ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ভারতে এআই মেগাহাব নির্মাণ শুরু করল গুগল
অনলাইন ব্যবসায় সফল হতে অনুসরণ করতে পারেন এই ১০টি ধাপ
এআই চালাতে নতুন চিপ উন্মোচন করলো গুগল
অ্যাপল কোম্পানির নেতৃত্বে নতুন মুখ
শিশু থেকে শখের বাইক ট্র্যাক করুন স্বল্প খরচে
চাঁদে অভিযান শেষ করে পৃথিবীতে ফিরলেন আর্টেমিস-২-এর নভোচারীরা
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে করণীয় কী? জেনে নিন রিনিউ করার নিয়ম
এআই’র প্রসারে সংকুচিত হচ্ছে মৌলিক চিন্তার পরিসর
একুশ শতকের তরুণ প্রজন্মের শেখার ধরন এখন নতুন বাঁক নিয়েছে। আগে যেখানে পরীক্ষার প্রস্তুতি, প্রবন্ধ রচনা বা কোনো বিষয়ের বিশ্লেষণ জানতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই ঘেঁটে সময় দিতে হতো, সেখানে এখন কয়েক সেকেন্ডেই উত্তর হাজির করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবট নামক ভার্চুয়াল বন্ধু। দীর্ঘ কোনো ভিডিও সম্পূর্ণ দেখার প্রয়োজন হয় না। এক ক্লিকেই তার মূল বক্তব্য পাওয়া যায়।
স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়—সবাই এখন তথ্য জানার সহজ উপায় হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই) নানা ধরনের চ্যাটবটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। শুধু শিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়; বিভিন্ন সৃজনশীল কাজেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। ছবি, ভিডিও এডিটিং, ভার্চুয়াল জগতের ওপর এমন নির্ভরশীলতা মানসিক বিকাশকে
বাধাগ্রস্ত করছে কিনা, তা নিয়ে নানা প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে। ঢাকার রামপুরার বনশ্রীর এক কোচিং সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, ক্লাসের বিরতির সময় স্কুলপড়ুয়া রাফি ও তার বন্ধুরা স্মার্টফোনে চ্যাটজিপিটি খুলে তাদের অ্যাসাইনমেন্ট ও নোট তৈরি করছে। রাফি জানায়, আগে বই, গাইড ঘেঁটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিতে হতো। এখন শুধু লিখি ‘বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের অবদান নিয়ে প্রবন্ধ চাই’; কয়েক সেকেন্ডেই সুন্দরভাবে সাজানো উত্তর পেয়ে যাই। তারপর নিজের মতো একটু বদলিয়ে জমা দিই। তবে কোচিংয়ের শিক্ষকরা এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষার্থীরা কম সময়ে কাজ শেষ করতে পারলেও চিন্তাগত সৃজনশীলতার জায়গা ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে। এক শিক্ষক বলেন, এআই ভালো টুল। কিন্তু এখন
অনেকেই মাথা না খাটিয়ে শুধু টুলসের ভরসায় কাজ করছে। এটা বেশ উদ্বেগজনক। চ্যাটজিপিটির প্রভাব শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে নয়; অভিভাবকদের জীবনেও ছড়িয়ে পড়েছে। বনানীর নুসরাত রহমান তাঁর অষ্টম শ্রেণির মেয়ে তাসনুভাকে পড়াতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি গণিতে ভালো না। কিন্তু মেয়েটা এখন নিজের প্রশ্ন নিজেই সমাধান করতে পারে। এতে ওর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।’ তবে তিনি উদ্বেগও প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, সব কিছু যদি চ্যাটজিপিটি বলে দেয়, তাহলে বাচ্চারা নিজেরা চিন্তা করবে কীভাবে? অন্যদিকে পুরান ঢাকার রোজিনা পারভিন বলেন, ‘চ্যাটজিপিটি যেমন জ্ঞান দিচ্ছে, তেমনি অলসতাও বাড়াচ্ছে। বাচ্চারা বই ধরছে না। শেখার আনন্দটা যেন হারিয়ে যাচ্ছে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরিয়ান মাহমুদ বলেন, ‘চ্যাটজিপিটি
আমার জন্য গাইডলাইন দেয়। আমি গবেষণার কাঠামো সাজাতে সাহায্য পাই। তবে সেটাকে হুবহু ব্যবহার করি না; নিজে বিশ্লেষণ করি।’ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষের ছাত্রী তাসনিম আক্তার জানান, ‘আমরা কখনও কখনও পুরো অ্যাসাইনমেন্ট চ্যাটজিপিটিতে তৈরি করে জমা দিই। সময় বাঁচে। কিন্তু নিজেরা চিন্তা করা বা লিখতে শেখার আগ্রহ হারাচ্ছি।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সহকারী অধ্যাপক মালিহা তাবাসসুম জানান, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এআই ব্যবহারের নির্দিষ্ট জাতীয় পরিসংখ্যান নেই। তবে শিক্ষাক্ষেত্রে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।’ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত গত মার্চে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী চ্যাটজিপিটির বিনামূল্যের সংস্করণ ব্যবহার করে।
