বিজেপির লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ: রাজনীতি নাকি কৌশলগত সামরিক হিসাব? ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে উদ্বেগ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৭ মে, ২০২৬

বিজেপির লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ: রাজনীতি নাকি কৌশলগত সামরিক হিসাব? ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৭ মে, ২০২৬ |
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি কেন কোটি কোটি টাকা ঢেলে এবং বিশাল সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি নিয়েও ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গকে সম্পূর্ণ নিজেদের মুঠোয় নিতে চাইছে? গণমাধ্যম এটিকে মতাদর্শের লড়াই বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর চেষ্টা বলে বর্ণনা করছে। কিন্তু এর পেছনের নির্মম ও অনুচ্চারিত সত্যটি সম্পূর্ণ ভিন্ন — এটি পুরোপুরি সামরিক ভূগোলের প্রশ্ন। নয়াদিল্লি বুঝতে পেরেছে, উত্তর পশ্চিমবঙ্গের উপর যদি কেন্দ্রের পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তাহলে চীনা সামরিক বাহিনীর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৫ কোটি ভারতীয় নাগরিককে মূল ভূখণ্ড থেকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার গাণিতিক সক্ষমতা রয়েছে। ভারতের ভূমানচিত্রের দিকে একবার তাকালেই সব স্পষ্ট হয়। সমগ্র মূল ভূখণ্ড উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত কেবলমাত্র একটি

ভয়াবহ সরু ভূখণ্ডের মাধ্যমে — উত্তর পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডোর, যাকে বলা হয় ‘চিকেনস নেক’। এর সবচেয়ে সরু জায়গাটির প্রশস্ততা মাত্র ২২ কিলোমিটার। উত্তরে ডোকলাম মালভূমি — যেখানে চীনা বাহিনী প্রতিনিয়ত সর্বঋতু সামরিক সড়ক তৈরি করে যাচ্ছে। দক্ষিণে বাংলাদেশ। যুদ্ধ লাগলে পিপলস লিবারেশন আর্মির পুরো হিমালয় পেরিয়ে যুদ্ধ করার প্রয়োজন নেই — শুধু চাম্বি উপত্যকা দিয়ে সাঁজোয়া বাহিনী নামিয়ে ওই ২২ কিলোমিটার দখল করলেই ভারতের পুরো পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড রসদ ও শক্তিবলের সব সংযোগ হারিয়ে অচল হয়ে পড়বে। দশকের পর দশক ধরে এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকার প্রতিরক্ষা আইনত নির্ভরশীল ছিল কলকাতার রাজ্য সরকারের মর্জির উপর। সামরিক রেলপথ বা সীমান্ত অবকাঠামোর জন্য জমি অধিগ্রহণে রাজ্য

সরকার টালবাহানা করলে ভারতীয় সেনাবাহিনী কার্যত হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকত। এই বাস্তবতাই হলো উত্তরবঙ্গ এবং বিহারের সীমান্তবর্তী সীমাঞ্চল জেলাগুলো — কিশানগঞ্জ, পূর্ণিয়া — থেকে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের দাবির পেছনের গোপন যুক্তি। এটি স্থানীয় প্রশাসনের প্রশ্ন নয়। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সরাসরি নয়াদিল্লি থেকে পরিচালিত হয়। এই জেলাগুলো রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ থেকে সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার আসলে একটি ফেডারেল সামরিক বাফার জোন তৈরি করছে — যেখানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই জমি নিতে পারবে, সেনা মোতায়েন করতে পারবে, বিমানবিধ্বংসী ব্যবস্থা বসাতে পারবে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও একটি অন্ধকার হিসাব — জনতত্ত্বের অঙ্ক ও ২০২৬ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণ। এই পুনর্নির্ধারণ জনসংখ্যার ভিত্তিতে ভারতের

