ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
রংপুরে ৪ খুন: কারণ হিসেবে হিন্দু সমাজের জাতপ্রথার দ্বন্দ্বের নয়া দাবি পুলিশের
আমিনবাজার বর্জ্য-বিদ্যুৎ প্রকল্প: আওয়ামী লীগ আমলে গৃহীত চীনা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
১২৯ বার পেছালো সাগর-রুনি মামলার তারিখ: শেখ হাসিনার সময় সমালোচনা থাকলেও এখন নীরবতা
“এখন আমি জামিন চাই না”-দিপু মনি: জামিনের আবেদন প্রত্যাহার করে জানালেন, আর প্রয়োজনীয়তা নেই
রেকর্ড ছুঁতে চলেছে এলএনজি আমদানি ব্যয়: দেড় লাখ কোটি টাকার ঋণের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিতে দেশ
মক্কা চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হবে প্রশ্নে যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মধ্যরাতে বাইকে দুই তরুণের মাঝে এক তরুণী, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা, নিহত অন্তত ৫০০, নিখোঁজ প্রায় ১৫০০
হিমালয়ের গভীরে হিমবাহের একাংশ ধসে পড়ায় নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং উভয় দেশ মিলিয়ে প্রায় ১৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক।
গত বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস আঘাত হানে। এতে নেপালে অন্তত ১৫৭ জন এবং তিব্বতে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পানি, কাদা ও পাথরের প্রবল স্রোত লেন্দে খোলা নদী উপত্যকা দিয়ে বয়ে গিয়ে বিভিন্ন গ্রাম ভাসিয়ে নেয় এবং ঘরবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে। অন্তত ১৯টি সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক
ভেসে গেছে। দুর্যোগের সূত্রপাত যেভাবে দুর্যোগের দিন বৃষ্টি না থাকায় প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হিমালয়ের গভীরে প্রায় ৫২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের নিচের অংশ ভেঙে প্রায় ১২০০ মিটার নিচে উপত্যকায় আছড়ে পড়ে। পতনের পথে এটি পাথর ও পলি সংগ্রহ করে একটি শক্তিশালী তুষার-পাথরের তুষারধসে রূপ নেয়, যা তিব্বতের লেন্দে নদীতে আঘাত হানে—নেপাল-চীন সীমান্ত পারাপার থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ধ্বংসাবশেষ সাময়িকভাবে নদীর গতিপথ আটকে দিলে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়, যা পরে ভেঙে গিয়ে প্রবল বন্যার সৃষ্টি করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প এই ধসের কারণ। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) পরে
তাদের মূল্যায়ন সংশোধন করে জানায়, ভূকম্পীয় সংকেতটি ভূমিকম্প নয়, বরং ভূমিধসের কারণেই সৃষ্টি হয়েছিল। এই ভূমিধস শেষ পর্যন্ত ৫.২ মাত্রার একটি ভূকম্পীয় ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। কোথায় কোথায় আঘাত হেনেছে বন্যা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের রাসুয়া জেলা, যা সরাসরি চীন সীমান্তের দক্ষিণে অবস্থিত। প্রাথমিক পানির ঢল লেন্দে খোলায় প্রবেশ করে ভোটে কোশি হয়ে ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে এবং দক্ষিণ দিকে নেপালের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। জানা গেছে, মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ত্রিশূলী নদীর পানির স্তর প্রায় ৯ মিটার বৃদ্ধি পায়। রাসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাপ্রু বেসি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর বন্যার পানি নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলায় পৌঁছে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর
ক্ষতি করে। সীমান্তের ওপারে তিব্বতের শিগাৎসে অঞ্চলের গিইরং বন্দরেও কাদা ও ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানে। ত্রিশূলী নদী শেষ পর্যন্ত নারায়ণী নদীতে মিশে ভারতের বিহার রাজ্যে প্রবেশ করে, যেখানে এটি গণ্ডক নদী নামে পরিচিত। হতাহত ও নিখোঁজদের পরিসংখ্যান নেপাল পুলিশ এ পর্যন্ত অন্তত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। তিব্বতের গিইরং কাউন্টিতে অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যেখানে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। নেপালে পুলিশ ও পর্যটন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মোট ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৬০০ জন বিদেশি। এই নিখোঁজ পর্যটকরা দুই ডজনেরও বেশি দেশের নাগরিক। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের
৬৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন নাগরিক। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো নিখোঁজ সব বিদেশি নাগরিকের সম্পূর্ণ জাতীয়তাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করেনি। নিখোঁজদের একটি বড় অংশ ছিলেন তিব্বতের কৈলাশ মানসরোবরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা তীর্থযাত্রী। পর্যটন কর্মকর্তারা দুর্যোগের সময় ওই অঞ্চল দিয়ে ভ্রমণরত দলগুলোর তথ্য যাচাই করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী রাজু ভাদেল আল জাজিরাকে জানান, দুর্যোগের সকালে তার আত্মীয়ের পুরো বাড়ি পানিতে ভেসে গেছে বলে তাকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফোনে জানানো হয়েছিল। শিক্ষক মনোজ মিশ্র জানান, তিনি বন্যার পানিতে অন্তত নয়টি ট্রাক মানুষসহ ভেসে যেতে দেখেছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ৬৫ জন কাঠমান্ডু ও স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উদ্ধার অভিযানে ৫ হাজারের
বেশি নেপালি সেনা ও পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন, হেলিকপ্টারযোগে খাদ্য, তাঁবু ও জরুরি সরবরাহ পাঠানো হচ্ছে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোতে। আন্তর্জাতিক সাড়া দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। ভারত প্রায় ১০ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী—অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র, কম্বল, স্বাস্থ্যসামগ্রী, সৌর বাতি ও ওষুধ—বহনকারী একটি উদ্ধারকারী বিমান নেপালে পাঠিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর সঙ্গে কথা বলে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেডারেশন (আইএফআরসি) নেপাল রেড ক্রস সোসাইটির ত্রাণ কার্যক্রম ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে জরুরি তহবিল হিসেবে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার) ছাড় করেছে। জাতিসংঘ নেপালে সরকার-পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য কর্মী
মোতায়েন করেছে, পাশাপাশি চীনে তাদের কার্যালয় তিব্বতে উদ্ধার অভিযানে সহায়তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুর্যোগ মানচিত্রায়ণে সহায়তার জন্য তাদের কোপার্নিকাস জরুরি ব্যবস্থাপনা সেবা সক্রিয় করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত বেশ কয়েকজন নাগরিক নিখোঁজ হওয়ায় সরকারি টাস্কফোর্স গঠন করেছে এবং নেপালে দ্রুত সাড়াদানকারী দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র একজন দুর্যোগ মোকাবিলা উপদেষ্টা পাঠানোর পাশাপাশি ৫ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ বলে অভিহিত করেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তিব্বতে নিখোঁজদের সন্ধানে সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ দুর্যোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এই নির্দিষ্ট হিমবাহ ধসের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা কতটা, তা এখনো নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি এবং বিজ্ঞানীরা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন। তবে এই দুর্যোগ ঘটেছে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যেখানে হিমালয় অঞ্চলে দ্রুত উষ্ণতা বৃদ্ধি ও হিমবাহ ক্ষয় চলছে। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, চীন, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল ও পাকিস্তান জুড়ে বিস্তৃত হিন্দুকুশ হিমালয় পর্বতমালার হিমবাহগুলো ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আগের দশকের তুলনায় ৬৫ শতাংশ দ্রুত গতিতে বরফ হারিয়েছে। গত প্রায় তিন দশকে নেপালের হিমবাহগুলো তাদের বরফের পরিমাণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হারিয়েছে। উপগ্রহ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ধসের আগে ওই হিমবাহের আশপাশে অস্বাভাবিক উষ্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল এবং তুষার আচ্ছাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে বরফের বেশি অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল। গলনের কারণে হিমবাহটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছিল কি না, তা নিয়ে গবেষকরা অনুসন্ধান চালাচ্ছেন, যদিও এই সপ্তাহের ধসের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সংযোগ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি ৫ হাজারের বেশি নেপালি সেনা ও পুলিশ সদস্য এখনো জীবিতদের সন্ধান ও মরদেহ উদ্ধারে কাজ করছেন। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, উচ্চ পানির স্তর ও পুরু কাদার স্তরের কারণে এখনো দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারীরা পৌঁছালে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিব্বতে, চীনা কর্তৃপক্ষ দুর্যোগস্থলের উজানে গিইরংয়ে এখনো বাঁধ দিয়ে আটকে থাকা একটি হ্রদের ওপর নজর রাখছে, যা উদ্ধার তৎপরতা জটিল করতে পারে এবং নতুন বন্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ভেসে গেছে। দুর্যোগের সূত্রপাত যেভাবে দুর্যোগের দিন বৃষ্টি না থাকায় প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হিমালয়ের গভীরে প্রায় ৫২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের নিচের অংশ ভেঙে প্রায় ১২০০ মিটার নিচে উপত্যকায় আছড়ে পড়ে। পতনের পথে এটি পাথর ও পলি সংগ্রহ করে একটি শক্তিশালী তুষার-পাথরের তুষারধসে রূপ নেয়, যা তিব্বতের লেন্দে নদীতে আঘাত হানে—নেপাল-চীন সীমান্ত পারাপার থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ধ্বংসাবশেষ সাময়িকভাবে নদীর গতিপথ আটকে দিলে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়, যা পরে ভেঙে গিয়ে প্রবল বন্যার সৃষ্টি করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প এই ধসের কারণ। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) পরে
তাদের মূল্যায়ন সংশোধন করে জানায়, ভূকম্পীয় সংকেতটি ভূমিকম্প নয়, বরং ভূমিধসের কারণেই সৃষ্টি হয়েছিল। এই ভূমিধস শেষ পর্যন্ত ৫.২ মাত্রার একটি ভূকম্পীয় ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। কোথায় কোথায় আঘাত হেনেছে বন্যা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের রাসুয়া জেলা, যা সরাসরি চীন সীমান্তের দক্ষিণে অবস্থিত। প্রাথমিক পানির ঢল লেন্দে খোলায় প্রবেশ করে ভোটে কোশি হয়ে ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে এবং দক্ষিণ দিকে নেপালের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। জানা গেছে, মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ত্রিশূলী নদীর পানির স্তর প্রায় ৯ মিটার বৃদ্ধি পায়। রাসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাপ্রু বেসি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর বন্যার পানি নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলায় পৌঁছে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর
ক্ষতি করে। সীমান্তের ওপারে তিব্বতের শিগাৎসে অঞ্চলের গিইরং বন্দরেও কাদা ও ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানে। ত্রিশূলী নদী শেষ পর্যন্ত নারায়ণী নদীতে মিশে ভারতের বিহার রাজ্যে প্রবেশ করে, যেখানে এটি গণ্ডক নদী নামে পরিচিত। হতাহত ও নিখোঁজদের পরিসংখ্যান নেপাল পুলিশ এ পর্যন্ত অন্তত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। তিব্বতের গিইরং কাউন্টিতে অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যেখানে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। নেপালে পুলিশ ও পর্যটন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মোট ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৬০০ জন বিদেশি। এই নিখোঁজ পর্যটকরা দুই ডজনেরও বেশি দেশের নাগরিক। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের
৬৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন নাগরিক। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো নিখোঁজ সব বিদেশি নাগরিকের সম্পূর্ণ জাতীয়তাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করেনি। নিখোঁজদের একটি বড় অংশ ছিলেন তিব্বতের কৈলাশ মানসরোবরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা তীর্থযাত্রী। পর্যটন কর্মকর্তারা দুর্যোগের সময় ওই অঞ্চল দিয়ে ভ্রমণরত দলগুলোর তথ্য যাচাই করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী রাজু ভাদেল আল জাজিরাকে জানান, দুর্যোগের সকালে তার আত্মীয়ের পুরো বাড়ি পানিতে ভেসে গেছে বলে তাকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফোনে জানানো হয়েছিল। শিক্ষক মনোজ মিশ্র জানান, তিনি বন্যার পানিতে অন্তত নয়টি ট্রাক মানুষসহ ভেসে যেতে দেখেছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ৬৫ জন কাঠমান্ডু ও স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উদ্ধার অভিযানে ৫ হাজারের
