তথাকথিত ফ্যাসিজম দমনে নাজিবাদ এর উত্থান! – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ মে, ২০২৬

তথাকথিত ফ্যাসিজম দমনে নাজিবাদ এর উত্থান!

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ মে, ২০২৬ |
৫ আগস্ট ২০২৪-এর ক্ষমতার পালাবদলের পর বাংলাদেশে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের সদস্য বা সমর্থক সন্দেহে ব্যক্তিদের মব আক্রমণ করে পিটিয়ে-পুড়িয়ে-কুপিয়ে-ঝুলিয়ে হত্যা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রিয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার করা হচ্ছে। গত ২২শে মে শুক্রবার একদিনেই ২৬ জনকে এভাবে আটক করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে কারও রাজনৈতিক পরিচয়ই হয়ে উঠেছে অপরাধের প্রমাণ। অথচ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন এভাবে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের ওপর বিনা কারণে গ্রেফতার বা মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেনি। আইন প্রয়োগ হয়েছে অপরাধের ভিত্তিতে, দল-মত নির্বিশেষে। আওয়ামী লীগের কেউ অপরাধ করলে ছাড় পায়নি। তার উজ্জ্বল প্রমাণ আবরার

ফাহাদ ও বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড। আবরার হত্যা মামলায় বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক—২০ জন অপরাধীকে একই মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছিল। লক্ষণীয় যে, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের হত্যা মামলাতেও একসাথে এত সংখ্যক আসামির সাজা হয়নি। এটি প্রমাণ করে যে, অপরাধের বিচার যথাযথভাবে হয়েছিল। বর্তমানে অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ করার সন্দেহে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দেখানোর একটি মনভোলানো পদ্ধতি চলছে, যার শুরু হয়েছিল ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। বাস্তবে সারাদেশে প্রতিদিন হত্যা, ধর্ষণ, বলাৎকারসহ নানা অপরাধ ঘটছে অবাধে, বিভিন্ন অপরাধের মাত্রা বাংলাদেশে সবসময়ই ছিল, কিন্তু আগস্ট ২০২৪ এর পরে যেন অপরাধের সকল মাত্রা বা বাঁধ ভেঙ্গে পড়েছিল। ইসলামপন্থী তীব্র প্রতিক্রিয়াশীল

উগ্রপন্থার প্রচার চলছে প্রকাশ্যে। যারা “রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ” দলের সাথে জড়িত বলে অপরাধী সাব্যস্ত হয়ে গ্রেফতার হচ্ছেন, তাদের চেয়ে অনেক বড় অপরাধীরা খোলাখুলি ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, বাস্তবিক অপরাধ দমনের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করাই বর্তমান নির্বাচিত সরকারের মূল লক্ষ্য। যে ধারা ছাত্র সমন্বয়ক আর ইউনূশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুরু করেছিল, তারই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে তারেক রহমান-সালাউদ্দিন আহমেদের সরকার। ফলে আগস্ট ২০২৪-এ পূর্ববর্তী সরকারের পতনের ২১ মাস পরেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক দল হিসেবে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট দল ও মতের মানুষকে বিনা অপরাধে গ্রেফতার করা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে না।

বরং এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য ভয়ংকর হুমকি সৃষ্টি করে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীও আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের নামে হুলিয়া জারি করেছিল এবং ধরে ধরে গণহত্যা চালিয়েছিল। এই অত্যাচারের বিরুদ্ধেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল। নয় মাসের সংগ্রামের পর সেই নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই জনগণকে সাথে নিয়ে স্বাধীন দেশের জন্ম দিয়েছিলেন। আজ সেই একই দল ও মতের মানুষের ওপর পূর্বের ন্যায় যে হত্যা, অত্যাচার, নিপীড়ন ও গণগ্রেফতার চলছে, তা শুধু রাজনৈতিক নয়—এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং এক ধরনের জাতিগত (রাজনৈতিক) নিধন বলা চলে। যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলো, সেই আন্দোলনকারীরাই আবার নতুন

করে বৈষম্য শুরু হয়েছে। মোট জনগোষ্ঠীর ৩৫-৪০% মানুষকে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে রাষ্ট্রীয়ভাবে অপরাধী আখ্যা দিয়ে হত্যাযোগ্য করে তোলা হয়েছে। এটি ভবিষ্যতের রাজনীতির জন্য একটি বিপজ্জনক অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে। ক্ষমতায় যারা আছে বা যারা সামনে আসবে, তারাও এই সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করে বিরুদ্ধমতকে দমন করবে। নির্বাচনের মাত্র তিন মাসের মাথায় সরকারি দলের লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংসদের বিরোধীদলীয় জোটের ওপর যেভাবে চড়াও হচ্ছে, তাতে মতবিরোধ বাড়লে কোন পদ্ধতি নেওয়া হবে তা সহজেই অনুমেয়। সংসদীয় নির্বাচন পদ্ধতি মনঃপূত না হওয়ায় নির্বাচন বয়কট করে রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার উদাহরণকে যদি স্বৈরতন্ত্র বলা হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকেদের

দমন ও নিধন করে সরকার পরিচালনার পদ্ধতিকে নাজিবাদ হিসেবে অভিহিত করা যায়। নাজিবাদ হলো জার্মানির অ্যাডলফ হিটলারের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, যা সর্বাত্মকবাদের (Totalitarianism) সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে রাষ্ট্র সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্র—অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যক্তিগত জীবন এমনকি চিন্তাভাবনাকেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। একদলীয় শাসন, হিটলারের ব্যক্তিপূজা, গেস্টাপো ও এসএস-এর ভয়াবহ সন্ত্রাস, প্রচারণার মাধ্যমে মিথ্যা আদর্শ ছড়ানো এবং বিরোধীদের নির্মূল ছিল এর মূল বৈশিষ্ট্য। ইতালীয় ফ্যাসিবাদ (মুসোলিনি) মূলত জাতীয়তাবাদী ও কর্তৃত্ববাদী ছিল, কিন্তু নাজিবাদ এর সঙ্গে যুক্ত করেছিল চরম জাতিগত বিদ্বেষ, জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের মিথ্যা তত্ত্ব এবং নির্দিষ্ট মতাদর্শের উপর জাতিগত নিধন। সংক্ষেপে, নাজিবাদ সর্বাত্মকবাদের এমন এক রূপ যেখানে

রাষ্ট্র শুধু ক্ষমতা দখল করেনি, বরং সমাজ ও মানুষের অস্তিত্বকেই নতুন করে গড়ে তুলতে চেয়েছিল—যার ফলাফল ছিল ইতিহাসের অন্যতম বড় মানবিক বিপর্যয়। শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ পরিচালিত সরকার কে যদি মুসোলিনি’র ফ্যাসিবাদী সরকার হিসাবে অভিহিত করা হয়, তাহলে ইউনূস-ছাত্র সমন্বয়ক ও তারেক-সালাউদ্দিনের সরকার পরিচালনা পদ্ধতি হিটলারের নাজিবাদ এর প্রকৃষ্ট উদাহারণ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার নামে এভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চলতে থাকলে দেশে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও স্থিতিশীলতা কখনো ফিরে আসবে না। একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ আইনের শাসন, যেখানে অপরাধের বিচার হবে অপরাধের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে হলে এই বৈষম্যমূলক ও প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অন্যথায়, যে স্বাধীনতার জন্য এত রক্ত ঝরানো হয়েছিল, সেই স্বাধীনতার সার্থকতাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। লেখক পরিচিতিঃ মৃন্ময় সেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনীতি বিশ্লেষক

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে হাসপাতালের ৫ তলা থেকে ফেলে তরুণীকে হত্যা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে মাদ্রাসার শিক্ষক-পরিচালক মিলে ছাত্রদের দিনের পর দিন ধর্ষণ: ‘হাদিয়া’ দিয়ে খবর ধামাচাপার চেষ্টা সাড়ে চার মাসে ধর্ষণের শিকার ১১৮ শিশু এই ঈদেও নিশ্চয়ই কাঁদবে সাংবাদিকের সন্তানেরা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ছাত্রদলের ত্রাসের রাজত্ব সকল প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে গণতন্ত্র উদ্ধারে দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা তথাকথিত ফ্যাসিজম দমনে নাজিবাদ এর উত্থান! বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের প্রধান রুট হয়ে উঠেছে: দ্য অস্ট্রেলিয়ান টুডে শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র পাকিস্তানের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাতেও ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল আওয়ামী লীগের ২৯ কার্যদিবসে শিশু ধর্ষণ মামলার রায়, যুবকের মৃত্যুদণ্ড শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আমতলীতে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজন আটক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ, ইমামকে আটক করে পুলিশে দিল জনতা সরাইলে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ খাবার কিনতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার শিশু কালশি বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ ইউনিট বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য মেট্রোরেলে ২৫% ছাড় কাবার ভেতরটা কেমন আর কী দিয়ে ঢাকা এর চারপাশ? জানুন অজানা কাহিনী হাম ও উপসর্গে আরও ১৭ জনের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার ভিসা মঞ্জুরির আসল চিঠি যাচাই করবেন যেভাবে