ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
চিংড়ি রপ্তানি কমেছে ৬২ শতাংশ, বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে ইন্দোনেশিয়া
দাম বাড়ল জেট ফুয়েলের
এটিএমে কার্ড স্পর্শ করেই তোলা যাবে টাকা, নেই আটকে যাওয়ার ভয়
২০২৭ সালের শুরুতেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে হবে বড় উত্থান
কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণ কমে গেছে, হুমকিতে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি
পাঁচটি দেশের ওপর রেমিট্যান্সের ৬২ শতাংশ নির্ভরতা, বাড়ছে কৌশলগত ঝুঁকির শঙ্কা
ভারত থেকে মরিচ আমদানির পরে ৫০০ টাকার কেজি নামলো একশ’তে
এক সপ্তাহে ডিমের দাম বাড়ল দেড়গুণ, ডজন ঠেকল ১৮০ টাকায়: সিন্ডিকেট ভাঙবে কে?
মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের বাজারে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের উত্তাল অবস্থা—দাম বেড়েছে প্রায় দেড়গুণ। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কোথাও কোথাও ফার্মের মুরগির ডিমের এক ডজন এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়, যেখানে মাত্র এক সপ্তাহ আগেই এই দাম ছিল ১২০ টাকা।
হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। সরকারের নজরদারির অভাব ও সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন তারা।
সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। সাশ্রয়ী আমিষের প্রধান উৎস হিসেবে খাদ্যতালিকায় নিয়মিত থাকা ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন প্রয়োজনের তুলনায় কম ডিম কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ তো একেবারেই খাদ্যতালিকা থেকে ডিম বাদ দিতে বাধ্য হয়েছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে
দেখা গেছে, বর্তমানে এক ডজন ডিমের দাম সর্বনিম্ন ১৬৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৮০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। এই হিসাবে এক হালি ডিম কিনতে ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, যা মাত্র এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৪০ টাকা। বর্তমান বাজারদরে একটি ডিমের দাম দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকায়—এই দামেই মিলছে এক হালি লেবু। অথচ প্রতিবছর রমজান মাস এলে সাধারণত একটি লেবুর দামে এক হালি ডিম পাওয়া যায়, যখন লেবুর হালি বেড়ে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে সময়ে সময়ে বিভিন্ন পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। তাদের মতে, প্রান্তিক চাষি বা খামারিরা যেমন ন্যায্যমূল্য পান না, তেমনি খুচরা বিক্রেতারাও খুব বেশি লাভবান হতে
পারেন না—কোনো পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে আসল ফায়দা লোটেন মধ্যস্বত্বভোগীরাই। রাজধানীর রামপুরা এলাকার মুদি দোকানি বাপ্পারাজ জানান, পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি বন্যার কারণেই ডিমের এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে তার নিজের ধারণা, এত অল্প সময়ে এতটা দাম বাড়ার পেছনে শুধু বন্যাই দায়ী নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীর সিন্ডিকেট। উদাহরণ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সিন্ডিকেট না থাকলে পোলাও চালের দাম কীভাবে এক মাসেই ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় পৌঁছাল? রোববার সকালে শ্যাওড়াপাড়ায় ডিম কিনতে গিয়ে দোকানির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান গৃহিনী মুনিরা ফেরদৌস। তার অভিযোগ, দোকানি তার কাছ থেকে বাড়তি দাম আদায়ের জন্য ৫৫ টাকায় ডিমের হালি চেয়েছেন। শেষমেশ কিছু না কিনেই সেই দোকান থেকে ফিরে
যান তিনি। দাম বাড়ার নেপথ্যে কী পোল্ট্রি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেলেই দ্রুত বেড়ে যায় ডিমের দাম। দেশে প্রতিদিনের ডিমের চাহিদা প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার কোটি, ফলে উৎপাদন বা সরবরাহে সামান্য ঘাটতিও বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। তবে দাম বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ কারসাজি—খামারিরা ন্যায্যমূল্য না পেলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা কখনোই কম লাভে ডিম বিক্রি করেন না, বরং সংকটের সুযোগ কাজে লাগানোর অপেক্ষায় থাকেন তারা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, ডিমের মূল্যবৃদ্ধি মূলত নির্ভর করে জোগান ও চাহিদার ওপর। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় দেশের অসংখ্য লেয়ার খামারি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—বন্যার পানিতে ভেসে গেছে মুরগি ও ডিম, নষ্ট হয়েছে
অনেক খামারির উৎপাদিত ডিমও। এর ফলেই বাজারে হঠাৎ তৈরি হয়েছে জোগানের বড় সংকট, যা দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। তবে তিনি ক্ষোভও প্রকাশ করেন এই বলে যে, ভোক্তাদের দেওয়া চড়া দামের সুফল খামারিরা কখনোই পান না। খামারিদের বিক্রয়মূল্য ও ভোক্তাদের ক্রয়মূল্যের মধ্যে থাকে বিরাট ব্যবধান, কারণ খামারিরা সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রির সুযোগ পান না। এই ফাঁক কাজে লাগিয়ে বেশি মুনাফা তুলে নেন মধ্যস্বত্বভোগীরা, অথচ দোষের ভাগ চাপানো হয় খামারিদের ওপরই। উল্লেখ্য, চলতি জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় পোল্ট্রি মুরগি ও ডিমের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার প্রতিবাদে মহাসড়কে ডিম ভেঙে প্রতীকী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন খামারিরা। বিপিআইএর তথ্যমতে, খামার পর্যায়ে একটি ডিম উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ১০
