ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
হামে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যু: ইউনূস ও নূরজাহান বেগমের বিচারের দাবি বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর
সাঈদীর মৃত্যুতে ‘পাথর’ সেই অন্তু অরিন্দম ছাত্র ইউনিয়ন নেতা
কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কবরস্থান দখলের অভিযোগ
মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা দেওয়া কে এই নীলা ইসরাফিল
ছাত্রলীগ থেকে পল্টি নিয়ে ছাত্রদলের পদে ১১ নেতা
নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাবির ১১ হলে কমিটি, ছাত্রলীগ বলছে — ‘আমরা সংগঠিত’
তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, আইনজীবী জানালেন ‘স্মৃতি শক্তি নেই’
মন্ত্রীদের সামনে কৃষি কর্মকর্তাকে তুলোধুনোঃ কৃষি বিভাগ কর্তৃক হাওরের ক্ষয়ক্ষতির অসত্য তথ্য প্রদানের দাবি বিএনপি নেতাকর্মীদের
হাওরের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে অসত্য তথ্য প্রদান করায় মন্ত্রী, উপদেষ্টা, মুখ্যসচিব, বিভাগীয় কমিশনারসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের সামনে সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টদের তুলোধুনো করেছেন সুনামগঞ্জের বিএনপি নেতাকর্মীরা। সরকারের কাছে বাস্তবতা বর্জিত তথ্য সরবরাহ করায় হাওরের কৃষকরা ক্ষয়-ক্ষতি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তড়িঘড়ি করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সাকির্ট হাউসে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের সামনে হাওরের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উপস্থাপন করার পর জেলা কৃষি
সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুকের সমালোচনা করেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এসময় সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. নূরুল ইসলাম নূরুল, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদের প্রশাসকও কৃষি বিভাগের এই প্রতিবেদনকে অসত্য বলে আখ্যায়িত করে সুনামগঞ্জে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি বলে জানান। মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রীদের সামনে হাওরের ক্ষয়-ক্ষতি নিয়ে পাওয়ার পয়েন্টে প্রেজেন্টেশন দেন সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক। তিনি তার উপস্থাপনায় জানান, সুনামগঞ্জ খাদ্য উদ্দৃত্ত জেলা সুনামগঞ্জে ১৯৩টি ছোট বড়ো হাওর ও বিল রয়েছে। যাতে বোরো ধান চাষাবাদ হয়।
চলতি বছর জেলায় ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ২৭৫ হেক্টর ও নন হাওরে ৫৮ হাজার ২৩৬ হেক্টর চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ১৪ লক্ষ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। উপস্থাপনায় তিনি উল্লেখ করেন ৪ এপ্রিল পর্যন্ত হাওরে ৮০ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। নন হাওরে হয়েছে ৬৯% ধান। এছাড়াও টাঙ্গাইল, পাবনা, কিশোরগঞ্জসহ পাশর্^বর্তী জেলাগুলো থেকে ধান কাটার জন্য শ্রমিক এসেছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়াও তিনি তার বক্তব্যে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে বলেন, গত বছর এপ্রিল মাসে বৃষ্টিপাত হয়েছে ১১০ মি.মি আর
এবার হাওরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২০২ মি.মি। এ কারণেই হাওরে জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হয়েছে। এসময় জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্বরত) সমর কুমার পাল বলেন, প্লাবিত জমির পরিমাণ ২০ হাজার হেক্টর বা আবাদকৃত জমির ৯ ভাগ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার বাজার মূল্য ১৯৬ কোটি টাকা। সুনামগঞ্জ জেলায় সম্প্রতি হাওরের ফসল নষ্ট হয়ে ৫০ হাজার ৯১৩টি কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৪৬০ জন। এসব মিথ্যা ও সত্য তথ্য সম্বলিত বক্তব্য যখন স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা দিচ্ছিলেন তখন ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সরকারি প্রতিনিধিদের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ইউপি
চেয়ারম্যান আকবর আলী বলেন, কৃষি ডিডির অসত্য প্রতিবেদন আমি প্রত্যাখান করি। তিনি যে পরিমাণ ধান কাটার পরিসংখ্যান দিয়েছেন তা সত্য নয়। তাছাড়া বাইরের জেলা টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ থেকে শ্রমিক এসে ধান কাটছে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তারও সত্যতা নেই। কারণ দুর্যোগপূর্ণ দিনে যেখানে স্থানীয় শ্রমিকরাই ধান কাটতে অনাগ্রহী সেখানে বাইরের শ্রমিকরা কিভাবে আসবেন? মন্ত্রীর সামনে বিএনপির এই নেতা বলেন, স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক ও এসপি মহোদয়কে নিয়ে আমরা দেখার হাওরে গিয়ে দেখেছি ধান কাটার উপযুক্ত। কিন্তু শ্রমিক না থাকায় ধান কাটা যাচ্ছেনা। সরকারের কাছে প্রকৃত তথ্য পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের উপস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য দেন জেলা
বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য, এডিশনাল পিপি অ্যাড. শেরেনুর আলী। তিনি বলেন, ধান কর্তনের হিসেবের সঙ্গে তা বাস্তবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি অসত্য তথ্য উপস্থাপন করেছেন। আমাদের মতে এখনো ৫০ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়নি। গত ২৭ এপ্রিল উনারা ৫২ শতাংশ ধান কর্তনের যে তথ্য দিয়েছেন তাও সঠিক নয়। কারণ ওইদিন রাত থেকে প্রবল ভারী বর্ষণ শুরু হয়। পরদিনও ভারী বর্ষণ হয়। কিন্তু এই বৃষ্টিপ্রবণ দিনেও রিপোর্টে ধান কর্তন বৃদ্ধির তথ্য উপস্থাপন করেছেন। এভাবে ভুল তথ্য দিয়ে হাওরের প্রকৃত সত্য লুকাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রীদের ঢাকা থেকে সার্ভে টিম পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি। না হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সহায়তা থেকে বঞ্চিত
হবে। সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রকৃত তালিকা সংশোধন করা দরকার। কর্মকর্তাদের প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি। সুনামগঞ্জে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ হাজার নয় অনেক বেশি হবে। তাই এই তালিকা যাছাই বাছাই করা উচিত। তিনি বলেন, জেলার প্রতিটি ইউনিয়নের কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষয়-ক্ষতির যে তথ্য ও তালিকা করা হয়েছে তাতে সঠিক চিত্র ফুটে ওঠেনি। সঠিক তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ক্ষয়-ক্ষতির প্রকৃত চিত্র কখনই তুলে ধরা হয় না। এ কারণে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা বঞ্চিত হন। ক্ষতি বেশি হলেও প্রশাসন কেন কম দেখায় বুঝিনা। হাওরের কৃষকের জন্য সঠিক পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হাওর, নদী, খাল বিল খনন করতে হবে। প্রতিটি হাওরে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি নূরুল ইসলাম নূরুল বলেন, তিনি বলেন, আজকের সভায় ক্ষয়ক্ষতির যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তা সঠিক নয়। সঠিক তথ্য সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ফসল রক্ষা করতে হলে আগামীতে পরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ এবং স্লুইসগেট নির্মাণ করতে হবে। সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দন আহমেদ মিলন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের যে তালিকা করা হয়েছে তা সঠিক নয়। কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য আগামী বোরো মৌসুমের আগে পর্যন্ত সহায়তা অব্যাহত এবং পরের বোরো মৌসুমের বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বরাদ্দেরও আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুকের সমালোচনা করেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এসময় সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. নূরুল ইসলাম নূরুল, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদের প্রশাসকও কৃষি বিভাগের এই প্রতিবেদনকে অসত্য বলে আখ্যায়িত করে সুনামগঞ্জে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি বলে জানান। মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রীদের সামনে হাওরের ক্ষয়-ক্ষতি নিয়ে পাওয়ার পয়েন্টে প্রেজেন্টেশন দেন সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক। তিনি তার উপস্থাপনায় জানান, সুনামগঞ্জ খাদ্য উদ্দৃত্ত জেলা সুনামগঞ্জে ১৯৩টি ছোট বড়ো হাওর ও বিল রয়েছে। যাতে বোরো ধান চাষাবাদ হয়।
চলতি বছর জেলায় ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ২৭৫ হেক্টর ও নন হাওরে ৫৮ হাজার ২৩৬ হেক্টর চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ১৪ লক্ষ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। উপস্থাপনায় তিনি উল্লেখ করেন ৪ এপ্রিল পর্যন্ত হাওরে ৮০ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। নন হাওরে হয়েছে ৬৯% ধান। এছাড়াও টাঙ্গাইল, পাবনা, কিশোরগঞ্জসহ পাশর্^বর্তী জেলাগুলো থেকে ধান কাটার জন্য শ্রমিক এসেছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়াও তিনি তার বক্তব্যে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে বলেন, গত বছর এপ্রিল মাসে বৃষ্টিপাত হয়েছে ১১০ মি.মি আর
