সুর থামছে একে একে: কনসার্ট বাতিলের মিছিলে কি মৌলবাদের পদধ্বনি? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৭ May, ২০২৬

সুর থামছে একে একে: কনসার্ট বাতিলের মিছিলে কি মৌলবাদের পদধ্বনি?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ May, ২০২৬ |
খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসার্ট বাতিলের ঘটনা নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) আয়োজিত একটি কনসার্ট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে অনেকে স্বাস্থ্যবিধির যুক্তিসঙ্গত প্রয়োগ বলে দেখলেও, সাংস্কৃতিক কর্মী ও নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের প্রশ্ন—এটি কি শুধুই বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা, নাকি সারা দেশে একের পর এক কনসার্ট বাতিলের যে ধারা চলছে, তার আরেকটি কড়া? একটি দেশ, অসংখ্য বাতিল শুধু কুয়েট নয়। গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা অজুহাতে কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিলের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। কোথাও ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা’, কোথাও ‘পরিবেশ

দূষণ’, কোথাও ‘অনুমতি না পাওয়া’, আবার কোথাও ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’—অজুহাত বদলায়, কিন্তু পরিণতি একই: সুর থামিয়ে দেওয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর থেকে শুরু করে জেলা শহরের উন্মুক্ত মাঠ—সর্বত্র একই চিত্র। ২০২৩ সালে রাজশাহীতে একটি ব্যান্ড কনসার্ট বাতিল হয় স্থানীয় ধর্মীয় গোষ্ঠীর চাপে। চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় উৎসবে নির্ধারিত পরিবেশনা বাতিল হয় ‘অশ্লীলতার’ অভিযোগে, যদিও অনুষ্ঠানটি ছিল সম্পূর্ণ মূলধারার। সিলেটে একটি বাউল সংগীত সন্ধ্যাও বন্ধ হয়ে গেছে একই ধরনের চাপের মুখে। অজুহাত বদলায়, লক্ষ্য এক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাতিলের কারণগুলো পরিবর্তিত হলেও একটি সাধারণ সূত্র সহজেই চোখে পড়ে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাংস্কৃতিক কার্যক্রম—বিশেষত তরুণ প্রজন্মের বিনোদন ও প্রকাশের মাধ্যম—নিশানায় পরিণত হচ্ছে। কখনো প্রশাসন সরাসরি বাতিল করছে,

কখনো আয়োজকরা ‘চাপের মুখে’ নিজেরাই সরে যাচ্ছেন। সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘উদীচী’র একজন নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, “আমরা যখন একটি অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি চাইতে যাই, তখন যে ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হই—গান কী ধরনের, পোশাক কেমন হবে, মেয়েরা মঞ্চে উঠবে কি না—এসব প্রশ্নই বলে দেয় পরিবেশটা কোন দিকে যাচ্ছে।” বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস: নতুন রণক্ষেত্র বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে এই প্রবণতা। যে জায়গাটি মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীলতার কেন্দ্র হওয়ার কথা, সেখানেও এখন সাংস্কৃতিক আয়োজন করতে হয় রুদ্ধশ্বাস পরিবেশে। কুয়েটের কনসার্ট বাতিলের ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলছেন, তামাকের বিজ্ঞাপনের অজুহাতটি ছিল কেবল বাহানা। প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল অনুষ্ঠানটি আটকে দেওয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক বলেন, “উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

যখন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিল হতে থাকে, তখন কেবল বিনোদন বন্ধ হয় না—শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়। তারা নিজেদের প্রকাশ করতে ভয় পেতে শুরু করে।” মৌলবাদের পদধ্বনি, নাকি বাড়াবাড়ি? এই ধারাকে কেউ কেউ ‘মৌলবাদের উত্থান’ বলতে নারাজ। তারা বলছেন, প্রতিটি ঘটনার স্থানীয় প্রেক্ষাপট ভিন্ন এবং সবকিছুকে একটি বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখা সঠিক হবে না। কিন্তু বিপরীত শিবিরের যুক্তি শক্তিশালী। সংস্কৃতি গবেষক ও লেখক সলিমুল্লাহ খানের মতো বিদ্বজ্জনরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন যে বাংলাদেশে একটি সুশীল ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক পরিসর ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে। পরিসংখ্যান সেই আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ দেয় না। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক

বছরগুলোতে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত বা বাতিলের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর একটি বড় অংশের পেছনে রয়েছে সংগঠিত ধর্মীয় গোষ্ঠীর চাপ। রাষ্ট্র কি নীরব দর্শক? এই প্রবণতায় রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সমালোচকরা বলছেন, বিভিন্ন সরকারের আমলে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোকে যে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, তার মাশুল এখন গুনছে সংস্কৃতি। প্রশাসন যখন চাপের মুখে কনসার্ট বাতিলে সম্মতি দেয় বা নিজেই বাতিল করে, তখন কার্যত সে একটি বার্তা দেয়—সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ‘ঝামেলার’ বিষয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সুশাসন বিশেষজ্ঞ ড. আকবর আলি খান তাঁর বিভিন্ন লেখায় উল্লেখ করেছেন, যে রাষ্ট্র নাগরিকের সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট নয়, সে রাষ্ট্র ধীরে ধীরে অসহিষ্ণুতার দিকে ঝুঁকতে থাকে।

তরুণ প্রজন্ম কোথায় যাবে? সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্নটি তরুণদের নিয়ে। যে প্রজন্ম স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক পরিসর থেকে বঞ্চিত হয়, তার একটি অংশ বিকল্প খোঁজে। কোনো কোনো বিশ্লেষক মনে করেন, মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসর সংকুচিত হলে গোড়ামি ও কট্টরপন্থার প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফসান বলেন, “আমরা কনসার্টে যেতে পারব না, কারণ কেউ না কেউ বাতিল করে দেবে। সিনেমায় গেলে ‘অশ্লীল’ তকমা লাগবে। থিয়েটারেও একই ভয়। তাহলে আমরা কোথায় যাব?” খুলনায় একটি কনসার্ট বাতিল হওয়া হয়তো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু এটি যদি একটি দীর্ঘ শৃঙ্খলের সর্বশেষ কড়া হয়, তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। বাংলাদেশ একটি সংস্কৃতিঋদ্ধ জাতি—বাউল, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ—এই

দেশের পরিচয়ের সঙ্গে সংস্কৃতি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। সেই সংস্কৃতির কণ্ঠরোধ হলে কেবল বিনোদন থামে না, থামে একটি জাতির আত্মপ্রকাশের ক্ষমতা। নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ ও সচেতন মানুষের প্রশ্ন তাই একটাই—সুরের এই মৃত্যুমিছিল কি থামবে, নাকি একদিন সত্যিই নিঃশব্দ হয়ে যাবে এই দেশ?

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের