ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
প্রধান সমন্বয়কের নেতৃত্বে মেকআপ-ব্যান্ডেজে, জাল প্রেসক্রিপশনে জুলাইযোদ্ধা সাজিয়ে তালিকাভুক্তি, স্টুডিওর সন্ধান
ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন দিয়ে এলো ৮২ লাখ লিটার ডিজেল
ইউনূসের ‘লাগতে পারে’, তাই বিএসএমএমইউ’র একটি সিসিইউ বেড আটকে রাখা হয় ১৮ মাস!
সরকারি কৃষি প্রণোদনা হরিলুট: লোহাগাড়ায় জামায়াত আমিরের মাদ্রাসা থেকে ১৩ বস্তা আমন বীজ উদ্ধার
আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান: এনডিটিভি
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট ও জনদুর্ভোগের প্রতিবাদে বাঁশখালীতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের মশাল মিছিল
সাঈদী সমাচার- একজন ধর্মব্যবসায়ীর উত্থান || আসিফ নজরুল
শাহজালালে ধরা না পড়লেও দিল্লিতে ৩১ গুলিসহ আটক আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বিমানবন্দরের একাধিক নিরাপত্তা ধাপ পেরিয়ে ৩১ রাউন্ড তাজা গুলি নিয়ে একটি ব্যাগ বিমানে উঠে গেলেও ঢাকায় সেটি শনাক্ত করতে পারেনি কোনো নিরাপত্তা স্তর।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে নির্বিঘ্নে দিল্লি পৌঁছানোর পর ওই গুলিভর্তি ব্যাগ ধরা পড়ে ভারতের রাজধানীর বিমানবন্দরের স্ক্যানারে।
আরও উদ্বেগের বিষয়, যে ব্যাগে গোলাবারুদ পাওয়া যায় সেটি ছিল আলোচিত ব্যবসায়ী ও আশিয়ানের গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
ঘটনাটি শুধু একটি ব্যাগে অবৈধ বা বিপজ্জনক সামগ্রী শনাক্তে ব্যর্থতার প্রশ্ন নয়; বরং শাহজালাল বিমানবন্দরের পুরো নিরাপত্তা চেইন কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।
কারণ বিমানবন্দরে
প্রবেশ থেকে বিমানে ওঠা পর্যন্ত যাত্রীর লাগেজ একাধিক পর্যায়ে স্ক্যানিং ও তল্লাশির মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা। এরপরও কীভাবে ৩১ রাউন্ড গুলি শনাক্ত না হয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে উঠে গেল—এখন সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ঢাকায় একের পর এক নিরাপত্তা ধাপ, তবু শনাক্ত হলো না প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ই জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৯৭ ফ্লাইটে ঢাকা থেকে দিল্লি যাওয়ার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, তার ছেলে আরেদিন ভূঁইয়া ও মেয়ে নুসরাত জুবাইয়া। তাদের সঙ্গে থাকা লাগেজের মধ্যে একটি ব্যাগেই ছিল ৩১ রাউন্ড গুলি। কিন্তু বিমানবন্দরে প্রবেশের পর থেকে বোর্ডিং পর্যন্ত একাধিক নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলেও ওই ব্যাগে থাকা গোলাবারুদ
শনাক্ত হয়নি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে প্রবেশের পর হেভি লাগেজ গেট-৬-এ স্ক্যানিং করা হয়। এরপর চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বোর্ডিংয়ের আগে যাত্রী ও লাগেজের ওপর আবারও চূড়ান্ত নিরাপত্তা তল্লাশি ও স্ক্যানিং হওয়ার কথা। অর্থাৎ একটি ব্যাগের বিমানে ওঠার আগে নিরাপত্তা যাচাইয়ের একাধিক সুযোগ থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে কোনো পর্যায়েই সেটি ধরা পড়েনি। যে গুলি ঢাকায় ধরা পড়েনি, সেটিই ধরা পড়ল দিল্লিতে ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই ব্যর্থতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর। বিমানটি সেখানে অবতরণের পর স্ক্যানিংয়ের সময় ব্যাগটিতে থাকা ৩১ রাউন্ড গুলি শনাক্ত করে দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এরপর বিষয়টি জানানো হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে। খবর পাওয়ার পরই ঢাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়। ঘটনাটি নিয়ে বিব্রত হন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। পরে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অর্থাৎ যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বিপজ্জনক সামগ্রী প্রবেশ ঠেকানোর কথা, সেটি ব্যর্থ হওয়ার পর বিদেশের একটি বিমানবন্দরের স্ক্যানারে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়েছে। তদন্তে নজর সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার তদন্তে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা। তদন্তসংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তার দাবি, ফুটেজ পর্যালোচনায় নিরাপত্তা তল্লাশির বিভিন্ন পর্যায়ে গাফিলতির বিষয়টি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার প্রতিটি ধাপে
যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলে এমন একটি ব্যাগের ভেতর থাকা ৩১ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ শনাক্ত না হওয়ার কথা নয়। তবে কার গাফিলতিতে এবং ঠিক কোন পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয়। ‘বিশেষ সুবিধা’ দেওয়া হয়েছিল কি? তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুতর যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, সেটি হলো—সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে কি নিরাপত্তা তল্লাশির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিধিবহির্ভূত সুবিধা দেওয়া হয়েছিল? কারণ শুধু একটি স্ক্যানারে গোলাবারুদ শনাক্ত না হওয়া নয়; বরং একাধিক নিরাপত্তা স্তর অতিক্রম করার পরও ব্যাগটি বিমানে উঠে যাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে যদি তল্লাশির নিয়ম ভঙ্গ, তদারকির ঘাটতি কিংবা কোনো বিশেষ প্রটোকল অনুসরণের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ঘটনাটি নিছক
নিরাপত্তা কর্মীদের দক্ষতার ঘাটতি হিসেবে দেখার সুযোগ থাকবে না। বরং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত দুর্বলতার প্রশ্নও সামনে আসবে। বিশেষজ্ঞদের চোখে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম মনে করেন, বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনায় নিরাপত্তার কোনো ধাপেই গাফিলতির সুযোগ নেই। তার মতে, একাধিক নিরাপত্তা স্তর অতিক্রম করে ৩১ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদসহ একটি ব্যাগ বিমানে উঠে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা মূলত একাধিক স্তরের সমন্বিত ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। একটি ধাপে ভুল হলেও পরবর্তী ধাপে সেটি শনাক্ত হওয়ার কথা। সেই জায়গায় ঢাকায় একাধিক স্তর পেরিয়ে যাওয়ার পর দিল্লির স্ক্যানারে গুলি শনাক্ত হওয়া বাংলাদেশের বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন
সংশ্লিষ্টরা। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কী? হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ জানান, ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। তদন্তে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, নিয়মবহির্ভূত কোনো প্রটোকল অনুসরণ কিংবা নিরাপত্তা তল্লাশিতে ব্যর্থতার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় ঠিক কারা দায়িত্বে ছিলেন, কোন পর্যায়ে ব্যর্থতা ঘটেছে এবং কোনো ব্যক্তিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। একটি ব্যাগ, ৩১ রাউন্ড গুলি—কিন্তু এতগুলো চেকপয়েন্ট কোথায় গেল? ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক এখানেই। একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একজন যাত্রী প্রবেশের পর তার লাগেজ সাধারণত একাধিক পর্যায়ের নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়। হেভি লাগেজ স্ক্যানিং, চেক-ইন, ইমিগ্রেশন এবং বোর্ডিংয়ের আগের চূড়ান্ত নিরাপত্তা তল্লাশির মতো ধাপ থাকার পরও যদি ৩১ রাউন্ড তাজা গুলি বিমানে উঠে যায়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—নিরাপত্তার এতগুলো স্তর আসলে কতটা কার্যকর ছিল? আরও বড় প্রশ্ন, এসব ধাপের কোনোটিতেই যদি গুলি শনাক্ত না হয়ে থাকে, তাহলে দিল্লির স্ক্যানারে সেটি কীভাবে ধরা পড়ল? তদন্তের অপেক্ষায় আরও কয়েকটি প্রশ্ন এই ঘটনার পর বিমানবন্দর নিরাপত্তা নিয়ে অন্তত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন হয়ে পড়েছে— গুলিভর্তি ব্যাগটি ঢাকার কোন কোন নিরাপত্তা ধাপ অতিক্রম করেছে? কোন পর্যায়ে ব্যাগটি স্ক্যান বা তল্লাশি করা হয়েছিল? স্ক্যানিংয়ের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কী শনাক্ত করেছিলেন? কোনো নিরাপত্তাকর্মী কি নিয়মবহির্ভূতভাবে তল্লাশি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন? যাত্রীকে