বাশারের ‘আয়নাঘরে’ থেকে মুক্ত ১৩৭০০০ বন্দী – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
     ৫:৩০ অপরাহ্ণ

বাশারের ‘আয়নাঘরে’ থেকে মুক্ত ১৩৭০০০ বন্দী

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ | ৫:৩০ 102 ভিউ
সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের কারাগারে বন্দী ছিল লাখো মানুষ। সম্প্রতি বিদ্রোহীরা দামেস্ক দখল করার পর বাশার আল-আসাদ পালিয়ে চলে যান রাশিয়ায়। তাঁর পতনের পরপরই বিভিন্ন কারাগার থেকে হাজারো মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্ত হয়ে অনেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে যেভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন, তাতে মনে হয়েছে—এ যেন আরেক আয়নাঘর। মুক্তি পাওয়াদের একজন হলেন হালা নামক এক নারী। যিনি এখনো ভয়ে তাঁর আসল নাম প্রকাশ করেননি। হালা কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, ২০১৯ সালে তাঁকে হামার একটি চেকপয়েন্ট থেকে আটক করা হয়। তাঁকে ‘সন্ত্রাসবাদের’ অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। সে সময় হাজার হাজার সরকারবিরোধীদের ওপর এই অভিযোগ আরোপ করা হয়েছে। এরপর তাঁকে আলেপ্পোতে নিয়ে যাওয়া হয়

এবং সেখানেই তিনি বিভিন্ন কারাগারে বন্দী ছিলেন। হালা তাঁর কারাবন্দী জীবনের নির্মম স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমাকে আমার নাম ধরে ডাকা হতো না, স্রেফ নম্বর দিয়ে ডাকা হতো। তাই আমার নাম ছিল ১১০০।’ হালা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে, এটি (বাশারের পতন) সত্যি এবং আমরা কোনো আলোর মুখ দেখতে পাব।’ আসাদ বিরোধী আন্দোলনকারী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হালা বললেন, ‘আমাদের আনন্দ ছিল সীমাহীন, আমরা উলু ধ্বনি দিচ্ছিলাম, চিৎকার করলাম।’ মুক্তিদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে হালা বলেন, ‘ইচ্ছা করছিল, তাদের যদি আলিঙ্গন করে চুমু খেতে পারতাম! পরিবারের কাছে পৌঁছানোর পর আনন্দ আরও বেড়ে গেল। এটা যেন আমার নতুন

জন্ম।’ আলেপ্পোর যে কারাগার থেকে হালাকে মুক্তি দেয় এইচটিএস, সেটি বাশার আল-আসাদের সরকারের পরিচালিত কয়েকটি কারাগারের একটি মাত্র। মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, হালাসহ আল-আসাদের কারাগারে অন্তত ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬১৪ জন বন্দী ছিলেন। সিরিয়ার কারাগারগুলো ছিল বাশার আল-আসাদের রেজিমকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম মূল স্তম্ভ। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ২০১৩ সালে সিরিয়া থেকে গোপনে বের করে আনা অনেক দেখিয়েছিল যে, সিরিয়ার সরকারি আটক কেন্দ্রে ব্যাপক নির্যাতন, অনাহার, প্রহার এবং রোগের ব্যাপক প্রমাণ আছে। একে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। হালা তাঁর কারাবন্দী জীবনের স্মৃতি থেকে জানান, তাঁরই সঙ্গে বন্দী ছিলেন এক কিশোরী। যিনি

বাশার আল-আসাদ বাহিনীর নির্যাতনের কারণে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই মারা যান। হালা বলেন, ওই তরুণীকে তার বিয়ের মাত্র দুই মাস পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশের অভিযোগ ছিল, ওই তরুণী, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী, এক বৃদ্ধা এবং দুজন চিকিৎসক বিপ্লবীদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছিল। বাশার আল-আসাদের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া আরেক বন্দী ৪৯ বছর বয়সী সাফি আল-ইয়াসিন। তিনিও আলেপ্পোর কারাগার থেকেই মুক্তি পেয়েছেন। সাফি বলেন, ‘এটা যেন আমার জন্মদিনের মতো ছিল, যেন আমার জীবনের প্রথম দিন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ সাফি আল-ইয়াসিন বলেন, গত ২৯ নভেম্বরের আগে কারাগারের কাছাকাছি গোলাগুলির শব্দ শুনে তারা সতর্ক হয়ে ছিলেন। তিনি বলেন,