একই গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করে, চ্যাটজিপিটি তাদের পড়াশোনায় দক্ষতা বাড়াতে বা ভালো ফল অর্জনে সাহায্য করে। গবেষণা অনুসারে, শিক্ষকদের একটি বড় অংশ শিক্ষার উপকরণ তৈরি এবং তথ্যের সঠিকতা যাচাই করতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষকরা গবেষণার মতো জটিল কাজে চ্যাটজিপিটির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে কম আস্থা রাখেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় ২০ জন শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এখানে দেখা গেছে—শিক্ষার্থীরা চ্যাটজিপিটি, জেমিনি, ডিপসিককে ‘দ্রুত সহায়ক’ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও একাডেমিক সততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বৈশ্বিক প্রবণতা এ প্রবণতা কেবল বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৈশ্বিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে
এআই ব্যবহারের হার ২০২৪ সালে ৬৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৯২ শতাংশ হয়েছে। হোপল্যাবের ২০২৪ সালের গবেষণা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ থেকে ২২ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে ৫১ শতাংশ কমপক্ষে একবার এআই ব্যবহার করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন শিক্ষা গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের কার্যকারিতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এক সমীক্ষায় ২৩ হাজার ২১৮ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ১০৯টি দেশ থেকে অংশগ্রহণ করেন। এতে দেখা গেছে, তারা মূলত চিন্তাভাবনায় বৈচিত্র্য, বিষয়বস্তু সংক্ষেপ এবং গবেষণায় লেখায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন। সেইসঙ্গে তারা জানিয়েছেন, এটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষায় ততটা নির্ভরযোগ্য নয়। ঝুঁকছেন শিক্ষক-অভিভাবকরাও শিক্ষক-অভিভাবকরাও ঝুঁকছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষকরা সময় বাঁচানো ও শিক্ষা-উপকরণ তৈরির জন্য
এআই ব্যবহার করছেন। ইনজিনিয়ারিকা নামক একটি সংস্থার গত অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮৯ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষামূলক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। শিক্ষকরা এআই ব্যবহার বিষয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগেন। পিউ রিসার্চের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২৫ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, শিক্ষায় ইতিবাচক দিকের চেয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এআই। অভিভাবকরাও এআই সম্পর্কে বেশ আগ্রহী। ওয়ালটন ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের এক জরিপ অনুসারে, ৬১ শতাংশ অভিভাবক চ্যাটজিপিটিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। কমনসেন্স মিডিয়ার জরিপ অনুযায়ী, ৭৭ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন, এআইচালিত টুলস তাদের সন্তানদের শিখতে সাহায্য করে। ইউএনআইসিআরআই পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক জরিপ (২০২৫) অনুসারে, প্রায় ৫০ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন, এআই চ্যাটবটকে সঠিক নীতিমালার আওতায় না আনা পর্যন্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। ৪৩ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন, তাদের নিজেদের এআই সরঞ্জাম দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট জ্ঞান নেই, যাতে তারা তাদের সন্তানকে গাইড করতে পারেন। কমছে সৃজনশীলতা চ্যাটজিপিটির রয়েছে নেতিবাচক দিক। এর ব্যবহার কমিয়ে দিতে পারে মানুষের সৃজনশীলতা; সংকুচিত করতে পারে গভীর চিন্তার পরিসর। ‘জেনারেটিভ এআই ইউজেস অ্যান্ড এক্সাম পারফরমেন্স’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা চ্যাটটুলের সাহায্যে কাজ করেন, তারা পরীক্ষায় অন্যান্য টুল ব্যবহারকারীর তুলনায় গড়ে ৬ দশমিক ৭১ নম্বর কম পেয়েছেন। এআই ব্যবহারে উঠতি কিশোর-কিশোরীদের জ্ঞান ও মানসিক বিকাশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন। সুইস বিজনেস স্কুলের গবেষক মাইকেল গার্লিকের ৬৬৬ অংশগ্রহণকারীর ওপর চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিনের কাজের জন্য নিয়মিত এআই ব্যবহার করেন, তাদের সৃজনশীল চিন্তার ক্ষমতা এটি যারা ব্যবহার করেন না তাদের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম। ইন্দোনেশিয়ার বান্দুং সিটির হাইস্কুলের কিশোরদের ওপর চালানো এক গবেষণা থেকে জানা যায়, ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করলেও মাত্র ৩৫ শতাংশ জানে, কীভাবে এটি বুদ্ধিমানের মতো ব্যবহার করতে হয়। অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে তারা প্রাপ্ত উত্তরগুলোকে কোনো বিবেচনা ছাড়াই সহজে গ্রহণ করে। প্রভাব পড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যে চ্যাটবটগুলো কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছে। গত আগস্টে সেন্টার ফর কাউন্টারিং হেট পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গবেষকরা যখন ১৩ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীর ছদ্মবেশে আত্ম-ক্ষতি, আত্মহত্যা, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বা খাদ্যে অনিয়ম নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে আলোচনা করেন, তখন অর্ধেকের বেশি সময়ই চ্যাটজিপিটি ক্ষতিকারক বা বিপজ্জনক তথ্য দিয়েছে; যেমন—আত্মহত্যার নোট লেখা বা স্কুলে মাদকাসক্তি লুকানোর কৌশল। গত জুলাইয়ে কমনসেন্স মিডিয়া পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন কিশোর-কিশোরীদের ৭২ শতাংশ এআই চ্যাটবটকে সঙ্গী হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাদের মধ্যে প্রায় আট ভাগের এক ভাগ চ্যাটবটগুলোর কাছে ‘আবেগজনিত বা মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা’ চেয়েছে। কিছু ব্যবহারকারী, বিশেষ করে কম বয়সী কিশোর-কিশোরীরা স্ন্যাপচ্যাটের ‘মাই এআই’র মতো চ্যাটবটের সঙ্গে আলাপচারিতা করে বেশি ইতিবাচক আবেগ অনুভব করে। গবেষকরা বলছেন, চ্যাটবট ব্যবহারকারীদের স্বাভাবিক মানবিক সম্পর্ক থেকে দূরে সরিয়ে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করতে পারে। সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড টেকনোলজির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্ধেকসংখ্যক শিক্ষার্থী মনে করে, ক্লাসে এআই ব্যবহারের ফলে শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক দুর্বল হচ্ছে। যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা এসব বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিলেন হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. ফারজানা রাবিন। তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তির সুবিধা আছে; অসুবিধাও আছে। এর ব্যবহার মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম ও ভাবনার জায়গাটি কমিয়ে দিচ্ছে। রোগীকে দেখে আমরা প্রথমে তিন-চারটি সম্ভাব্য রোগের কথা ভাবি; মিল-অমিল যাচাই করি। কিন্তু নতুন অনেক শিক্ষার্থী সেই মেধা-মন ব্যবহার না করে কেবল এআইয়ের ওপরই ভরসা করছে। এটা ভবিষ্যতে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। তরুণদের আচরণের আরেকটি পরিবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, এখন অনেক ছাত্রছাত্রী মানুষের তুলনায় এআই ক্যারেক্টারের সঙ্গে কথা বলতে বেশি স্বস্তি বোধ করছে। একজন রোগী পেয়েছি, সে মন খারাপের কথা বলে এআইকে। কিন্তু এআই ভুলভাবে তাকে উত্তর দিয়েছে—‘তাহলে বেঁচে থাকার দরকার কী?’ এরপর সে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকে পড়ে। ডা. রাবিন বলেন, ব্যবহার বন্ধ নয়, নিয়ন্ত্রণ করাই বেশি প্রয়োজন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের শিশু-কিশোর ও পারিবারিক মনস্তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ডাক্তার হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এআইকে আমরা বাদ দিতে পারব না, পরিহারও করতে পারব না। আমরা এআইকে কতটুকু যৌক্তিকতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে ব্যবহার করছি, সেটাই মূল বিষয়। এআই সঠিকভাবে যদি ব্যবহার করতে পারি, তবে শিশুদের জ্ঞানের বিকাশে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আর যৌক্তিকভাবে ব্যবহার না করি, এটিকে যদি আমরা পরীক্ষায় পাস বা শর্টকাট উপায়ে ব্যবহার করি, তা কিন্তু আমাদের জন্য ক্ষতিকর হবে।’ তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যেমন জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশকে ত্বরান্বিত করছে; নানা কাজে সহযোগী হয়ে উঠছে, তেমন এর নেতিবাচক নানা দিকও আছে। এর অপব্যবহার রোধে তাই নীতিমালা জরুরি।
বাধাগ্রস্ত করছে কিনা, তা নিয়ে নানা প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে। ঢাকার রামপুরার বনশ্রীর এক কোচিং সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, ক্লাসের বিরতির সময় স্কুলপড়ুয়া রাফি ও তার বন্ধুরা স্মার্টফোনে চ্যাটজিপিটি খুলে তাদের অ্যাসাইনমেন্ট ও নোট তৈরি করছে। রাফি জানায়, আগে বই, গাইড ঘেঁটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিতে হতো। এখন শুধু লিখি ‘বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের অবদান নিয়ে প্রবন্ধ চাই’; কয়েক সেকেন্ডেই সুন্দরভাবে সাজানো উত্তর পেয়ে যাই। তারপর নিজের মতো একটু বদলিয়ে জমা দিই। তবে কোচিংয়ের শিক্ষকরা এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষার্থীরা কম সময়ে কাজ শেষ করতে পারলেও চিন্তাগত সৃজনশীলতার জায়গা ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে। এক শিক্ষক বলেন, এআই ভালো টুল। কিন্তু এখন
অনেকেই মাথা না খাটিয়ে শুধু টুলসের ভরসায় কাজ করছে। এটা বেশ উদ্বেগজনক। চ্যাটজিপিটির প্রভাব শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে নয়; অভিভাবকদের জীবনেও ছড়িয়ে পড়েছে। বনানীর নুসরাত রহমান তাঁর অষ্টম শ্রেণির মেয়ে তাসনুভাকে পড়াতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি গণিতে ভালো না। কিন্তু মেয়েটা এখন নিজের প্রশ্ন নিজেই সমাধান করতে পারে। এতে ওর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।’ তবে তিনি উদ্বেগও প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, সব কিছু যদি চ্যাটজিপিটি বলে দেয়, তাহলে বাচ্চারা নিজেরা চিন্তা করবে কীভাবে? অন্যদিকে পুরান ঢাকার রোজিনা পারভিন বলেন, ‘চ্যাটজিপিটি যেমন জ্ঞান দিচ্ছে, তেমনি অলসতাও বাড়াচ্ছে। বাচ্চারা বই ধরছে না। শেখার আনন্দটা যেন হারিয়ে যাচ্ছে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরিয়ান মাহমুদ বলেন, ‘চ্যাটজিপিটি
আমার জন্য গাইডলাইন দেয়। আমি গবেষণার কাঠামো সাজাতে সাহায্য পাই। তবে সেটাকে হুবহু ব্যবহার করি না; নিজে বিশ্লেষণ করি।’ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষের ছাত্রী তাসনিম আক্তার জানান, ‘আমরা কখনও কখনও পুরো অ্যাসাইনমেন্ট চ্যাটজিপিটিতে তৈরি করে জমা দিই। সময় বাঁচে। কিন্তু নিজেরা চিন্তা করা বা লিখতে শেখার আগ্রহ হারাচ্ছি।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সহকারী অধ্যাপক মালিহা তাবাসসুম জানান, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এআই ব্যবহারের নির্দিষ্ট জাতীয় পরিসংখ্যান নেই। তবে শিক্ষাক্ষেত্রে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।’ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত গত মার্চে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী চ্যাটজিপিটির বিনামূল্যের সংস্করণ ব্যবহার করে।
একই গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করে, চ্যাটজিপিটি তাদের পড়াশোনায় দক্ষতা বাড়াতে বা ভালো ফল অর্জনে সাহায্য করে। গবেষণা অনুসারে, শিক্ষকদের একটি বড় অংশ শিক্ষার উপকরণ তৈরি এবং তথ্যের সঠিকতা যাচাই করতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষকরা গবেষণার মতো জটিল কাজে চ্যাটজিপিটির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে কম আস্থা রাখেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় ২০ জন শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এখানে দেখা গেছে—শিক্ষার্থীরা চ্যাটজিপিটি, জেমিনি, ডিপসিককে ‘দ্রুত সহায়ক’ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও একাডেমিক সততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বৈশ্বিক প্রবণতা এ প্রবণতা কেবল বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৈশ্বিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে
এআই ব্যবহারের হার ২০২৪ সালে ৬৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৯২ শতাংশ হয়েছে। হোপল্যাবের ২০২৪ সালের গবেষণা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ থেকে ২২ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে ৫১ শতাংশ কমপক্ষে একবার এআই ব্যবহার করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন শিক্ষা গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের কার্যকারিতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এক সমীক্ষায় ২৩ হাজার ২১৮ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ১০৯টি দেশ থেকে অংশগ্রহণ করেন। এতে দেখা গেছে, তারা মূলত চিন্তাভাবনায় বৈচিত্র্য, বিষয়বস্তু সংক্ষেপ এবং গবেষণায় লেখায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন। সেইসঙ্গে তারা জানিয়েছেন, এটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষায় ততটা নির্ভরযোগ্য নয়। ঝুঁকছেন শিক্ষক-অভিভাবকরাও শিক্ষক-অভিভাবকরাও ঝুঁকছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষকরা সময় বাঁচানো ও শিক্ষা-উপকরণ তৈরির জন্য
এআই ব্যবহার করছেন। ইনজিনিয়ারিকা নামক একটি সংস্থার গত অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮৯ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষামূলক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। শিক্ষকরা এআই ব্যবহার বিষয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগেন। পিউ রিসার্চের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২৫ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, শিক্ষায় ইতিবাচক দিকের চেয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এআই। অভিভাবকরাও এআই সম্পর্কে বেশ আগ্রহী। ওয়ালটন ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের এক জরিপ অনুসারে, ৬১ শতাংশ অভিভাবক চ্যাটজিপিটিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। কমনসেন্স মিডিয়ার জরিপ অনুযায়ী, ৭৭ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন, এআইচালিত টুলস তাদের সন্তানদের শিখতে সাহায্য করে। ইউএনআইসিআরআই পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক জরিপ (২০২৫) অনুসারে, প্রায় ৫০ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন, এআই চ্যাটবটকে সঠিক নীতিমালার আওতায় না আনা পর্যন্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। ৪৩ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন, তাদের নিজেদের এআই সরঞ্জাম দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট জ্ঞান নেই, যাতে তারা তাদের সন্তানকে গাইড করতে পারেন। কমছে সৃজনশীলতা চ্যাটজিপিটির রয়েছে নেতিবাচক দিক। এর ব্যবহার কমিয়ে দিতে পারে মানুষের সৃজনশীলতা; সংকুচিত করতে পারে গভীর চিন্তার পরিসর। ‘জেনারেটিভ এআই ইউজেস অ্যান্ড এক্সাম পারফরমেন্স’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা চ্যাটটুলের সাহায্যে কাজ করেন, তারা পরীক্ষায় অন্যান্য টুল ব্যবহারকারীর তুলনায় গড়ে ৬ দশমিক ৭১ নম্বর কম পেয়েছেন। এআই ব্যবহারে উঠতি কিশোর-কিশোরীদের জ্ঞান ও মানসিক বিকাশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন। সুইস বিজনেস স্কুলের গবেষক মাইকেল গার্লিকের ৬৬৬ অংশগ্রহণকারীর ওপর চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিনের কাজের জন্য নিয়মিত এআই ব্যবহার করেন, তাদের সৃজনশীল চিন্তার ক্ষমতা এটি যারা ব্যবহার করেন না তাদের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম। ইন্দোনেশিয়ার বান্দুং সিটির হাইস্কুলের কিশোরদের ওপর চালানো এক গবেষণা থেকে জানা যায়, ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করলেও মাত্র ৩৫ শতাংশ জানে, কীভাবে এটি বুদ্ধিমানের মতো ব্যবহার করতে হয়। অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে তারা প্রাপ্ত উত্তরগুলোকে কোনো বিবেচনা ছাড়াই সহজে গ্রহণ করে। প্রভাব পড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যে চ্যাটবটগুলো কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছে। গত আগস্টে সেন্টার ফর কাউন্টারিং হেট পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গবেষকরা যখন ১৩ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীর ছদ্মবেশে আত্ম-ক্ষতি, আত্মহত্যা, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বা খাদ্যে অনিয়ম নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে আলোচনা করেন, তখন অর্ধেকের বেশি সময়ই চ্যাটজিপিটি ক্ষতিকারক বা বিপজ্জনক তথ্য দিয়েছে; যেমন—আত্মহত্যার নোট লেখা বা স্কুলে মাদকাসক্তি লুকানোর কৌশল। গত জুলাইয়ে কমনসেন্স মিডিয়া পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন কিশোর-কিশোরীদের ৭২ শতাংশ এআই চ্যাটবটকে সঙ্গী হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাদের মধ্যে প্রায় আট ভাগের এক ভাগ চ্যাটবটগুলোর কাছে ‘আবেগজনিত বা মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা’ চেয়েছে। কিছু ব্যবহারকারী, বিশেষ করে কম বয়সী কিশোর-কিশোরীরা স্ন্যাপচ্যাটের ‘মাই এআই’র মতো চ্যাটবটের সঙ্গে আলাপচারিতা করে বেশি ইতিবাচক আবেগ অনুভব করে। গবেষকরা বলছেন, চ্যাটবট ব্যবহারকারীদের স্বাভাবিক মানবিক সম্পর্ক থেকে দূরে সরিয়ে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করতে পারে। সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড টেকনোলজির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্ধেকসংখ্যক শিক্ষার্থী মনে করে, ক্লাসে এআই ব্যবহারের ফলে শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক দুর্বল হচ্ছে। যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা এসব বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিলেন হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. ফারজানা রাবিন। তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তির সুবিধা আছে; অসুবিধাও আছে। এর ব্যবহার মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম ও ভাবনার জায়গাটি কমিয়ে দিচ্ছে। রোগীকে দেখে আমরা প্রথমে তিন-চারটি সম্ভাব্য রোগের কথা ভাবি; মিল-অমিল যাচাই করি। কিন্তু নতুন অনেক শিক্ষার্থী সেই মেধা-মন ব্যবহার না করে কেবল এআইয়ের ওপরই ভরসা করছে। এটা ভবিষ্যতে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। তরুণদের আচরণের আরেকটি পরিবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, এখন অনেক ছাত্রছাত্রী মানুষের তুলনায় এআই ক্যারেক্টারের সঙ্গে কথা বলতে বেশি স্বস্তি বোধ করছে। একজন রোগী পেয়েছি, সে মন খারাপের কথা বলে এআইকে। কিন্তু এআই ভুলভাবে তাকে উত্তর দিয়েছে—‘তাহলে বেঁচে থাকার দরকার কী?’ এরপর সে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকে পড়ে। ডা. রাবিন বলেন, ব্যবহার বন্ধ নয়, নিয়ন্ত্রণ করাই বেশি প্রয়োজন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের শিশু-কিশোর ও পারিবারিক মনস্তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ডাক্তার হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এআইকে আমরা বাদ দিতে পারব না, পরিহারও করতে পারব না। আমরা এআইকে কতটুকু যৌক্তিকতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে ব্যবহার করছি, সেটাই মূল বিষয়। এআই সঠিকভাবে যদি ব্যবহার করতে পারি, তবে শিশুদের জ্ঞানের বিকাশে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আর যৌক্তিকভাবে ব্যবহার না করি, এটিকে যদি আমরা পরীক্ষায় পাস বা শর্টকাট উপায়ে ব্যবহার করি, তা কিন্তু আমাদের জন্য ক্ষতিকর হবে।’ তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যেমন জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশকে ত্বরান্বিত করছে; নানা কাজে সহযোগী হয়ে উঠছে, তেমন এর নেতিবাচক নানা দিকও আছে। এর অপব্যবহার রোধে তাই নীতিমালা জরুরি।