কোনো বিশেষ প্রটোকল বা সুবিধা দেওয়া হয়েছিল কি না? সিসিটিভি ফুটেজে কী ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে? দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৩১ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ নিয়ে একটি ব্যাগ যদি ঢাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে উঠে যেতে পারে, তাহলে একই ধরনের দুর্বলতা অন্য যাত্রী বা লাগেজের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো সম্ভব কি না—সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ এটি শুধু একটি ব্যাগ বা একজন যাত্রীর ঘটনা নয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একাধিক স্তর একই ঘটনায় ব্যর্থ হয়ে থাকলে, সেটি পুরো নিরাপত্তা কাঠামোর জন্যই একটি বড় সতর্কসংকেত।
প্রবেশ থেকে বিমানে ওঠা পর্যন্ত যাত্রীর লাগেজ একাধিক পর্যায়ে স্ক্যানিং ও তল্লাশির মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা। এরপরও কীভাবে ৩১ রাউন্ড গুলি শনাক্ত না হয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে উঠে গেল—এখন সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ঢাকায় একের পর এক নিরাপত্তা ধাপ, তবু শনাক্ত হলো না প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ই জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৯৭ ফ্লাইটে ঢাকা থেকে দিল্লি যাওয়ার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, তার ছেলে আরেদিন ভূঁইয়া ও মেয়ে নুসরাত জুবাইয়া। তাদের সঙ্গে থাকা লাগেজের মধ্যে একটি ব্যাগেই ছিল ৩১ রাউন্ড গুলি। কিন্তু বিমানবন্দরে প্রবেশের পর থেকে বোর্ডিং পর্যন্ত একাধিক নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলেও ওই ব্যাগে থাকা গোলাবারুদ
শনাক্ত হয়নি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে প্রবেশের পর হেভি লাগেজ গেট-৬-এ স্ক্যানিং করা হয়। এরপর চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বোর্ডিংয়ের আগে যাত্রী ও লাগেজের ওপর আবারও চূড়ান্ত নিরাপত্তা তল্লাশি ও স্ক্যানিং হওয়ার কথা। অর্থাৎ একটি ব্যাগের বিমানে ওঠার আগে নিরাপত্তা যাচাইয়ের একাধিক সুযোগ থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে কোনো পর্যায়েই সেটি ধরা পড়েনি। যে গুলি ঢাকায় ধরা পড়েনি, সেটিই ধরা পড়ল দিল্লিতে ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই ব্যর্থতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর। বিমানটি সেখানে অবতরণের পর স্ক্যানিংয়ের সময় ব্যাগটিতে থাকা ৩১ রাউন্ড গুলি শনাক্ত করে দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এরপর বিষয়টি জানানো হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে। খবর পাওয়ার পরই ঢাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়। ঘটনাটি নিয়ে বিব্রত হন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। পরে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অর্থাৎ যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বিপজ্জনক সামগ্রী প্রবেশ ঠেকানোর কথা, সেটি ব্যর্থ হওয়ার পর বিদেশের একটি বিমানবন্দরের স্ক্যানারে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়েছে। তদন্তে নজর সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার তদন্তে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা। তদন্তসংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তার দাবি, ফুটেজ পর্যালোচনায় নিরাপত্তা তল্লাশির বিভিন্ন পর্যায়ে গাফিলতির বিষয়টি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার প্রতিটি ধাপে
যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলে এমন একটি ব্যাগের ভেতর থাকা ৩১ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ শনাক্ত না হওয়ার কথা নয়। তবে কার গাফিলতিতে এবং ঠিক কোন পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয়। ‘বিশেষ সুবিধা’ দেওয়া হয়েছিল কি? তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুতর যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, সেটি হলো—সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে কি নিরাপত্তা তল্লাশির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিধিবহির্ভূত সুবিধা দেওয়া হয়েছিল? কারণ শুধু একটি স্ক্যানারে গোলাবারুদ শনাক্ত না হওয়া নয়; বরং একাধিক নিরাপত্তা স্তর অতিক্রম করার পরও ব্যাগটি বিমানে উঠে যাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে যদি তল্লাশির নিয়ম ভঙ্গ, তদারকির ঘাটতি কিংবা কোনো বিশেষ প্রটোকল অনুসরণের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ঘটনাটি নিছক
