মৃত্যুঞ্জয়ী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেন-ই—প্রদীপ্ত আলোকবর্তিকা হয়ে – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মৃত্যুঞ্জয়ী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেন-ই—প্রদীপ্ত আলোকবর্তিকা হয়ে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ |
– রৌদ্র রুদ্র (রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক) “চির-উন্নত মম শির!” কাজী নজরুলের এই পঙ্‌ক্তি কেবল কাব্যের চরণ নয়—এটি আপসহীন সংগ্রামের এক অগ্নিঝরা মহাকাব্য। মাথা নত না করা, মৃত্যুকে তুচ্ছ জ্ঞান করা এবং ঝড়ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিজের পথ তৈরি করে নেওয়ার এক অদম্য হুঙ্কার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন যেন সেই বজ্রকঠিন প্রত্যয়েরই এক রক্তস্নাত অধ্যায়। আজ যখন সারা দেশ ব্যাকুল প্রতীক্ষায়, তখনই ধ্বনিত হয়েছে তাঁর সেই অমোঘ ঘোষণা: *তিনি আবার ফিরছেন, আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এ ফিরছেন নিজের রক্তস্নাত জন্মমাটিতে।* এই ফেরা কেবল একটি বার্তা নয়; এটি অন্ধকার ভেদ করে আলোয় ফেরার ঐতিহাসিক ঘোষণা। তিনি কেবল শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা

নন—তিনি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের লড়াই, ঘুরে দাঁড়ানো এবং মাথা উঁচু করে বাঁচার এক জীবন্ত প্রতীক। হাজার বছরের বাঙালি ইতিহাস যাঁকে চিনেছে বাতিঘর হিসেবে, কুয়াশাচ্ছন্ন সময়ে তিনিই পথ দেখান, দিকনির্ণয় করেন। তাঁকে বারবার থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। বুলেটের গর্জনে চক্রান্তকারীরা স্তব্ধ করতে চেয়েছে তাঁর পথচলা। কিন্তু প্রতিবারই তিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়েছেন আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে। রাজনীতি তাঁর কাছে নিছক ক্ষমতার সিঁড়ি ছিল না; ছিল এক রক্তাক্ত ইতিহাস, বাংলাদেশকে অন্ধকার থেকে আলোয় আনার আজীবন অঙ্গীকার এবং পিতার অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক পবিত্র দায়বদ্ধতা। মৃত্যুকে তুচ্ছ করেছিলেন যিনি ইতিহাসের পাতায় নজর দিলে দেখা যায়, অন্তত ২০ বার তাঁকেই চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার নৃশংস ষড়যন্ত্র হয়েছে। ১৯৮৭-র

রক্তঝরা রাজপথ, ১৯৮৮-র চট্টগ্রামে ঘাতকের বুলেটের বৃষ্টি, ১৯৮৯-এ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িতে হামলা কিংবা ১৯৯৪-এ ঈশ্বরদীতে ধেয়ে আসা মৃত্যুর ট্রেনবহর—প্রতিটি ঘটনা তাঁর অসীম সাহসের পরীক্ষা নিয়েছে। ২০০০ সালে কোটালীপাড়ায় মাটির নিচে পুঁতে রাখা ৭৬ কেজি বিস্ফোরক কিংবা ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের সেই নারকীয় গ্রেনেড হামলা—মৃত্যু তাঁর চোখের একদম সামনে দিয়ে গেছে, কিন্তু তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। কারণ, মৃত্যু যাঁকে বারবার তাড়া করেছে, তিনি মৃত্যুভয়কে জয় করে প্রদীপ্ত আলোকবর্তিকার মতো এগিয়ে গেছেন সামনের দিকে। আলো কখনো অন্ধকারের অনুমতি চায় না একটি প্রদীপের শক্তি অন্ধকার ভেদ করে আলো ছড়ানোর ক্ষমতায়। প্রতিকূলতা এসেছে, পথ রুদ্ধ করার চক্রান্ত হয়েছে; কিন্তু শেখ হাসিনার প্রত্যয়ের শিখা নিভে

যায়নি। তাই আগামী ডিসেম্বরে ফিরে আসার যে সাহসী অবস্থান তিনি নিয়েছেন, তা প্রমাণ করে—আলোকবর্তিকা কখনো সাময়িক অন্ধকারের কাছে মাথা নোয়ায় না। রক্তের দাগ মুছে স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণ শেখ হাসিনার নেতৃত্ব মানেই রূপান্তরের বাংলাদেশ। যে দেশকে একসময় অবহেলার চোখে দেখা হতো, সেই বাংলাদেশকে তিনি বিশ্বমঞ্চে আত্মমর্যাদা ও সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পদ্মা সেতুর প্রদীপ্ত বিশালতা, মেট্রোরেলের ক্ষিপ্র গতি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, প্রযুক্তিগত বিপ্লব কিংবা সামাজিক নিরাপত্তার সুদৃঢ় ভিত—সবই তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের অমলিন নিদর্শন। তিনি কেবল অবকাঠামো বদলাননি, বদলে দিয়েছেন বাঙালি জাতির আত্মবিশ্বাসের জায়গাটিকেও। আর সেই অর্জনের ভিাতেই আজ তাঁর অবধারিত প্রত্যাবর্তনের ডাক। ১৯৮১ ও ২০০৭: ফিনিক্স পাখির মতো পুনরুত্থান ১৯৭৫-এর ভয়াবহ স্বজন

হারানোর বেদনা নিয়ে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে যখন তিনি পা রেখেছিলেন এই বাংলায়, তা ছিল শোককে জাতীয় সংগ্রামে রূপান্তরের এক মহাকাব্যিক সূচনা। একইভাবে ২০০৭ সালের কারাপ্রকোষ্ঠের অন্ধকারও তাঁর ইস্পাতকঠিন সংকল্পকে ভাঙতে পারেনি। ইতিহাস সাক্ষী, প্রতিটি আঘাতের পর তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছেন। তাই ২০২৬-এর ডিসেম্বরে তাঁর প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়—এটি তাঁর জীবনের সেই ধারাবাহিক ফিনিক্স পাখির মতো পুনরুত্থানেরই আখ্যান। রবার্ট ফ্রস্টের সেই অমর বাণী যেন তাঁর জীবনেরই গভীর সুর— “And miles to go before I sleep, ঘুমিয়ে পড়ার আগে এখনও বহু পথ পাড়ি দিতে হবে। কারণ, একজন সত্যিকারের রাষ্ট্রনায়কের যাত্রা থামে না, যতক্ষণ না দেশের মানুষের

জন্য তাঁর স্বপ্ন ও অঙ্গীকারের পথচলা পূর্ণতা পায়। ডিসেম্বর—বিজয়ের মাস ও শিকড়ের টানে ফেরা শেখ হাসিনা বেছে নিয়েছেন ডিসেম্বরকে—যে মাস বাঙালির বিজয়ের মাস, মাথা উঁচু করার মাস। এই মাটিতে মিশে আছে তাঁর পিতার রক্ত, পরিবারের স্মৃতি আর স্বজনদের মহতী আত্মত্যাগ। তাই বিজয়ের মাসে যখন জাতির পিতার কন্যা বলেন—*”আমি আসছি, ডিসেম্বরেই ফিরছি দেশের মাটিতে”*—তখন তা আর সাধারণ কোনো রাজনৈতিক ঘোষণা থাকে না; তা হয়ে ওঠে রক্তে লেখা এক অমোঘ আত্মিক টান। রবীন্দ্রনাথ গেয়েছিলেন— “বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল— পুণ্য হউক, পুণ্য হউক……. । সাধারণ রাজনীতিকরা দেশে ফেরেন রাজনৈতিক প্রয়োজনে, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যার ফেরা যেন নির্বাসনের কুয়াশা ঠেলে নিজের মাটিতে শক্তির প্রবেশ। তাঁর ফেরা মানে

