জামায়েতকে ভোট না দিলে পিঠের চামড়া থাকবে না —ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন প্রার্থীরা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

জামায়েতকে ভোট না দিলে পিঠের চামড়া থাকবে না —ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন প্রার্থীরা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ |
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও দমন-পীড়ন নতুন নয়; কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘটনাগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে, তা উদ্বেগকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। স্থানীয় ভোটারদের বহু অভিযোগ—জামায়াত ইসলামের একাধিক প্রার্থী ও তাদের সক্রিয় সমর্থকরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে ভোট চাইছে। অভিযোগকারীরা জানাচ্ছেন, “জামায়াতকে ভোট না দিলে পিঠের চামড়া থাকবে না।” এই ভয়াবহ ও অমানবিক হুমকি শুধু নির্বাচনী আচরণের পরিপন্থী নয়, বরং তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত। ভোটের মত মৌলিক অধিকার—যেখানে রাষ্ট্র নাগরিককে নিরাপত্তা দেবে, স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ দেবে—সেই অধিকারই এখন নানাভাবে জিম্মি হওয়ার শঙ্কায়। রাজনৈতিক দল যাই হোক, যখন তারা ভোটের নামে মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করে, তখন সেটা আর প্রচারণা

থাকে না; সেটা পরিণত হয় রাজনৈতিক সন্ত্রাসে। আর যখন এই সন্ত্রাস ধর্মীয় পরিচয়, গোষ্ঠীগত চাপ বা সংগঠিত বলপ্রয়োগের সাথে মিশে যায়, তখন তা সমাজের ভিতকে নড়বড়ে করে দেয়। বহু এলাকায় দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। বাজারে কিংবা মসজিদের সামনে সাধারণ মানুষের পথ আটকে প্রশ্ন করা হচ্ছে—কাকে ভোট দেবে? প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের নাম আলাদা করে নোট করা হচ্ছে। এই পরিবেশে সাধারণ ভোটারের মনে জন্ম নিচ্ছে গভীর আতঙ্ক ও হুমকির সংস্কৃতি। ভোটারদের ভাষ্যে ফুটে উঠেছে এক ধরনের অসহায়তা— “আমরা কাকে ভোট দেব, সেটা এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নয়; এটা যেন কারা ঠিক করে দিচ্ছে। নিজেদের মত প্রকাশ করতে গিয়েও

ভয় লাগে।” গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো—মানুষের স্বাধীন মত ও ভোটাধিকার। কিন্তু হুমকি-ধামকি, সন্ত্রাসী আচরণ এবং জোর-জবরদস্তির মধ্য দিয়ে যখন ভোট আদায়ের চেষ্টা করা হয়, তখন সেই গণতন্ত্র ক্ষতবিক্ষত হয়। ভোটারকে ভয় দেখিয়ে ভোট কেড়ে নেওয়া মানে শুধু নির্বাচন দুর্নীতিগ্রস্ত করা নয়, বরং নাগরিককে তার মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করা। এই পরিস্থিতি শুধু রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেয় না; এটি সমাজের নৈতিক কাঠামোকেও ধ্বংস করে। কারণ ভয়ভীতির রাজনীতি একবার প্রতিষ্ঠা পেলে তা দীর্ঘমেয়াদে সহিংসতা, বিভাজন ও রাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাস তৈরি করে। নির্বাচন তখন আর জনগণের অংশগ্রহণের উৎসব থাকে না; হয়ে উঠতে থাকে ক্ষমতা দখলের নির্মম প্রতিযোগিতা। সুতরাং, ভোটের মাঠে এমন ভয়াবহ হুমকি ও সন্ত্রাসের অভিযোগকে হালকাভাবে

নেওয়ার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষতা বজায় রেখে প্রতিটি অভিযোগের তদন্ত করা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটারকে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়া। গণতন্ত্র টিকে থাকে তখনই, যখন মানুষ ভয়হীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে। আর নির্বাচন হয় তখনই অর্থবহ, যখন ভোটার জানে— “আমার ভোট আমার অধিকার, কেউ আমার পিঠের চামড়া দিয়ে এর মূল্য আদায় করতে পারবে না।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
জোরপূর্বক শ্রম রোধে ব্যর্থতা: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন মার্কিন শুল্ক কার্যকর বিশ্বকাপ শেষে অবসর নিলেন আর্জেন্টাইন তারকা গ্লাসগোতে জমকালো আয়োজনে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধন করলেন রাজা চার্লস সেনাবাহিনীর মনোগ্রামযুক্ত ল্যান্ড ক্রুজার থেকে বিপুল ইয়াবাসহ সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার পদত্যাগপত্র জমা দিলেন রাষ্ট্রপতি, অন্তর্বর্তী দায়িত্বে থাকছেন স্পিকার বিএনপি নেতার ঠিকাদারিতে নির্মিত সড়কের ‘ছাল-বাকল’ উঠে বেহাল দশা ২৫ দিনেই! পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন হাম ও হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৫৩৭ কোটির সাম্রাজ্য গড়লেন তরুণী টানা পঞ্চম দিনও অচল লোকসভা, বক্তব্যের সুযোগ পেলেন না রাহুল বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে ‘আজীবন’ বহিষ্কারের পিটিশন ভাঙতে চলেছিল ওয়ার্ল্ড রেকর্ড, অতঃপর… বিজয়ের শেষ সিনেমা ‘জন নায়াগান’, আরও ৩ সিনেমা মুক্তি মালয়েশিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে ১১৩৩ বাংলাদেশিসহ ২২ হাজারের বেশি অভিবাসী সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা কী কী কারণে কমে যায়? যশোরে নিখোঁজের দুই দিন পরে ভ্যানচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার: বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আমাদের কাফেলা মদিনা থেকে ঘুরে আমেরিকার দিকে চলে গেছে: ইআবা নেতা ফয়জুল করিম বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি সরকার: ভারতের পদাঙ্ক অনুসরণে উত্তরণের চিন্তা সিরাজগঞ্জে কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু, পরিবারের দাবি সুপরিকল্পিত হত্যা