টাকা, অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় ৬ টাকায়—অর্থাৎ প্রতিটি ডিমে খামারিদের গুনতে হচ্ছে ৪ টাকা করে লোকসান। দীর্ঘদিন ধরে খামার পর্যায়ে ডিমের দাম সমন্বয় না হওয়ায় পোল্ট্রি শিল্পের মূল চালিকাশক্তি প্রান্তিক খামারিরাই পড়েছেন সবচেয়ে বড় সংকটে। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে এই খাত থেকে ঝরে পড়েছেন প্রায় ৬৪ হাজার খামারি।
দেখা গেছে, বর্তমানে এক ডজন ডিমের দাম সর্বনিম্ন ১৬৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৮০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। এই হিসাবে এক হালি ডিম কিনতে ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, যা মাত্র এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৪০ টাকা। বর্তমান বাজারদরে একটি ডিমের দাম দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকায়—এই দামেই মিলছে এক হালি লেবু। অথচ প্রতিবছর রমজান মাস এলে সাধারণত একটি লেবুর দামে এক হালি ডিম পাওয়া যায়, যখন লেবুর হালি বেড়ে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে সময়ে সময়ে বিভিন্ন পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। তাদের মতে, প্রান্তিক চাষি বা খামারিরা যেমন ন্যায্যমূল্য পান না, তেমনি খুচরা বিক্রেতারাও খুব বেশি লাভবান হতে
পারেন না—কোনো পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে আসল ফায়দা লোটেন মধ্যস্বত্বভোগীরাই। রাজধানীর রামপুরা এলাকার মুদি দোকানি বাপ্পারাজ জানান, পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি বন্যার কারণেই ডিমের এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে তার নিজের ধারণা, এত অল্প সময়ে এতটা দাম বাড়ার পেছনে শুধু বন্যাই দায়ী নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীর সিন্ডিকেট। উদাহরণ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সিন্ডিকেট না থাকলে পোলাও চালের দাম কীভাবে এক মাসেই ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় পৌঁছাল? রোববার সকালে শ্যাওড়াপাড়ায় ডিম কিনতে গিয়ে দোকানির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান গৃহিনী মুনিরা ফেরদৌস। তার অভিযোগ, দোকানি তার কাছ থেকে বাড়তি দাম আদায়ের জন্য ৫৫ টাকায় ডিমের হালি চেয়েছেন। শেষমেশ কিছু না কিনেই সেই দোকান থেকে ফিরে
যান তিনি। দাম বাড়ার নেপথ্যে কী পোল্ট্রি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেলেই দ্রুত বেড়ে যায় ডিমের দাম। দেশে প্রতিদিনের ডিমের চাহিদা প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার কোটি, ফলে উৎপাদন বা সরবরাহে সামান্য ঘাটতিও বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। তবে দাম বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ কারসাজি—খামারিরা ন্যায্যমূল্য না পেলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা কখনোই কম লাভে ডিম বিক্রি করেন না, বরং সংকটের সুযোগ কাজে লাগানোর অপেক্ষায় থাকেন তারা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, ডিমের মূল্যবৃদ্ধি মূলত নির্ভর করে জোগান ও চাহিদার ওপর। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় দেশের অসংখ্য লেয়ার খামারি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—বন্যার পানিতে ভেসে গেছে মুরগি ও ডিম, নষ্ট হয়েছে
অনেক খামারির উৎপাদিত ডিমও। এর ফলেই বাজারে হঠাৎ তৈরি হয়েছে জোগানের বড় সংকট, যা দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। তবে তিনি ক্ষোভও প্রকাশ করেন এই বলে যে, ভোক্তাদের দেওয়া চড়া দামের সুফল খামারিরা কখনোই পান না। খামারিদের বিক্রয়মূল্য ও ভোক্তাদের ক্রয়মূল্যের মধ্যে থাকে বিরাট ব্যবধান, কারণ খামারিরা সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রির সুযোগ পান না। এই ফাঁক কাজে লাগিয়ে বেশি মুনাফা তুলে নেন মধ্যস্বত্বভোগীরা, অথচ দোষের ভাগ চাপানো হয় খামারিদের ওপরই। উল্লেখ্য, চলতি জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় পোল্ট্রি মুরগি ও ডিমের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার প্রতিবাদে মহাসড়কে ডিম ভেঙে প্রতীকী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন খামারিরা। বিপিআইএর তথ্যমতে, খামার পর্যায়ে একটি ডিম উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ১০
টাকা, অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় ৬ টাকায়—অর্থাৎ প্রতিটি ডিমে খামারিদের গুনতে হচ্ছে ৪ টাকা করে লোকসান। দীর্ঘদিন ধরে খামার পর্যায়ে ডিমের দাম সমন্বয় না হওয়ায় পোল্ট্রি শিল্পের মূল চালিকাশক্তি প্রান্তিক খামারিরাই পড়েছেন সবচেয়ে বড় সংকটে। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে এই খাত থেকে ঝরে পড়েছেন প্রায় ৬৪ হাজার খামারি।



