জনগণের ওপর বাড়তি ঋণ ও করভার চাপিয়ে বড় হচ্ছে বাজেটের আকার – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১১ জুন, ২০২৬

জনগণের ওপর বাড়তি ঋণ ও করভার চাপিয়ে বড় হচ্ছে বাজেটের আকার

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১১ জুন, ২০২৬ |
জনগণের ওপর বাড়তি ঋণ ও করভার আরোপের মধ্য দিয়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের পরিসর। বিশাল অঙ্কের এই বাজেট একদিকে সরকারি ব্যয়ের নতুন উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছে, অন্যদিকে নাগরিকের মাথায় চাপিয়ে দিচ্ছে বাড়তি আর্থিক দায় ও ঋণের বোঝা। চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী বাজেটে মাথাপিছু সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী, মাথাপিছু বাজেট বরাদ্দ একলাফে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে অতিরিক্ত ৮ হাজার ৩৫৮ টাকা। একই সময়ে মাথাপিছু আয়ের লক্ষ্যও বাড়ানো হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ হাজার ১১৫ টাকা বেশি। অর্থনীতির গতি পুনরুদ্ধার এবং সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে সরকার ব্যয়ের পরিধি বড় করলেও এর বড় অংশের অর্থায়ন নির্ভর করছে ঋণের ওপর।

ফলে দেশের প্রতিটি নাগরিকের ওপর পরোক্ষ ঋণের চাপও বাড়ছে, যা মাথাপিছু হিসাবে আরও ১ হাজার ২৪৩ টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয়ের ব্যাপক সম্প্রসারণের কারণে মাথাপিছু এডিপি বরাদ্দও বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৩ হাজার ৫২৩ টাকা বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, এসব পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট হয় যে সরকার অর্থনীতির আকার বড় করা, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উৎপাদন ও কর্মসংস্থাননির্ভর প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিকে একটি নতুন কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে। আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। একই সময়ে মোট দেশজ উৎপাদন বা

জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। এ হিসাবে বাজেটের আকার জিডিপির প্রায় ১৪ শতাংশে দাঁড়াচ্ছে। যদিও বাজেটের এই অনুপাত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, সরকার এটিকে সম্প্রসারণমূলক বাজেট হিসেবে উপস্থাপন করছে। কারণ, গত কয়েক বছর ধরে রাজস্ব ঘাটতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যয় ব্যবস্থাপনায় যে সতর্কতা ও সীমিত প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, এবার তার বিপরীতে বড় পরিসরের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিমুখী ব্যয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জনসংখ্যা তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৭০ লাখ ৮৬ হাজার। এই জনসংখ্যাকে ভিত্তি ধরে হিসাব করলে আগামী অর্থবছরে মাথাপিছু বাজেট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৫২ হাজার ৯৬৯ টাকা, যেখানে

চলতি অর্থবছরে এই অঙ্ক ছিল ৪৪ হাজার ৬১১ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রতিজনের জন্য সরকারি ব্যয়ের সক্ষমতা বেড়েছে ৮ হাজার ৩৫৮ টাকা। অন্যদিকে সরকারের মোট আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। যেহেতু এই আয় মূলত কর ও রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়, তাই তা সাধারণ মানুষের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রাজস্ব চাপ হিসেবেই বিবেচিত হয়। সেই হিসাবে মাথাপিছু রাজস্ব প্রদানের দায় দাঁড়াচ্ছে ৩৯ হাজার ২৪৬ টাকা, যা আগের অর্থবছরের ৩২ হাজার ১৩১ টাকার তুলনায় ৭ হাজার ১১৫ টাকা বেশি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাজস্ব সংস্কার, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বৃদ্ধির মাধ্যমে এই বাড়তি আয়

সংগ্রহ সম্ভব হবে। এদিকে বাজেট ঘাটতির চাপও আগের তুলনায় বেড়েছে। আগামী অর্থবছরের জন্য ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ২ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার তুলনায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি। জনসংখ্যা অনুযায়ী হিসাব করলে মাথাপিছু ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১৩ হাজার ৭২২ টাকা, যেখানে আগের বছর এটি ছিল ১২ হাজার ৪৮০ টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে আরও বেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। ফলে প্রত্যেক নাগরিকের ওপর পরোক্ষভাবে নতুন করে প্রায় ১ হাজার ২৪২ টাকার ঋণের দায় যুক্ত হচ্ছে। উন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ। আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)

নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৯ কোটি টাকার তুলনায় অনেক বেশি। এই হিসাবে মাথাপিছু উন্নয়ন ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১৭ হাজার ৩৯৩ টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ১৩ হাজার ৮৭০ টাকা। অর্থাৎ মাথাপিছু উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ছে ৩ হাজার ৫২৩ টাকা। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই বাড়তি ব্যয় পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, বাজেটের এই বড় আকার কেবল সংখ্যার বৃদ্ধি নয়, বরং এটি সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণেরও প্রতিফলন। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের

মতে, প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরির জন্য বড় আকারের সরকারি ব্যয় প্রয়োজন হলেও সেই ব্যয়ের কার্যকারিতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করা না গেলে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী মনে করেন, বাজেট বড় হওয়া অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত দিলেও বাস্তবায়নই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। উন্নয়ন ব্যয় যদি উৎপাদনশীল খাতে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায় এবং তা বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে, তবে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্তিশালী হবে। অন্যথায় এই বড় ব্যয় অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নতুন জামা থেকে রং ওঠলে কী করবেন বিশ্বের সঙ্গে একইদিনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে ‘ডিসক্লোজার ডে’ করছাড় পাচ্ছে আইটি ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও স্টার্টআপ গৃহকর্মী থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়ে কলিতা মাঝি পেলেন গৃহায়ণ মন্ত্রণালয় তদন্তের আগেই দুই কৃষি কর্মকর্তাকে বদলি, ডিএই’র ডিজি লাঞ্ছিত পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক, ঝুঁকিতে হাজারো আমানতকারীর অর্থ ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর শেয়ারে বড় পতন জনগণের ওপর বাড়তি ঋণ ও করভার চাপিয়ে বড় হচ্ছে বাজেটের আকার ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি: চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার, মিলছে না আয়-ব্যয়ের খেরোখাতা ২০২৬-২৭ বাজেট: বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম জুলাই গেজেট স্ক্যাম: ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া আখতারুজ্জামান নাঈমকে বানানো হয় জুলাই শহীদ নেত্রকোণায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে জুলাই স্তম্ভে আগুন, ভিডিও বিশ্লেষণ করছে পুলিশ বুকে পাঁচটা তারকা আর কারও নেই: ব্রুনো গিমারেস মেসির গোলে প্রস্তুতি সারল আর্জেন্টিনা নোয়াখালীতে শিশুসহ নির্বিচারে গ্রেপ্তার: জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জরুরি নোটিশ ‘সৎ লোকের শাসন’ দলের ইসলামী ব্যাংকে আর্থিক এবং পরিচালনায় দুর্নীতি-জালিয়াতির আশ্রয় বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধস: ১০ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল থানা পোড়ানো, পুলিশ হত্যাকারী সেই সমন্বয়ক মাহদী এখন মবের ভয়ে থানায় আশ্রয়ের সন্ধানে দলীয় পদ নেই, মামলাও নেই; শুধু আওয়ামী লীগ করার অভিযোগে যশোরে কলেজ অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার সংসদে ইসলামী ব্যাংক দখল সংক্রান্ত আলোচনায় মনক্ষুণ্ন ইআবা নেতা গাজী আতাউর