাস্তব” সংখ্যা: জনগণের চোখে ধুলো দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা
ফুলবাড়ী উন্মুক্ত কয়লা খনি প্রকল্পে GCM Resources Plc-এর খসড়া পুনর্বাসন পরিকল্পনা (Draft Resettlement Plan) এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খনি পরিচালনা ও এর সাথে জড়িত বিভিন্ন সহযোগী খাতে মোট ১৭,০০০ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ (Direct & Indirect) কর্মসংস্থান তৈরির প্রাক্কলন করা হয়েছে।
খনি প্রকল্পের কর্মসংস্থানের এই সংখ্যাটি আসলে খনি কোম্পানি GCM (সাবেক এশিয়া এনার্জি) তাদের বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এবং প্রকল্পটির পক্ষে জনমত গড়তে প্রচার করেছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র, কয়লা খনির প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশের একমাত্র সচল কয়লা খনি ‘বড়পুকুরিয়া’র দিকে তাকালে দেখা যায়, এই সংখ্যাটি অবাস্তব।
খনি কোম্পানির দাবির পেছনের মূল ফাঁকগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১। আজকের দিনে উন্মুক্ত খনিগুলোতে মানুষের কায়িক শ্রমের ব্যবহার
অনেক কমে গেছে। বিশাল আকারের ড্রাগলাইন, শত টনি ডাম্প ট্রাক এবং কনভেয়র বেল্ট ব্যবহার করার মূল উদ্দেশ্যই হলো কম মানুষ দিয়ে দ্রুত কাজ করা। যে কাজ ১,০০০ জন শ্রমিক মিলে করত, তা এখন একটি আধুনিক রোবোটিক এক্সকাভেটর বা কনভেয়র বেল্ট দিয়ে মাত্র ১০-১২ জন অপারেটরই করে ফেলতে পারে। ফলে খনি কোম্পানির দাবি করা হাজার হাজার শ্রমিকের কাজের সুযোগ বাস্তবে থাকে না। ২। ফুলবাড়ীর ঠিক পাশেই অবস্থিত দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি। সেটি ভূগর্ভস্থ খনি হলেও, সেখানে সরাসরি খনি কোম্পানিতে চাইনিজ আর দেশী মিলে কর্মচারীর সংখ্যা মাত্র ১,৩০০ থেকে ১৪০০জনের মতো। যার মধ্যে ১০০০ মত দেশী। স্থায়ী কর্মচারী কর্মকর্তা ১৭০ জন। অস্থায়ী কর্মকর্তা
কর্মচারী ৩০০ জনের মত। বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা প্রতিদিন ৩০০০? মেট্রিক টন। ফুলবাড়ী খনি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হলেও এবং আকার বড় হলেও সরাসরি খনি সংস্থায় নিয়মিত চাকুরির সংখ্যা কোনোভাবেই ২,০০০ থেকে ৩,০০০ এর বেশি হওয়া সম্ভব নয়। ৩। খনি কোম্পানি যে ৪,০০০-৫,০০০ কারিগরি ও প্রকৌশল পদের কথা বলে, তার বড় অংশেই নিয়োগ দেওয়া হয় অভিজ্ঞ বিদেশি বিশেষজ্ঞদের (যেমন চীন, অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের টেকনিশিয়ান)। স্থানীয় সাধারণ মানুষ বা খনির জন্য জমি হারানো কৃষকেরা শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার অভাবে বড় জোর নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা সাধারণ দিনমজুরের কাজ পান, যা কোম্পানির মোট দাবির সামান্য অংশ মাত্র। ৪। ১৭,০০০ কাজের যে হিসাব দেখানো হয়, তার প্রায় ৮০% কাজই হলো
