ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
দিনে ৫ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকছে ঢাকার শিশুরা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটঃ আসন্ন বাজেটে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় অগ্রিম আয়করের প্রস্তাব
‘ব্যাগ ভরে টাকা নিলে মিলছে পকেট ভরা বাজার’, লাগামহীন দামে মেজাজ চড়া ক্রেতাদের
বিষমাখা আম-লিচুতে সয়লাব বাজার
বিষমাখা আম-লিচুতে সয়লাব বাজার
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অবহেলার মামলা
বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্যে দড়ি বেঁধে চলছে প্রশাসনের মেলা, শুকানো হচ্ছে লুঙ্গিও
এবার ‘আমার টাকায়’ উচ্চমূলে বিদ্যুৎ কিনতে হবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তকে
জ্বালানি তেল, এলপিজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামছাড়া দামে আগে থেকেই দিশেহারা দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ। তার ওপর এবার যোগ হতে চলেছে বিদ্যুতের বাড়তি বিলের বোঝা। সরকার পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথা ভাবছে। একই সঙ্গে আবাসিক গ্রাহকদের বিলিং স্ল্যাব পুনর্গঠনের প্রস্তাবও এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মাসে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
পাইকারি থেকে খুচরা—দাম বাড়ছে সর্বত্র
জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, অলস বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান লোকসানের কারণ দেখিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
একই সঙ্গে সঞ্চালন সংস্থাসহ দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের জন্য ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর আবেদন জমা দিয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৯৫ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক এর প্রভাবের মুখে পড়বেন। বিদ্যমান ট্যারিফ কাঠামোর কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিতরণ সংস্থাগুলোর সম্মিলিত লোকসান দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা। সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, সমন্বয় না করা হলে ২০২৬ অর্থবছরে এই ঘাটতি ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। অধিকাংশ সংস্থাই আগামী ১ জুন থেকে নতুন দাম কার্যকর করতে চায়। স্ল্যাব পরিবর্তনে বিল বাড়বে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত পিডিবির প্রস্তাবের
সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো আবাসিক গ্রাহকদের বিলিং স্ল্যাব পুনর্গঠন। বর্তমানে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী ‘লাইফলাইন’ গ্রাহক এবং ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা কম হারে বিল দেন। এমনকি যারা মাসে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তারাও প্রথম ৭৫ ইউনিটের জন্য কম দরের সুবিধা পেয়ে আসছেন। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য এই সুবিধা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ কেউ যদি ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাহলে পুরো ইউনিটের বিলই উচ্চ হারে গণনা হবে। হিসাব করলে দেখা যায়, বর্তমানে ২০০ ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ভ্যাট ও ডিমান্ড চার্জ ছাড়া বিল আসে ১ হাজার ২৯৫ টাকা। শুধু স্ল্যাব পরিবর্তন হলেই
তা বেড়ে দাঁড়াবে ১ হাজার ৪৪০ টাকায়। আর যদি একই সঙ্গে প্রতি ইউনিটের দামও ৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ২০ পয়সা করা হয়, তাহলে ২০০ ইউনিটের বিল গিয়ে ঠেকবে প্রায় ১ হাজার ৬৪০ টাকায়—বর্তমানের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। পিডিবির হিসাবে, শুধু স্ল্যাব পুনর্গঠনের কারণেই প্রায় ৩৫ শতাংশ গ্রাহক বাড়তি বিলের চাপে পড়বেন, যাদের মধ্যে ২৩ শতাংশই নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা রাজস্ব আসবে বলে সংস্থাটির ধারণা। দেড় কোটির বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৪ কোটি ৩১ লাখের বেশি আবাসিক গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে
৪৩ শতাংশ লাইফলাইন গ্রাহক, যারা মাসে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। আরও ২২ শতাংশ গ্রাহক ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহার করেন। অন্যদিকে প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ গ্রাহক মাসে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন—স্ল্যাব পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় আঘাত নামবে এই শ্রেণির মাথায়। আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি সেচ পাম্প, নির্মাণ খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাণিজ্যিক ভবন, শিল্পকারখানা ও ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনগুলোর বিদ্যুতের দামও ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, স্ল্যাব পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়ার এখতিয়ারই বিতরণ সংস্থাগুলোর নেই। পিডিবি দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব করতে পারে, কিন্তু ঘাটতি মেটানোর
পথ নির্ধারণ করে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। তিনি আরও বলেন, দরিদ্র ও মধ্যবিত্তদের সুরক্ষার জন্যই স্ল্যাব প্রথা চালু হয়েছিল। স্ল্যাব সুবিধা বাতিল করা হলে মধ্যবিত্তরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এই ধরনের প্রস্তাব মূলত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসির রায়কে প্রভাবিত করার একটি অপচেষ্টা। এই পাইকারি ও খুচরা দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর আগামী ২০ ও ২১ মে ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
একই সঙ্গে সঞ্চালন সংস্থাসহ দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের জন্য ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর আবেদন জমা দিয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৯৫ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক এর প্রভাবের মুখে পড়বেন। বিদ্যমান ট্যারিফ কাঠামোর কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিতরণ সংস্থাগুলোর সম্মিলিত লোকসান দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা। সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, সমন্বয় না করা হলে ২০২৬ অর্থবছরে এই ঘাটতি ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। অধিকাংশ সংস্থাই আগামী ১ জুন থেকে নতুন দাম কার্যকর করতে চায়। স্ল্যাব পরিবর্তনে বিল বাড়বে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত পিডিবির প্রস্তাবের
সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো আবাসিক গ্রাহকদের বিলিং স্ল্যাব পুনর্গঠন। বর্তমানে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী ‘লাইফলাইন’ গ্রাহক এবং ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা কম হারে বিল দেন। এমনকি যারা মাসে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তারাও প্রথম ৭৫ ইউনিটের জন্য কম দরের সুবিধা পেয়ে আসছেন। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য এই সুবিধা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ কেউ যদি ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাহলে পুরো ইউনিটের বিলই উচ্চ হারে গণনা হবে। হিসাব করলে দেখা যায়, বর্তমানে ২০০ ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ভ্যাট ও ডিমান্ড চার্জ ছাড়া বিল আসে ১ হাজার ২৯৫ টাকা। শুধু স্ল্যাব পরিবর্তন হলেই
তা বেড়ে দাঁড়াবে ১ হাজার ৪৪০ টাকায়। আর যদি একই সঙ্গে প্রতি ইউনিটের দামও ৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ২০ পয়সা করা হয়, তাহলে ২০০ ইউনিটের বিল গিয়ে ঠেকবে প্রায় ১ হাজার ৬৪০ টাকায়—বর্তমানের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। পিডিবির হিসাবে, শুধু স্ল্যাব পুনর্গঠনের কারণেই প্রায় ৩৫ শতাংশ গ্রাহক বাড়তি বিলের চাপে পড়বেন, যাদের মধ্যে ২৩ শতাংশই নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা রাজস্ব আসবে বলে সংস্থাটির ধারণা। দেড় কোটির বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৪ কোটি ৩১ লাখের বেশি আবাসিক গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে
৪৩ শতাংশ লাইফলাইন গ্রাহক, যারা মাসে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। আরও ২২ শতাংশ গ্রাহক ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহার করেন। অন্যদিকে প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ গ্রাহক মাসে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন—স্ল্যাব পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় আঘাত নামবে এই শ্রেণির মাথায়। আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি সেচ পাম্প, নির্মাণ খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাণিজ্যিক ভবন, শিল্পকারখানা ও ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনগুলোর বিদ্যুতের দামও ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, স্ল্যাব পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়ার এখতিয়ারই বিতরণ সংস্থাগুলোর নেই। পিডিবি দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব করতে পারে, কিন্তু ঘাটতি মেটানোর
পথ নির্ধারণ করে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। তিনি আরও বলেন, দরিদ্র ও মধ্যবিত্তদের সুরক্ষার জন্যই স্ল্যাব প্রথা চালু হয়েছিল। স্ল্যাব সুবিধা বাতিল করা হলে মধ্যবিত্তরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এই ধরনের প্রস্তাব মূলত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসির রায়কে প্রভাবিত করার একটি অপচেষ্টা। এই পাইকারি ও খুচরা দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর আগামী ২০ ও ২১ মে ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।



