সড়ক ছেড়ে তেলের পাম্পের লাইন সামলাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ, জ্বালানি সংকটে নতুন চাপে দায়িত্বশীলরা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

সড়ক ছেড়ে তেলের পাম্পের লাইন সামলাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ, জ্বালানি সংকটে নতুন চাপে দায়িত্বশীলরা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ |
ঢাকার ব্যস্ত সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ, মোড়ের শৃঙ্খলা রক্ষা কিংবা দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রাফিক পুলিশের ব্যস্ত থাকার কথা রাস্তায়। কিন্তু বাস্তবে এখন তাদের বড় সময় চলে যাচ্ছে জ্বালানি তেলের পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন সামলাতে। রাজধানীর বিভিন্ন বড় ফিলিং স্টেশনের সামনে কিলোমিটারের পর কিলোমিটারজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহনের সারি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক সদস্যদের। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীর তেজগাঁও, মহাখালী, মিরপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, এলিফ্যান্ট রোড, মালিবাগ ও খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পে সকাল থেকেই তেল নিতে চালকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও মধ্যরাত পর্যন্তও লাইন কমছে না। অনেক চালককে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে

হচ্ছে বলে জানা গেছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে ব্যস্ত সড়কের পাশের পাম্পগুলোতে। কারণ লাইন দীর্ঘ হয়ে মূল সড়কের একাংশ দখল করে ফেলছে। এতে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। কোথাও কোথাও বিকল্প লেন ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। একাধিক ট্রাফিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগে যেখানে সদস্যদের মূল মনোযোগ ছিল সিগন্যাল, মোড় ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক প্রবাহ সচল রাখা এখন সেখানে পাম্পকেন্দ্রিক বিশৃঙ্খলা সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাইনে আগে-পরে যাওয়া নিয়ে চালকদের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হচ্ছে, কখনো তা হাতাহাতিতেও গড়াচ্ছে। এসব পরিস্থিতিতে সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে নিয়মিত। রাজধানীর এক ট্রাফিক সার্জেন্ট বলেন, সড়কের চাপ তো আছেই, এখন আবার পাম্পের লাইনের চাপও

নিতে হচ্ছে। অনেক সময় এক পাম্পের সামনের লাইনই কয়েকশ মিটার চলে যায়। তখন রাস্তায় গাড়ি ছাড়ার চেয়ে লাইন সোজা করতেই বেশি সময় দিতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাফিক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের মূল দায়িত্ব হলো সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, যানজট কমানো এবং মোড়ে মোড়ে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, সড়ক সামলানোর চেয়ে তেলের পাম্পের সামনে লাইনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই বেশি সময় দিতে হচ্ছে। কোথাও গাড়িচালকদের মধ্যে আগে-পরে যাওয়া নিয়ে ঝগড়া হচ্ছে, কোথাও মোটরসাইকেল আরোহীদের ধাক্কাধাক্কি, আবার কোথাও কথা কাটাকাটি হাতাহাতিতে গড়াচ্ছে। তখন আমাদের গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হচ্ছে। এতে মূল সড়কে দায়িত্ব পালনে ব্যাঘাত ঘটছে।

এক পাম্পের সামনের লাইন সামলাতে গিয়ে অনেক সময় আশপাশের পুরো এলাকায় যানজট তৈরি হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, “একেকটি পাম্পের সামনে এত বড় লাইন হয় যে আশপাশের পুরো এলাকায় যানজট তৈরি হয়। তখন মোড়ে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বদলে লাইনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই বেশি লোকবল দিতে হয়।” চালকদের অভিযোগ, অনিশ্চয়তার কারণে অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল নিতে চাইছেন। কেউ কেউ আবার সুযোগ বুঝে লাইনে কাটিং করার চেষ্টা করছেন। এতে উত্তেজনা বাড়ছে। কয়েকটি এলাকায় তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা ও মারামারির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে গণপরিবহনেও। বাস মালিকরা বলছেন, পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় নির্ধারিত সংখ্যক বাস সড়কে নামানো

যাচ্ছে না। এতে যাত্রীচাপ বেড়েছে, ভোগান্তিও বাড়ছে। পণ্যবাহী যানবাহনের চালকেরাও বলছেন, লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় নষ্ট হওয়ায় ডেলিভারি সময়সূচি বিঘ্নিত হচ্ছে। পুলিশ সূত্র বলছে, শুধু ট্রাফিক সদস্য নয়, টহল ও জরুরি দায়িত্বে থাকা যানবাহনগুলোকেও তেল নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও কিছু ক্ষেত্রে ব্যাহত হচ্ছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা এমনিতেই নাজুক। এর মধ্যে জ্বালানি পাম্পকেন্দ্রিক লাইন যদি প্রধান সড়কে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থাকে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং পাম্প এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থাপনা নেওয়া জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
খুলনায় ডিউটিরত অবস্থায় নিজের মাথায় এসএমজি ঠেকিয়ে গুলি কনস্টেবলের সুনামগঞ্জে হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ৩ কৃষকের মৃত্যু, আহত ২ সড়ক ছেড়ে তেলের পাম্পের লাইন সামলাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ, জ্বালানি সংকটে নতুন চাপে দায়িত্বশীলরা হামের টিকা সংকটে শতাধিক শিশুমৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি হামের টিকা অব্যবস্থাপনা: অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী সরকারের ঘাড়েও দায় চাপালেন তারেক রহমান লোডশেডিংয়ে আঁধারে ডুবেছে চট্টগ্রাম: ১০ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ, নাকাল জনজীবন ড. ইউনূসের ‘সর্বনাশা’ বাণিজ্য চুক্তি: দেশের সার্বভৌমত্ব কি হুমকির মুখে? একে একে মার্কিন বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু, নিযুক্ত ছিলেন বিভিন্ন স্পর্শকাতর প্রকল্পে বিস্ফোরক তাপস বৈশ্য: বিসিবিতে কি চলতো ‘রাজা-প্রজা’ শাসন? জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া কালচারাল হেজিমনি আসলে কোনটা? রেকর্ড লোডশেডিং: গরমে বিপর্যস্ত দেশবাসী গোলাম মোর্শেদের কথায় তরুণ মুন্সীর কণ্ঠে লাকী আখান্দের গান সন্ধ্যার মধ্যে যেসব অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি ইরানের এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা শান্তি ফোরামে যোগ দিতে সেনেগালে গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শিশু আতিকা হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত নাঈম গ্রেপ্তার চলছে রিহ্যাব নির্বাচন, পরিচালক পদের কেন্দ্রবিন্দুতে তাসনোভা মাহবুব সালাম ঢাকা আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন খতিয়ে দেখছে ভারত: জয়সওয়াল