ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ইউনূসের করা দাসত্বের চুক্তি নিয়ে মুখ খুলছেন শীর্ষ ব্যবসায়ীরা, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
১ কোটি কর্মসংস্থানের সরকারি মূলা ও বাস্তবতা: বিশ্বব্যাংক বলছে কর্মহীন হবেন ৬ লাখ মানুষ, বাড়বে দারিদ্র
মাদক-চাঁদাবাজির বিরোধিতা করায় প্রবাসীর জমি দখল করলেন গাজীপুর বিএনপির সদস্য সচিব
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চার ঘন্টা যানজটে আটকে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু
আবেগঘন বার্তায় শ্রমিকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা: ‘টিকিয়ে রাখার অনেক চেষ্টা করেছি, পারলাম না’
‘শেখের বেটি আইতাছে’ স্লোগানে মিছিল, আনোয়ারায় ১৩৮ জনের নামে মামলা
থার্ড টার্মিনাল: ৯৯.৯১% কাজ শেষ হলেও ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে ৯০২ কোটি টাকা
নেপালের ভয়াবহ বন্যা: হিমালয় কেন বারবার এমন দুর্যোগের শিকার হচ্ছে?
নেপালের রাসুয়া জেলায় সম্প্রতি যে আকস্মিক বন্যা আঘাত হেনেছে, তা রীতিমতো এক প্রলয়ংকরী দৃশ্যের জন্ম দিয়েছে। দুটি নদীর প্রায় ১৭০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে পানি, বরফ ও পাথরের এক বিশাল স্রোত। তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই এলাকাটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি ট্রেকিং গন্তব্য হিসেবেই পরিচিত ছিল।
উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, বহু ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো হয় ভেসে গেছে, নয়তো কাদা-পাথরের নিচে চাপা পড়েছে। বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় কৃষিজমি ও ধানখেত পুরু পলি ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছে, যা এই অঞ্চলের মানুষের জীবিকার মূল উৎস ছিল। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে,
আর প্রায় ১,৪০০ জন এখনও নিখোঁজ। দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টারই উদ্ধারকাজের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে, আর আসন্ন সপ্তাহান্তে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাসে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষণে জানা যাচ্ছে, উপগ্রহ, ড্রোন ও হেলিকপ্টার থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক ধারণা—প্রায় ৫,০০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের একাংশ এবং তার পাশের পাহাড়ি ঢাল ধসে পড়ে। একেই বলা হয় “রক-আইস অ্যাভাল্যাঞ্চ” বা পাথর-বরফ ধস। বরফ ও পাথরের এই মিশ্রণ প্রায় ১,৩০০ মিটার নিচে উপত্যকায় আছড়ে পড়ে, যেখানে বরফ চূর্ণ হয়ে পানিতে পরিণত হয়। উপত্যকার তলদেশে জমে থাকা মৃত হিমবাহ-বরফ, পানির পকেট, ধ্বংসাবশেষ ও বড় বড় পাথরও এর সঙ্গে মিশে যায়, যা মিলিতভাবে এক বিশাল প্রবাহের রূপ
নেয়। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী মূল ধসে প্রায় ১০ কোটি ঘনমিটার উপাদান জড়িত ছিল, তবে এই প্রবাহ যতই নিচের দিকে নেমেছে ততই আরও বরফ, ধ্বংসাবশেষ, এমনকি ঘরবাড়ি ও সেতুও তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আকার বাড়িয়েছে। এক দুর্যোগ থেকে আরেকটির জন্ম নেওয়ার এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় “ক্যাসকেডিং হ্যাজার্ড” বা ধারাবাহিক শৃঙ্খল দুর্যোগ—অনেকটা পরপর ঘটে যাওয়া চেইন-রিঅ্যাকশনের মতো। এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং গত এক দশকে হিমালয় অঞ্চলে বারবার দেখা যাওয়া এক পরিচিত ধরনেরই সবশেষ সংযোজন। ২০১৩ সালে ভারতের উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ বন্যায় পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ২০২১ সালে একই রাজ্যের চামোলিতে আরেকটি হিমবাহ-বিপর্যয় ঘটে। ২০২৩ সালে সিকিমে একটি হিমবাহী হ্রদ ধসে পড়ায় সুনামির
মতো ঢেউ তৈরি হয়, যাতে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে নেপালেই আরেকটি প্রাণঘাতী বন্যায় ২৪৪ জন মারা যান। আর এখন ২০২৬ সালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ঘটল আরও একটি বিপর্যয়। ভিন্ন দেশ, ভিন্ন নদী, ভিন্ন কারণ—কিন্তু পাহাড় একই। এর পেছনে মূল কারণ হিমালয়ের ভূতাত্ত্বিক বয়স ও গঠন। প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি বছর আগে ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে এই পর্বতমালার জন্ম, যা ভূতাত্ত্বিক হিসাবে পৃথিবীর সবচেয়ে “তরুণ” পর্বতশ্রেণি। সেই সংঘর্ষ আজও থামেনি—পাহাড় এখনও উঁচু হচ্ছে, মাটির নিচে চাপ এখনও সক্রিয়, শিলাস্তরও এখনও ফাটল-প্রবণ। ফলে ভূমিকম্প, ভূমিধস ও ঢাল ধসে পড়া এই অঞ্চলে ব্যতিক্রম নয়, বরং প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অংশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে
খাড়া, সিঁড়ির মতো ভূপ্রকৃতি—যেখানে সামান্য একটি ভূমিধসও নদীর গতিপথ আটকে দিতে পারে, পানি জমতে থাকে, আর সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে পুরো উপত্যকা মুহূর্তেই বন্যার খাতে পরিণত হয়। হিমালয়কে বলা হয় “তৃতীয় মেরু”, কারণ উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বাইরে এখানেই সবচেয়ে বেশি বরফ ও তুষার জমা আছে—কয়েক হাজার হিমবাহ। হাজার হাজার বছর ধরে এই বরফ পাহাড়ি ঢালগুলোকে একরকম আঠার মতো ধরে রেখেছিল, মাটি ও পাথরকে স্থিতিশীল রেখেছিল। কিন্তু তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রাকৃতিক আঠা দুর্বল হয়ে পড়ছে—হিমবাহ পিছু হটছে, নতুন হ্রদ তৈরি হচ্ছে, বরফ ও পাথর অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। এর ফলেই তৈরি হয় এমন হিমবাহ-ধসের ঝুঁকি, যেমনটা সম্প্রতি নেপালে ঘটেছে। মানুষের কর্মকাণ্ডও
এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। পাহাড়ি অঞ্চলে ক্রমাগত নতুন সড়ক, হোটেল, বসতি, বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হচ্ছে। কিন্তু পাহাড় এসব উন্নয়ন-পরিকল্পনার তোয়াক্কা করে না। ঢাল কেটে রাস্তা চওড়া করলে তা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, আর পুরো উপত্যকা হোটেল ও অবকাঠামোয় ভরে গেলে একটি মাত্র দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণে বেড়ে যায়। এই অঞ্চল একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রী ও পর্যটককেও টানে—কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, অমরনাথ, হিমকুণ্ড কিংবা মানসরোবরের মতো তীর্থস্থানে প্রতি বছর হাজার হাজার তীর্থযাত্রী যান, আবার এভারেস্ট বেস ক্যাম্প বা লাদাখের মতো জায়গায় যান দুঃসাহসিক ভ্রমণপিপাসুরাও। এই পর্যটন স্থানীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও একই সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ায়। মানুষকে পাহাড় ছেড়ে যেতে বলা সম্ভব নয়, তাই