কোটি মানুষের বিশ্বাসের ঘরে আবার প্রদীপ জ্বলে ওঠা। একটি নাম, একটি ইতিহাস, একটি বাংলাদেশ গ্রেনেডের বিস্ফোরক তাঁকে থামাতে পারেনি, কারাগারের অন্ধকার তাঁকে রুদ্ধ করতে পারেনি, নির্বাসনের দূরত্ব তাঁকে মুছে দিতে পারেনি। কারণ, তাঁর গন্তব্য এক ও অদ্বিতীয়—বাংলাদেশ। ইতিহাসে অন্ধকার এসেছে বারবার, কিন্তু কোনো অন্ধকারই চিরস্থায়ী হয়নি। রাত যত দীর্ঘই হোক, ভোর তার পথ খুঁজে নেবেই। আর তাই শেখ হাসিনার এই প্রত্যাবর্তনের বার্তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে জন্মমাটির কাছে ফিরে যাওয়ার আকুলতা এবং একটি জাতির স্বপ্নকে আবার বিশ্বমঞ্চে উঁচুতে তুলে ধরার সুদৃঢ় অঙ্গীকার। মৃত্যুঞ্জয়ী শেখ হাসিনা ফিরবেন-ই—প্রদীপ্ত আলোকবর্তিকা হয়ে। ফিরবেন ডিসেম্বর ২০২৬-এর বিজয়ের রক্তিম আলোয়। ফিরবেন নিজের জন্মমাটিতে, নিজের আপামর মানুষের কাছে—বঙ্গবন্ধুর রক্তস্নাত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
কেরানীগঞ্জে গৃহবধূকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণের অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিরুদ্ধে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ব্যার্থ ট্রাম্পের বিশেষ দূত উইটকফঃ রাজধানীতে হমলা বন্ধে সম্মতি; চূড়ান্ত সমাধান এখনো অধরা সকালে কাজে এসে দেখলেন চাকরি নেইঃ গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের ৪ কারখানায় ‘গণছাঁটাই’ হলেন ৬১৩ শ্রমিক অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট ও ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ ভেনিসে বাঁধন-কে হেনস্তাকারী ইতালিপ্রবাসী মনিরুলের বাড়িতে মব নিয়ে হাজির মবহোতা আয়াস, তথ্যদাতা আলজাজিরা সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘিরে রহস্যময় কর্মকান্ড থামছেই না; এবার পরমাণু শক্তি কমিশন অফিসে অগ্নিকাণ্ড, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথি ক্ষতিগ্রস্ত গোপালগঞ্জে কনসার্টে শেখ হাসিনার নামে স্লোগান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আয়োজক গ্রেপ্তার মৃত্যুঞ্জয়ী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেন-ই—প্রদীপ্ত আলোকবর্তিকা হয়ে রাজশাহী-কলকাতা নতুন ট্রেন সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ নোয়াখালীতে পাইপগান-কার্তুজ ও চাপাতিসহ যুবদল নেতা গ্রেপ্তার রোগ সারাতে এসে আরো অসুস্থ হওয়ার শংকায় রোগীরা: আনোয়ারায় লোডশেডিং ও তেলের অভাবে বেহাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছেলে ছাত্রলীগ করায় ঘরে ঢুকে মাকে কুপিয়ে হত্যা, মহেশখালীতে আতঙ্ক ইউসিএল ২০২৬-২৭: চ্যাম্পিয়নস লিগের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও নতুন নিয়ম মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিখোঁজ যুবকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার: পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পরিবারের নওগাঁর মহাদেবপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুন, লুট হলো ৬ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৬ লাখ টাকা সার সংকট ঘিরে উত্তরাঞ্চলে অস্থিরতা: গুদাম লুট, সড়ক অবরোধ, মজুতদার গ্রেপ্তার যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজন নিহত, আরেকজন আহত খলিলকে নিউইয়র্কে পাঠিয়ে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে রিফ্রেশ-রুম দখলের অভিযোগ আসিয়ান কাপের আগে ফুটবলারদের চোটের ঝুঁকি নিয়ে ডুলির শঙ্কা পাকিস্তানের কোচ হতে ভয় পান মুশতাক