ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
অস্ট্রেলিয়ায় উগ্রবাদে জড়িত সন্দেহে বুলবুলপুত্রের বিরুদ্ধে তদন্ত: ইহুদি-খ্রিস্টান বিদ্বেষ প্রসারে আজহারির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ
‘হ্যাঁ’ ভোট প্রচারে ১৪২ কোটি টাকার অবৈধ ব্যয়: ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আইনি নোটিশ
লাইসেন্স নবায়ন নামঞ্জুর, তবুও বিটিআরসির ছত্রছায়ায় চুটিয়ে চলছে মেট্রোনেটের ব্যবসা!
আবারও ভুয়া শহীদ ও ভুয়া জুলাইযোদ্ধার নাম তালিকায়, ব্যাপক ঘাপলা-অনিয়মের সন্ধান
ট্টগ্রামে বার নির্বাচন: আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের বাধাদান: জেএমবিএফ-এর নিন্দা, জাতিসংঘ-ইইউর হস্তক্ষেপ দাবি
‘এই কাঁদুনেরা ফ্যাসিস্ট জামানায় নির্যাতনে উৎসাহ জোগাত’
আপিল বিভাগে আইভীর জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই
ইউনূসের স্বাক্ষরিত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিঃ অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম ছাড়, অথচ সবচেয়ে বেশী শর্ত
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ১০ শতাংশ বিশ্বব্যাপী সম্পূরক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করার পর ট্রাম্পের ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট’ কৌশল নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। এই রায়ের ফলে অনেক দেশ চুক্তি পর্যালোচনা, সংশোধন বা বাতিলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
মালয়েশিয়া এ পর্যন্ত প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত রেসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টকে ‘নাল অ্যান্ড ভয়েড’ (বাতিল ও অকার্যকর) ঘোষণা করেছে। মার্চ মাসে মালয়েশিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী জোহারি আবদুল ঘানি বলেন, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কারণে চুক্তির ভিত্তি আর অবশিষ্ট নেই।
এই সিদ্ধান্তের পর অন্যান্য দেশও একই পথে হাঁটতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
যদিও মালয়েশিয়া চুক্তি বাতিল করার পর ট্রাম্প প্রশাসন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত
করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে দেশগুলোকে “আরও খারাপ” পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। তারা অন্যান্য আইনি হাতিয়ার ব্যবহার করে বাণিজ্যিক চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে। চুক্তি বাতিলের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক বাধ্যবাধকতা আদালত যেহেতু সম্পূরক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে, তাই চুক্তি বাতিল করলে দেশগুলো মূলত মোস্ট ফেভার্ড নেশন (MFN) শুল্কহারে ফিরে যাবে। তবে এতে কয়েকটি ঝুঁকি রয়েছে: ট্রাম্প প্রশাসন অন্যান্য আইনি ক্ষমতা (যেমন সেকশন ৩০১ বা জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ধারা) ব্যবহার করে উচ্চ শুল্ক আরোপ করতে পারে। বাণিজ্যিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা বা কূটনৈতিক চাপ আসতে পারে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি এবং প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ১% শুল্ক সুবিধার
বিনিময়ে মার্কিন নিয়ন্ত্রানাধীন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল। ইউনূস সরকার গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নির্বাচনের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করে। এতে মার্কিন শুল্ক মাত্র ১ শতাংশ কমিয়ে ২০% থেকে ১৯%-এ নামানো হয় এবং কিছু গার্মেন্টস পণ্য (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানীকৃত সুতা থেকে তৈরী পোষাক) শূন্য শুল্ক সুবিধা পায়। বিনিময়ে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যের জন্য বাজার সুবিধা দিতে হয়। বাংলাদেশের ছাড়সমূহঃ বাংলাদেশকে মার্কিন শিল্প ও কৃষিপণ্যের (রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি, মোটরযান, মেডিকেল ডিভাইস, আইসিটি সরঞ্জাম, সয়া, দুগ্ধজাত পণ্য, গরুর মাংস, মুরগি ইত্যাদি) জন্য উল্লেখযোগ্য শুল্ক ছাড় ও অগ্রাধিকারমূলক বাজার প্রবেশাধিকার দিতে হয়েছে। এছাড়া মার্কিন মানদণ্ড গ্রহণ (যানবাহনের নিরাপত্তা ও নির্গমন মান,
এফডিএ সার্টিফিকেট), নন-ট্যারিফ বাধা অপসারণ, আমদানি নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং বছরে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য, ১২ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি, ৩ বিলিয়ন ডলারের বোয়িং আমদানির প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। এছাড়াও তৃতীয় কন দেশের সাথে বানিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মার্কিন খবরারি ও বাধ্যবাধকতা রয়েছে এই বাণিজ্য চুক্তিতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০% আরোপিত শুল্ক থেকে মাত্র ১% শুল্ক কমানোর বিনিময়ে বাংলাদেশকে বাণিজ্যিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উল্লেখযোগ্য অংশ ছাড় দিতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্পুরক শুল্ক আরোপের আগে, ২০২৪ সালের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশী পণ্যকে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে গড় শুল্কহার ছিল (Average Duty Rate) প্রায় ১৫-১৬%। তৈরী পোশাক খাতে শুল্কের গড় ছিল প্রায় ১৬.৭৭%। বাণিজ্য চুক্তির স্বাক্ষরের বিনিময়ে আন্যান্য
