চট্টগ্রামে ‘দেখামাত্র গুলি’র নির্দেশ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৫ নভেম্বর, ২০২৫

চট্টগ্রামে ‘দেখামাত্র গুলি’র নির্দেশ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৫ নভেম্বর, ২০২৫ |
একসময়ের শান্তিপূর্ণ বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এখন তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্কে নিমজ্জিত। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের এক মৌখিক নির্দেশের পর নগরীর সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে পড়েছে। সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেখামাত্র সাবমেশিন গান দিয়ে সরাসরি গুলি করার নির্দেশ দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটিকে নিছক প্রশাসনিক নির্দেশ হিসেবে না দেখে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অনুমোদন হিসেবেই দেখছেন অনেকে। গত ১১ নভেম্বর, দুপুর ১২টার দিকে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ ওয়্যারলেসের মাধ্যমে টহল দল এবং থানা পুলিশকে এক মৌখিক নির্দেশনা দেন। এতে তিনি শটগান ও চাইনিজ রাইফেলের পরিবর্তে সব টহল দলকে সাবমেশিন গান বহন করার কথা বলেন। সশস্ত্র অপরাধীদের দেখামাত্র গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি এর সম্পূর্ণ

দায়ভার নিজে নেবেন বলেও ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পর থেকে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যারা সন্তানদের স্কুলে পাঠান, বাজারে যান কিংবা অফিসের করেন, তাদের কাছে পুলিশ ছিল নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু সেই পুলিশই এখন রাস্তায় সম্ভাব্য সহিংসতার নির্দেশে সজ্জিত, যা নগরীর প্রতিটি অলিগলিতে ভয় ছড়িয়ে দিয়েছে। এই আদেশের প্রেক্ষাপট হিসেবে গত ৫ নভেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারাবাদ এলাকায় একটি রাজনৈতিক জনসংযোগ অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে একজনকে হত্যার ঘটনাকে উল্লেখ করা হচ্ছে। যদিও কর্তৃপক্ষ কমিশনারের এই নির্দেশকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করছে, মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যদি নির্বিচারে গুলি চালানো শুরু করে, তবে

কেবল সন্দেহভাজন অপরাধীই নয়, নিরীহ বেসামরিক মানুষও মারাত্মক বিপদের মুখে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, এই আদেশ মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে যায় এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পরিস্থিতি তৈরি করে। একবার এই ধরনের নীতি বাস্তবায়িত হলে, নিরীহ মানুষ যে এর শিকার হবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যে শহরে মানুষ এখন রাস্তায় নিরাপদে হাঁটতে ভয় পাচ্ছে, সেখানে সন্ত্রাসীদের আস্তানা দমনের নামে গৃহীত পদক্ষেপ আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাকে আরও ক্ষয় করছে। কমিশনার এই নির্দেশকে নিরাপত্তা বাড়ানোর উপায় বললেও, এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার নীতিমালার পরিপন্থী হতে পারে। চট্টগ্রামের প্রতিটি

রাস্তায় এখন ভয় ও অস্বস্তির ছাপ। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের যদি নাগরিকদের জীবন কেড়ে নেওয়ার অবাধ ক্ষমতা দেওয়া হয়, তবে জনগণ আতঙ্কে বাস করবে এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও কমবে। নিরাপত্তা রক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা শহরটিকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা ইতোমধ্যে সিএমপি কমিশনারকে তার এই নির্দেশের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, কানাডাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স এগেইনস্ট অ্যাট্রোসিটি অ্যান্ড ভায়োলেন্স অন হিউম্যানিটি’ (GA3VH) এই নির্দেশে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি অবিলম্বে এই ‘দেখামাত্র গুলি’র নীতি পর্যালোচনা করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। GA3VH জোর দিয়ে বলেছে, অপরাধ দমনের যেকোনো পদক্ষেপ অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে

চলতে হবে এবং নিরীহ নাগরিকদের জীবন বিপন্ন করা যাবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শিক্ষক লাঞ্ছনার কালো অধ্যায় ও একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধের দলিল তেলের লাইনে মৃত্যু—এটা কি শুধু একটি দুর্ঘটনা, নাকি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি? বিদ্যুৎ নেই, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ – বিএনপি সরকার ঘুমে ছয় শিক্ষকের মৃত্যু, একটি ঘটনারও বিচার হয়নি মহান মুক্তিযুদ্ধের চিত্র ধারণ করা আলোকচিত্রী রঘু রাইয়ের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শোক ফারুকীর নাশতায় প্রতিদিন খরচ ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা” গণঅভ্যুত্থান নয়, ৫ আগস্ট ছিল সুপরিকল্পিত ‘রেজিম চেঞ্জ’: পুরো সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর তথ্য আওয়ামী লীগ সরকার পতন: ইউএসএইডের ২৯ মিলিয়ন ডলারের একাংশ পেয়েছিল সমকাল, বিটনিক ও দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট ইসহাক সরকারের এনসিপিতে যোগদান: বিএনপি ও আওয়ামী লীগের জন্য ‘অশনিসংকেত’ যতদিন বেঁচে থাকবেন, একা হাঁটতে পারবেন না’— ড. ইউনূসকে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের কড়া হুঁশিয়ারি একদিনে ১৫ দপ্তরে নতুন চেয়ারম্যান-ডিজি নিয়োগ মোদি-মমতার বিরোধ আসলে লোকদেখানো, দাবি রাহুলের ঢাবি ছাত্রীর লাশ উদ্ধার, চিরকুটে লেখা শিক্ষকের নাম ‘ফুয়েল পাশ’ অ্যাপের পরিধি বাড়াল সরকার আততায়ীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের যে ৪ প্রেসিডেন্ট ৫ কোটি টাকা ডাকাতির নেতৃত্ব দেন সিআইডির তৎকালীন এসআই আকসাদুদজামান হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু মেট অপেরাকে ২০ কোটি ডলার দেবে না সৌদি ভারত থেকে ২৮ টাকা কেজি দরে মরিচ আমদানি, বিক্রি ৩০০ টাকায় বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে মুখ খুললেন লিটন