অস্থায়ী (Temporary)। খনি খনন শুরুর প্রথম ৩-৪ বছর রাস্তা বানানো, বাঁধ দেওয়া বা পুনর্বাসন টাউন তৈরির জন্য প্রচুর রাজমিস্ত্রি ও লেবার লাগে। কিন্তু খনি একবার চালু হয়ে গেলে এই নির্মাণ শ্রমিকদের আর কোনো কাজ থাকে না। ফলে কাগজে-কলমে কর্মসংস্থান দেখালেও কয়েক বছর পর তারা আবার বেকার হয়ে পড়েন। স্বাধীন অর্থনীতিবিদ এবং পরিবেশবাদীদের মতে, ফুলবাড়ী প্রকল্পে সরাসরি খনি কোম্পানির স্থায়ী পে-রোলে বা চাকুরিতে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ জনের বেশি মানুষের যুক্ত হওয়ার কোনো বাস্তব সুযোগ নেই। বাকি সংখ্যাগুলো পরোক্ষ ব্যবসা (যেমন চা-দোকান, হোটেল বা পণ্য সরবরাহ) এবং অস্থায়ী নির্মাণ কাজের হিসাব যোগ করে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছে।
অনেক কমে গেছে। বিশাল আকারের ড্রাগলাইন, শত টনি ডাম্প ট্রাক এবং কনভেয়র বেল্ট ব্যবহার করার মূল উদ্দেশ্যই হলো কম মানুষ দিয়ে দ্রুত কাজ করা। যে কাজ ১,০০০ জন শ্রমিক মিলে করত, তা এখন একটি আধুনিক রোবোটিক এক্সকাভেটর বা কনভেয়র বেল্ট দিয়ে মাত্র ১০-১২ জন অপারেটরই করে ফেলতে পারে। ফলে খনি কোম্পানির দাবি করা হাজার হাজার শ্রমিকের কাজের সুযোগ বাস্তবে থাকে না। ২। ফুলবাড়ীর ঠিক পাশেই অবস্থিত দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি। সেটি ভূগর্ভস্থ খনি হলেও, সেখানে সরাসরি খনি কোম্পানিতে চাইনিজ আর দেশী মিলে কর্মচারীর সংখ্যা মাত্র ১,৩০০ থেকে ১৪০০জনের মতো। যার মধ্যে ১০০০ মত দেশী। স্থায়ী কর্মচারী কর্মকর্তা ১৭০ জন। অস্থায়ী কর্মকর্তা
কর্মচারী ৩০০ জনের মত। বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা প্রতিদিন ৩০০০? মেট্রিক টন। ফুলবাড়ী খনি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হলেও এবং আকার বড় হলেও সরাসরি খনি সংস্থায় নিয়মিত চাকুরির সংখ্যা কোনোভাবেই ২,০০০ থেকে ৩,০০০ এর বেশি হওয়া সম্ভব নয়। ৩। খনি কোম্পানি যে ৪,০০০-৫,০০০ কারিগরি ও প্রকৌশল পদের কথা বলে, তার বড় অংশেই নিয়োগ দেওয়া হয় অভিজ্ঞ বিদেশি বিশেষজ্ঞদের (যেমন চীন, অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের টেকনিশিয়ান)। স্থানীয় সাধারণ মানুষ বা খনির জন্য জমি হারানো কৃষকেরা শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার অভাবে বড় জোর নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা সাধারণ দিনমজুরের কাজ পান, যা কোম্পানির মোট দাবির সামান্য অংশ মাত্র। ৪। ১৭,০০০ কাজের যে হিসাব দেখানো হয়, তার প্রায় ৮০% কাজই হলো
অস্থায়ী (Temporary)। খনি খনন শুরুর প্রথম ৩-৪ বছর রাস্তা বানানো, বাঁধ দেওয়া বা পুনর্বাসন টাউন তৈরির জন্য প্রচুর রাজমিস্ত্রি ও লেবার লাগে। কিন্তু খনি একবার চালু হয়ে গেলে এই নির্মাণ শ্রমিকদের আর কোনো কাজ থাকে না। ফলে কাগজে-কলমে কর্মসংস্থান দেখালেও কয়েক বছর পর তারা আবার বেকার হয়ে পড়েন। স্বাধীন অর্থনীতিবিদ এবং পরিবেশবাদীদের মতে, ফুলবাড়ী প্রকল্পে সরাসরি খনি কোম্পানির স্থায়ী পে-রোলে বা চাকুরিতে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ জনের বেশি মানুষের যুক্ত হওয়ার কোনো বাস্তব সুযোগ নেই। বাকি সংখ্যাগুলো পরোক্ষ ব্যবসা (যেমন চা-দোকান, হোটেল বা পণ্য সরবরাহ) এবং অস্থায়ী নির্মাণ কাজের হিসাব যোগ করে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছে।



