বাংলাদেশে তালেবান নেটওয়ার্কের বিস্তার: কূটনীতির নামে উগ্রবাদী তৎপরতা, উদ্বেগ ও বিবিধ প্রশ্ন – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশে তালেবান নেটওয়ার্কের বিস্তার: কূটনীতির নামে উগ্রবাদী তৎপরতা, উদ্বেগ ও বিবিধ প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ |
আফগানিস্তানে সরকার গঠনের পর তালেবান দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তাদের প্রভাব ও নেটওয়ার্ক বিস্তারে সক্রিয় হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় তারা। নিজস্ব বলয়ের রাজনীতিক ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয় এবং তালেবানের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ থেকে একাধিক ব্যক্তি আফগানিস্তান সফরও করেছেন। সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর এসব যোগাযোগ আরও জোরদার হয় এবং ‘জিহাদি কূটনীতির’ মাধ্যমে বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে মনোযোগ দেওয়া হয়। পুরোনো মিত্রদের সক্রিয় করার পাশাপাশি নতুন যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে তালেবান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট পলিটিক্যাল ডিভিশনের মহাপরিচালক মোল্লা নুর আহমদ নুর (মোল্লা

জাওয়ান্দি) ও আবদুল্লাহ শাহ মাজহারসহ ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ঢাকায় সফর করেছেন বলে জানা গেছে। ‘জিহাদি কূটনীতি’ বলতে বোঝায়—রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে থাকা উগ্রবাদী সংগঠন বা গোষ্ঠীকে জাতীয় স্বার্থ বা পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য অর্জনের কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টরা সাধারণত পেশাদার কূটনীতিক নন; বরং বেসরকারি প্রভাবশালী ব্যক্তি বা আস্থাভাজন নেতারা গোপন বা অনানুষ্ঠানিকভাবে এই যোগাযোগ রক্ষা করেন। বাংলাদেশে এই ধরনের যোগাযোগের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। তালেবানের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা পাকিস্তানের কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষালাভ করায় দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এছাড়া অতীতে বাংলাদেশ থেকে অনেক ব্যক্তি আফগানিস্তানে গিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও

যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে কওমিধারার আলেমদের সঙ্গে তালেবানের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধের সময় ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে প্রকাশ্যে মুজাহিদ সংগ্রহের ঘটনাও ঘটেছিল। ওই যুদ্ধের শেষদিকে বিদেশি যোদ্ধাদের নিয়ে গড়ে ওঠে ‘হরকাতুল জিহাদ আল আলামি’। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৯ সালে যশোরের মনিরামপুরের আবদুর রহমান ফারুকী ‘হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি-বি)’ প্রতিষ্ঠা করেন, যদিও একই বছর আফগানিস্তানের খোস্তে মাইন অপসারণের সময় তিনি নিহত হন। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালের এপ্রিলে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে হুজি-বি। আফগানফেরত মুজাহিদদের বড় একটি অংশ এই সংগঠনে যুক্ত হয়। শুরুতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের স্বাধীনতার লড়াইকে সামনে আনা হলেও, পরে সংগঠনটির সদস্যরা দেশে

নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক সমাবেশ ও ধর্মীয় স্থাপনায় বোমা হামলার ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা উঠে আসে এবং ২০০৫ সালের অক্টোবরে সরকার সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। বুড়িগঙ্গায় নৌকায় প্রমোদ ভ্রমণে মোল্লা জাওয়ান্দির সাথে বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্ঠীর নেতারা এরপরও জঙ্গি তৎপরতা থেমে থাকেনি। সারাদেশে একযোগে বোমা হামলার মাধ্যমে আলোচনায় আসে জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। পরবর্তীতে রাজধানীর হলি আর্টিজান হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের উপস্থিতিও সামনে আসে। তবে ওই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের গ্রেপ্তার, নিহত হওয়া বা অন্য পেশায় যুক্ত হওয়ার কারণে হুজির কার্যক্রম অনেকটা আড়ালে চলে যায়। তবে ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর এই নেটওয়ার্কের কিছু অংশ

আবার সক্রিয় হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে। ২০২৪-এর সংঘাত-সহিংসতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানোর পর ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে ঢাকা-কাবুলের মধ্যে নতুন করে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা শুরু হয়। উভয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা পারস্পরিক আমন্ত্রণে সফর করেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব সফরের লক্ষ্য ছিল কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করা। গত বছরের মাঝামাঝি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার জামিয়া কারামিয়া মাদ্রাসার পরিচালক আবু সায়েম খালেদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দুবাই হয়ে আফগানিস্তান সফর করে। তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, সফরকালে তারা তালেবানের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন এবং পরে পাকিস্তান হয়ে দেশে ফেরেন। ২০২৪-এ সরকারবিরোধী দাঙ্গার

