ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
পাঁচ ঘণ্টা লাইন, চার লিটার তেল, আর একটি তথাকথিত “নির্বাচিত” সরকার!
অপশাসন, ভয় আর মামলার বোঝা—এভাবেই কি ঝরে যাবে একের পর এক প্রাণ? ইউনুস–তারেকের রাজনীতিতে কি মানুষের জীবন এতটাই তুচ্ছ হয়ে গেছে?
একটি স্বেচ্ছাচারী একপাক্ষিক সংসদ কর্তৃক গণবিরোধী আইন পাশ ও দেশের নৈরাজ্যময় পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বানঃ
প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম বেতার ভাষণ। ১১ এপ্রিল, ১৯৭১
‘ড. ইউনূস ৬টি জেনারেশন ধ্বংস করে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক বাড়ছে’
হাসিনা সরকারকে সরাতে ৩২ কোটি ডলার খরচ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন সংবাদমাধ্যম
প্রথম আলোর আড়ালে হিযবুত তাহরির ও মেজর জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আরিফ রহমান: নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
৪৩ দিনেই ব্যাংক থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা ধার ইউনূসের পর বেপরোয়া ঋণ নিচ্ছে নতুন সরকারও
শেখ হাসিনার পতনের পর ১৮ মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ প্রায় পৌনে ২ লাখ কোটি টাকা।
প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার; দেশ থেকে পাচার হয়েছে বিপুল অর্থ, কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি।
২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মানুষের বড় প্রত্যাশা ছিল, বিশ্বজোড়া খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। কিন্তু বাস্তবে অর্থনীতি মেরামত তো হয়ইনি, উল্টো দেশ আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়েছে বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণের বিশাল বোঝায়। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ঋণনির্ভরতার সেই একই পথে হাঁটছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারও।
ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই নতুন সরকারের ব্যাংকঋণ নেওয়ার প্রবণতা রীতিমতো
উদ্বেগজনক। ক্ষমতায় আসার মাত্র দেড় মাস বা ৪৩ দিনের মাথায় নতুন সরকার ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। ড. ইউনূস সরকারের শেষদিকের কিছু সময় আর বর্তমান নতুন সরকারের সময় মিলিয়ে সর্বশেষ তিন মাসেই এই ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ১৮ মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় পৌনে ২ লাখ কোটি টাকায়। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই সরকার ব্যাংক থেকে প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা পুরো বছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্লেষকরা বলছেন,
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলেও অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফেরাতে পারেনি। বরং নিজেদের ও সংশ্লিষ্টদের আখের গোছানোর অভিযোগ এবং বিপুল অর্থ দেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার তথ্য উঠে আসছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূস শক্ত ভিত্তি তৈরি করবেন—এমন প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। প্রয়োজনীয় সংস্কারও সেভাবে হয়নি। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৪ মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার হয়েছে, কিন্তু রপ্তানি ও বিনিয়োগ দুটিই আশানুরূপ হয়নি।’ রাজস্বে ধস, বিনিয়োগে খরা অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে এখন চরম অর্থনৈতিক স্থবিরতা চলছে। বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে নতুন
কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। অন্যদিকে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় কেনাকাটার প্রবণতাও হ্রাস পেয়েছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সরকারের রাজস্ব আয়ে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব ঘাটতি প্রায় সাড়ে ৭১ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে ব্যয় কমানোর বদলে সরকারকে এখনো জ্বালানিসহ নানা খাতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণেও ব্যয় বাড়ছে। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতেই ব্যাংক থেকে দেদার ধার করছে সরকার। কী বলছেন বিশ্লেষকরা? সরকার যদি ব্যাংক থেকে এভাবে আগ্রাসীভাবে ঋণ নিতে থাকে, তবে বেসরকারি খাত ঋণ পাবে কোথা থেকে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকেরা। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ সরকারের এই ঋণ
নেওয়ার প্রবণতাকে ‘মিশ্র সংকেত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, একদিকে এটি অর্থনীতিতে তারল্য বাড়ায়, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধি এবং খেলাপি ঋণের ঝুঁকি তৈরি করে। গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতিবিদ হেলাল আহমেদ জনি বলেন, ‘নেওয়া ঋণ অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে এবং একই সঙ্গে বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা সহজ হবে।’ দেশকে ঋণের ফাঁদ থেকে রক্ষা করতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন এই অর্থনীতিবিদ। সামগ্রিক চিত্র বলছে, সরকার বদল হলেও নীতিগত ধারাবাহিকতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার বদলে এই
বিপুল মাত্রার ঋণনির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে দেশ ও সাধারণ মানুষের ওপর আরও বড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
উদ্বেগজনক। ক্ষমতায় আসার মাত্র দেড় মাস বা ৪৩ দিনের মাথায় নতুন সরকার ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। ড. ইউনূস সরকারের শেষদিকের কিছু সময় আর বর্তমান নতুন সরকারের সময় মিলিয়ে সর্বশেষ তিন মাসেই এই ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ১৮ মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় পৌনে ২ লাখ কোটি টাকায়। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই সরকার ব্যাংক থেকে প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা পুরো বছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্লেষকরা বলছেন,
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলেও অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফেরাতে পারেনি। বরং নিজেদের ও সংশ্লিষ্টদের আখের গোছানোর অভিযোগ এবং বিপুল অর্থ দেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার তথ্য উঠে আসছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূস শক্ত ভিত্তি তৈরি করবেন—এমন প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। প্রয়োজনীয় সংস্কারও সেভাবে হয়নি। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৪ মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার হয়েছে, কিন্তু রপ্তানি ও বিনিয়োগ দুটিই আশানুরূপ হয়নি।’ রাজস্বে ধস, বিনিয়োগে খরা অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে এখন চরম অর্থনৈতিক স্থবিরতা চলছে। বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে নতুন
কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। অন্যদিকে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় কেনাকাটার প্রবণতাও হ্রাস পেয়েছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সরকারের রাজস্ব আয়ে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব ঘাটতি প্রায় সাড়ে ৭১ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে ব্যয় কমানোর বদলে সরকারকে এখনো জ্বালানিসহ নানা খাতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণেও ব্যয় বাড়ছে। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতেই ব্যাংক থেকে দেদার ধার করছে সরকার। কী বলছেন বিশ্লেষকরা? সরকার যদি ব্যাংক থেকে এভাবে আগ্রাসীভাবে ঋণ নিতে থাকে, তবে বেসরকারি খাত ঋণ পাবে কোথা থেকে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকেরা। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ সরকারের এই ঋণ
নেওয়ার প্রবণতাকে ‘মিশ্র সংকেত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, একদিকে এটি অর্থনীতিতে তারল্য বাড়ায়, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধি এবং খেলাপি ঋণের ঝুঁকি তৈরি করে। গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতিবিদ হেলাল আহমেদ জনি বলেন, ‘নেওয়া ঋণ অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে এবং একই সঙ্গে বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা সহজ হবে।’ দেশকে ঋণের ফাঁদ থেকে রক্ষা করতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন এই অর্থনীতিবিদ। সামগ্রিক চিত্র বলছে, সরকার বদল হলেও নীতিগত ধারাবাহিকতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার বদলে এই
বিপুল মাত্রার ঋণনির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে দেশ ও সাধারণ মানুষের ওপর আরও বড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে।



