৮২০ মিলিয়ন ডলার আর দশ হাজার চাকরি, দেশ ডুবিয়ে ইউনুসের “সংস্কারের” মূল্য পরিশোধ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১১ মার্চ, ২০২৬

৮২০ মিলিয়ন ডলার আর দশ হাজার চাকরি, দেশ ডুবিয়ে ইউনুসের “সংস্কারের” মূল্য পরিশোধ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১১ মার্চ, ২০২৬ |
কাতার এলএনজি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার পর বাংলাদেশ লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে বসে ভাবছে কোথায় ভুলটা হলো ! কিন্তু ভুলটা যে আসলে একদম চোখের সামনেই পড়ে আছে! ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ৩১টা সোলার আর উইন্ড প্রজেক্ট বাতিল করা হয়েছিল, মোট ৩,৩০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে এতদিনে অন্তত এক হাজার মেগাওয়াট গ্রিডে থাকার কথা ছিল। নেই। কারণ ইউনুস সাহেব ক্ষমতায় এসেই সেগুলো বাতিল করে দিয়েছিলেন। যুক্তিটা দিয়েছিলেন খুব সাজানো গুছানো। আওয়ামী লীগ নাকি প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই এই চুক্তিগুলো করেছিল, তাই এগুলো নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য না। কথাটা শুনতে সংস্কারপন্থীর মতো, কিন্তু ভেতরে জাস্ট ফাঁকা আওয়াজ। হাইকোর্ট বলে দিয়েছিল এই চুক্তিগুলো সরল বিশ্বাসে হয়েছে, বাতিল না করে পর্যালোচনা করা যায়।

সেই রায়কে তোয়াক্কা না করে জ্বালানি উপদেষ্টা ফয়জুল কবির খান ঠিকই সব বাতিল করালেন। এমনকি যেসব কোম্পানি জমি কিনে ফেলেছিল, অনুমতির অপেক্ষায় ছিল, তারাও রেহাই পেল না। এখন বলা হচ্ছে নতুন দরপত্রে ৭ থেকে ৮ সেন্টে বিড পড়েছে। পুরনো চুক্তিতে ছিল ৯.৭ থেকে ১০.৬ সেন্ট। পার্থক্যটা দেখিয়ে বলা হচ্ছে দেখো, বাতিল করাটা ঠিকই হয়েছিল। কিন্তু এই হিসাবটা অসম্পূর্ণ, ইচ্ছাকৃতভাবেই টুইস্ট করা। পুরনো চুক্তির পর সোলার মডিউলের দাম বৈশ্বিকভাবে ২০ শতাংশ পড়ে গিয়েছিল। মডিউল প্রজেক্ট কস্টের ৩৫ শতাংশ, মানে সরাসরি দেড় সেন্ট কমানোর সুযোগ ছিল পুনর্বিবেচনার মাধ্যমেই। কিছু বাতিল হওয়া কোম্পানি নিজেরাই আরও কম ট্যারিফে রাজি ছিল বলে জানিয়েছিল। ইউনুস সরকার কথা

বলেনি। কারণ কথা বলার মানে ছিল আওয়ামী আমলের কিছু একটা টিকিয়ে রাখা, সেটা যতই দেশের উন্নয়নে হোক না কেনো। এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাশুল এখন দিচ্ছে বিদ্যুৎ ছাড়া বসে থাকা মানুষ। নতুন দরপত্রে বিড পড়েছে মাত্র ৯০০ মেগাওয়াটের, আর সেগুলো ২০২৮ সালের আগে আসবে না। মানে তিন বছর আরও এলএনজি আর ফার্নেস অয়েলের উপর নির্ভর করে থাকো, আর প্রতি বছর গড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাঠাতে থাকো। বাংলাদেশ ২০৩০ সালে ১৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য ঠিক করেছিল। এখন আছে ৩ শতাংশে। এই ব্যবধান কোনো কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে না, এটা সিদ্ধান্তের ব্যর্থতা। ইউনুস সাহেব মাইক্রোক্রেডিটের নামে গরিব মানুষের কাছ থেকে সুদ কামিয়েছেন সারাজীবন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে

সেটাকে সামাজিক ব্যবসার মোড়কে বেচেছেন। ২০২৪ সালে বিদেশি স্বার্থ, জামায়াতের মাঠ আর সেনাবাহিনীর নীরব সমর্থনে যে অরাজকতার সুযোগে ক্ষমতায় এলেন, তার সরকারের সবচেয়ে বড় "সংস্কার" হলো এই, ৩,৩০০ মেগাওয়াটের সবুজ বিদ্যুতের পরিকল্পনা ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া। এখন বিএনপি ক্ষমতায়। কিন্তু বিএনপির হাতে জ্বালানি খাত কখনো নিরাপদ ছিল না। জিয়াউর রহমানের আমল থেকে এই দলের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো দ্রুত কমিশন আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রতি অনীহা। এই মুহূর্তে বাতিল হওয়া ৩১টা প্রজেক্টের ফাইল তুলে নতুন করে দরকষাকষি শুরু করার যে সুযোগ আছে, সেটা নিতে হলে রাজনৈতিক সাহস লাগে। সেই সাহস বিএনপির আছে কিনা, সেটা দেখার বিষয়। তবে ইতিহাস খুব আশার কথা বলে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শিশু থেকে শখের বাইক ট্র্যাক করুন স্বল্প খরচে খুনের মতো গুরুতর অপরাধ বেড়েছে নওগাঁয় চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মামলা শক্তিশালী হলে শিবির সন্ত্রাসের বীজ বপন করে: নাছির ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে: জামায়াত কাশি কমছে না? কারণ জেনে নিন হাম: জানতে হবে যে সব বিষয় লন্ডন উৎসবে রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল শ্রীলংকা এবার দুইটি কার্গো জাহাজ জব্দ করল ইরান হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ এবার এনসিপির নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল আইনি মারপ্যাঁচে আসন হারাতে পারেন জামায়াত জোটের প্রার্থী বিএনপির মনোনয়ন পেলেন না সেই ফারজানা সিঁথি ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়নি: বাঘেই ৩৬ বছর আগে প্রতিবেশীকে পুড়িয়া হত্যা: মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি বাতিলে ইইউকে আহ্বান ৩ দেশের আরব আমিরাতের সঙ্গে মুদ্রা বিনিময়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময় বাড়াতে চান না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প