নিরাপত্তা কর্মীদের দক্ষতার ঘাটতি হিসেবে দেখার সুযোগ থাকবে না। বরং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত দুর্বলতার প্রশ্নও সামনে আসবে। বিশেষজ্ঞদের চোখে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম মনে করেন, বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনায় নিরাপত্তার কোনো ধাপেই গাফিলতির সুযোগ নেই। তার মতে, একাধিক নিরাপত্তা স্তর অতিক্রম করে ৩১ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদসহ একটি ব্যাগ বিমানে উঠে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা মূলত একাধিক স্তরের সমন্বিত ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। একটি ধাপে ভুল হলেও পরবর্তী ধাপে সেটি শনাক্ত হওয়ার কথা। সেই জায়গায় ঢাকায় একাধিক স্তর পেরিয়ে যাওয়ার পর দিল্লির স্ক্যানারে গুলি শনাক্ত হওয়া বাংলাদেশের বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন
সংশ্লিষ্টরা। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কী? হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ জানান, ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। তদন্তে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, নিয়মবহির্ভূত কোনো প্রটোকল অনুসরণ কিংবা নিরাপত্তা তল্লাশিতে ব্যর্থতার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় ঠিক কারা দায়িত্বে ছিলেন, কোন পর্যায়ে ব্যর্থতা ঘটেছে এবং কোনো ব্যক্তিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। একটি ব্যাগ, ৩১ রাউন্ড গুলি—কিন্তু এতগুলো চেকপয়েন্ট কোথায় গেল? ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক এখানেই। একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একজন যাত্রী প্রবেশের পর তার লাগেজ সাধারণত একাধিক পর্যায়ের নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়। হেভি লাগেজ স্ক্যানিং, চেক-ইন, ইমিগ্রেশন এবং বোর্ডিংয়ের আগের চূড়ান্ত নিরাপত্তা তল্লাশির মতো ধাপ থাকার পরও যদি ৩১ রাউন্ড তাজা গুলি বিমানে উঠে যায়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—নিরাপত্তার এতগুলো স্তর আসলে কতটা কার্যকর ছিল? আরও বড় প্রশ্ন, এসব ধাপের কোনোটিতেই যদি গুলি শনাক্ত না হয়ে থাকে, তাহলে দিল্লির স্ক্যানারে সেটি কীভাবে ধরা পড়ল? তদন্তের অপেক্ষায় আরও কয়েকটি প্রশ্ন এই ঘটনার পর বিমানবন্দর নিরাপত্তা নিয়ে অন্তত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন হয়ে পড়েছে— গুলিভর্তি ব্যাগটি ঢাকার কোন কোন নিরাপত্তা ধাপ অতিক্রম করেছে? কোন পর্যায়ে ব্যাগটি স্ক্যান বা তল্লাশি করা হয়েছিল? স্ক্যানিংয়ের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কী শনাক্ত করেছিলেন? কোনো নিরাপত্তাকর্মী কি নিয়মবহির্ভূতভাবে তল্লাশি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন? যাত্রীকে কোনো বিশেষ প্রটোকল বা সুবিধা দেওয়া হয়েছিল কি না? সিসিটিভি ফুটেজে কী ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে? দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৩১ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ নিয়ে একটি ব্যাগ যদি ঢাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে উঠে যেতে পারে, তাহলে একই ধরনের দুর্বলতা অন্য যাত্রী বা লাগেজের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো সম্ভব কি না—সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ এটি শুধু একটি ব্যাগ বা একজন যাত্রীর ঘটনা নয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একাধিক স্তর একই ঘটনায় ব্যর্থ হয়ে থাকলে, সেটি পুরো নিরাপত্তা কাঠামোর জন্যই একটি বড় সতর্কসংকেত।