দেশের শুল্ক ছাড় অন্যান্য দেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান, আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডরসহ বেশিরভাগ দেশ ১৫-২০% এর মতো বড় শুল্ক হ্রাস পেয়েছে, এর বিপরীতে মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, কড়া কোন বাধ্যবাধকতা মানতে হয়নি কোন দেশকেই। ব্যাতিক্রম একমাত্র বাংলাদেশ, এরূপ প্রস্তাবিত সম্পুরক শুল্ক থেকে মাত্র ১% কমানোর ঘটনা কোন অন্য দেশের ক্ষেত্রেই দেখা যায় নাই। এই তড়িঘড়ি ও গোপনীয়তার সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন মহল ইউনূসের স্বাক্ষরিত এ ধরনের চুক্তিকে ‘অসম’ ও ‘চাপের মুখে স্বাক্ষরিত’ বলে উল্লেখ করেছে। ইইউ চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে। ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া চুক্তি পর্যালোচনা করছে। চীনের সাথে উচ্চ শুল্ক নিয়ে আলোচনা এখনো
চলমান। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আদালতের এই রায় ট্রাম্পের একতরফা বাণিজ্য নীতিকে দুর্বল করেছে। শুল্কের হুমকির ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর প্রয়োজনীয়তা এখন প্রশ্নের মুখে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এটি নতুন করে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমান বাংলাদেশ সরকার চুক্তিটি পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে।
করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে দেশগুলোকে “আরও খারাপ” পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। তারা অন্যান্য আইনি হাতিয়ার ব্যবহার করে বাণিজ্যিক চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে। চুক্তি বাতিলের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক বাধ্যবাধকতা আদালত যেহেতু সম্পূরক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে, তাই চুক্তি বাতিল করলে দেশগুলো মূলত মোস্ট ফেভার্ড নেশন (MFN) শুল্কহারে ফিরে যাবে। তবে এতে কয়েকটি ঝুঁকি রয়েছে: ট্রাম্প প্রশাসন অন্যান্য আইনি ক্ষমতা (যেমন সেকশন ৩০১ বা জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ধারা) ব্যবহার করে উচ্চ শুল্ক আরোপ করতে পারে। বাণিজ্যিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা বা কূটনৈতিক চাপ আসতে পারে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি এবং প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ১% শুল্ক সুবিধার
বিনিময়ে মার্কিন নিয়ন্ত্রানাধীন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল। ইউনূস সরকার গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নির্বাচনের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করে। এতে মার্কিন শুল্ক মাত্র ১ শতাংশ কমিয়ে ২০% থেকে ১৯%-এ নামানো হয় এবং কিছু গার্মেন্টস পণ্য (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানীকৃত সুতা থেকে তৈরী পোষাক) শূন্য শুল্ক সুবিধা পায়। বিনিময়ে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যের জন্য বাজার সুবিধা দিতে হয়। বাংলাদেশের ছাড়সমূহঃ বাংলাদেশকে মার্কিন শিল্প ও কৃষিপণ্যের (রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি, মোটরযান, মেডিকেল ডিভাইস, আইসিটি সরঞ্জাম, সয়া, দুগ্ধজাত পণ্য, গরুর মাংস, মুরগি ইত্যাদি) জন্য উল্লেখযোগ্য শুল্ক ছাড় ও অগ্রাধিকারমূলক বাজার প্রবেশাধিকার দিতে হয়েছে। এছাড়া মার্কিন মানদণ্ড গ্রহণ (যানবাহনের নিরাপত্তা ও নির্গমন মান,
এফডিএ সার্টিফিকেট), নন-ট্যারিফ বাধা অপসারণ, আমদানি নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং বছরে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য, ১২ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি, ৩ বিলিয়ন ডলারের বোয়িং আমদানির প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। এছাড়াও তৃতীয় কন দেশের সাথে বানিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মার্কিন খবরারি ও বাধ্যবাধকতা রয়েছে এই বাণিজ্য চুক্তিতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০% আরোপিত শুল্ক থেকে মাত্র ১% শুল্ক কমানোর বিনিময়ে বাংলাদেশকে বাণিজ্যিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উল্লেখযোগ্য অংশ ছাড় দিতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্পুরক শুল্ক আরোপের আগে, ২০২৪ সালের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশী পণ্যকে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে গড় শুল্কহার ছিল (Average Duty Rate) প্রায় ১৫-১৬%। তৈরী পোশাক খাতে শুল্কের গড় ছিল প্রায় ১৬.৭৭%। বাণিজ্য চুক্তির স্বাক্ষরের বিনিময়ে আন্যান্য
দেশের শুল্ক ছাড় অন্যান্য দেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান, আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডরসহ বেশিরভাগ দেশ ১৫-২০% এর মতো বড় শুল্ক হ্রাস পেয়েছে, এর বিপরীতে মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, কড়া কোন বাধ্যবাধকতা মানতে হয়নি কোন দেশকেই। ব্যাতিক্রম একমাত্র বাংলাদেশ, এরূপ প্রস্তাবিত সম্পুরক শুল্ক থেকে মাত্র ১% কমানোর ঘটনা কোন অন্য দেশের ক্ষেত্রেই দেখা যায় নাই। এই তড়িঘড়ি ও গোপনীয়তার সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন মহল ইউনূসের স্বাক্ষরিত এ ধরনের চুক্তিকে ‘অসম’ ও ‘চাপের মুখে স্বাক্ষরিত’ বলে উল্লেখ করেছে। ইইউ চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে। ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া চুক্তি পর্যালোচনা করছে। চীনের সাথে উচ্চ শুল্ক নিয়ে আলোচনা এখনো
চলমান। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আদালতের এই রায় ট্রাম্পের একতরফা বাণিজ্য নীতিকে দুর্বল করেছে। শুল্কের হুমকির ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর প্রয়োজনীয়তা এখন প্রশ্নের মুখে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এটি নতুন করে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমান বাংলাদেশ সরকার চুক্তিটি পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে।



