ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ২ বিলিয়ন ডলার বৈশ্বিক সহায়তা চাইলেন তারেক
শাপলা চত্বর গণহত্যা মামলায় আসামি হচ্ছেন সাবেক আইজিপি মামুন
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের নামে দু’বার অর্থ লোপাট: ফারুকীর নেতৃত্বে তুঘলকি দুর্নীতির নতুন মাত্রা
তারেক রহমানের আবার ইতিহাস বিকৃতি: ভাসানী মৃত্যুর তিন বছর পর ‘ধানের শীষ’ মার্কা তুলে দিলেন জিয়ার হাতে!
রাজস্ব আদায়ে হিমশিম: ৬ লক্ষ কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য সরকারের; ব্যাবসায়ীদের অপারগতা
মামলায় জামিন নেই, দীপু দাস-কে বর্বরভাবে পুড়িয়ে মারা আসামিরা সহজে জামিন পেলেন
পুলিশে শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল
মাদ্রাসাগুলো হয়ে উঠছে জামায়াত-শিবির সহ উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠির আজ্ঞাবহ যোদ্ধা তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
আগস্ট ২৪-এর পর দেশজুড়ে যে অস্থিরতা ও সহিংসতার ঢেউ দেখা গেছে, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশে জামায়াত-শিবির ও সংশ্লিষ্ট উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সংগঠিত ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত, মামলা ও স্থানীয় বর্ণনায় দেখা যাচ্ছে যে, কিছু মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শুধু শিক্ষার স্থান নয়, বরং রাজনৈতিক-ধর্মীয় মবিলাইজেশন ও আজ্ঞাবহ কর্মী তৈরির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ‘তৌহিদী জনতা’ বা ‘বিক্ষুব্ধ মুসল্লি’র নামে সংঘটিত হামলাগুলোতে স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই প্রবণতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
সাম্প্রতিক একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে। পীর আবদুর রহমান শামীমকে তাঁর দরবার শরিফে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে দরবারে ব্যাপক
ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। হত্যা মামলায় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের রোকন খাজা আহম্মেদসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন স্থানীয় জামায়াতকর্মী রাজিব মিস্ত্রি, খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ এবং একটি মাদ্রাসার শিক্ষক সাফি। পুলিশের তদন্তে হামলায় অংশ নেওয়া অনেকের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত হয়েছে। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে ‘তৌহিদী জনতা’ ও ‘বিক্ষুব্ধ মুসল্লি’ পরিচয়ে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তিলকপুর পুরাতন বাজার জামে মসজিদের খতিব আবদুস সামাদ এবং বাচ্চা হাজি মাদ্রাসার পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিকের নাম সামনে আসে। পরবর্তী গণশুনানিতে হামলাকারীদের পক্ষে এই
ধর্মীয় নেতারা ক্ষমা চান। মানিকগঞ্জে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর ‘তৌহিদী জনতা’ ও আলেম-ওলামাদের নামে বিক্ষোভ হয়। একই সময়ে তাঁর সমর্থকদের মানববন্ধনের সময় ‘তৌহিদী জনতা’র একাংশ বাউলভক্তদের ওপর হামলা চালায়। এসব ঘটনায়ও ধর্মীয় উসকানি ও সংগঠিত গোষ্ঠীর ভূমিকা লক্ষণীয়। ২০২৪ এর আগস্টের পর থেকেই জাতীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রেই মাদ্রসা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ প্রকটভাবে দৃশ্যমান, এবং এরা সকলেই মৌলবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য পুরন করে। যেই মাদ্রাসা ছাত্রদের শান্তশিষ্ট ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত নির্বিবাদী ছাত্র হিসাবে এতোদিন দেশবাসী জেনে এসেছে, সেটা বিগত এক দশকে প্রচন্ডভাবে বদলে যাচ্ছে। মাদ্রসা শিক্ষায় শিক্ষিত সকল ছাত্রই ধর্মভিত্তিক দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত এবং
এদের প্রতিবাদের ধরনটা অন্য সকল রাজনৈতিক দলের কর্মিদের থেকে আলাদা। প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে মাদ্রাসা ছাত্রদের সহিংসতা, ধ্বংস, অগ্নিসংযোগ, হত্যার খবর বিগত ২০ মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিভিন্ন ভাবধারা, প্রায় প্রতিটা বিষয়েই মাদ্রসা শিক্ষার্থীদের একটা আলাদা অবস্থান রয়েছে, এবং তারা নিজেদের অবস্থানের বাইরের আর কারো কোন অবস্থানকে সহ্য করতে পারছে না। এর সাথে আবার জড়িত আছে নিজ দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থ। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তুলনা করা প্রয়োজন। সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে (স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষকরা ছাত্রদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রভাবিত করলেও সাধারণত তা জোরপূর্বক হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষকরা ছাত্রদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করেন, মতামত বিনিময় করেন,
