ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বাংলাদেশে আরেক বহুজাতিকের ব্যবসা গুটানোর উদ্যোগ: রিটেইল ব্যাংকিং বিক্রি করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড
আবারও জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধিঃ ডিজেল-পেট্রোল-অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল
দামের আগুনে পোড়ছে দরিদ্রের থালা: ডিম-মাছ এখন নিম্নবিত্তের জন্য বিলাসিতা
১০ মাসের মধ্যে আগস্টে সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতি
উচ্চমূল্যে মার্কিন গম ক্রয়: সরকারের দাবি বৃহত্তর কৌশল, অথচ ভুক্তভোগী ভোক্তা এবং দেশের অর্থনীতি
নবম পে স্কেল নিয়ে বড় সুখবর, অবশেষে আজ ভেটিংয়ে উঠল
১০ ডলারের এলএনজি ৩০ ডলারে কিনছে বিএনপি সরকার
গরিবের ‘রিজিক থেকে উঠে গেছে’ ডিম, পাঙ্গাস-তেলাপিয়াও
রাজধানীর বাজারগুলোতে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় আমিষজাতীয় খাবারের মূল্য লাগাতার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে বিগত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গরু ও খাসির মাংসের দাম যে পরিমাণে বেড়েছে, তাতে সাধারণ নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর পক্ষে তা কেনা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজার করতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের ভাষায়, ‘গরিবের রিজিক থেকে উঠে গেছে ডিম, পাঙ্গাস-তেলাপিয়ার মতো অল্প দামি খাবারও।
ঢাকার বেশ কয়েকটি খুচরা বাজারের চিত্রে দেখা যায়, বর্তমানে এক কেজি গরুর মাংসের জন্য গুনতে হচ্ছে ৮৫০ টাকা, যা কিছুদিন পূর্বেই পাওয়া যেত ৮০০ টাকায়। ফলে কেজিপ্রতি দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৫০ টাকা, যা শতকরা হিসেবে আনুমানিক ৬.৫ শতাংশের মতো।
খাসির মাংসের বাজারেও একই পরিস্থিতি বিদ্যমান। আগে যে খাসির মাংস প্রতি কেজি
১২০০ থেকে ১২৫০ টাকার মধ্যে কেনা যেত, এখন সেটির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০০ টাকায়—অর্থাৎ কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। কেবল মাংসের বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়, ডিম, ব্রয়লার মুরগি এবং অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী মাছের দামও এখন দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সীমানা পার হয়ে যাচ্ছে। শহরের খুচরা বাজারে এক ডজন ফার্মের ডিম সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাশাপাশি, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছের দাম কেজিপ্রতি ২৪০ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে। রাজধানীর কাওরান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে এসে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান ভ্যানচালক হাসানুল হক। সারা রাত ভ্যান চালিয়ে তিনি ৬৫০ টাকা আয় করেন, যা
দিয়েই তাকে পুরো পরিবার সামলাতে হয়। নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অতীতে অন্তত একটি ডিম দিয়ে এক থালা ভাত খেয়ে নেওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে ডিমের যে আকাশছোঁয়া দাম, তা কিনতেই নাভিশ্বাস উঠছে। যে পরিমাণ টাকা রুজি করি, তা দিয়ে গরুর মাংস কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই; ঠিক কবে শেষবার কিনেছিলাম তা-ও স্মরণে নেই।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেশ কিছুদিন আগে তিনি ব্রয়লার মুরগি কিনেছিলেন। এমনকি তাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য যেসব পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছ ভরসা ছিল, সেগুলো কেনার ক্ষেত্রেও এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। হাসানুল হকের আকুতি, ‘আমার ছোট মেয়েটা মাংস খাওয়ার বায়না করে, কিন্তু এই সামান্য আয়
দিয়ে সমস্ত সংসার খরচ মেটানোর পর তা কিনে দেওয়া সম্ভব হয় না।’ হিসাব করে দেখলে বোঝা যায়, গরুর মাংসের দর কেজিতে মাত্র ৫০ টাকা বাড়ার কারণে হাসানুলের মতো মানুষের দৈনিক উপার্জনের প্রায় ৮ শতাংশ অতিরিক্ত বেরিয়ে যাচ্ছে। এ থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, সামান্য দরবৃদ্ধিও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর বাজেটে কী ধরনের তীব্র আঘাত হানে। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন মন্তব্য করেন, বাজারের প্রায় প্রতিটি পণ্যের চড়া দামের কারণে খেটে খাওয়া মানুষেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, অসাধু সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, আর তাই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও
জোরালো করা জরুরি। অন্যদিকে, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ডিমের বাজারদর যেন স্বাভাবিক থাকে সেজন্য তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অবৈধ কারসাজির মাধ্যমে দর বাড়ানোর প্রমাণ মিললে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে মাঠপর্যায়ের কঠোর বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা—তদারকি ও আশ্বাসের ভীড়েও বাজারে মাংস, ডিম ও মাছের দর ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, যার প্রত্যক্ষ আঁচ এসে পড়ছে নিম্নবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে।
১২০০ থেকে ১২৫০ টাকার মধ্যে কেনা যেত, এখন সেটির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০০ টাকায়—অর্থাৎ কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। কেবল মাংসের বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়, ডিম, ব্রয়লার মুরগি এবং অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী মাছের দামও এখন দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সীমানা পার হয়ে যাচ্ছে। শহরের খুচরা বাজারে এক ডজন ফার্মের ডিম সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাশাপাশি, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছের দাম কেজিপ্রতি ২৪০ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে। রাজধানীর কাওরান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে এসে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান ভ্যানচালক হাসানুল হক। সারা রাত ভ্যান চালিয়ে তিনি ৬৫০ টাকা আয় করেন, যা
দিয়েই তাকে পুরো পরিবার সামলাতে হয়। নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অতীতে অন্তত একটি ডিম দিয়ে এক থালা ভাত খেয়ে নেওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে ডিমের যে আকাশছোঁয়া দাম, তা কিনতেই নাভিশ্বাস উঠছে। যে পরিমাণ টাকা রুজি করি, তা দিয়ে গরুর মাংস কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই; ঠিক কবে শেষবার কিনেছিলাম তা-ও স্মরণে নেই।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেশ কিছুদিন আগে তিনি ব্রয়লার মুরগি কিনেছিলেন। এমনকি তাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য যেসব পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছ ভরসা ছিল, সেগুলো কেনার ক্ষেত্রেও এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। হাসানুল হকের আকুতি, ‘আমার ছোট মেয়েটা মাংস খাওয়ার বায়না করে, কিন্তু এই সামান্য আয়
দিয়ে সমস্ত সংসার খরচ মেটানোর পর তা কিনে দেওয়া সম্ভব হয় না।’ হিসাব করে দেখলে বোঝা যায়, গরুর মাংসের দর কেজিতে মাত্র ৫০ টাকা বাড়ার কারণে হাসানুলের মতো মানুষের দৈনিক উপার্জনের প্রায় ৮ শতাংশ অতিরিক্ত বেরিয়ে যাচ্ছে। এ থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, সামান্য দরবৃদ্ধিও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর বাজেটে কী ধরনের তীব্র আঘাত হানে। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন মন্তব্য করেন, বাজারের প্রায় প্রতিটি পণ্যের চড়া দামের কারণে খেটে খাওয়া মানুষেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, অসাধু সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, আর তাই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও
জোরালো করা জরুরি। অন্যদিকে, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ডিমের বাজারদর যেন স্বাভাবিক থাকে সেজন্য তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অবৈধ কারসাজির মাধ্যমে দর বাড়ানোর প্রমাণ মিললে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে মাঠপর্যায়ের কঠোর বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা—তদারকি ও আশ্বাসের ভীড়েও বাজারে মাংস, ডিম ও মাছের দর ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, যার প্রত্যক্ষ আঁচ এসে পড়ছে নিম্নবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে।