ঝুঁকি না বাড়িয়ে উন্নয়নের পথ খুঁজে বের করাই আসল চ্যালেঞ্জ। ভূমিকম্প বা হিমবাহ গলে যাওয়া ঠেকানো যায় না, কিন্তু আরও ভালো সতর্কীকরণ ও সাড়াদান ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এর শুরু হওয়া উচিত আরও ভালো পর্যবেক্ষণ দিয়ে—উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহী হ্রদ নজরে রাখা, বৃষ্টিপাত পর্যবেক্ষণ, ভূমিধস পর্যবেক্ষণ, উপগ্রহ ও সেন্সর ব্যবহার, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সেই তথ্যকে মানুষের কাজে লাগার মতো প্রকৃত সতর্কবার্তায় রূপান্তর করা। এই কাজ কোনো একটি দেশের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। হিমালয় বিস্তৃত একাধিক দেশজুড়ে, নদীগুলোও সীমান্ত পেরিয়ে বয়ে যায়, তাই বন্যাও সীমান্ত মানে না। চীন বা নেপালের উঁচু পাহাড়ে যা ঘটে, তার প্রভাব পড়তে পারে নিচের দিকে ভারতের জনবসতিতেও। পাহাড় যখন সীমান্ত চেকপোস্টে থেমে যায় না, তখন তথ্য-আদান-প্রদানও থামা উচিত নয়। হিমালয়-সংলগ্ন দেশগুলোর মধ্যে দ্রুত ও নির্বিঘ্ন তথ্য বিনিময় এবং আরও মজবুত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা প্রয়োজন—কারণ প্রতি বছর একই ধরনের বিপর্যয় দেখেও একে নিছক “অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা” বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ আর নেই। হিমালয় হয়তো অপ্রত্যাশিত থেকেই যাবে, কিন্তু তার জন্য প্রস্তুত না থাকাটা যেন আর অপ্রত্যাশিত না হয়।
আর প্রায় ১,৪০০ জন এখনও নিখোঁজ। দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টারই উদ্ধারকাজের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে, আর আসন্ন সপ্তাহান্তে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাসে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষণে জানা যাচ্ছে, উপগ্রহ, ড্রোন ও হেলিকপ্টার থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক ধারণা—প্রায় ৫,০০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের একাংশ এবং তার পাশের পাহাড়ি ঢাল ধসে পড়ে। একেই বলা হয় “রক-আইস অ্যাভাল্যাঞ্চ” বা পাথর-বরফ ধস। বরফ ও পাথরের এই মিশ্রণ প্রায় ১,৩০০ মিটার নিচে উপত্যকায় আছড়ে পড়ে, যেখানে বরফ চূর্ণ হয়ে পানিতে পরিণত হয়। উপত্যকার তলদেশে জমে থাকা মৃত হিমবাহ-বরফ, পানির পকেট, ধ্বংসাবশেষ ও বড় বড় পাথরও এর সঙ্গে মিশে যায়, যা মিলিতভাবে এক বিশাল প্রবাহের রূপ
নেয়। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী মূল ধসে প্রায় ১০ কোটি ঘনমিটার উপাদান জড়িত ছিল, তবে এই প্রবাহ যতই নিচের দিকে নেমেছে ততই আরও বরফ, ধ্বংসাবশেষ, এমনকি ঘরবাড়ি ও সেতুও তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আকার বাড়িয়েছে। এক দুর্যোগ থেকে আরেকটির জন্ম নেওয়ার এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় “ক্যাসকেডিং হ্যাজার্ড” বা ধারাবাহিক শৃঙ্খল দুর্যোগ—অনেকটা পরপর ঘটে যাওয়া চেইন-রিঅ্যাকশনের মতো। এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং গত এক দশকে হিমালয় অঞ্চলে বারবার দেখা যাওয়া এক পরিচিত ধরনেরই সবশেষ সংযোজন। ২০১৩ সালে ভারতের উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ বন্যায় পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ২০২১ সালে একই রাজ্যের চামোলিতে আরেকটি হিমবাহ-বিপর্যয় ঘটে। ২০২৩ সালে সিকিমে একটি হিমবাহী হ্রদ ধসে পড়ায় সুনামির
মতো ঢেউ তৈরি হয়, যাতে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে নেপালেই আরেকটি প্রাণঘাতী বন্যায় ২৪৪ জন মারা যান। আর এখন ২০২৬ সালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ঘটল আরও একটি বিপর্যয়। ভিন্ন দেশ, ভিন্ন নদী, ভিন্ন কারণ—কিন্তু পাহাড় একই। এর পেছনে মূল কারণ হিমালয়ের ভূতাত্ত্বিক বয়স ও গঠন। প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি বছর আগে ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে এই পর্বতমালার জন্ম, যা ভূতাত্ত্বিক হিসাবে পৃথিবীর সবচেয়ে “তরুণ” পর্বতশ্রেণি। সেই সংঘর্ষ আজও থামেনি—পাহাড় এখনও উঁচু হচ্ছে, মাটির নিচে চাপ এখনও সক্রিয়, শিলাস্তরও এখনও ফাটল-প্রবণ। ফলে ভূমিকম্প, ভূমিধস ও ঢাল ধসে পড়া এই অঞ্চলে ব্যতিক্রম নয়, বরং প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অংশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে
খাড়া, সিঁড়ির মতো ভূপ্রকৃতি—যেখানে সামান্য একটি ভূমিধসও নদীর গতিপথ আটকে দিতে পারে, পানি জমতে থাকে, আর সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে পুরো উপত্যকা মুহূর্তেই বন্যার খাতে পরিণত হয়। হিমালয়কে বলা হয় “তৃতীয় মেরু”, কারণ উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বাইরে এখানেই সবচেয়ে বেশি বরফ ও তুষার জমা আছে—কয়েক হাজার হিমবাহ। হাজার হাজার বছর ধরে এই বরফ পাহাড়ি ঢালগুলোকে একরকম আঠার মতো ধরে রেখেছিল, মাটি ও পাথরকে স্থিতিশীল রেখেছিল। কিন্তু তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রাকৃতিক আঠা দুর্বল হয়ে পড়ছে—হিমবাহ পিছু হটছে, নতুন হ্রদ তৈরি হচ্ছে, বরফ ও পাথর অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। এর ফলেই তৈরি হয় এমন হিমবাহ-ধসের ঝুঁকি, যেমনটা সম্প্রতি নেপালে ঘটেছে। মানুষের কর্মকাণ্ডও
এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। পাহাড়ি অঞ্চলে ক্রমাগত নতুন সড়ক, হোটেল, বসতি, বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হচ্ছে। কিন্তু পাহাড় এসব উন্নয়ন-পরিকল্পনার তোয়াক্কা করে না। ঢাল কেটে রাস্তা চওড়া করলে তা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, আর পুরো উপত্যকা হোটেল ও অবকাঠামোয় ভরে গেলে একটি মাত্র দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণে বেড়ে যায়। এই অঞ্চল একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রী ও পর্যটককেও টানে—কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, অমরনাথ, হিমকুণ্ড কিংবা মানসরোবরের মতো তীর্থস্থানে প্রতি বছর হাজার হাজার তীর্থযাত্রী যান, আবার এভারেস্ট বেস ক্যাম্প বা লাদাখের মতো জায়গায় যান দুঃসাহসিক ভ্রমণপিপাসুরাও। এই পর্যটন স্থানীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও একই সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ায়। মানুষকে পাহাড় ছেড়ে যেতে বলা সম্ভব নয়, তাই
ঝুঁকি না বাড়িয়ে উন্নয়নের পথ খুঁজে বের করাই আসল চ্যালেঞ্জ। ভূমিকম্প বা হিমবাহ গলে যাওয়া ঠেকানো যায় না, কিন্তু আরও ভালো সতর্কীকরণ ও সাড়াদান ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এর শুরু হওয়া উচিত আরও ভালো পর্যবেক্ষণ দিয়ে—উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহী হ্রদ নজরে রাখা, বৃষ্টিপাত পর্যবেক্ষণ, ভূমিধস পর্যবেক্ষণ, উপগ্রহ ও সেন্সর ব্যবহার, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সেই তথ্যকে মানুষের কাজে লাগার মতো প্রকৃত সতর্কবার্তায় রূপান্তর করা। এই কাজ কোনো একটি দেশের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। হিমালয় বিস্তৃত একাধিক দেশজুড়ে, নদীগুলোও সীমান্ত পেরিয়ে বয়ে যায়, তাই বন্যাও সীমান্ত মানে না। চীন বা নেপালের উঁচু পাহাড়ে যা ঘটে, তার প্রভাব পড়তে পারে নিচের দিকে ভারতের জনবসতিতেও। পাহাড় যখন সীমান্ত চেকপোস্টে থেমে যায় না, তখন তথ্য-আদান-প্রদানও থামা উচিত নয়। হিমালয়-সংলগ্ন দেশগুলোর মধ্যে দ্রুত ও নির্বিঘ্ন তথ্য বিনিময় এবং আরও মজবুত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা প্রয়োজন—কারণ প্রতি বছর একই ধরনের বিপর্যয় দেখেও একে নিছক “অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা” বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ আর নেই। হিমালয় হয়তো অপ্রত্যাশিত থেকেই যাবে, কিন্তু তার জন্য প্রস্তুত না থাকাটা যেন আর অপ্রত্যাশিত না হয়।



