ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ২ বিলিয়ন ডলার বৈশ্বিক সহায়তা চাইলেন তারেক
শাপলা চত্বর গণহত্যা মামলায় আসামি হচ্ছেন সাবেক আইজিপি মামুন
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের নামে দু’বার অর্থ লোপাট: ফারুকীর নেতৃত্বে তুঘলকি দুর্নীতির নতুন মাত্রা
রাজস্ব আদায়ে হিমশিম: ৬ লক্ষ কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য সরকারের; ব্যাবসায়ীদের অপারগতা
মাদ্রাসাগুলো হয়ে উঠছে জামায়াত-শিবির সহ উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠির আজ্ঞাবহ যোদ্ধা তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
মামলায় জামিন নেই, দীপু দাস-কে বর্বরভাবে পুড়িয়ে মারা আসামিরা সহজে জামিন পেলেন
পুলিশে শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল
তারেক রহমানের আবার ইতিহাস বিকৃতি: ভাসানী মৃত্যুর তিন বছর পর ‘ধানের শীষ’ মার্কা তুলে দিলেন জিয়ার হাতে!
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলে এক জনসভায় মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সম্পর্কে এমন একটি বক্তব্য দিয়েছেন, যা ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তিনি দাবি করেন, ১৯৭৯ সালের নির্বাচনের সময় মাওলানা ভাসানী শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বলেছিলেন, “তোমার হাতে আমি ধানের শীষ তুলে দিলাম”।
কিন্তু ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। মাওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। অর্থাৎ, তারেক রহমানের উল্লেখিত ১৯৭৯ সালের ঘটনার প্রায় তিন বছর আগে ভাসানীর মৃত্যু হয়।
ভাসানীর প্রতীক: ধানের শীষের প্রকৃত ইতিহাস
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৫৭ সালের ৭–৮
ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাগমারী সম্মেলনের সময় দল থেকে বেরিয়ে আসেন। এর পর ঐ বছরের ২৫ জুলাই তিনি ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি’ (ন্যাপ) গঠন করেন এবং তার দলের নির্বাচনী প্রতীক ছিল ধানের শীষ। এটি কৃষক-কৃষি ও তৃণমূল মানুষের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময়ে ন্যাপ (ভাসানী অংশ) এই প্রতীক ব্যবহার করে। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন। দল গঠনের পর ভাসানী ন্যাপের একটি বড় অংশ (মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নেতৃত্বে) বিএনপিতে যোগ দেয়। সেই সূত্রে এবং কৃষক-তৃণমূলের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরির লক্ষ্যে বিএনপি ধানের শীষ প্রতীক গ্রহণ করে। স্বাধীন বাংলাদেশে এই প্রতীক প্রথমবার ১৯৭৯ সালের
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির হয়ে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, ধানের শীষ প্রতীকটি ভাসানীর রাজনৈতিক ঐতিহ্য থেকে এসেছে এবং ভাসানীর মৃত্যুর পর তার অনুসারীদের যোগদানের মাধ্যমে বিএনপি গ্রহণ করেছে। কিন্তু মৃত ভাসানী কোনোভাবেই ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতীক “তুলে দিতে” পারেননি। তারেক রহমানের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। অনেকে এটিকে ইতিহাস বিকৃতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। সমালোচকরা বলছেন, বিএনপির পক্ষে রাজনৈতিক বয়ান শক্তিশালী করতে গিয়ে ঘটনাক্রম ও সময়কালকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ধানের শীষের সঙ্গে ভাসানীর নাম জড়িয়ে থাকলেও এটি কোনো ব্যক্তিগত “হস্তান্তর” নয়, বরং রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা ও কর্মীদের যোগদানের ফল। ভাসানী
ন্যাপের বড় অংশ বিএনপিতে মিশে যাওয়ায় প্রতীকটি স্বাভাবিকভাবে চলে আসে। মাওলানা ভাসানী ছিলেন ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তান আমলের তৃণমূল রাজনীতির অন্যতম প্রধান নেতা। তিনি কৃষক-শ্রমিকের অধিকার, স্বাধীনতা আন্দোলন ও বামধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুর পরও তার রাজনৈতিক ঐতিহ্য বিভিন্ন দলে ছড়িয়ে পড়ে। জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের পর ক্ষমতায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেন এবং ১৯৭৮ সালে বিএনপি গঠন করেন। দলটি ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয় লাভ করে। তারেক রহমানের বক্তব্যটি ইতিহাসের এই জটিল ধারাবাহিকতাকে সরলীকরণ করে একটি নাটকীয় “হস্তান্তরের” গল্পে রূপান্তরিত করেছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ। এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়াতে পারে এবং
নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসকে বিভ্রান্তিকর করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে এটি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাগমারী সম্মেলনের সময় দল থেকে বেরিয়ে আসেন। এর পর ঐ বছরের ২৫ জুলাই তিনি ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি’ (ন্যাপ) গঠন করেন এবং তার দলের নির্বাচনী প্রতীক ছিল ধানের শীষ। এটি কৃষক-কৃষি ও তৃণমূল মানুষের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময়ে ন্যাপ (ভাসানী অংশ) এই প্রতীক ব্যবহার করে। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন। দল গঠনের পর ভাসানী ন্যাপের একটি বড় অংশ (মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নেতৃত্বে) বিএনপিতে যোগ দেয়। সেই সূত্রে এবং কৃষক-তৃণমূলের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরির লক্ষ্যে বিএনপি ধানের শীষ প্রতীক গ্রহণ করে। স্বাধীন বাংলাদেশে এই প্রতীক প্রথমবার ১৯৭৯ সালের
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির হয়ে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, ধানের শীষ প্রতীকটি ভাসানীর রাজনৈতিক ঐতিহ্য থেকে এসেছে এবং ভাসানীর মৃত্যুর পর তার অনুসারীদের যোগদানের মাধ্যমে বিএনপি গ্রহণ করেছে। কিন্তু মৃত ভাসানী কোনোভাবেই ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতীক “তুলে দিতে” পারেননি। তারেক রহমানের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। অনেকে এটিকে ইতিহাস বিকৃতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। সমালোচকরা বলছেন, বিএনপির পক্ষে রাজনৈতিক বয়ান শক্তিশালী করতে গিয়ে ঘটনাক্রম ও সময়কালকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ধানের শীষের সঙ্গে ভাসানীর নাম জড়িয়ে থাকলেও এটি কোনো ব্যক্তিগত “হস্তান্তর” নয়, বরং রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা ও কর্মীদের যোগদানের ফল। ভাসানী
ন্যাপের বড় অংশ বিএনপিতে মিশে যাওয়ায় প্রতীকটি স্বাভাবিকভাবে চলে আসে। মাওলানা ভাসানী ছিলেন ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তান আমলের তৃণমূল রাজনীতির অন্যতম প্রধান নেতা। তিনি কৃষক-শ্রমিকের অধিকার, স্বাধীনতা আন্দোলন ও বামধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুর পরও তার রাজনৈতিক ঐতিহ্য বিভিন্ন দলে ছড়িয়ে পড়ে। জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের পর ক্ষমতায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেন এবং ১৯৭৮ সালে বিএনপি গঠন করেন। দলটি ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয় লাভ করে। তারেক রহমানের বক্তব্যটি ইতিহাসের এই জটিল ধারাবাহিকতাকে সরলীকরণ করে একটি নাটকীয় “হস্তান্তরের” গল্পে রূপান্তরিত করেছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ। এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়াতে পারে এবং
নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসকে বিভ্রান্তিকর করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে এটি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।