পর আবু সায়েম খালেদ ‘বাংলাদেশ-আফগানিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএসিসিআই)’ প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির চেয়ারম্যান হিসেবে তার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত একজন জানান, খালেদ বর্তমানে হুজির নারায়ণগঞ্জ জেলা আমির। যদিও খালেদ নিজে এই দাবি অস্বীকার করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তালেবান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট পলিটিক্যাল ডিভিশনের মহাপরিচালক মোল্লা নুর আহমদ নুর (মোল্লা জাওয়ান্দি) এবং পাকিস্তানের জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর প্রভাবশালী ব্যক্তি আবদুল্লাহ শাহ মাজহারসহ কয়েকজন নেতা ও ধর্মীয় বক্তা বিভিন্ন সময়ে খালেদের আমন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জের মাদ্রাসায় অবস্থান করেছেন। খালেদ নিজেও মোল্লা জাওয়ান্দি ও আবদুল্লাহ শাহ মাজহারের আতিথ্য গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। বর্তমানে তালেবান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে ঘনিষ্ঠ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সফর শেষে

গত জানুয়ারিতে দিল্লিতে আফগান দূতাবাসের দায়িত্ব নেন মোল্লা জাওয়ান্দি। তার বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে খালেদের নেতৃত্বাধীন বিএসিসিআই রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘ব্লুপ্রিন্ট অব দ্য ইসলামিক এমিরেট’ শীর্ষক একটি সমাবেশ আয়োজন করে। যদিও সেখানে মোল্লা জাওয়ান্দি উপস্থিত ছিলেন না, অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশই হুজির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায় এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ছিল না। আফগানিস্তান সফরে মামুনুল হক সমাবেশে হুজির সাবেক আমির রহমতুল্লাহ ওরফে শেখ ফরিদের ভাইদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়। ২০১১ সালের এপ্রিলে র‍্যাব শেখ ফরিদকে গ্রেপ্তার করে তাকে তৎকালীন হুজি আমির হিসেবে শনাক্ত করে। র‍্যাব জানায়, তিনি একজন আফগানফেরত মুজাহিদ এবং ১৯৯৯ সালে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট বোরহান উদ্দিন রাব্বানির সঙ্গে দেখা করে সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে নিহত আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন, তবে তালেবান নেতা মোল্লা ওমরের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়নি। নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শেখ ফরিদের নয় ভাইয়ের মধ্যে আটজনই হুজির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের ওই সমাবেশে তার এক ভাই উপস্থিত ছিলেন। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৬৫০ জন এতে অংশ নেন, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা রয়েছে। মোল্লা জাওয়ান্দির সফরকে কেন্দ্র করে বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌভ্রমণের আয়োজনও করা হয়। যদিও আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও হেফাজতে ইসলামের এক শীর্ষ নেতা এতে অংশ নেননি। তিনি বলেন, “খালেদের হুজি সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে অনেকেই জানে। এই কারণে শেষ পর্যন্ত আর সেখানে যাওয়া হয়নি।” অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গত বছরের শেষ দিকে আবদুল্লাহ শাহ মাজহার দুবার বাংলাদেশ সফর করেন এবং খালেদের অতিথি হিসেবে অবস্থান করেন। বিবিসি উর্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাহ মাজহার পাকিস্তানের জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তিনি অতীতে নিষিদ্ধঘোষিত জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০২৫ সালের শেষে দুবার বাংলাদেশ সফর করেন পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলোর অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা আবদুল্লাহ শাহ মাজহার ওরফে মাজহার সাইদ শাহ হুজি-সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি তালেবান সরকার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারার ইসলামপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করছে বলে জানা গেছে। আবু সায়েম খালেদের আফগানিস্তান সফরের পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ সাতজন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতা আফগানিস্তান সফর করেন। তারা সবাই হেফাজতে ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ কওমিধারার প্রভাবশালী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সফর শেষে দেশে ফিরে মামুনুল হক সাংবাদিকদের জানান, আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোল্লা আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে তার দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, “৪১টি দেশের সঙ্গে তালেবান সরকারের কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ভারত-পাকিস্তান থাকলেও বাংলাদেশ নেই।” একইসঙ্গে তিনি আরও জানান, “বাংলাদেশে কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরির জন্য আমির খান মুত্তাকি তাদের কাজ করতে অনুরোধ করেছেন।” মামুনুল হকসহ ওই সাত ব্যক্তি পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দুবাই হয়ে কাবুলে যান এবং একই পথ ধরে দেশে ফেরেন। তাদের আফগানিস্তান সফরের জন্য দুবাই থেকে বিশেষ ভিসার ব্যবস্থা করে দেশটির সরকার। এই সফরের পর ২১শে ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় আসেন তালেবান সরকারের শীর্ষ নেতা মোল্লা নুর আহমদ নুর। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান আবু সায়েম খালেদ। প্রায় এক সপ্তাহ অবস্থানকালে তিনি নারায়ণগঞ্জে খালেদের মাদ্রাসাসহ ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। এরপর গত ১৮ই জানুয়ারি আফগানিস্তানের শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী আহমাদুল্লাহ জাহিদ প্রায় অর্ধশত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে সরকারি সফরে ঢাকায় আসেন। এই সফরেও আবু সায়েম খালেদ তাদের সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দক্ষিণ এশিয়ার ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নজর রাখা পর্যবেক্ষক ও তরুণ আলেম মনযূরুল হক বলেন, “উপমহাদেশে ধর্মীয় কূটনীতির ব্যবহার নতুন নয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় জমিয়তের উলামায়ে হিন্দের প্রধান আসআদ মাদানিকে বাংলাদেশে পাঠানো ছিল ভারতের ধর্মীয় কূটনীতির অংশ। তিনি এসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আলেমদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।” তালেবান একই কৌশল ব্যবহার করছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “মামুনুল হকসহ কয়েকজন আফগানিস্তান ঘুরে এসেছেন। তালেবানের প্রথম মেয়াদেও তার বাবা আজিজুল হক এবং খেলাফত মজলিসের তৎকালীন আমির হাবীবুর রহমানসহ অনেকেই আমন্ত্রিত হয়ে আফগানিস্তান সফর করেছিলেন। তখনও ধর্মীয় কূটনৈতিক বোঝাপড়ার চেষ্টা হয়েছিল।” মনযূরুল হকের মতে, অতীতের এই অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে তালেবান এগোতে চাইলে তা ইতিবাচক হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “বাংলাদেশে যারা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, তাদের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালানো হলে তা দুই দেশের জন্যই উপকারী হতে পারে।” একইসঙ্গে তিনি আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষায়, “ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর একটি অংশ বিচ্ছিন্নতাবাদী, যাদের কেউ কেউ আফগান যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল এবং দেশে ফিরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়নি। আবার অনেক আফগানফেরত ব্যক্তি মূলধারার রাজনীতিতেও যুক্ত হয়েছেন। যেমন—বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রয়াত আমির শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফের ছেলেও আফগান যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তাদের অনুসারীরা তালেবানের সমর্থক হলেও পরে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অংশ নিয়েছেন। তালেবান যদি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তাহলে সেই গোষ্ঠী শক্তিশালী হবে এবং বাংলাদেশ-আফগানিস্তান সম্পর্ক বিতর্কিত হতে পারে।” অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ এখনই তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে সম্পর্ক জোরদারের পক্ষে নন। তিনি বলেন, “আফগানিস্তানে বাংলাদেশের জরুরি কোনো স্বার্থ নেই। তাই সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপেক্ষা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।” তিনি আরও বলেন, “ইসলামাবাদসহ বিভিন্ন মহল অভিযোগ করছে, আফগানিস্তানে আইএসসহ বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়। এসব গোষ্ঠী আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ায় কার্যক্রম চালায়। তালেবান-সম্পর্কিত প্রশিক্ষিত জনশক্তির বাংলাদেশে সক্রিয়তার খবরও বিভিন্ন সময়ে এসেছে। তাই কাবুলের বর্তমান শাসকদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ঢাকার সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অন্যথায় সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত জটিলতা বাড়তে পারে।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিএনপির পর এবার এনসিপিতে যোগ দিলেন পুরান ঢাকার কুখ্যাত চাঁদাবাজ ইসহাক সরকার মার্কিন দূতাবাসের জন্য বিশেষ স্বতন্ত্র পুলিশ ইউনিটঃ বুরকিনা ফাসো’র কাতারে বাংলাদেশ বাংলাদেশকে হামের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সক্ষমতা তলানিতে তিন বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের, ঘাটতি আড়াই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে তারেক রহমানকে ঘিরে দুর্নীতির আশঙ্কায় আইএমএফ ঋণ বন্ধ: রেজা কিবরিয়া ধানের নতুন দাম নির্ধারণ, হাওরে বোরো চাষিরা হতাশ ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি: লেবাননে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত, তেহরানের জন্য কমল সময় অসামান্য প্রতিভা দিয়ে বিশ্বকাপ মাতাতে পারেন ফ্রান্সের অলিসে ইউনূস সরকারের “মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি” বাতিল করাটাই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এডিবির বার্ষিক প্রতিবেদন: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশে তালেবান নেটওয়ার্কের বিস্তার: কূটনীতির নামে উগ্রবাদী তৎপরতা, উদ্বেগ ও বিবিধ প্রশ্ন নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে চট্টগ্রামে একদিনেই ছাত্রলীগের তিন মিছিল, উদ্দীপ্ত সারাদেশের নেতাকর্মীরা রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর আজ মিত্রদের জন্য হরমুজে ফি মওকুফ করল ইরান, কারা আছেন তালিকায় ঢাবিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২ তদন্ত কমিটি গঠন ক্যাম্পাসে উত্তেজনার ঝড় বড় সংঘাতের আশঙ্কা সালাউদ্দিন আম্মারকে সতর্ক করে যা বললেন ছাত্রদল সভাপতি ইরানে পারমাণবিক হামলা করবেন কি না, জানালেন ট্রাম্প আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করল তেহরান তেলের সংকট আরও তীব্র হতে পারে, বাড়ছে দাম