ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ২ বিলিয়ন ডলার বৈশ্বিক সহায়তা চাইলেন তারেক
শাপলা চত্বর গণহত্যা মামলায় আসামি হচ্ছেন সাবেক আইজিপি মামুন
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের নামে দু’বার অর্থ লোপাট: ফারুকীর নেতৃত্বে তুঘলকি দুর্নীতির নতুন মাত্রা
তারেক রহমানের আবার ইতিহাস বিকৃতি: ভাসানী মৃত্যুর তিন বছর পর ‘ধানের শীষ’ মার্কা তুলে দিলেন জিয়ার হাতে!
মাদ্রাসাগুলো হয়ে উঠছে জামায়াত-শিবির সহ উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠির আজ্ঞাবহ যোদ্ধা তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
মামলায় জামিন নেই, দীপু দাস-কে বর্বরভাবে পুড়িয়ে মারা আসামিরা সহজে জামিন পেলেন
পুলিশে শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল
রাজস্ব আদায়ে হিমশিম: ৬ লক্ষ কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য সরকারের; ব্যাবসায়ীদের অপারগতা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সম্প্রতি ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে প্রাক-বাজেট উন্মুক্ত আলোচনায় দেশের রাজস্ব আদায়ের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছেন। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের রাজস্ব আয় থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশী। চেয়ারম্যান ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়ে বলেছেন, এই বিশাল লক্ষ্য পূরণে সব খাত থেকে রাজস্ব বাড়াতে হবে।
কিন্তু ব্যবসায়ী নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে কোনো খাতেই ট্যাক্স বা ভ্যাট বাড়ানো সম্ভব নয়। বরং তারা সরকারকে উপদেশ দিয়েছেন— লাখ লাখ ফুটপাতের হকার, ছোট-বড় অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসা এবং প্রবাসী ব্যবসায়ীদের (যারা বিদেশ থেকে অর্থ
পাঠান) থেকে কর আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। রাজস্ব ঘাটতির চাপে সরকার সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরেও এনবিআর লক্ষ্যমাত্রার অনেক পিছনে রয়েছে। জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ে ২৮ শতাংশ ঘাটতি দেখা গেছে। এরই মধ্যে সরকার ব্যাংক থেকে বিপুল ঋণ নিচ্ছে, যা অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এনবিআর চেয়ারম্যান স্বীকার করেছেন, রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ ছাড়া বিকল্প নেই। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, আসন্ন বাজেটে ব্যবসাবান্ধব কর-কাঠামো রাখা হবে এবং ভ্যাট-ট্যাক্সে অযৌক্তিক ছাড় দেওয়া হবে না। প্রাক-বাজেট বৈঠকে ব্যবসায়ীরা জানান, উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসা ইতোমধ্যে সংকুচিত, তার উপর রয়েছে আগস্ট ২০২৪ উত্তর মব চন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি
আর অগ্নিসংযোগ, যার ফলে শতাধিক শিল্পকারখানা সর্বশান্ত হয়েছে। এ অবস্থায় ট্যাক্স-ভ্যাট বাড়ালে উৎপাদন ও বিনিয়োগ আরও কমে যাবে। তারা বলেন, “অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত— বিশেষ করে ফুটপাতের হকার, ছোট দোকানদার ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে কর আদায়ের সুযোগ রয়েছে। এতে বড় ব্যবসায়ীদের উপর চাপ কমবে।” অতিরিক্ত করারোপের চিন্তাভাবনা এনবিআর অতিরিক্ত সম্পদশালীদের (বার্ষিক আয় ১ কোটি টাকার বেশি) উপর আয়কর হার ৩০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি মিনিমাম ট্যাক্স (টার্নওভারের উপর) বাড়ানো, কর অব্যাহতি সুবিধা সীমিত করা এবং ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে আদায় বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। চেয়ারম্যান বলেছেন, “পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ট্যাক্স-ভ্যাট আদায়ের হার এখনও অনেক কম। ঋণনির্ভর বাজেট চলতে
পারে না।” তবে ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ, শুধুমাত্র সংগঠিত খাতের উপর চাপ বাড়ালে অর্থনীতির চাকা আরও মন্থর হয়ে যাবে। তারা প্রস্তাব করেছেন— প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে টাকা আনতে উৎসাহিত করা, হকারদের নিবন্ধনের মাধ্যমে করের আওতায় আনা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ডাটাবেস তৈরি করা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ৬ লক্ষ কোটি টাকার লক্ষ্য অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। বর্তমানে কর-জিডিপি অনুপাত খুবই নিম্ন। শুধু বড় ব্যবসায়ীদের উপর নির্ভর না করে করের ভিত্তি বিস্তৃত করা (tax base broadening) জরুরি। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও ডিজিটালাইজেশন ছাড়া অতিরিক্ত করারোপ জনবিরোধী হয়ে উঠতে পারে। সরকারি সূত্র জানায়, আসন্ন বাজেটে রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব নীতি রাখা হবে। তবে ব্যবসায়ীদের সাথে এই উন্মুক্ত আলোচনা দেখিয়ে
