ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
তদন্তের আগেই দুই কৃষি কর্মকর্তাকে বদলি, ডিএই’র ডিজি লাঞ্ছিত
পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক, ঝুঁকিতে হাজারো আমানতকারীর অর্থ
জুলাই গেজেট স্ক্যাম: ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া আখতারুজ্জামান নাঈমকে বানানো হয় জুলাই শহীদ
থানা পোড়ানো, পুলিশ হত্যাকারী সেই সমন্বয়ক মাহদী এখন মবের ভয়ে থানায় আশ্রয়ের সন্ধানে
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র
হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার
ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন?
একান্ত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা: অর্থনীতি, জঙ্গিবাদ ও পররাষ্ট্রনীতিতে ইউনূস ও বিএনপি সরকার দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে
দেশে ক্ষমতার পালা বদলের প্রায় দুই বছর; এরমধ্যে আন্তর্জাতিক বৃহৎ গণমাধ্যমগুলোতে বেশ কিছু সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সম্প্রতি ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আনন্দবাজারকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে মাথা উঁচু করে দেশে ফিরবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি এবং জঙ্গিবাদ পরিস্থিতি নিয়ে একের পর এক তীক্ষ্ণ অভিযোগ তুলেছেন ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের মনে এখনো আওয়ামী লীগ বিরাজমান বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
দলের পুনর্গঠন ও কর্মীদের প্রতি বার্তা
দুই বছরের কঠিন সময়ে দলের অবস্থা এবং পুনর্গঠন প্রশ্নে হাসিনা বলেন, পরিমার্জন বা শুদ্ধিকরণ স্বাভাবিক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবিশেষের
বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে আওয়ামী লীগ যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে তা বিবেচনা করেছে। ক্ষমতায় থাকার সময়ও অন্যায়ে লিপ্ত মন্ত্রী-সাংসদদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আঁচে পুড়লেই সোনা খাঁটি হয়, এটি প্রাকৃতিক শুদ্ধিকরণও। আজ যাঁরা অত্যাচার সত্ত্বেও দলের হয়ে লড়ছেন তাঁরাই প্রকৃত আওয়ামী লীগ। যাঁরা ব্যক্তিগত স্বার্থে দলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন, তাঁরা হয় ভোল বদলেছেন অথবা চুপ হয়ে গেছেন। পররাষ্ট্রনীতিতে দেশের স্বার্থ বিসর্জন ড. ইউনূসের সরকারের সময় পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে দেখা গিয়েছিল। বিএনপি সরকার আসার পরেও সেই ধারা অব্যাহত। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, পররাষ্ট্রনীতির মূল কথা সকলের
সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। এই বন্ধুত্ব স্থাপনের মূল লক্ষ্য দেশের জনকল্যাণ এবং ভিত্তি হল সাম্য। তাঁর সরকার বন্ধুত্বপ্রতিম সব রাষ্ট্রের সঙ্গেই স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকার — উভয় ক্ষেত্রেই দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলার সময় এখনো আসেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। জঙ্গিবাদ পুনরুত্থানের আশঙ্কা জঙ্গিবাদ প্রসারের আশঙ্কা নিয়ে বর্তমান সরকারের দিকে সরাসরি অভিযোগের আঙুল তোলেন হাসিনা। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়েত জোট সরকারের সময় বাংলাদেশ জঙ্গিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল। আদালতসহ দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা, তাঁর নিজের উপর গ্রেনেড হামলা, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়
দশ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র আমদানি, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং বিচারককে হত্যার মতো ঘটনা সেই সময় ঘটেছিল। তিনি দাবি করেন, তাঁর সরকার সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে শূন্য সহনশীলতা নীতি নিয়ে এসেছিল। আইনের আধুনিকীকরণ, জঙ্গিবাদ নির্মূলে বিশেষ সেল গঠন এবং যথাযথ নজরদারির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। কিন্তু এখন আবার সেই অন্ধকার দিন ফিরে আসছে বলে সতর্ক করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদে দীক্ষিত অনেকেই সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে সাংসদ হয়েছেন। সন্ত্রাস দমনে বড় ভূমিকা নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার অনেকের চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সন্ত্রাসে যুক্ত ব্যক্তিরা মুক্তি পেয়ে প্রকাশ্যে কাজকর্ম শুরু করেছেন। অর্থনীতি ধ্বংসের অভিযোগ দেশের অর্থনীতি নিয়েও সরব হন হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, সুনির্দিষ্ট
