কোন রকম টেন্ডার ছাড়াই অনেক বেশি মূল্যে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কাজ দেওয়া হলো! – ইউ এস বাংলা নিউজ




– শরিফুল হাসান (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনীতি বিশ্লেষক)
আপডেটঃ ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কোন রকম টেন্ডার ছাড়াই অনেক বেশি মূল্যে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কাজ দেওয়া হলো!

– শরিফুল হাসান (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনীতি বিশ্লেষক)
আপডেটঃ ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ |
দেশের গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মাতারবাড়ীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বসানোর কাজ পেতে যাচ্ছে চীনা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিএনইই)। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই সরকার-থেকে-সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে, চীনা দূতাবাসের একটি সুপারিশপত্রের পর মন্ত্রিসভা কমিটি এই অনুমোদন দেয়। এর আগে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরবসহ ১২টি দেশ ও প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রস্তাব চাওয়া হলেও সেই খোলা প্রক্রিয়া মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য উপাত্ত-তালিকা প্রকাশ করে প্রশ্ন উঠছে: কেন এতো বেশি মূল্যে দেয়া হচ্ছে, যেখানে অনেক কমে করার মতো প্রতিষ্ঠান আছে। এই প্রকল্পে বিড করা দুটি চীনা প্রতিষ্ঠান—CMI (China Merchant Industries)

ও CNEE—এর প্রস্তাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়: দৈনিক টার্মিনাল ফি: CMI প্রস্তাব করেছিল ১,৪৮,১১০ ডলার, আর CNEE-র প্রস্তাব প্রায় দ্বিগুণ, ৩,৪২,০০০ ডলার। স্টোরেজ ক্ষমতা: CMI-র প্রস্তাবিত ক্ষমতা ২,৮০,০০০ ঘনমিটার, যেখানে CNEE-র মাত্র ১,৭৪,০০০ ঘনমিটার। রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা: CMI-র ৭০০ mmcfd এর তুলনায় CNEE-র ৬০০ mmcfd। নির্মাণকাল: CMI ২৪ মাসে নিশ্চিত ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি দিলেও CNEE-র সময়সীমা অনিশ্চিত—১৮ থেকে ২৬ মাস। চুক্তির মেয়াদ: CMI ১২ বছর পর টার্মিনালের মালিকানা পেট্রোবাংলাকে হস্তান্তরের প্রস্তাব দিলেও CNEE-র চুক্তি মেয়াদ ১৫ বছর। এই তুলনার ভিত্তিতে মূল প্রশ্ন হলো—প্রায় প্রতিটি সূচকে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও কম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রস্তাবদাতা CNEE-কে বেছে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রের বাড়তি ব্যয় হতে পারে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত—যা করদাতাদের অর্থ। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কমিশন-বাণিজ্য

বা অনিয়মের আশঙ্কা “স্বাভাবিক প্রশ্ন” হিসেবে ওঠাটাই স্বাভাবিক। বিগত দিনে আমরা এমনই প্রশ্ন তুলতে দেখেছে পত্রিকা, মিডিয়া ও বিশেষজ্ঞদের। সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, CNEE-কে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে চীন সরকারের সরাসরি সুপারিশ ও জি-টু-জি চুক্তির কাঠামো কাজ করেছে, যেখানে সাধারণ উন্মুক্ত দরপত্রের নিয়ম প্রযোজ্য হয় না। জ্বালানি বিভাগ এটিকে প্রকিউরমেন্ট আইনের নির্দিষ্ট ধারার আওতায় বৈধ প্রক্রিয়া হিসেবে দেখিয়েছে। এছাড়া দেশের তীব্র গ্যাস সংকট ও দ্রুত সরবরাহ বাড়ানোর জরুরি প্রয়োজনও এই দ্রুত সিদ্ধান্তের একটি কারণ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে মূল্য ও ক্ষমতার তুলনায় কেন CNEE-কেই বেছে নেওয়া হলো, সে বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ বা পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে বিস্তারিত জনসম্মুখে

ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। সামিটের আগের চুক্তি বাতিল, যদিও সেটার খরচ ছিল কম এই তৃতীয় ভাসমান টার্মিনালের কাজ প্রথমে পেয়েছিল স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপ। ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই চুক্তির খসড়া অনুমোদন করে, এবং ২০২৪ সালের মার্চে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো দরপত্র ছাড়াই বিশেষ আইনের আওতায় সামিটের সঙ্গে চুক্তি সই হয়। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই চুক্তি বাতিল করে দেয়, এই অভিযোগ তুলে যে বিগত সরকার অনৈতিক সুবিধা দিয়ে সামিটকে কাজটি দিয়েছিল। সামিট গ্রুপের দাবি অনুযায়ী, চুক্তি বাতিলের আগ পর্যন্ত প্রকল্পে তারা ইতিমধ্যে দুই কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছিল এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতির দিক থেকেও প্রকল্পটি

এগিয়ে ছিল। চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সামিট তখন একে “অযৌক্তিক” আখ্যা দিয়ে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছিল, এবং সম্প্রতি আবারও পেট্রোবাংলার কাছে চুক্তিটি পুনর্বহালের অনুরোধ জানিয়েছে—তাদের দাবি, এতে বাংলাদেশের প্রায় ১১০ কোটি ডলার সাশ্রয় হবে চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবের তুলনায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৪ সালে চুক্তি হওয়ার পর যদি প্রকল্পটি বাতিল না হয়ে এগিয়ে যেত, তাহলে সাধারণ হিসাবে গত প্রায় দুই বছরে তৃতীয় এই ভাসমান টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেক্ষেত্রে চলতি বছরের জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগার পর যে তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে হয়তো এই তৃতীয় টার্মিনালটি বাড়তি সরবরাহের উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত—

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আসিফ নজরুলের ছাগল দুইটাই খাওয়া উচিত ছিল: পাটওয়ারী ইউএস ওপেনে হেরে র‍্যাকেট ভাঙলেন সাবালেঙ্কা সহসাই খুলছে না হরমুজ প্রণালি নাইন-ইলেভেনের আগে ভারতও ছিল ওসামা বিন লাদেনের নিশানায়: সিআইএ প্রতিবেদন সমুদ্রের গভীরে বিশাল স্বর্ণের খনির সন্ধান পেল চীন ২০ বছর একই লটারি নম্বরে ভাগ্য বদল, জিতলেন দেড় লাখ ডলার অনুসন্ধানে দুদক: এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি পাচারের অভিযোগ আদানির বন্ধ ইউনিট সচল হতেই থমকে গেল রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র: কমছে না লোডশেডিং চাল-তেল-সবজি-কাঁচামালের পর এবার ভারত থেকে এলো সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ! বাদ যাবে না কোনো পণ্য ডেঙ্গুর হটস্পট চট্টগ্রাম: একদিনে আক্রান্ত ৮৭, মৃত্যু ২ পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট, বিক্রির চাপে ক্রেতা কম টুঙ্গিপাড়ায় গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, যুবদলের ২ নেতা গ্রেপ্তার হুথিদের হাতে মায়ুন দ্বীপের পতন: বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহীদের হাতে ৯/১১ থেকে কি সত্যিই শিক্ষা নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র? মেসির দুর্দান্ত গোলেও জিততে পারল না ইন্টার মায়ামি জোড়া গোল দিয়ে এমবাপে বললেন, ‘প্রথমার্ধেই খেলা শেষ করে দিয়েছি’ মোদি-শি বৈঠক: গালওয়ান-পরবর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভারত-চীন সংলাপ জানুয়ারি-আগস্টঃ বাংলাদেশে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র প্রধানমন্ত্রীর লাইভ শুরুর সাথে সাথেই গেল বিদ্যুৎ, ফিরল বক্তব্য শেষ হওয়ার পর আত্মগোপন থেকে ২ বছর পর বাড়ি ফিরতেই পরিবারের সামনে যুবলীগ সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা