ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
লক্ষ্য আন্দোলনে লাশ বৃদ্ধি স্নাইপারের গুলির জোগানদাতা বরখাস্ত কর্নেল হাসিনুর!
‘নতুন বন্দোবস্তের’ ফল মিলতে শুরু করেছে, সরকার ঋণনির্ভর হয়ে পড়েছে: মোহাম্মদ আলী আরাফাত
নৌবাহিনী প্রধান ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান: বেরিয়ে আসছে দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য
অপরাধ জগতে নতুন আতঙ্ক দেখতে সাধারণ কলম, আসলে ভয়ংকর পিস্তল! পাকিস্তান থেকে জঙ্গিদের হাতে আসছে নতুন অস্ত্র
অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট নিয়ে আইপিইউর উদ্বেগ, সমর্থন জানাল আরআরএজিও
‘নোবেলের টাকা ও কর নিয়ে ইউনূস মারাত্মক অ্যালার্জি আছে’, দাবি সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যানের
১৮ মাস কারাবন্দী ডাবলু সরকার মায়ের মৃত্যুতেও প্যারোল মেলেনি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি আসলে ‘বাণিজ্য অস্ত্র’, দেশকে পঙ্গু করার ষড়যন্ত্র: মাহবুব কামাল
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিটিকে দেশের জন্য ‘ভয়ংকর’ ও ‘সর্বনাশা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব কামাল। তিনি দাবি করেছেন, এটি কোনো সাধারণ বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং এটি একটি ‘বাণিজ্য অস্ত্র’; যার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল করে বাংলাদেশকে চিরস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
সম্প্রতি ‘কালের কণ্ঠ’–এর একটি টক শোতে অংশ নিয়ে আলোচিত এই চুক্তির নানা শর্ত ও এর পেছনের ভূরাজনৈতিক কারণ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক[1][2][3]।
উল্লেখ্য, গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি)
বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সই করে[4][5]। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জেমিসন গ্রিয়ার। এ সময় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান[4][6]। চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক কমানোর কথা বলা হলেও, এর বিপরীতে বাংলাদেশকে ব্যাপক ও একতরফা ছাড় দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে[4][6]। কী আছে এই চুক্তিতে? মাহবুব কামাল বলেন, ‘চুক্তিগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে হবে এবং ফ্রান্সের এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। আগামী ১৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের তেল এবং প্রতিবছর ৩৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য কিনতে
হবে। এ ছাড়া সামরিক সরঞ্জামাদি কেনার পরিধি বাড়িয়ে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই কিনতে হবে—অন্য দেশ, বিশেষ করে চীনের কাছ থেকে কেনায় বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির ফলে মার্কিন পণ্যে কোনো কোটা বা অশুল্ক বাধা রাখা যাবে না এবং প্রতিযোগিতায় দেশীয় পণ্যে কোনো ভর্তুকি দেওয়া যাবে না। এমনকি মার্কিন পণ্যের গুণগত মান নিয়েও কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না। হুমকিতে দেশীয় কৃষি, পোলট্রি ও দুগ্ধশিল্প চুক্তির কারণে দেশীয় কৃষি, পোলট্রি ও দুগ্ধশিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মাহবুব কামাল। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে সস্তায় দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য দেশে এলে মিল্ক ভিটার মতো দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে
না। বাধ্য হয়ে তাদের কর্মী ছাঁটাই করতে হবে এবং লাখ লাখ মানুষ বেকার হবে।’ সবচেয়ে বড় বিপদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (জিএম) বা জিনগত পরিবর্তিত ভুট্টা, গম ও সয়াবিন তেল আসবে, যা বিশ্বজুড়েই বিতর্কিত। এগুলো মানুষের শরীর ও মনস্তত্ত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব খাবার খেয়ে ধীরে ধীরে আমরা শারীরিকভাবে একটি দুর্বল ও খর্বিষ্ণু জাতিতে পরিণত হব। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভূরাজনৈতিক সংকট মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফাঁদে পড়ে বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে জানান মাহবুব কামাল। তিনি বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আমাদের মেনে চলতে হবে। এর মানে হলো, রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা
রাশিয়া থেকে তেল বা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম কিনতে পারব না। ফলে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের এই বিশাল প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়বে এবং দেশে ভয়াবহ বিদ্যুৎ–সংকট তৈরি হবে।’ চীনকে মোকাবিলা করা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে বাংলাদেশকে অংশীজন হিসেবে ব্যবহার করার জন্যই যুক্তরাষ্ট্র এই দুর্বল চুক্তি চাপিয়ে দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ‘ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে সেফ এক্সিটের চেষ্টা’ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ড. খলিলুর রহমানের কঠোর সমালোচনা করে মাহবুব কামাল বলেন, ‘তাঁদের কোনো আদর্শ ছিল না। ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে না পেরে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে নিজেদের একটি “সেফ এক্সিট” বা নিরাপদ প্রস্থানের জন্যই ড. ইউনূস তড়িঘড়ি করে এই চুক্তি করেছেন।’ বর্তমান সরকারের ওপর এই চুক্তির ভয়াবহ
দায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রিলে রেসে যেমন এক খেলোয়াড় অন্যজনের হাতে কাঠি হস্তান্তর করে, ড. ইউনূস নতুন সরকারের হাতে কোনো কাঠি নয়, বরং একটি ভারী “লৌহদণ্ড” ধরিয়ে দিয়ে গেছেন; যা নিয়ে এগোনো বর্তমান সরকারের পক্ষে অসম্ভব।’ বর্তমান সরকারের কাছে চুক্তি বাতিলের দাবি অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে মাহবুব কামাল বলেন, ‘এই চুক্তি চরম রাষ্ট্রদ্রোহিতা। চুক্তিতে ৬০ দিনের নোটিশে এটি বাতিলের বিধান রয়েছে। আমি বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, অবিলম্বে এই চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়ন করে বাতিলের ব্যবস্থা নিন। চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়ায় ড. খলিলুর রহমানকেও কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে এই রাষ্ট্রবিরোধী চুক্তির জন্য ড. ইউনূসকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সই করে[4][5]। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জেমিসন গ্রিয়ার। এ সময় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান[4][6]। চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক কমানোর কথা বলা হলেও, এর বিপরীতে বাংলাদেশকে ব্যাপক ও একতরফা ছাড় দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে[4][6]। কী আছে এই চুক্তিতে? মাহবুব কামাল বলেন, ‘চুক্তিগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে হবে এবং ফ্রান্সের এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। আগামী ১৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের তেল এবং প্রতিবছর ৩৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য কিনতে
হবে। এ ছাড়া সামরিক সরঞ্জামাদি কেনার পরিধি বাড়িয়ে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই কিনতে হবে—অন্য দেশ, বিশেষ করে চীনের কাছ থেকে কেনায় বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির ফলে মার্কিন পণ্যে কোনো কোটা বা অশুল্ক বাধা রাখা যাবে না এবং প্রতিযোগিতায় দেশীয় পণ্যে কোনো ভর্তুকি দেওয়া যাবে না। এমনকি মার্কিন পণ্যের গুণগত মান নিয়েও কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না। হুমকিতে দেশীয় কৃষি, পোলট্রি ও দুগ্ধশিল্প চুক্তির কারণে দেশীয় কৃষি, পোলট্রি ও দুগ্ধশিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মাহবুব কামাল। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে সস্তায় দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য দেশে এলে মিল্ক ভিটার মতো দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে
না। বাধ্য হয়ে তাদের কর্মী ছাঁটাই করতে হবে এবং লাখ লাখ মানুষ বেকার হবে।’ সবচেয়ে বড় বিপদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (জিএম) বা জিনগত পরিবর্তিত ভুট্টা, গম ও সয়াবিন তেল আসবে, যা বিশ্বজুড়েই বিতর্কিত। এগুলো মানুষের শরীর ও মনস্তত্ত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব খাবার খেয়ে ধীরে ধীরে আমরা শারীরিকভাবে একটি দুর্বল ও খর্বিষ্ণু জাতিতে পরিণত হব। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভূরাজনৈতিক সংকট মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফাঁদে পড়ে বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে জানান মাহবুব কামাল। তিনি বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আমাদের মেনে চলতে হবে। এর মানে হলো, রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা
রাশিয়া থেকে তেল বা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম কিনতে পারব না। ফলে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের এই বিশাল প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়বে এবং দেশে ভয়াবহ বিদ্যুৎ–সংকট তৈরি হবে।’ চীনকে মোকাবিলা করা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে বাংলাদেশকে অংশীজন হিসেবে ব্যবহার করার জন্যই যুক্তরাষ্ট্র এই দুর্বল চুক্তি চাপিয়ে দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ‘ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে সেফ এক্সিটের চেষ্টা’ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ড. খলিলুর রহমানের কঠোর সমালোচনা করে মাহবুব কামাল বলেন, ‘তাঁদের কোনো আদর্শ ছিল না। ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে না পেরে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে নিজেদের একটি “সেফ এক্সিট” বা নিরাপদ প্রস্থানের জন্যই ড. ইউনূস তড়িঘড়ি করে এই চুক্তি করেছেন।’ বর্তমান সরকারের ওপর এই চুক্তির ভয়াবহ
দায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রিলে রেসে যেমন এক খেলোয়াড় অন্যজনের হাতে কাঠি হস্তান্তর করে, ড. ইউনূস নতুন সরকারের হাতে কোনো কাঠি নয়, বরং একটি ভারী “লৌহদণ্ড” ধরিয়ে দিয়ে গেছেন; যা নিয়ে এগোনো বর্তমান সরকারের পক্ষে অসম্ভব।’ বর্তমান সরকারের কাছে চুক্তি বাতিলের দাবি অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে মাহবুব কামাল বলেন, ‘এই চুক্তি চরম রাষ্ট্রদ্রোহিতা। চুক্তিতে ৬০ দিনের নোটিশে এটি বাতিলের বিধান রয়েছে। আমি বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, অবিলম্বে এই চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়ন করে বাতিলের ব্যবস্থা নিন। চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়ায় ড. খলিলুর রহমানকেও কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে এই রাষ্ট্রবিরোধী চুক্তির জন্য ড. ইউনূসকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’