এবার হাওরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২০২ মি.মি। এ কারণেই হাওরে জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হয়েছে। এসময় জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্বরত) সমর কুমার পাল বলেন, প্লাবিত জমির পরিমাণ ২০ হাজার হেক্টর বা আবাদকৃত জমির ৯ ভাগ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার বাজার মূল্য ১৯৬ কোটি টাকা। সুনামগঞ্জ জেলায় সম্প্রতি হাওরের ফসল নষ্ট হয়ে ৫০ হাজার ৯১৩টি কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৪৬০ জন। এসব মিথ্যা ও সত্য তথ্য সম্বলিত বক্তব্য যখন স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা দিচ্ছিলেন তখন ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সরকারি প্রতিনিধিদের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ইউপি
চেয়ারম্যান আকবর আলী বলেন, কৃষি ডিডির অসত্য প্রতিবেদন আমি প্রত্যাখান করি। তিনি যে পরিমাণ ধান কাটার পরিসংখ্যান দিয়েছেন তা সত্য নয়। তাছাড়া বাইরের জেলা টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ থেকে শ্রমিক এসে ধান কাটছে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তারও সত্যতা নেই। কারণ দুর্যোগপূর্ণ দিনে যেখানে স্থানীয় শ্রমিকরাই ধান কাটতে অনাগ্রহী সেখানে বাইরের শ্রমিকরা কিভাবে আসবেন? মন্ত্রীর সামনে বিএনপির এই নেতা বলেন, স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক ও এসপি মহোদয়কে নিয়ে আমরা দেখার হাওরে গিয়ে দেখেছি ধান কাটার উপযুক্ত। কিন্তু শ্রমিক না থাকায় ধান কাটা যাচ্ছেনা। সরকারের কাছে প্রকৃত তথ্য পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের উপস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য দেন জেলা
বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য, এডিশনাল পিপি অ্যাড. শেরেনুর আলী। তিনি বলেন, ধান কর্তনের হিসেবের সঙ্গে তা বাস্তবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি অসত্য তথ্য উপস্থাপন করেছেন। আমাদের মতে এখনো ৫০ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়নি। গত ২৭ এপ্রিল উনারা ৫২ শতাংশ ধান কর্তনের যে তথ্য দিয়েছেন তাও সঠিক নয়। কারণ ওইদিন রাত থেকে প্রবল ভারী বর্ষণ শুরু হয়। পরদিনও ভারী বর্ষণ হয়। কিন্তু এই বৃষ্টিপ্রবণ দিনেও রিপোর্টে ধান কর্তন বৃদ্ধির তথ্য উপস্থাপন করেছেন। এভাবে ভুল তথ্য দিয়ে হাওরের প্রকৃত সত্য লুকাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রীদের ঢাকা থেকে সার্ভে টিম পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি। না হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সহায়তা থেকে বঞ্চিত
হবে। সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রকৃত তালিকা সংশোধন করা দরকার। কর্মকর্তাদের প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি। সুনামগঞ্জে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ হাজার নয় অনেক বেশি হবে। তাই এই তালিকা যাছাই বাছাই করা উচিত। তিনি বলেন, জেলার প্রতিটি ইউনিয়নের কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষয়-ক্ষতির যে তথ্য ও তালিকা করা হয়েছে তাতে সঠিক চিত্র ফুটে ওঠেনি। সঠিক তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ক্ষয়-ক্ষতির প্রকৃত চিত্র কখনই তুলে ধরা হয় না। এ কারণে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা বঞ্চিত হন। ক্ষতি বেশি হলেও প্রশাসন কেন কম দেখায় বুঝিনা। হাওরের কৃষকের জন্য সঠিক পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হাওর, নদী, খাল বিল খনন করতে হবে। প্রতিটি হাওরে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি নূরুল ইসলাম নূরুল বলেন, তিনি বলেন, আজকের সভায় ক্ষয়ক্ষতির যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তা সঠিক নয়। সঠিক তথ্য সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ফসল রক্ষা করতে হলে আগামীতে পরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ এবং স্লুইসগেট নির্মাণ করতে হবে। সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দন আহমেদ মিলন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের যে তালিকা করা হয়েছে তা সঠিক নয়। কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য আগামী বোরো মৌসুমের আগে পর্যন্ত সহায়তা অব্যাহত এবং পরের বোরো মৌসুমের বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বরাদ্দেরও আহ্বান জানান তিনি।



