ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাস ডিল? ইইউ রাষ্ট্রদূতের চাপ; রপ্তানি টিকিয়ে রাখতে আর কতো ছাড় দিতে হবে বাংলাদেশকে?
ভেনিসে সজীব ওয়াজেদ জয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি নিয়ে তুমুল আলোচনা
ঢামেকে দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে আওয়ামী লীগ কর্মীসহ ৩ কারাবন্দীর মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থানার সামনেই ছাত্রলীগের মিছিল; শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ২.০ উপলক্ষে জনসংযোগ
মক্কা জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি
শেখ হাসিনার প্রথম টেলিফোন সাক্ষাৎকার, আশংকা প্রকাশ করে বললেন ‘দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই আমাকে হত্যা করতে পারে’
৩ দিনে কোলকাতা দখলের হুমকি দেয়া সাবেক সেনাসদস্যরা এখন প্রতারণা ও ডাকাতি চক্রের হোতা
চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ এখন চাল আমদানিকারক দেশ হিসাবে শীর্ষে
একসময় চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকা এবং এমনকি রপ্তানিও করা বাংলাদেশ এখন নিয়মিত চাল আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে বড় পরিমাণ চাল আসছে, আর যুক্তরাষ্ট্র থেকেও চাল আমদানিতে বাংলাদেশ প্রথম দশটি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—কৃষিপ্রধান এই দেশ কি আর আগের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ নেই?
চালের আমদানি নির্ভরতা
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখনও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে চাল উৎপাদন প্রায় ৩৭.৪ থেকে ৩৭.৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। তবুও আমদানি বাড়ছে। ইউএসডিএ ও স্থানীয় সূত্র অনুসারে ২০২৫-২৬ সালে প্রায় ১.৪ মিলিয়ন টন এবং ২০২৬-২৭ সালে ১.৫ মিলিয়ন টন চাল আমদানির পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২৪ সালে শুধু ভারত থেকেই
প্রায় ৮৪.৬ মিলিয়ন ডলারের চাল আমদানি হয়েছে, যা মোট আমদানির সিংহভাগ। ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার থেকেও চাল আসছে। ভৌগোলিকভাবে কাছে হওয়ায় এবং দাম কম হওয়ায় বাংলাদেশের চাল আমদানির প্রধান উৎস ভারত। তবে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের চাল আমদানির ব্যয় আগের বছরের প্রায় ১ হাজার ৩৬৫ গুণ বেড়েছে। এর ফলেই যুক্তরাষ্ট্রের চালের শীর্ষ ১০ ক্রেতা দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ইউএসডিএর হিসাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪৭ হাজার ৫৫০ টন চাল আমদানি করেছে। এর আর্থিক মূল্য ছিল ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪৩৬ কোটি টাকা। কেন আমদানি বাড়ছে? প্রধান কারণগুলোর
মধ্যে রয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও মাথাপিছু ভোগের চাপ, সরকারি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির সম্প্রসারণ, বন্যা-খরাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার ও বেসরকারি খাতের আমদানি। দেশীয় উৎপাদন বাড়লেও চাহিদা আরও দ্রুত বাড়ছে। ফলে স্বয়ংসম্পূর্ণতার হার কমে গেছে এবং ঘাটতি পূরণে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। সার ও বীজ স্বল্পতার প্রভাব কৃষি উৎপাদনে সার ও বীজের যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে কৃষকরা ব্যাপক লোকসান ও হতাশার মুখে পড়ছেন, যা দেশের খাদ্য উৎপাদনকে আমদানিনির্ভর করে তুলছে। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সারের চাহিদা প্রায় ৬৭.৭ লাখ টন হলেও মজুত মাত্র ১৬ লাখ টনের কাছাকাছি, যা নিরাপদ স্তরের চেয়ে অনেক কম। দেশীয় কারখানাগুলো চাহিদার
মাত্র এক-ষষ্ঠাংশ উৎপাদন করতে পারছে (প্রায় ১১ লাখ টন), বাকিটা আমদানিনির্ভর। মাঠপর্যায়ে কৃষকরা সরকার নির্ধারিত দামের (ইউরিয়া কেজি ২০-২৭ টাকা) দ্বিগুণ পর্যন্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন; কোথাও কোথাও গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। একইভাবে নিম্নমানের ও ভেজাল বীজের কারণে অনেক এলাকায় আমন মৌসুমে ফলন অর্ধেকেরও কম হয়েছে—কৃষকরা বলছেন, আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ ৩০-৩৫ শতাংশ বেড়েছে অথচ ফলন কমেছে। এই সংকটের ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কৃষক লাভের পরিবর্তে লোকসানে পড়ছেন এবং ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে দেশীয় উৎপাদন চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়ে চালসহ কৃষিপণ্য আমদানি বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। প্রভাব কী? চাল
আমদানি বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার চাপ বাড়ছে। কৃষকরা ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে আমদানি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হলেও দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত বীজ, সেচ ব্যবস্থা, সংরক্ষণ সুবিধা এবং কৃষকদের প্রণোদনা বাড়াতে না পারলে বাংলাদেশ আরও আমদানিনির্ভর হয়ে পড়তে পারে। একসময় চাল রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ এখন নিয়মিত আমদানিকারক। কৃষিপ্রধান দেশের এই পরিবর্তন খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
প্রায় ৮৪.৬ মিলিয়ন ডলারের চাল আমদানি হয়েছে, যা মোট আমদানির সিংহভাগ। ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার থেকেও চাল আসছে। ভৌগোলিকভাবে কাছে হওয়ায় এবং দাম কম হওয়ায় বাংলাদেশের চাল আমদানির প্রধান উৎস ভারত। তবে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের চাল আমদানির ব্যয় আগের বছরের প্রায় ১ হাজার ৩৬৫ গুণ বেড়েছে। এর ফলেই যুক্তরাষ্ট্রের চালের শীর্ষ ১০ ক্রেতা দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ইউএসডিএর হিসাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪৭ হাজার ৫৫০ টন চাল আমদানি করেছে। এর আর্থিক মূল্য ছিল ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪৩৬ কোটি টাকা। কেন আমদানি বাড়ছে? প্রধান কারণগুলোর
মধ্যে রয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও মাথাপিছু ভোগের চাপ, সরকারি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির সম্প্রসারণ, বন্যা-খরাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার ও বেসরকারি খাতের আমদানি। দেশীয় উৎপাদন বাড়লেও চাহিদা আরও দ্রুত বাড়ছে। ফলে স্বয়ংসম্পূর্ণতার হার কমে গেছে এবং ঘাটতি পূরণে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। সার ও বীজ স্বল্পতার প্রভাব কৃষি উৎপাদনে সার ও বীজের যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে কৃষকরা ব্যাপক লোকসান ও হতাশার মুখে পড়ছেন, যা দেশের খাদ্য উৎপাদনকে আমদানিনির্ভর করে তুলছে। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সারের চাহিদা প্রায় ৬৭.৭ লাখ টন হলেও মজুত মাত্র ১৬ লাখ টনের কাছাকাছি, যা নিরাপদ স্তরের চেয়ে অনেক কম। দেশীয় কারখানাগুলো চাহিদার
মাত্র এক-ষষ্ঠাংশ উৎপাদন করতে পারছে (প্রায় ১১ লাখ টন), বাকিটা আমদানিনির্ভর। মাঠপর্যায়ে কৃষকরা সরকার নির্ধারিত দামের (ইউরিয়া কেজি ২০-২৭ টাকা) দ্বিগুণ পর্যন্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন; কোথাও কোথাও গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। একইভাবে নিম্নমানের ও ভেজাল বীজের কারণে অনেক এলাকায় আমন মৌসুমে ফলন অর্ধেকেরও কম হয়েছে—কৃষকরা বলছেন, আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ ৩০-৩৫ শতাংশ বেড়েছে অথচ ফলন কমেছে। এই সংকটের ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কৃষক লাভের পরিবর্তে লোকসানে পড়ছেন এবং ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে দেশীয় উৎপাদন চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়ে চালসহ কৃষিপণ্য আমদানি বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। প্রভাব কী? চাল
আমদানি বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার চাপ বাড়ছে। কৃষকরা ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে আমদানি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হলেও দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত বীজ, সেচ ব্যবস্থা, সংরক্ষণ সুবিধা এবং কৃষকদের প্রণোদনা বাড়াতে না পারলে বাংলাদেশ আরও আমদানিনির্ভর হয়ে পড়তে পারে। একসময় চাল রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ এখন নিয়মিত আমদানিকারক। কৃষিপ্রধান দেশের এই পরিবর্তন খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।