বেশি নেপালি সেনা ও পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন, হেলিকপ্টারযোগে খাদ্য, তাঁবু ও জরুরি সরবরাহ পাঠানো হচ্ছে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোতে। আন্তর্জাতিক সাড়া দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। ভারত প্রায় ১০ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী—অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র, কম্বল, স্বাস্থ্যসামগ্রী, সৌর বাতি ও ওষুধ—বহনকারী একটি উদ্ধারকারী বিমান নেপালে পাঠিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর সঙ্গে কথা বলে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেডারেশন (আইএফআরসি) নেপাল রেড ক্রস সোসাইটির ত্রাণ কার্যক্রম ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে জরুরি তহবিল হিসেবে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার) ছাড় করেছে। জাতিসংঘ নেপালে সরকার-পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য কর্মী
মোতায়েন করেছে, পাশাপাশি চীনে তাদের কার্যালয় তিব্বতে উদ্ধার অভিযানে সহায়তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুর্যোগ মানচিত্রায়ণে সহায়তার জন্য তাদের কোপার্নিকাস জরুরি ব্যবস্থাপনা সেবা সক্রিয় করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত বেশ কয়েকজন নাগরিক নিখোঁজ হওয়ায় সরকারি টাস্কফোর্স গঠন করেছে এবং নেপালে দ্রুত সাড়াদানকারী দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র একজন দুর্যোগ মোকাবিলা উপদেষ্টা পাঠানোর পাশাপাশি ৫ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ বলে অভিহিত করেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তিব্বতে নিখোঁজদের সন্ধানে সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ দুর্যোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এই নির্দিষ্ট হিমবাহ ধসের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা কতটা, তা এখনো নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি এবং বিজ্ঞানীরা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন। তবে এই দুর্যোগ ঘটেছে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যেখানে হিমালয় অঞ্চলে দ্রুত উষ্ণতা বৃদ্ধি ও হিমবাহ ক্ষয় চলছে। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, চীন, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল ও পাকিস্তান জুড়ে বিস্তৃত হিন্দুকুশ হিমালয় পর্বতমালার হিমবাহগুলো ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আগের দশকের তুলনায় ৬৫ শতাংশ দ্রুত গতিতে বরফ হারিয়েছে। গত প্রায় তিন দশকে নেপালের হিমবাহগুলো তাদের বরফের পরিমাণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হারিয়েছে। উপগ্রহ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ধসের আগে ওই হিমবাহের আশপাশে অস্বাভাবিক উষ্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল এবং তুষার আচ্ছাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে বরফের বেশি অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল। গলনের কারণে হিমবাহটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছিল কি না, তা নিয়ে গবেষকরা অনুসন্ধান চালাচ্ছেন, যদিও এই সপ্তাহের ধসের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সংযোগ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি ৫ হাজারের বেশি নেপালি সেনা ও পুলিশ সদস্য এখনো জীবিতদের সন্ধান ও মরদেহ উদ্ধারে কাজ করছেন। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, উচ্চ পানির স্তর ও পুরু কাদার স্তরের কারণে এখনো দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারীরা পৌঁছালে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিব্বতে, চীনা কর্তৃপক্ষ দুর্যোগস্থলের উজানে গিইরংয়ে এখনো বাঁধ দিয়ে আটকে থাকা একটি হ্রদের ওপর নজর রাখছে, যা উদ্ধার তৎপরতা জটিল করতে পারে এবং নতুন বন্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।



