ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন দিয়ে এলো ৮২ লাখ লিটার ডিজেল
শাহজালালে ধরা না পড়লেও দিল্লিতে ৩১ গুলিসহ আটক আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল
ইউনূসের ‘লাগতে পারে’, তাই বিএসএমএমইউ’র একটি সিসিইউ বেড আটকে রাখা হয় ১৮ মাস!
সরকারি কৃষি প্রণোদনা হরিলুট: লোহাগাড়ায় জামায়াত আমিরের মাদ্রাসা থেকে ১৩ বস্তা আমন বীজ উদ্ধার
আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান: এনডিটিভি
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট ও জনদুর্ভোগের প্রতিবাদে বাঁশখালীতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের মশাল মিছিল
সাঈদী সমাচার- একজন ধর্মব্যবসায়ীর উত্থান || আসিফ নজরুল
প্রধান সমন্বয়কের নেতৃত্বে মেকআপ-ব্যান্ডেজে, জাল প্রেসক্রিপশনে জুলাইযোদ্ধা সাজিয়ে তালিকাভুক্তি, স্টুডিওর সন্ধান
জুলাই আন্দোলনে আহতদের জন্য ভাতা দেওয়ার তালিকা তৈরিতে জয়পুরহাটে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে মেকআপ, ব্যান্ডেজ ও কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবি ব্যবহার করে আহত সাজানো, চিকিৎসকের সিল-স্বাক্ষর জাল করে প্রেসক্রিপশন তৈরি এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তিকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার তথ্য সামনে এসেছে।
এসব অনিয়মের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জয়পুরহাট জেলার তৎকালীন প্রধান সমন্বয়ক হাসিবুল হক সানজিদের বিরুদ্ধে।
তবে তার দাবি, জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে না থাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করায় কোনো অপরাধ হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জয়পুরহাট শহরের ‘কাজল ডিজিটাল স্টুডিও’ ব্যবহার করে কথিত আহতদের ছবি তৈরি করা হয়েছে। মেকআপ, ভায়োডিন, ব্যান্ডেজ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায়
এসব ছবি প্রস্তুত করে ভাতা পাওয়ার আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্টুডিওটির মালিক তৌফিকুল ইসলাম নিজেই এ ধরনের কাজের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কারও পুরনো আঘাত কিংবা শুকিয়ে যাওয়া ক্ষতকে নতুন ব্যান্ডেজ দিয়ে এমনভাবে ছবি তোলা হয়েছে, যাতে তাকে সাম্প্রতিক আন্দোলনে আহত বলে মনে হয়। এভাবে তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের একজন হিসেবে মাইশা আক্তার মাহির নাম এসেছে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের সিল ও স্বাক্ষর নকল করে একাধিক ভুয়া প্রেসক্রিপশন তৈরির অভিযোগও পাওয়া গেছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি উঠেছে সমন্বয়ক হাসিবুল হক সানজিদের পরিবারের সদস্যদের তালিকাভুক্ত করা নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, তার বড় ভাই আনিসুল রহমানকেও ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে
দেখানো হয়েছে। নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর সিরিয়াল ১০৫৩৮ পর্যন্ত শেষ হয়েছিল। কিন্তু আনিসুল রহমানের ক্ষেত্রে ১২ হাজারের বেশি সিরিয়াল নম্বর দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক প্রথমে এটিকে ভুয়া ও মনগড়া তথ্য বলে মন্তব্য করেন। তবে আনিসুলের আরেক ভাই ওই হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার হওয়ায় পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়কের বক্তব্যে পরিবর্তন আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু পরিবারের সদস্য নয়, সমন্বয়কের বাড়ির গৃহকর্মীর মেয়েকেও জুলাইযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় থাকা রুকু আক্তারের মা জানিয়েছেন, তার মেয়ের পায়ে আগে থেকেই সমস্যা ছিল এবং সে আন্দোলনেও অংশ নেয়নি। রাস্তায় পড়ে ব্যথা পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে জুলাইযোদ্ধা হিসেবে
তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। প্রকৃত আহতদের বাদ দিয়ে এভাবে পরিচিতজন ও স্বজনদের তালিকাভুক্ত করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় যুবদল নেতা শরীফুল ইসলামসহ কয়েকজন জুলাইযোদ্ধা। জেলার তৎকালীন দ্বিতীয় প্রধান সমন্বয়ক আশরাফুল ইসলামও সানজিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, তিনি নিজে সানজিদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাননি। এর ভিত্তিতে সানজিদ নিজেও ভুয়া আহত হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার না করে সানজিদ ভিন্ন যুক্তি দিয়েছেন। তার বক্তব্য, কেউ যদি জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা না করে থাকেন এবং কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় দোষের কিছু
নেই। অভিযোগগুলোর বিষয়ে জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মো. আল মামুন বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে জালিয়াতির মাধ্যমে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের নাম বাতিল করা হবে। সিভিল সার্জনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জয়পুরহাটে ৮৬ জন ভাতাভুক্ত জুলাইযোদ্ধা রয়েছেন। আরও ২৪ জনের নাম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে মেকআপ ও ব্যান্ডেজ দিয়ে আহত সাজানো, জাল প্রেসক্রিপশন তৈরির অভিযোগ এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তালিকা তৈরির এসব ঘটনা সত্য হলে তা শুধু সরকারি ভাতা ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে না, প্রকৃত আহতদের অধিকার থেকেও বঞ্চিত করার আশঙ্কা তৈরি করবে। ফলে তালিকাভুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির তথ্য, চিকিৎসা নথি ও আহত হওয়ার প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
এসব ছবি প্রস্তুত করে ভাতা পাওয়ার আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্টুডিওটির মালিক তৌফিকুল ইসলাম নিজেই এ ধরনের কাজের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কারও পুরনো আঘাত কিংবা শুকিয়ে যাওয়া ক্ষতকে নতুন ব্যান্ডেজ দিয়ে এমনভাবে ছবি তোলা হয়েছে, যাতে তাকে সাম্প্রতিক আন্দোলনে আহত বলে মনে হয়। এভাবে তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের একজন হিসেবে মাইশা আক্তার মাহির নাম এসেছে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের সিল ও স্বাক্ষর নকল করে একাধিক ভুয়া প্রেসক্রিপশন তৈরির অভিযোগও পাওয়া গেছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি উঠেছে সমন্বয়ক হাসিবুল হক সানজিদের পরিবারের সদস্যদের তালিকাভুক্ত করা নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, তার বড় ভাই আনিসুল রহমানকেও ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে
দেখানো হয়েছে। নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর সিরিয়াল ১০৫৩৮ পর্যন্ত শেষ হয়েছিল। কিন্তু আনিসুল রহমানের ক্ষেত্রে ১২ হাজারের বেশি সিরিয়াল নম্বর দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক প্রথমে এটিকে ভুয়া ও মনগড়া তথ্য বলে মন্তব্য করেন। তবে আনিসুলের আরেক ভাই ওই হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার হওয়ায় পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়কের বক্তব্যে পরিবর্তন আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু পরিবারের সদস্য নয়, সমন্বয়কের বাড়ির গৃহকর্মীর মেয়েকেও জুলাইযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় থাকা রুকু আক্তারের মা জানিয়েছেন, তার মেয়ের পায়ে আগে থেকেই সমস্যা ছিল এবং সে আন্দোলনেও অংশ নেয়নি। রাস্তায় পড়ে ব্যথা পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে জুলাইযোদ্ধা হিসেবে
তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। প্রকৃত আহতদের বাদ দিয়ে এভাবে পরিচিতজন ও স্বজনদের তালিকাভুক্ত করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় যুবদল নেতা শরীফুল ইসলামসহ কয়েকজন জুলাইযোদ্ধা। জেলার তৎকালীন দ্বিতীয় প্রধান সমন্বয়ক আশরাফুল ইসলামও সানজিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, তিনি নিজে সানজিদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাননি। এর ভিত্তিতে সানজিদ নিজেও ভুয়া আহত হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার না করে সানজিদ ভিন্ন যুক্তি দিয়েছেন। তার বক্তব্য, কেউ যদি জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা না করে থাকেন এবং কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় দোষের কিছু
নেই। অভিযোগগুলোর বিষয়ে জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মো. আল মামুন বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে জালিয়াতির মাধ্যমে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের নাম বাতিল করা হবে। সিভিল সার্জনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জয়পুরহাটে ৮৬ জন ভাতাভুক্ত জুলাইযোদ্ধা রয়েছেন। আরও ২৪ জনের নাম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে মেকআপ ও ব্যান্ডেজ দিয়ে আহত সাজানো, জাল প্রেসক্রিপশন তৈরির অভিযোগ এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তালিকা তৈরির এসব ঘটনা সত্য হলে তা শুধু সরকারি ভাতা ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে না, প্রকৃত আহতদের অধিকার থেকেও বঞ্চিত করার আশঙ্কা তৈরি করবে। ফলে তালিকাভুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির তথ্য, চিকিৎসা নথি ও আহত হওয়ার প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।



