ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ইউনূস সরকারের বাতিল করা বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো আবার শূন্য থেকে শুরু বিএনপি’রঃ গত দুইবছরে গ্রিডে যুক্ত হয়নি এক ইউনিট বিদ্যুৎ
দুর্ভিক্ষের সকল লক্ষণ দৃশ্যমান কৃষি ও উৎপাদন ব্যবস্থায়: তবে কি সেদিকেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ?
সামনে বিএনপি-আ.লীগ পেছনে প্রশাসন সিন্ডিকেট
চরম পর্যায়ে লোডশেডিং: ভোগান্তিতে বাড়ছে জনরোষ, নিরাপত্তা শঙ্কায় বিদ্যুৎকর্মীরা
সারাদেশে ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে লোডশেডিংয়ের নতুন রেকর্ডঃ বন্ধ ৪১ বিদ্যুতকেন্দ্র
রাষ্ট্র রক্ষার দায় ও বিচারবিভাগীয় তদন্ত বন্ধের রহস্য: শেখ হাসিনার ভাষণের দুটি মৌলিক প্রশ্ন
খোদ চাঁদপুরেই মধ্যবিত্তের নাগালের অনেক বাইরে সাধের ইলিশ, ডিমের কেজিও ৬ হাজার
নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ স্বীকৃতি দেন জিয়া: বিএনপির অসত্য দাবি বঙ্গবন্ধু সরকারের অবদান মুছে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা
বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘জাতীয় কবির’ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে ঐতিহাসিক তথ্য বিকৃত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে।
গতকাল ২৫শে আগস্ট, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘আমি হব সকাল বেলার পাখি: নজরুল বর্ষ উপলক্ষে’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নজরুলকে জাতীয় কবির রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।
তবে ঐতিহাসিক নথিপত্র ও তথ্য প্রমাণ বলছে ভিন্ন কথা। প্রকৃতপক্ষে, ১৯৭২ সালেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিকভাবে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদান
করে। বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগেই ১৯৭২ সালের ২৪শে মে (১১ই জ্যৈষ্ঠ) কবিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে এনে রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদা দেওয়া হয় এবং একই সাথে জাতীয় কবির মর্যাদা কার্যকর করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত এই সত্যকে এড়িয়ে গিয়ে বিএনপি নেতা রিজভী এই অর্জনের কৃতিত্ব জিয়াউর রহমানের বলে দাবি করেন, যা তথ্যগতভাবে পুরোপুরি ভুল এবং ইতিহাস বিকৃতির শামিল। আলোচনা সভায় রুহুল কবির রিজভী তার বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন দূরদর্শী পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, “রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে নজরুলকে বাদ দিয়ে এ দেশের সংস্কৃতি অসম্পূর্ণ। সে কারণেই তিনি জাতীয় কবি হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামকে উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।” পাশাপাশি, তিনি শিশু-কিশোরদের মনন গঠনে
নজরুলের সাহিত্যকর্মের অবদান তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ চালুর ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। বর্তমান সমাজে মাদকের ভয়াল থাবা ও অপরাধ প্রবণতা রোধে নজরুলের জীবনদর্শন ও সাহিত্যের চর্চা বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি। তবে, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় রাজনৈতিক সুবিধা ও দলীয় প্রধানের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গিয়ে স্বাধীনতার পর পরই বঙ্গবন্ধু সরকারের নেওয়া ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও স্বীকৃতিকে অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা। ১৯৭২ সালের মে মাসে কবির ঐতিহাসিক বাংলাদেশে আগমন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় কবির মর্যাদাপ্রাপ্তির সত্যকে আড়াল করে দেওয়া এমন বক্তব্য বস্তুনিষ্ঠ নয় বরং ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। কবির শয্যাপাশে বঙ্গবন্ধু উল্লেখ্য, কবি
কাজী নজরুল ইসলামের জাতীয় কবির মর্যাদার বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত সত্য এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও স্বীকৃত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বিদ্রোহী কবিকে সপরিবারে ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের তারিখ থেকেই দেশবাসী তাকে জাতীয় কবি ঘোষণা করে গেজেট প্রত্যাশা করে আসছিল। উপদেষ্টা পরিষদ এ প্রত্যাশা অনুযায়ী এ প্রস্তাব অনুমোদন করে। কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭২ সালের ২৪শে মে কলকাতা থেকে সরকারি উদ্যোগে সপরিবারে ঢাকায় নিয়ে আসেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার বসবাসের জন্য ধানমণ্ডির ২৮ নম্বর (পুরনো) সড়কের ৩৩০-বি বাড়িটি বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এরপর ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে। একই বছরের ২১শে ফেব্রুয়ারি তাকে একুশে পদকে