দেয় যে, রাজস্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জে সরকার একা নয়— সব পক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন। আগামী বাজেট ঘোষণার আগে এ ধরনের আরও বৈঠক হবে বলে জানা গেছে। দেখা যাক, ৬ লক্ষ কোটি টাকার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার কোন পথ বেছে নেয়— অতিরিক্ত চাপ না নতুন করদাতা খুঁজে বের করা। জনগণের জন্য এটি হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
পাঠান) থেকে কর আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। রাজস্ব ঘাটতির চাপে সরকার সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরেও এনবিআর লক্ষ্যমাত্রার অনেক পিছনে রয়েছে। জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ে ২৮ শতাংশ ঘাটতি দেখা গেছে। এরই মধ্যে সরকার ব্যাংক থেকে বিপুল ঋণ নিচ্ছে, যা অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এনবিআর চেয়ারম্যান স্বীকার করেছেন, রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ ছাড়া বিকল্প নেই। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, আসন্ন বাজেটে ব্যবসাবান্ধব কর-কাঠামো রাখা হবে এবং ভ্যাট-ট্যাক্সে অযৌক্তিক ছাড় দেওয়া হবে না। প্রাক-বাজেট বৈঠকে ব্যবসায়ীরা জানান, উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসা ইতোমধ্যে সংকুচিত, তার উপর রয়েছে আগস্ট ২০২৪ উত্তর মব চন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি
আর অগ্নিসংযোগ, যার ফলে শতাধিক শিল্পকারখানা সর্বশান্ত হয়েছে। এ অবস্থায় ট্যাক্স-ভ্যাট বাড়ালে উৎপাদন ও বিনিয়োগ আরও কমে যাবে। তারা বলেন, “অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত— বিশেষ করে ফুটপাতের হকার, ছোট দোকানদার ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে কর আদায়ের সুযোগ রয়েছে। এতে বড় ব্যবসায়ীদের উপর চাপ কমবে।” অতিরিক্ত করারোপের চিন্তাভাবনা এনবিআর অতিরিক্ত সম্পদশালীদের (বার্ষিক আয় ১ কোটি টাকার বেশি) উপর আয়কর হার ৩০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি মিনিমাম ট্যাক্স (টার্নওভারের উপর) বাড়ানো, কর অব্যাহতি সুবিধা সীমিত করা এবং ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে আদায় বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। চেয়ারম্যান বলেছেন, “পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ট্যাক্স-ভ্যাট আদায়ের হার এখনও অনেক কম। ঋণনির্ভর বাজেট চলতে
পারে না।” তবে ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ, শুধুমাত্র সংগঠিত খাতের উপর চাপ বাড়ালে অর্থনীতির চাকা আরও মন্থর হয়ে যাবে। তারা প্রস্তাব করেছেন— প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে টাকা আনতে উৎসাহিত করা, হকারদের নিবন্ধনের মাধ্যমে করের আওতায় আনা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ডাটাবেস তৈরি করা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ৬ লক্ষ কোটি টাকার লক্ষ্য অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। বর্তমানে কর-জিডিপি অনুপাত খুবই নিম্ন। শুধু বড় ব্যবসায়ীদের উপর নির্ভর না করে করের ভিত্তি বিস্তৃত করা (tax base broadening) জরুরি। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও ডিজিটালাইজেশন ছাড়া অতিরিক্ত করারোপ জনবিরোধী হয়ে উঠতে পারে। সরকারি সূত্র জানায়, আসন্ন বাজেটে রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব নীতি রাখা হবে। তবে ব্যবসায়ীদের সাথে এই উন্মুক্ত আলোচনা দেখিয়ে
দেয় যে, রাজস্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জে সরকার একা নয়— সব পক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন। আগামী বাজেট ঘোষণার আগে এ ধরনের আরও বৈঠক হবে বলে জানা গেছে। দেখা যাক, ৬ লক্ষ কোটি টাকার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার কোন পথ বেছে নেয়— অতিরিক্ত চাপ না নতুন করদাতা খুঁজে বের করা। জনগণের জন্য এটি হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।