কিন্তু সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট দলের আজ্ঞাবহ কর্মী বানানোর জন্য জোরজবরদস্তি বা উগ্র মৌলবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ করার ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম। ছাত্ররা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে, কিন্তু সেটা সাধারণত নিজস্ব চিন্তা, আলোচনা ও ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে হয়। অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন। এখানে শিক্ষকরা (হুজুর) প্রায়শই ছাত্রদের ওপর ধর্মীয় কর্তৃত্বের আড়ালে সরাসরি জোরপূর্বক উগ্র মৌলবাদী রাজনীতির প্রতি উদ্বুদ্ধ ও প্রভাবিত করেন। ধর্মীয় শিক্ষার পাঠদানের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয় জামায়াত-শিবির বা অনুরূপ গোষ্ঠীর রাজনৈতিক আদর্শ। ‘ধর্ম রক্ষা’, ‘ইসলামের শত্রু’ ইত্যাদি আবেগীয় স্লোগানের মাধ্যমে ছাত্রদের মনে একধরনের একপাক্ষিক ও উগ্র ধারণা গেঁথে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে ছাত্রদের ব্যক্তিগত স্বাধীন চিন্তার সুযোগ
খুবই সীমিত রাখা হয়। ফলে মাদ্রাসার ছাত্ররা প্রায়ই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পুরোপুরি না বুঝেই ‘ধর্মের জন্য যুদ্ধ’ করার মানসিকতায় প্রস্তুত হয়ে ওঠে। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মতামতের সংস্পর্শে আসে এবং নিজস্ব বিবেচনাশক্তি বিকশিত করার সুযোগ পায়। কিন্তু মাদ্রাসায় শিক্ষকদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব ও ধর্মীয় আবেগের মিশ্রণে ছাত্রদের মস্তিষ্কে উগ্র মৌলবাদী রাজনীতি সহজেই প্রোথিত হয়। ফলে মাদ্রাসাগুলো ক্রমশ জামায়াত-শিবিরসহ উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর আজ্ঞাবহ যোদ্ধা তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। এই প্রবণতা শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার অপব্যবহার নয়, বরং সমাজের ধর্মীয় সম্প্রীতি, আইনের শাসন এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্যও গুরুতর হুমকি। ইসলামপন্থী দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত—তারা কি নিজেদের
প্রভাববলয়ের প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন, নাকি এ ধরনের উগ্র মবিলাইজেশনের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন? মাদ্রাসা শিক্ষা যাতে সত্যিকারের জ্ঞানচর্চা ও নৈতিক বিকাশের স্থান হয়ে ওঠে, সেজন্য দলীয় রাজনীতি, উগ্র উসকানি ও শিক্ষার্থীদের অপব্যবহার থেকে এগুলোকে মুক্ত রাখা জরুরি। নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং শিক্ষা সংস্কারের মাধ্যমে এই চক্র ভাঙতে না পারলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু তরুণ প্রজন্ম নয়, পুরো সমাজের স্থিতিশীলতাও। সহিংসতা কোনো ধর্মের নামেও গ্রহণযোগ্য নয়—এটি সময়ের দাবি।
ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। হত্যা মামলায় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের রোকন খাজা আহম্মেদসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন স্থানীয় জামায়াতকর্মী রাজিব মিস্ত্রি, খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ এবং একটি মাদ্রাসার শিক্ষক সাফি। পুলিশের তদন্তে হামলায় অংশ নেওয়া অনেকের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত হয়েছে। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে ‘তৌহিদী জনতা’ ও ‘বিক্ষুব্ধ মুসল্লি’ পরিচয়ে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তিলকপুর পুরাতন বাজার জামে মসজিদের খতিব আবদুস সামাদ এবং বাচ্চা হাজি মাদ্রাসার পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিকের নাম সামনে আসে। পরবর্তী গণশুনানিতে হামলাকারীদের পক্ষে এই
ধর্মীয় নেতারা ক্ষমা চান। মানিকগঞ্জে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর ‘তৌহিদী জনতা’ ও আলেম-ওলামাদের নামে বিক্ষোভ হয়। একই সময়ে তাঁর সমর্থকদের মানববন্ধনের সময় ‘তৌহিদী জনতা’র একাংশ বাউলভক্তদের ওপর হামলা চালায়। এসব ঘটনায়ও ধর্মীয় উসকানি ও সংগঠিত গোষ্ঠীর ভূমিকা লক্ষণীয়। ২০২৪ এর আগস্টের পর থেকেই জাতীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রেই মাদ্রসা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ প্রকটভাবে দৃশ্যমান, এবং এরা সকলেই মৌলবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য পুরন করে। যেই মাদ্রাসা ছাত্রদের শান্তশিষ্ট ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত নির্বিবাদী ছাত্র হিসাবে এতোদিন দেশবাসী জেনে এসেছে, সেটা বিগত এক দশকে প্রচন্ডভাবে বদলে যাচ্ছে। মাদ্রসা শিক্ষায় শিক্ষিত সকল ছাত্রই ধর্মভিত্তিক দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত এবং
এদের প্রতিবাদের ধরনটা অন্য সকল রাজনৈতিক দলের কর্মিদের থেকে আলাদা। প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে মাদ্রাসা ছাত্রদের সহিংসতা, ধ্বংস, অগ্নিসংযোগ, হত্যার খবর বিগত ২০ মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিভিন্ন ভাবধারা, প্রায় প্রতিটা বিষয়েই মাদ্রসা শিক্ষার্থীদের একটা আলাদা অবস্থান রয়েছে, এবং তারা নিজেদের অবস্থানের বাইরের আর কারো কোন অবস্থানকে সহ্য করতে পারছে না। এর সাথে আবার জড়িত আছে নিজ দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থ। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তুলনা করা প্রয়োজন। সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে (স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষকরা ছাত্রদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রভাবিত করলেও সাধারণত তা জোরপূর্বক হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষকরা ছাত্রদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করেন, মতামত বিনিময় করেন,
কিন্তু সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট দলের আজ্ঞাবহ কর্মী বানানোর জন্য জোরজবরদস্তি বা উগ্র মৌলবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ করার ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম। ছাত্ররা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে, কিন্তু সেটা সাধারণত নিজস্ব চিন্তা, আলোচনা ও ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে হয়। অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন। এখানে শিক্ষকরা (হুজুর) প্রায়শই ছাত্রদের ওপর ধর্মীয় কর্তৃত্বের আড়ালে সরাসরি জোরপূর্বক উগ্র মৌলবাদী রাজনীতির প্রতি উদ্বুদ্ধ ও প্রভাবিত করেন। ধর্মীয় শিক্ষার পাঠদানের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয় জামায়াত-শিবির বা অনুরূপ গোষ্ঠীর রাজনৈতিক আদর্শ। ‘ধর্ম রক্ষা’, ‘ইসলামের শত্রু’ ইত্যাদি আবেগীয় স্লোগানের মাধ্যমে ছাত্রদের মনে একধরনের একপাক্ষিক ও উগ্র ধারণা গেঁথে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে ছাত্রদের ব্যক্তিগত স্বাধীন চিন্তার সুযোগ
খুবই সীমিত রাখা হয়। ফলে মাদ্রাসার ছাত্ররা প্রায়ই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পুরোপুরি না বুঝেই ‘ধর্মের জন্য যুদ্ধ’ করার মানসিকতায় প্রস্তুত হয়ে ওঠে। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মতামতের সংস্পর্শে আসে এবং নিজস্ব বিবেচনাশক্তি বিকশিত করার সুযোগ পায়। কিন্তু মাদ্রাসায় শিক্ষকদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব ও ধর্মীয় আবেগের মিশ্রণে ছাত্রদের মস্তিষ্কে উগ্র মৌলবাদী রাজনীতি সহজেই প্রোথিত হয়। ফলে মাদ্রাসাগুলো ক্রমশ জামায়াত-শিবিরসহ উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর আজ্ঞাবহ যোদ্ধা তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। এই প্রবণতা শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার অপব্যবহার নয়, বরং সমাজের ধর্মীয় সম্প্রীতি, আইনের শাসন এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্যও গুরুতর হুমকি। ইসলামপন্থী দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত—তারা কি নিজেদের
প্রভাববলয়ের প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন, নাকি এ ধরনের উগ্র মবিলাইজেশনের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন? মাদ্রাসা শিক্ষা যাতে সত্যিকারের জ্ঞানচর্চা ও নৈতিক বিকাশের স্থান হয়ে ওঠে, সেজন্য দলীয় রাজনীতি, উগ্র উসকানি ও শিক্ষার্থীদের অপব্যবহার থেকে এগুলোকে মুক্ত রাখা জরুরি। নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং শিক্ষা সংস্কারের মাধ্যমে এই চক্র ভাঙতে না পারলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু তরুণ প্রজন্ম নয়, পুরো সমাজের স্থিতিশীলতাও। সহিংসতা কোনো ধর্মের নামেও গ্রহণযোগ্য নয়—এটি সময়ের দাবি।