পরিকল্পনার মাধ্যমে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। সন্ত্রাসের মাধ্যমে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মাত্র দেড় বছরে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। আর তারেক রহমানের সরকারের তিন মাসেই ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ কোটি টাকা। জনজীবনের কষ্টের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস, সেচের পানি ও সারের সংকট দেখা দিয়েছে। কর্মসংস্থান কমায় মানুষের আয় কমেছে, পণ্যের দাম বেড়েছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলের অর্থনৈতিক সাফল্য প্রমাণ করতে তিনি পরিসংখ্যানের আশ্রয় নেন। তিনি জানান, ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের শেষ বাজেট ছিল ৭০ হাজার কোটি টাকা,
অথচ তাঁর সরকারের শেষ বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতিকে কতটা সুদৃঢ় করতে পেরেছিল।
বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে আওয়ামী লীগ যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে তা বিবেচনা করেছে। ক্ষমতায় থাকার সময়ও অন্যায়ে লিপ্ত মন্ত্রী-সাংসদদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আঁচে পুড়লেই সোনা খাঁটি হয়, এটি প্রাকৃতিক শুদ্ধিকরণও। আজ যাঁরা অত্যাচার সত্ত্বেও দলের হয়ে লড়ছেন তাঁরাই প্রকৃত আওয়ামী লীগ। যাঁরা ব্যক্তিগত স্বার্থে দলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন, তাঁরা হয় ভোল বদলেছেন অথবা চুপ হয়ে গেছেন। পররাষ্ট্রনীতিতে দেশের স্বার্থ বিসর্জন ড. ইউনূসের সরকারের সময় পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে দেখা গিয়েছিল। বিএনপি সরকার আসার পরেও সেই ধারা অব্যাহত। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, পররাষ্ট্রনীতির মূল কথা সকলের
সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। এই বন্ধুত্ব স্থাপনের মূল লক্ষ্য দেশের জনকল্যাণ এবং ভিত্তি হল সাম্য। তাঁর সরকার বন্ধুত্বপ্রতিম সব রাষ্ট্রের সঙ্গেই স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকার — উভয় ক্ষেত্রেই দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলার সময় এখনো আসেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। জঙ্গিবাদ পুনরুত্থানের আশঙ্কা জঙ্গিবাদ প্রসারের আশঙ্কা নিয়ে বর্তমান সরকারের দিকে সরাসরি অভিযোগের আঙুল তোলেন হাসিনা। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়েত জোট সরকারের সময় বাংলাদেশ জঙ্গিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল। আদালতসহ দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা, তাঁর নিজের উপর গ্রেনেড হামলা, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়
দশ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র আমদানি, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং বিচারককে হত্যার মতো ঘটনা সেই সময় ঘটেছিল। তিনি দাবি করেন, তাঁর সরকার সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে শূন্য সহনশীলতা নীতি নিয়ে এসেছিল। আইনের আধুনিকীকরণ, জঙ্গিবাদ নির্মূলে বিশেষ সেল গঠন এবং যথাযথ নজরদারির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। কিন্তু এখন আবার সেই অন্ধকার দিন ফিরে আসছে বলে সতর্ক করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদে দীক্ষিত অনেকেই সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে সাংসদ হয়েছেন। সন্ত্রাস দমনে বড় ভূমিকা নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার অনেকের চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সন্ত্রাসে যুক্ত ব্যক্তিরা মুক্তি পেয়ে প্রকাশ্যে কাজকর্ম শুরু করেছেন। অর্থনীতি ধ্বংসের অভিযোগ দেশের অর্থনীতি নিয়েও সরব হন হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, সুনির্দিষ্ট
পরিকল্পনার মাধ্যমে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। সন্ত্রাসের মাধ্যমে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মাত্র দেড় বছরে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। আর তারেক রহমানের সরকারের তিন মাসেই ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ কোটি টাকা। জনজীবনের কষ্টের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস, সেচের পানি ও সারের সংকট দেখা দিয়েছে। কর্মসংস্থান কমায় মানুষের আয় কমেছে, পণ্যের দাম বেড়েছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলের অর্থনৈতিক সাফল্য প্রমাণ করতে তিনি পরিসংখ্যানের আশ্রয় নেন। তিনি জানান, ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের শেষ বাজেট ছিল ৭০ হাজার কোটি টাকা,
অথচ তাঁর সরকারের শেষ বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতিকে কতটা সুদৃঢ় করতে পেরেছিল।