রাজনৈতিক মানচিত্র নতুন করে আঁকবে। বিহারের সীমাঞ্চল অঞ্চল ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত জেলাগুলোতে বাংলাদেশ ও নেপালের ‘ফাঁকফোকরযুক্ত’ সীমান্ত পথে অনিয়ন্ত্রিত ও অনথিভুক্ত অভিবাসনের কারণে ব্যাপক জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটেছে। নয়াদিল্লি এটিকে শুধু অভিবাসন সংকট নয়, বরং চীন সীমান্তের সামরিক সরবরাহ পথের ঠিক উপরে বসে থাকা একটি গুরুতর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করা হলে স্থানীয় রাজনীতিবিদরা আর অনথিভুক্ত জনগোষ্ঠীকে ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে চলে আসবে। জনসাধারণের চোখে এটি একটি বিশৃঙ্খল আঞ্চলিক রাজনৈতিক লড়াই। কিন্তু পর্দার আড়ালের বাস্তবতা হলো, নয়াদিল্লি মরিয়াভাবে নিজের অভ্যন্তরীণ সীমানা পুনর্গঠন করে একটি দুর্গ গড়ে তুলছে। মানচিত্র থেকে রাজনৈতিক দুর্বলতা ছেঁটে

ফেলা হচ্ছে — কারণ চীনা সাঁজোয়া বাহিনী যখন সত্যিই রওনা দেবে, তখন নিজের সিংহাসন রক্ষা করতে কোনো স্থানীয় রাজনীতিবিদের দরজায় কড়া নাড়ার সময় থাকবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মৃত্যু মিছিলে চট্টগ্রাম: হাম ও নিউমোনিয়ায় বিপর্যস্ত চমেক হাসপাতাল, ৪ মাসে মৃত্যু ২৮৫ শিশুর সেনাবাহিনী-বিজিবি থাকছে পশুর হাট পাহারায় এবার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখতে পাকিস্তানে যাচ্ছেন ইউজিসির ১৫ প্রতিনিধি মন্ত্রীদের সামনে কৃষি কর্মকর্তাকে তুলোধুনোঃ কৃষি বিভাগ কর্তৃক হাওরের ক্ষয়ক্ষতির অসত্য তথ্য প্রদানের দাবি বিএনপি নেতাকর্মীদের ফের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.০৪ শতাংশ থমকে গেছে এমআরটির উন্নয়নমূলক কাজ, বারিধারা-নতুনবাজার এলাবাসীর ভোগান্তি চরমে মার্কিন দূতাবাসের প্রটোকল অফিসার পরিচয়ে আইসিটি মিনিস্ট্রিতে আসিফ নজরুলের স্ত্রী শিলা আহমেদ বিজেপির লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ: রাজনীতি নাকি কৌশলগত সামরিক হিসাব? ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে উদ্বেগ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের মাঝেও ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ২০-এর বেশি ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘোষণা রুবিওর বেঙ্গালুরু নয়, আইপিএল ফাইনাল এবার আহমেদাবাদে বিশ্বকাপ ঘনিয়ে এলেও সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে এশিয়ার ফুটবল ভক্তদের দুশ্চিন্তা ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান, সাকার গোলে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনাল আমি কোনোদিনও তৃণমূলপন্থী ছিলাম না: কবীর সুমন নেত্রকোনায় ১১ বছরের শিশু ধর্ষণঃ ধর্ষককে বাঁচাতে মাদ্রাসাপন্থী ও জামায়াতিদের মিথ্যা তথ্য প্রচার; ধর্ষক হুজুর র‍্যাব-এর হেফাজতে বিপুল আইসসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতা আটকের পর সংগঠনের সম্পৃক্ততা অস্বীকার, ছড়িয়ে পড়েছে পুরনো ছবি বগুড়ায় জিন তাড়ানোর নাম করে দাখিল পরীক্ষার্থীকে বারবার ধর্ষণ, ‘কোরআনিক চিকিৎসক’ গ্রেপ্তার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিবের গোডাউন থেকে চোরাইকৃত গার্মেন্টস পন্য উদ্ধার হামে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যু: ইউনূস ও নূরজাহান বেগমের বিচারের দাবি বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাঈদীর মৃত্যুতে ‘পাথর’ সেই অন্তু অরিন্দম ছাত্র ইউনিয়ন নেতা