ভূষিত করা হয়। একুশে পদক বাংলাদেশের দ্বিতীয় বেসামরিক সম্মানসূচক পদক হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অন্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯৭৪ সালের ৯ই ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে (টিএসসি) এক সমাবর্তন উৎসবে এই উপাধি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অসুস্থতার জন্য নজরুলকে এ উৎসবে আনা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি তারিখে বঙ্গভবনে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদউল্লাহ নজরুলকে ডি. লিট উপাধিতে ভূষিত করেন।
করে। বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগেই ১৯৭২ সালের ২৪শে মে (১১ই জ্যৈষ্ঠ) কবিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে এনে রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদা দেওয়া হয় এবং একই সাথে জাতীয় কবির মর্যাদা কার্যকর করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত এই সত্যকে এড়িয়ে গিয়ে বিএনপি নেতা রিজভী এই অর্জনের কৃতিত্ব জিয়াউর রহমানের বলে দাবি করেন, যা তথ্যগতভাবে পুরোপুরি ভুল এবং ইতিহাস বিকৃতির শামিল। আলোচনা সভায় রুহুল কবির রিজভী তার বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন দূরদর্শী পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, “রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে নজরুলকে বাদ দিয়ে এ দেশের সংস্কৃতি অসম্পূর্ণ। সে কারণেই তিনি জাতীয় কবি হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামকে উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।” পাশাপাশি, তিনি শিশু-কিশোরদের মনন গঠনে
নজরুলের সাহিত্যকর্মের অবদান তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ চালুর ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। বর্তমান সমাজে মাদকের ভয়াল থাবা ও অপরাধ প্রবণতা রোধে নজরুলের জীবনদর্শন ও সাহিত্যের চর্চা বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি। তবে, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় রাজনৈতিক সুবিধা ও দলীয় প্রধানের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গিয়ে স্বাধীনতার পর পরই বঙ্গবন্ধু সরকারের নেওয়া ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও স্বীকৃতিকে অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা। ১৯৭২ সালের মে মাসে কবির ঐতিহাসিক বাংলাদেশে আগমন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় কবির মর্যাদাপ্রাপ্তির সত্যকে আড়াল করে দেওয়া এমন বক্তব্য বস্তুনিষ্ঠ নয় বরং ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। কবির শয্যাপাশে বঙ্গবন্ধু উল্লেখ্য, কবি
কাজী নজরুল ইসলামের জাতীয় কবির মর্যাদার বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত সত্য এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও স্বীকৃত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বিদ্রোহী কবিকে সপরিবারে ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের তারিখ থেকেই দেশবাসী তাকে জাতীয় কবি ঘোষণা করে গেজেট প্রত্যাশা করে আসছিল। উপদেষ্টা পরিষদ এ প্রত্যাশা অনুযায়ী এ প্রস্তাব অনুমোদন করে। কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭২ সালের ২৪শে মে কলকাতা থেকে সরকারি উদ্যোগে সপরিবারে ঢাকায় নিয়ে আসেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার বসবাসের জন্য ধানমণ্ডির ২৮ নম্বর (পুরনো) সড়কের ৩৩০-বি বাড়িটি বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এরপর ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে। একই বছরের ২১শে ফেব্রুয়ারি তাকে একুশে পদকে
ভূষিত করা হয়। একুশে পদক বাংলাদেশের দ্বিতীয় বেসামরিক সম্মানসূচক পদক হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অন্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯৭৪ সালের ৯ই ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে (টিএসসি) এক সমাবর্তন উৎসবে এই উপাধি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অসুস্থতার জন্য নজরুলকে এ উৎসবে আনা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি তারিখে বঙ্গভবনে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদউল্লাহ নজরুলকে ডি. লিট উপাধিতে ভূষিত করেন।



