ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
এমপি ভবনে মিলল গাজী নজরুলের সেই স্ত্রীর লাশ
এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী গ্রেফতার
সাতক্ষীরা জামায়াতের সাংসদের সাথে গোপনক্যামেরায় ধরা পরা মরিয়মের আত্মহত্যা
যুবলীগের লকডাউন কর্মসূচি: ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা, বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল ও সড়ক অবরোধের খবর (ভিডিও)
হামের থাবায় নিঃস্ব আরও ৪ পরিবার: দেশে মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৫৭, আক্রান্ত সাড়ে ২০ হাজার পার
ঝাড়ফুঁকের কথা বলে শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ, সাবেক জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাথে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত
কেরানীগঞ্জ কারাগারে আরও দুই বন্দির মৃত্যু: ধারণক্ষমতার তিন গুণ বন্দি, সেপ্টেম্বরে অন্তত ১১ বন্দির মৃত্যু
ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কয়েদি ও এক হাজতি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। রোববার রাতে পৃথক সময়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। কারাগারে ধারণক্ষমতার দুই থেকে তিন গুণ বন্দি থাকা এবং চিকিৎসাসেবার সংকটের মধ্যে এই মৃত্যু নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান জানান, মারা যাওয়া দুজন হলেন ৫৫ বছর বয়সী কয়েদি সোহরাব হোসাইন (কয়েদি নম্বর ৭১৮/এ) ও ৩২ বছর বয়সী হাজতি মো. আজিম উদ্দিন (হাজতি নম্বর ৭৫৮/এ)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোহরাব গত ১৪ সেপ্টেম্বর কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে হাসপাতালে এনে মেডিসিন বিভাগের ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি
করা হয়। তাঁর বাড়ি নওগাঁর মান্দা থানার রাঙ্গামাটি গ্রামে। আজিম রোববার কারাগারে অসুস্থ হলে তাঁকে জরুরি বিভাগে আনা হয়, পরে ৬০১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রাত সোয়া ১২টার দিকে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি আশুলিয়ার শান্তিপাড়া এলাকায়। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে আসা কারারক্ষী আমিনুল ইসলাম জানান, কোন মামলায় তাঁরা বন্দি ছিলেন তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলের মর্গে রাখা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত হবে, এরপর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ ময়নাতদন্তের পরই জানা যাবে। মাসের শুরু থেকে একের পর এক মৃত্যু টাইমস অব বাংলাদেশের ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের
শুরু থেকে ১৪ তারিখের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নয় বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একদিনে তিনজন এবং আরেকদিন দুজন মারা যান। রোববারের দুই মৃত্যু যোগ করলে গণমাধ্যমে আসা তথ্য অনুযায়ী চলতি মাসে এই কারাগারে অন্তত ১১ বন্দি মারা গেছেন। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে কারাগারে ৭৯ বন্দির মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের ৪৭ জন ছিলেন বিচারাধীন। আসক এসব তথ্য জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে সংকলন করে। ধারণক্ষমতার দুই থেকে তিন গুণ বন্দি কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর দেশের ৭৬টি কারাগারে বন্দি ছিলেন ১ লাখ ৪ হাজার ৬১৭ জন, যেখানে মোট ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৮৬। অর্থাৎ
ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি রয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে এটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪ হাজার ৫৯০ জন, কিন্তু সেখানে বন্দি রয়েছেন ১৩ হাজার ৯৮৭ জন, যা ধারণক্ষমতার প্রায় তিন গুণ। শেরপুর জেলা কারাগারে ১০০ জনের জায়গায় বন্দি ৭৪৬ জন, প্রায় সাত গুণ। চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে ধারণক্ষমতা ৭ হাজার ৮৫০ জন হলেও বন্দি রয়েছেন ১৯ হাজার ৯৬৬ জন। কারা কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার বাড়ায় এবং মাদক মামলার বন্দি বেড়ে যাওয়ায় চাপ বেড়েছে। ১ মে শুরু হওয়া দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫৩ হাজার ৫১৮ জন। মোট বন্দির মধ্যে মাদক মামলার আসামির
হার আগে ছিল ২০ থেকে ২২ শতাংশ, এখন তা প্রায় ৩২ শতাংশ। চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স সংকট সাবেক কারা মহাপরিদর্শক মো. মোতাহার হোসেনের বরাতে টাইমস অব বাংলাদেশ জানিয়েছে, ৭৫টি কারাগারে চিকিৎসকের ১৬১টি পদের ১৫৯টিই শূন্য। কারা অধিদপ্তরের নিজস্ব হিসাবে গত পাঁচ বছরে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা গেছেন ৪৯১ বন্দি। নির্ধারিত অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের অনেক সময় রিকশা বা ভ্যানে করে হাসপাতালে নিতে হয়। কারা কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, এই বিলম্ব মৃত্যুর একটি কারণ হতে পারে। সংকট মেটাতে নন-ক্যাডার চিকিৎসক নিয়োগের জন্য প্রেষণ বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব কারা অধিদপ্তর দিলেও সরকারের সাড়া মেলেনি বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের পরিচালক
এএসএম নাসির উদ্দিন এলান বলেন, অনেক বন্দি অসুস্থ বা আহত অবস্থায় কারাগারে ঢোকেন এবং ভেতরে চিকিৎসা পান না। গুরুতর অসুস্থ বন্দিকে হাসপাতালে পাঠানোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সময় নষ্ট হয়, এতে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরীর মতে, প্রতিটি কারাগারে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানসহ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দল এবং প্রাথমিক পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে অনেক মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনেরা প্রায়ই নির্যাতন বা চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তোলেন; কারা কর্তৃপক্ষ নির্যাতনের অভিযোগ স্বীকার করে না। কারা অধিদপ্তরের জেলার মাসুদ হাসান জুয়েল জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রত্যেক বন্দিরই আগে থেকে শারীরিক জটিলতা ও চিকিৎসার ইতিহাস ছিল। প্রয়োজনে তাঁদের একাধিকবার বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া
হয়েছে। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় নিয়ম অনুযায়ী অপমৃত্যু মামলা হয় এবং পুলিশ তা তদন্ত করে। কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, থাকার জায়গার সংকট ছাড়া বন্দিদের অন্য কোনো বড় অসুবিধা হচ্ছে না।
করা হয়। তাঁর বাড়ি নওগাঁর মান্দা থানার রাঙ্গামাটি গ্রামে। আজিম রোববার কারাগারে অসুস্থ হলে তাঁকে জরুরি বিভাগে আনা হয়, পরে ৬০১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রাত সোয়া ১২টার দিকে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি আশুলিয়ার শান্তিপাড়া এলাকায়। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে আসা কারারক্ষী আমিনুল ইসলাম জানান, কোন মামলায় তাঁরা বন্দি ছিলেন তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলের মর্গে রাখা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত হবে, এরপর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ ময়নাতদন্তের পরই জানা যাবে। মাসের শুরু থেকে একের পর এক মৃত্যু টাইমস অব বাংলাদেশের ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের
শুরু থেকে ১৪ তারিখের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নয় বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একদিনে তিনজন এবং আরেকদিন দুজন মারা যান। রোববারের দুই মৃত্যু যোগ করলে গণমাধ্যমে আসা তথ্য অনুযায়ী চলতি মাসে এই কারাগারে অন্তত ১১ বন্দি মারা গেছেন। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে কারাগারে ৭৯ বন্দির মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের ৪৭ জন ছিলেন বিচারাধীন। আসক এসব তথ্য জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে সংকলন করে। ধারণক্ষমতার দুই থেকে তিন গুণ বন্দি কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর দেশের ৭৬টি কারাগারে বন্দি ছিলেন ১ লাখ ৪ হাজার ৬১৭ জন, যেখানে মোট ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৮৬। অর্থাৎ
ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি রয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে এটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪ হাজার ৫৯০ জন, কিন্তু সেখানে বন্দি রয়েছেন ১৩ হাজার ৯৮৭ জন, যা ধারণক্ষমতার প্রায় তিন গুণ। শেরপুর জেলা কারাগারে ১০০ জনের জায়গায় বন্দি ৭৪৬ জন, প্রায় সাত গুণ। চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে ধারণক্ষমতা ৭ হাজার ৮৫০ জন হলেও বন্দি রয়েছেন ১৯ হাজার ৯৬৬ জন। কারা কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার বাড়ায় এবং মাদক মামলার বন্দি বেড়ে যাওয়ায় চাপ বেড়েছে। ১ মে শুরু হওয়া দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫৩ হাজার ৫১৮ জন। মোট বন্দির মধ্যে মাদক মামলার আসামির
হার আগে ছিল ২০ থেকে ২২ শতাংশ, এখন তা প্রায় ৩২ শতাংশ। চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স সংকট সাবেক কারা মহাপরিদর্শক মো. মোতাহার হোসেনের বরাতে টাইমস অব বাংলাদেশ জানিয়েছে, ৭৫টি কারাগারে চিকিৎসকের ১৬১টি পদের ১৫৯টিই শূন্য। কারা অধিদপ্তরের নিজস্ব হিসাবে গত পাঁচ বছরে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা গেছেন ৪৯১ বন্দি। নির্ধারিত অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের অনেক সময় রিকশা বা ভ্যানে করে হাসপাতালে নিতে হয়। কারা কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, এই বিলম্ব মৃত্যুর একটি কারণ হতে পারে। সংকট মেটাতে নন-ক্যাডার চিকিৎসক নিয়োগের জন্য প্রেষণ বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব কারা অধিদপ্তর দিলেও সরকারের সাড়া মেলেনি বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের পরিচালক
এএসএম নাসির উদ্দিন এলান বলেন, অনেক বন্দি অসুস্থ বা আহত অবস্থায় কারাগারে ঢোকেন এবং ভেতরে চিকিৎসা পান না। গুরুতর অসুস্থ বন্দিকে হাসপাতালে পাঠানোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সময় নষ্ট হয়, এতে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরীর মতে, প্রতিটি কারাগারে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানসহ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দল এবং প্রাথমিক পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে অনেক মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনেরা প্রায়ই নির্যাতন বা চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তোলেন; কারা কর্তৃপক্ষ নির্যাতনের অভিযোগ স্বীকার করে না। কারা অধিদপ্তরের জেলার মাসুদ হাসান জুয়েল জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রত্যেক বন্দিরই আগে থেকে শারীরিক জটিলতা ও চিকিৎসার ইতিহাস ছিল। প্রয়োজনে তাঁদের একাধিকবার বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া
হয়েছে। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় নিয়ম অনুযায়ী অপমৃত্যু মামলা হয় এবং পুলিশ তা তদন্ত করে। কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, থাকার জায়গার সংকট ছাড়া বন্দিদের অন্য কোনো বড় অসুবিধা হচ্ছে না।



