আইডিএমসি ও আইওএম: আন্দোলনের নামে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর সহিংসতা, বাড়িছাড়া লাখো নেতাকর্মী – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ অক্টোবর, ২০২৫

আইডিএমসি ও আইওএম: আন্দোলনের নামে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর সহিংসতা, বাড়িছাড়া লাখো নেতাকর্মী

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ অক্টোবর, ২০২৫ |
গত বছর নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতে জোটবদ্ধ দাঙ্গাবাজদের সহিংসতার মুখে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী ঘরছাড়া হন। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার (আইডিএমসি) ও জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, রাজনৈতিক সহিংসতা, সংঘাত ও নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশে ১ লাখ ৫৯ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তবে প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা আরো বেশি এবং নির্যাতনের মাত্রা আরও ভয়াবহ বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তাদের শারিরিক নির্যাতন, খুন, জখম ও আগুনে ঘরবাড়ি ও সম্পদ পুড়িয়ে দিলেও তারা কোনও বিচার পাচ্ছেন না। এমনকি দখলদার ইউনূস সরকারের নির্দেশে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের যেন বাড়িভাড়া না দেওয়া হয় মাইকিং করে প্রচার করছে পুলিশ। জারি করছে প্রজ্ঞাপনও।

যা মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মীরা। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বাড়িভাড়া না দেওয়ার নির্দেশনা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গত বছরের আগস্ট থেকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের হাজার হাজার নেতাকর্মীর বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়, দোকান ও ব্যবসা লুট করা হয়, অনেককে পিটিয়ে, কুপিয়ে, গুলি করে হত্যা করা হয়। দলীয় সূত্র জানায়, এসব হামলায় অধিকাংশ ভুক্তভোগী ছিলেন নিরীহ, অরাজনৈতিক মানুষ যারা কেবল আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তাদেরকেও ইউনূস সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে নির্যাতন করা হয়। তাদের সম্পদ লুণ্ঠন ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অনেক ক্ষেত্রে তাদের উপস্থিতিতেই এসব সহিংসতার

ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীরা কোনো বিচার তো পাননি, উল্টো তারা আটক হয়েছেন, মব হামলার শিকার হয়েছেন, গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করছেন। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতার সময় দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের শতাধিক কার্যালয়, প্রায় ৫ হাজার নেতাকর্মীর ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে হামলা চালানো হয়। অনেক পরিবার আজও আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে এই হিসাব খণ্ডিত বলে জানা গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র। প্রতিটি ঘটনার রেকর্ড রয়েছে সংগঠনের কাছে, দায়িত্বশীলরা জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ৫ই আগস্টের পর রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ‘যে আন্দোলনটি জনগণের দাবি থেকে শুরু হয়েছিল, তা

ক্রমে প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় রূপ নেয়। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হন,’ বলেন তিনি। আইডিএমসি ও আইওএম জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে অন্তত ২ হাজার ৮০০ জনের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাকিরা দেশেই অবস্থান করছেন নাকি দেশ ছেড়ে গেছেন অথবা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এদের বড় অংশই আওয়ামী লীগ–সমর্থিত পরিবার, যারা হামলা–লুটপাটের ভয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তারা এখনো আত্মগোপনে আছেন। প্রায়ই আত্মগোপন থেকে বেরুলে মবের শিকার হচ্ছেন তারা। সরকার উৎখাত পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে দেশজুড়ে যেভাবে আওয়ামী লীগ–সমর্থিতদের ঘরবাড়ি, দোকান, এমনকি ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা হয়েছে, তা ছিল সংগঠিত ও পরিকল্পিত। অনেক

এলাকায় গোষ্ঠীগত মব তৈরি করে সম্পদ লুট করা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নামে মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়। এটি গণহত্যার সংজ্ঞার আওতায় পড়ে বলে জানান মানবাধিকার কর্মীরা। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, হামলার সময় দুষ্কৃতকারীরা কখনো উগ্রবাদী জঙ্গি স্লোগান, কখনো ইনকিলাব কিংবা জুলাইয়ের নামে স্লোগান দিতে দিতে নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়, লুটতরাজ চালায় এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটায়। প্রকাশ্যেই এসব ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখা যায় না। বিশ্লেষকদের মতে, এই সহিংসতায় শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, সামাজিকভাবেও একটি গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো এখনো নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকে কর্মহীন, অনেকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার

শর্তে বলেন, জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর তথ্যের মধ্যে নির্দলীয় বিশ্লেষণ থাকলেও, মাঠ পর্যায়ের অধিকাংশ ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ–সমর্থক। ‘আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছি যাতে এই বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো পুনর্বাসন ও সুরক্ষার আওতায় আসতে পারেন,’ বলেন তিনি। গত বছরের ৫ই আগস্টের পর যে সহিংসতা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তাতে আওয়ামী লীগের বহু নিরীহ নেতাকর্মী ও তাদের পরিবার ঘরছাড়া, সম্পদহারা ও জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আন্দোলনের নামে সংঘটিত এই সহিংসতা এখন একটি বড় মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। এই ক্ষতি ও ক্ষত পোষানোর নয় বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
কান উৎসবে প্রাধান্য পাচ্ছেন স্বাধীন নির্মাতারা যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ না তুললে পাকিস্তানে ইরানের প্রতিনিধি দল যাবে না ১২ কেজি এলপিজির দাম বেড়ে ১৯৪০ টাকা প্রতিনিধিরা আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছেন, শান্তি চুক্তি ‘হবে’ : ট্রাম্প দেশে মজুত গ্যাস দিয়ে ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব: জ্বালানিমন্ত্রী ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৫ পয়সা করার প্রস্তাব হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে আইএমএফের সম্পর্ক নেই যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ না তোলা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে: আইআরজিসি বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে নতুন বিতর্কে থালাপতি বিজয় শেখ মুজিবকে প্রাপ্ত সম্মান দিতে হবে: শাহাদাত হোসেন চবিতে পোস্টার হাতে ছাত্রলীগ নেতার অবস্থান এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী উৎপাদন বন্ধ হয়ে অচল দেশের সার কারখানাগুলো, আমদানি নির্ভরতায় বাংলাদেশ: জানালেন শিল্পমন্ত্রী এবার বন্ধ হয়ে গেল দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানাটিও জ্বালানি তেলের সংকট: দেশীয় কোম্পানির ট্যাংকারে উপচে পড়ছে পেট্রোল-অকটেন, নিচ্ছে না সরকার দুই সপ্তাহ ব্যবধানে নজিরবিহীন দুই দফা দাম বৃদ্ধি: ১২ কেজির এলপিজি এখন ১৯৪০ শরীফুলের স্পেলই নাকি কিউইদের মিরপুর জয়ের পথ দেখিয়েছে! তথ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে স্ক্রল আকারে সংবাদ প্রকাশের সমালোচনায় সাংবাদিক সায়ের বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের টাকায় এনজিও অভিযোগ সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের