ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাস ডিল? ইইউ রাষ্ট্রদূতের চাপ; রপ্তানি টিকিয়ে রাখতে আর কতো ছাড় দিতে হবে বাংলাদেশকে?
ভেনিসে সজীব ওয়াজেদ জয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি নিয়ে তুমুল আলোচনা
ঢামেকে দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে আওয়ামী লীগ কর্মীসহ ৩ কারাবন্দীর মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থানার সামনেই ছাত্রলীগের মিছিল; শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ২.০ উপলক্ষে জনসংযোগ
চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ এখন চাল আমদানিকারক দেশ হিসাবে শীর্ষে
শেখ হাসিনার প্রথম টেলিফোন সাক্ষাৎকার, আশংকা প্রকাশ করে বললেন ‘দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই আমাকে হত্যা করতে পারে’
৩ দিনে কোলকাতা দখলের হুমকি দেয়া সাবেক সেনাসদস্যরা এখন প্রতারণা ও ডাকাতি চক্রের হোতা
মক্কা জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি
জিওপলিটিক্যাল টুলসগুলোর নড়াচড়া দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশকে ‘মক্কা সামরিক জোট’ থেকে অফিসিয়ালি আহ্বান করলেই বাংলাদেশ জোটে যোগ দেবে।
মক্কা জোটে যাওয়া বা না-যাওয়া নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে গত কিছুদিন ধরে তর্ক-বিতর্ক চলছে। যাওয়ার পক্ষে সরকারের ব্যাখ্যা যেমন ভ্যালিড, তেমনি না-যাওয়ার পক্ষের যুক্তিগুলো আরও বেশি করে ভ্যালিড। যদিও এখনও জোট থেকে বাংলাদেশকে ‘পর্যবেক্ষক’ হিসাবে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে সরকারের কথাবার্তায় আভাস মিলছে; আমন্ত্রণ পেলে বাংলাদেশ মক্কা জোট-এ যোগ দেবে।
🔘
আসুন, এর ভেতর-বাহিরে সার্চলাইট ফেলে দেখা যাকঃ সংক্ষেপে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো এক বছর আগেও মনে করত মার্কিন সামরিক ঘাটিগুলোই তাদের ‘নিজস্ব শক্তি’। মার্কিনিরাই তাদের রক্ষাকবজ। সেই বলে বলিয়ান হয়ে তারা ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন
ডলার থাকার পরও সামরিক শক্তি বাড়ায়নি। সেটা হলে সামান্য হুতি বিদ্রোহীদের দমন করতে সৌদিকে ১২ দেশের যুদ্ধজোট গঠন করতে হতো না। 🔘 এবারকার ইরান-মার্কিন যুদ্ধে ইরানের হাতে উপর্যুপরি মা/র খেয়ে বুঝতে পেরেছে যে তারা ইরানের মত শক্তির কাছে কতটা অসহায়! ইরান শুধু মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত করেনি, সৌদির বেসামরিক স্থাপনাও গুড়িয়ে দিয়েছে। এর পর থেকেই সৌদি আরব ‘এনাফ ইজ এনাফ’ বলে যুদ্ধজোট গঠনে ঝাঁপ দিয়েছে। 🔘 অন্যদিকে জোটের বৃহত্তম শরিক টার্কির এরদোগানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন-অটোমান সাম্রাজ্যের মিনি ভার্সন গড়ে তার নেতা হওয়া। সে জন্য অর্থনীতি মেরামতের চেয়ে তারা সমরাস্ত্র উৎপাদনে এবং সেইসব সমরাস্ত্র বিক্রি করার জন্য ‘খিলাফাহ’, ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’ এবং ‘পাশে আছি ভাই’ স্লোগান প্রচার
করে সমরাস্ত্র বিক্রি করে যাচ্ছে আশেপাশের দেশগুলোতে। বিশেষ করে তাদের বায়রাক্তার টিবি-২ ড্রোনটি বিশ্বসেরা। সেই বায়রাক্তার টিবি২, বায়রাক্তার আকিনচি এবং বায়রাক্তার কিজিল্লেমা নামের স্টেল্থ ফাইটার বিক্রি করে টাকা কামাতে চায়। 🔘 তৃতীয় শরিক পাকিস্তানের এই মুহূর্তে অর্থ আয়ের অন্যতম উপায় সৈন্য ভাড়ায় খাটানো। তারা মোটা অ্যামাউন্ট পেলে ইসরায়েলের পক্ষেও সৈন্য পাঠাতে পারে। এমন নজির ১৯৭০ সালেই গড়েছিল। ফিলিস্তিনের ফাত্তাহ গ্রুপের বিখ্যাত গেরিলা ইউনিট ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর’কে ধ্বংস করার জন্য জর্ডানের বাদশাহ পাকিস্তানি সৈন্য ভাড়া করেছিল। পাকিস্তানি সৈন্যরা ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল, আর তার নেতৃত্বে ছিল জিয়া-উল-হক। এখন পাকিস্তানের ধ্বসে পড়া অর্থনীতির জন্য একমাত্র এবং একমাত্রই টাকা দরকার। সৌদিতে আগে থেকেই পাকিস্তানের সৈন্যরা কাজ
করে। এবার জোটে যোগ দেওয়ায় সৌদি থেকে মোটা অংকের টাকা পাবে। এটাই তাদের আসল অর্জন। 🔘 বলা হচ্ছে ‘মক্কা জোট’ ন্যাটোর মত রুলস তৈরি করবে। NATO’র যেমন Article 5-এ Collective defence is NATO’s most fundamental principle বিষয়ে বলেছে―The North Atlantic Treaty states that an armed attack against one NATO member shall be considered an attack against them all. ঠিক একইভাবে মক্কা জোটও বলেছে। এটাই বাংলাদেশের থিঙ্কট্যাঙ্ককে প্রভাবিত করেছে। তারা মনে করছে বৃহৎ শক্তি ভারতের আক্রমণ থেকে এটাই রক্ষা পাওয়ার অন্যতম উপায়। পাকিস্তান-বাংলাদেশ যে-ই ভারত দ্বারা আক্রান্ত হলে মক্কা সামরিক জোটের বাকি দেশগুলোর ওপর আক্রমণ মনে করবে এবং প্রতিহত করবে। ঠিক এখানেই বাংলাদেশ এবং
পাকিস্তানি থিংকট্যাঙ্কের দূরদৃষ্টিতে মস্ত গলদ। 🔘 যে তিনটি প্রধান দেশ মক্কা জোট গঠন করেছে তাদের জিডিপির খতিয়ানে দেখা যাচ্ছে; সৌদি আরবের Nominal GDP প্রায় ১.২৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি বছর প্রবৃদ্ধি- প্রায় ১.৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার। দেশটির অর্থনীতি ঊর্ধ্বমুখী। তুরস্কের জিডিপি কত? তুরস্কের Nominal GDP গ্রোথ: ১.৬৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে ১৬তম অবস্থান হলেও গত কয়েক বছরের প্রবৃদ্ধি- ৩.৪% এর কাছাকাছি। পাকিস্তানের Nominal GDP প্রায় ৪৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রবৃদ্ধি: ৩.৭০ শতাংশ। পাকিস্তনের তুলনায় বরং বাংলাদেশের Nominal GDP প্রায় ৪৫৬ বিলিয়ন। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৭%। 🔘 অর্থনীতির এই অবস্থায় টার্কি বা পাকিস্তান বাংলাদেশকে এক কানাকড়িও দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। যা দেওয়ার তা ওই সৌদি আরবই দিতে পারে
বা দেবে। পাকিস্তান ৫ মিলিয়ান পেলে বাংলাদেশও মার্সেনারী পাঠিয়ে ২.৫ মিলিয়ন পেতে পারে। এটাই নিট লাভ। নাথিং এলস। 🔘 টার্কি এখানে তিনটে অবজেক্টিভস নিয়ে মাঠে নেমেছে। একটা আগেই বলেছি―এরদোগান মর্ডাণ অটোমানের খলিফা হতে চায়। দ্বিতীয়ত: টার্কি একই সঙ্গে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো মেম্বার, অথচ সবাই জানে ওপরে ওপরে মার্কিনের সঙ্গে টার্কির সম্পর্ক খারাপ, কিন্তু তলে তলে ঠিকই একটা ‘মধুর’ সম্পর্ক তাদের আছে। টার্কির কথা ক্লিয়ার―আমরা এই অঞ্চলে আমেরিকান অবজেক্টিভস সুরক্ষা দেব কিন্তু আমাদেরকে আরব সাগরে দাদাগিরি করতে দিতে হবে। তাতে আমেরিকার কোনো অসুবিধা নেই। তাই তারা সানন্দে মক্কা জোট গঠন করতে দিয়েছে। 🔘 টার্কি আরব সাগরে দাদাগিরি করতে চায় সৌদি, পাকিস্তান বা বাংলাদেশকে রক্ষা করতে?
মোটেও নয়। টার্কির সেই ক্ষমতা নেই। তারা চায় এই অঞ্চলে তাদের অস্ত্র বিক্রি করতে। তারা গত দেড় দশক ধরে সিরিয়া-ইরাকে ব্যাপকভাবে ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্রের টেস্ট করে অস্ত্রগুলো নিখুঁত করেছে। যে কারণে এখন বায়রাক্তার ড্রোন বিশ্বসেরা। ইতোমধ্যেই টার্কি উপসাগরীয় সকল দেশে, পাকিস্তানে, মালয়েশিয়ায়, বাংলাদেশে, প্রাক্তন USSR-এর এশীয় দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে ড্রোন রফতানি করেছে। পাকিস্তানের তাদের ড্রোন ম্যানুফ্যাক্চার প্ল্যান্ট আছে। এবার চায় বাংলাদেশেও তা করতে। বাংলাদেশও জমি বরাদ্দ করেছে। সুতরাং ‘মক্কা জোট’ আখেরে কোনো কাজে আসুক না আসুক, টার্কি আর্মস ডিল বাড়তে থাকবে। 🔘 এই অঞ্চলে টার্কির দাদাগিরির আরও একটি উদ্দেশ্য হচ্ছে ভারতকে ভয় দেখানো। ভারতের অর্থনীতি বিশ্বে ৩য় এবং সামরিক শক্তিতে ৪র্থ। তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা কেন? কারণ, ভারত গত বছর পাকিস্তান আক্রমণের সময় দেখেছিল পাকিস্তানের নূরখান এয়ারবেস-এ টার্কির সৈন্যরাও যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল। এমনকি পাকিস্তানের টার্কির যে ড্রোন ভারতে আক্রমণ করেছিল তা অপারেট করেছিল টার্কি এক্সপার্টরা। এর পর পরই ভারত টার্কিকে ছবক শেখাতে গ্রীস, সাইপ্রাস, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া ও বুলগেরিয়ায় চার ধরণের মিসাইল বিক্রি করেছে। এমনকি গ্রীসকে রাশিয়া নির্মিত S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দিয়েছে। অর্থাৎ টার্কি এখন চতুর্দিকে ভারতীয় মিসাইল রেঞ্জের আওতায়। 🔘 এরকম অবস্থায় এই ‘মক্কা জোট’ যে ন্যাটো জোটের মত মক্কা জোটও “Mecca Alliance member shall be considered an attack against them all.” হিসাবে ট্রিট করবে এমনটা ভাবার কারণ নেই এ জন্য যে ভারত যদি পাকিস্তান ও বাংলাদেশে আক্রমণ করে তাহলে সৌদি আরব কখনই ভারতের বিরুদ্ধে যাবে না। কেন যাবে না তার অনেকগুলোর মধ্যে দুটো অন্যতম কারণ; সৌদির আইটি সেক্টরের প্রায় ৯০ ভাগ ভারতীয় এক্সপার্টরা চালায়। ভারত সৌদিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শ্রমিক সাপ্লায়ার। তদুপরি ভারত ইসরায়েলের অন্যতম বন্ধু রাষ্ট্র, যা সৌদি আরব নিজেও। 🔘 টার্কিও এগোবে না। গত বছর মে মাসে অপারেশন সিঁদুর চলাকালিন টার্কির সৈন্য ভারতীয় হামলায় মা/রা যাওয়ার পরও টার্কি প্রকাশ করেনি, কাউন্টারও করেনি। তার বদলে ভারতের সঙ্গে কিছু বিজনেস ডিল বাতিল করেছে। 🔘 বাকি থাকল পাকিস্তান। পাকিস্তান পরমানু শক্তিধর হয়েও বাংলাদেশ দূরের কথা, সৌদি আরব বা টার্কি আক্রান্ত হলেও কাউন্টার এ্যাটাক করার ক্ষমতা রাখে না কারণ, তার রসদ কেনার টাকা নেই। চীন থেকে বার্টার সিস্টেমে বাকিতে পাওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ আর বিদ্যুতের মাসুল গুনতেই আইএমএফ থেকে লোন নিতে হয় তাকে। এই যে সৌদি আরবে প্রতিদিন ইরান মিসাইল মা/রছে, শহর-বন্দর-লোকালয় গড়িয়ে দিচ্ছে, তার প্রতিকারে কী করেছে পাকিস্তান? নাথিং। 🔘 এই তিনটি দেশ কী পারে? হ্যাঁ, যদি এই তিনটি দেশে আশেপাশের কোনো দেশ আক্রমণ করে তার মোকাবেলা করতে পারবে। তবে কোনোভাবেই ইসরায়েল টার্কি আক্রমণ করলে কিংবা ভারত পাকিস্তানে আক্রমণ করলে বাকি দেশদুটো কিসসু করবে না। জাস্ট অফ থাকবে। 🔘 সুতরাং বাংলাদেশ যদি মনে করে মক্কা জোটে যোগ দিলেই ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারবে, আক্রান্ত হলে জোটের শরিকরা বাঁচাবে, এভাবে এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দেশ হয়ে উঠবে…. তাহলে বলতে হয় বোকার স্বর্গে বাস করছে এই থিংককট্যাঙ্ক। বাংলাদেশে বেশ কয়েকজন ডেট এক্সপায়ারড ওয়ার ও জিওপলিটিক্যাল এনালিস্ট “আমরাও একটা ‘ন্যাটোটাইপ’ জোটে আছি” ভেবে পুলকিত সহতে পারেন, আজকের দিনে এসব ভ্যালুলেস চিন্তা-ভাবনা। 🔘 অবশ্য একেবারেই ‘ভ্যালুলেস’ বলা যাবে না। মাঝে মাঝে ‘স্টাবলিস্ট বেগার’ জোট থেকে থোক সাহায্য পেলে তার ছিটেফোটা ‘নেউ বেগার’ও পাবে। সেটাই বা কম কী?
ডলার থাকার পরও সামরিক শক্তি বাড়ায়নি। সেটা হলে সামান্য হুতি বিদ্রোহীদের দমন করতে সৌদিকে ১২ দেশের যুদ্ধজোট গঠন করতে হতো না। 🔘 এবারকার ইরান-মার্কিন যুদ্ধে ইরানের হাতে উপর্যুপরি মা/র খেয়ে বুঝতে পেরেছে যে তারা ইরানের মত শক্তির কাছে কতটা অসহায়! ইরান শুধু মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত করেনি, সৌদির বেসামরিক স্থাপনাও গুড়িয়ে দিয়েছে। এর পর থেকেই সৌদি আরব ‘এনাফ ইজ এনাফ’ বলে যুদ্ধজোট গঠনে ঝাঁপ দিয়েছে। 🔘 অন্যদিকে জোটের বৃহত্তম শরিক টার্কির এরদোগানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন-অটোমান সাম্রাজ্যের মিনি ভার্সন গড়ে তার নেতা হওয়া। সে জন্য অর্থনীতি মেরামতের চেয়ে তারা সমরাস্ত্র উৎপাদনে এবং সেইসব সমরাস্ত্র বিক্রি করার জন্য ‘খিলাফাহ’, ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’ এবং ‘পাশে আছি ভাই’ স্লোগান প্রচার
করে সমরাস্ত্র বিক্রি করে যাচ্ছে আশেপাশের দেশগুলোতে। বিশেষ করে তাদের বায়রাক্তার টিবি-২ ড্রোনটি বিশ্বসেরা। সেই বায়রাক্তার টিবি২, বায়রাক্তার আকিনচি এবং বায়রাক্তার কিজিল্লেমা নামের স্টেল্থ ফাইটার বিক্রি করে টাকা কামাতে চায়। 🔘 তৃতীয় শরিক পাকিস্তানের এই মুহূর্তে অর্থ আয়ের অন্যতম উপায় সৈন্য ভাড়ায় খাটানো। তারা মোটা অ্যামাউন্ট পেলে ইসরায়েলের পক্ষেও সৈন্য পাঠাতে পারে। এমন নজির ১৯৭০ সালেই গড়েছিল। ফিলিস্তিনের ফাত্তাহ গ্রুপের বিখ্যাত গেরিলা ইউনিট ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর’কে ধ্বংস করার জন্য জর্ডানের বাদশাহ পাকিস্তানি সৈন্য ভাড়া করেছিল। পাকিস্তানি সৈন্যরা ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল, আর তার নেতৃত্বে ছিল জিয়া-উল-হক। এখন পাকিস্তানের ধ্বসে পড়া অর্থনীতির জন্য একমাত্র এবং একমাত্রই টাকা দরকার। সৌদিতে আগে থেকেই পাকিস্তানের সৈন্যরা কাজ
করে। এবার জোটে যোগ দেওয়ায় সৌদি থেকে মোটা অংকের টাকা পাবে। এটাই তাদের আসল অর্জন। 🔘 বলা হচ্ছে ‘মক্কা জোট’ ন্যাটোর মত রুলস তৈরি করবে। NATO’র যেমন Article 5-এ Collective defence is NATO’s most fundamental principle বিষয়ে বলেছে―The North Atlantic Treaty states that an armed attack against one NATO member shall be considered an attack against them all. ঠিক একইভাবে মক্কা জোটও বলেছে। এটাই বাংলাদেশের থিঙ্কট্যাঙ্ককে প্রভাবিত করেছে। তারা মনে করছে বৃহৎ শক্তি ভারতের আক্রমণ থেকে এটাই রক্ষা পাওয়ার অন্যতম উপায়। পাকিস্তান-বাংলাদেশ যে-ই ভারত দ্বারা আক্রান্ত হলে মক্কা সামরিক জোটের বাকি দেশগুলোর ওপর আক্রমণ মনে করবে এবং প্রতিহত করবে। ঠিক এখানেই বাংলাদেশ এবং
পাকিস্তানি থিংকট্যাঙ্কের দূরদৃষ্টিতে মস্ত গলদ। 🔘 যে তিনটি প্রধান দেশ মক্কা জোট গঠন করেছে তাদের জিডিপির খতিয়ানে দেখা যাচ্ছে; সৌদি আরবের Nominal GDP প্রায় ১.২৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি বছর প্রবৃদ্ধি- প্রায় ১.৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার। দেশটির অর্থনীতি ঊর্ধ্বমুখী। তুরস্কের জিডিপি কত? তুরস্কের Nominal GDP গ্রোথ: ১.৬৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে ১৬তম অবস্থান হলেও গত কয়েক বছরের প্রবৃদ্ধি- ৩.৪% এর কাছাকাছি। পাকিস্তানের Nominal GDP প্রায় ৪৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রবৃদ্ধি: ৩.৭০ শতাংশ। পাকিস্তনের তুলনায় বরং বাংলাদেশের Nominal GDP প্রায় ৪৫৬ বিলিয়ন। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৭%। 🔘 অর্থনীতির এই অবস্থায় টার্কি বা পাকিস্তান বাংলাদেশকে এক কানাকড়িও দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। যা দেওয়ার তা ওই সৌদি আরবই দিতে পারে
বা দেবে। পাকিস্তান ৫ মিলিয়ান পেলে বাংলাদেশও মার্সেনারী পাঠিয়ে ২.৫ মিলিয়ন পেতে পারে। এটাই নিট লাভ। নাথিং এলস। 🔘 টার্কি এখানে তিনটে অবজেক্টিভস নিয়ে মাঠে নেমেছে। একটা আগেই বলেছি―এরদোগান মর্ডাণ অটোমানের খলিফা হতে চায়। দ্বিতীয়ত: টার্কি একই সঙ্গে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো মেম্বার, অথচ সবাই জানে ওপরে ওপরে মার্কিনের সঙ্গে টার্কির সম্পর্ক খারাপ, কিন্তু তলে তলে ঠিকই একটা ‘মধুর’ সম্পর্ক তাদের আছে। টার্কির কথা ক্লিয়ার―আমরা এই অঞ্চলে আমেরিকান অবজেক্টিভস সুরক্ষা দেব কিন্তু আমাদেরকে আরব সাগরে দাদাগিরি করতে দিতে হবে। তাতে আমেরিকার কোনো অসুবিধা নেই। তাই তারা সানন্দে মক্কা জোট গঠন করতে দিয়েছে। 🔘 টার্কি আরব সাগরে দাদাগিরি করতে চায় সৌদি, পাকিস্তান বা বাংলাদেশকে রক্ষা করতে?
মোটেও নয়। টার্কির সেই ক্ষমতা নেই। তারা চায় এই অঞ্চলে তাদের অস্ত্র বিক্রি করতে। তারা গত দেড় দশক ধরে সিরিয়া-ইরাকে ব্যাপকভাবে ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্রের টেস্ট করে অস্ত্রগুলো নিখুঁত করেছে। যে কারণে এখন বায়রাক্তার ড্রোন বিশ্বসেরা। ইতোমধ্যেই টার্কি উপসাগরীয় সকল দেশে, পাকিস্তানে, মালয়েশিয়ায়, বাংলাদেশে, প্রাক্তন USSR-এর এশীয় দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে ড্রোন রফতানি করেছে। পাকিস্তানের তাদের ড্রোন ম্যানুফ্যাক্চার প্ল্যান্ট আছে। এবার চায় বাংলাদেশেও তা করতে। বাংলাদেশও জমি বরাদ্দ করেছে। সুতরাং ‘মক্কা জোট’ আখেরে কোনো কাজে আসুক না আসুক, টার্কি আর্মস ডিল বাড়তে থাকবে। 🔘 এই অঞ্চলে টার্কির দাদাগিরির আরও একটি উদ্দেশ্য হচ্ছে ভারতকে ভয় দেখানো। ভারতের অর্থনীতি বিশ্বে ৩য় এবং সামরিক শক্তিতে ৪র্থ। তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা কেন? কারণ, ভারত গত বছর পাকিস্তান আক্রমণের সময় দেখেছিল পাকিস্তানের নূরখান এয়ারবেস-এ টার্কির সৈন্যরাও যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল। এমনকি পাকিস্তানের টার্কির যে ড্রোন ভারতে আক্রমণ করেছিল তা অপারেট করেছিল টার্কি এক্সপার্টরা। এর পর পরই ভারত টার্কিকে ছবক শেখাতে গ্রীস, সাইপ্রাস, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া ও বুলগেরিয়ায় চার ধরণের মিসাইল বিক্রি করেছে। এমনকি গ্রীসকে রাশিয়া নির্মিত S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দিয়েছে। অর্থাৎ টার্কি এখন চতুর্দিকে ভারতীয় মিসাইল রেঞ্জের আওতায়। 🔘 এরকম অবস্থায় এই ‘মক্কা জোট’ যে ন্যাটো জোটের মত মক্কা জোটও “Mecca Alliance member shall be considered an attack against them all.” হিসাবে ট্রিট করবে এমনটা ভাবার কারণ নেই এ জন্য যে ভারত যদি পাকিস্তান ও বাংলাদেশে আক্রমণ করে তাহলে সৌদি আরব কখনই ভারতের বিরুদ্ধে যাবে না। কেন যাবে না তার অনেকগুলোর মধ্যে দুটো অন্যতম কারণ; সৌদির আইটি সেক্টরের প্রায় ৯০ ভাগ ভারতীয় এক্সপার্টরা চালায়। ভারত সৌদিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শ্রমিক সাপ্লায়ার। তদুপরি ভারত ইসরায়েলের অন্যতম বন্ধু রাষ্ট্র, যা সৌদি আরব নিজেও। 🔘 টার্কিও এগোবে না। গত বছর মে মাসে অপারেশন সিঁদুর চলাকালিন টার্কির সৈন্য ভারতীয় হামলায় মা/রা যাওয়ার পরও টার্কি প্রকাশ করেনি, কাউন্টারও করেনি। তার বদলে ভারতের সঙ্গে কিছু বিজনেস ডিল বাতিল করেছে। 🔘 বাকি থাকল পাকিস্তান। পাকিস্তান পরমানু শক্তিধর হয়েও বাংলাদেশ দূরের কথা, সৌদি আরব বা টার্কি আক্রান্ত হলেও কাউন্টার এ্যাটাক করার ক্ষমতা রাখে না কারণ, তার রসদ কেনার টাকা নেই। চীন থেকে বার্টার সিস্টেমে বাকিতে পাওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ আর বিদ্যুতের মাসুল গুনতেই আইএমএফ থেকে লোন নিতে হয় তাকে। এই যে সৌদি আরবে প্রতিদিন ইরান মিসাইল মা/রছে, শহর-বন্দর-লোকালয় গড়িয়ে দিচ্ছে, তার প্রতিকারে কী করেছে পাকিস্তান? নাথিং। 🔘 এই তিনটি দেশ কী পারে? হ্যাঁ, যদি এই তিনটি দেশে আশেপাশের কোনো দেশ আক্রমণ করে তার মোকাবেলা করতে পারবে। তবে কোনোভাবেই ইসরায়েল টার্কি আক্রমণ করলে কিংবা ভারত পাকিস্তানে আক্রমণ করলে বাকি দেশদুটো কিসসু করবে না। জাস্ট অফ থাকবে। 🔘 সুতরাং বাংলাদেশ যদি মনে করে মক্কা জোটে যোগ দিলেই ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারবে, আক্রান্ত হলে জোটের শরিকরা বাঁচাবে, এভাবে এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দেশ হয়ে উঠবে…. তাহলে বলতে হয় বোকার স্বর্গে বাস করছে এই থিংককট্যাঙ্ক। বাংলাদেশে বেশ কয়েকজন ডেট এক্সপায়ারড ওয়ার ও জিওপলিটিক্যাল এনালিস্ট “আমরাও একটা ‘ন্যাটোটাইপ’ জোটে আছি” ভেবে পুলকিত সহতে পারেন, আজকের দিনে এসব ভ্যালুলেস চিন্তা-ভাবনা। 🔘 অবশ্য একেবারেই ‘ভ্যালুলেস’ বলা যাবে না। মাঝে মাঝে ‘স্টাবলিস্ট বেগার’ জোট থেকে থোক সাহায্য পেলে তার ছিটেফোটা ‘নেউ বেগার’ও পাবে। সেটাই বা কম কী?