‘তারপর হঠাৎ শান্তি নেমে এল এবং আমরা বিজয়ী বিদ্রোহীদের গানের শব্দ শুনতে পেলাম। প্রায় ৫ হাজার বন্দী ছিল। আমরা জানালা-দরজা ভাঙতে শুরু করি বেরোনোর জন্য। এমনকি কারাগারের কর্মকর্তা ও প্রহরীরা সাধারণ পোশাকে আমাদের সঙ্গে বেরিয়ে যায়, যাতে বিদ্রোহীরা ধরতে না পারে।’ সাফি আল-ইয়াসিন বন্দী হওয়ার আগে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার উপকূলীয় শহর বানিয়াসে নৌকা তৈরির কাজ করতেন। তিনি বলেন, ২০১১ সালে সিরিয়ার বিপ্লবের সময়কার এক বিক্ষোভে অংশগ্রহণের অভিযোগে ৩১ বছর সাজা হয়েছিল তাঁর। এরই মধ্যে তিনি সেই সাজার অর্ধেক পার করে ফেলেছেন। বিগত ১৪ বছর ধরে তিনি সিরিয়ার বিস্তৃত কারাগার নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্থানে ‘তীব্র শারীরিক নির্যাতন এবং বছরের পর বছর মানসিক যন্ত্রণার’ শিকার

হয়েছেন। সাফি বিভিন্ন কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল এবং প্রত্যেক কারাগারে আলাদা আলাদা পদ্ধতিতে নির্যাতন চালিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তিনি সাইদিনায়ার কুখ্যাত কারাগারে এক বছর কাটিয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০১৭ সালে এই কারাগারকে ‘মানব কসাইখানা’ বলে আখ্যায়িত করেছিল। এরপর তাঁকে সুইদা এবং পরে আলেপ্পোতে স্থানান্তর করা হয়। সাইদিনায়ার কারাগারে যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করে সাফি আল-ইয়াসিন। তিনি বলেন, ‘আমার দেখা দৃশ্যগুলো মৃত্যুর পরও আমার স্মৃতি থেকে মুছে যাবে না।’ এ সময় তিনি জানান, তাঁর সামনেই এক বৃদ্ধকে নির্যাতন করে সারা শরীর রক্তাক্ত করে ফেলা হয়েছিল। সেই বৃদ্ধ নির্যাতনের ধকল সইতে না পেরে অবশেষে মারা যান। আল-আসাদ পরিবারের

৫৪ বছরের শাসনের জাঁতাকল থেকে সিরিয়া মুক্তি পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পান মাহের। তিনি ভয়ে এখনো নিজের পুরো নাম প্রকাশ করতে চান না​। ২০১৭ সালে ‘সন্ত্রাসে অর্থায়নের’ অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। এরপর বিনা বিচারে তাঁকে ৭ বছর বন্দী করে রাখা হয়। মাহের বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, কর্তৃপক্ষ যেন আমাকে ভুলে গেছে। যেন আমি মানুষ নই, কেবলই একটি সংখ্যা।’ কারাগারের নির্মম ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে মাহের বলেন, ‘প্রতিটি মিনিট যেন মৃত্যুর কাছাকাছি ছিল, নির্যাতনের যে তীব্রতা ও নির্মম পদ্ধতি ছিল তা কোনো পশুও সহ্য করতে পারত না।’ মাহের জানান, তাঁর বন্দীদশায় এর চেয়েও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হলো, তিনি যখন দামেস্কের কুখ্যাত মেজ্জেহ কারাগারে এক আত্মীয়ের দেখা পান। মেহের বলেন, ‘কারাগারের বাইরে হঠাৎ একটি বাস এল এবং কয়েকজন বন্দীকে ঠেলে আমার সেলে পাঠান হলো। তাদের মধ্যে একজনকে আমার ভগ্নিপতির মতো দেখাচ্ছিল। আমি প্রথমে দ্বিধায় ছিলাম এবং ভাবছিলাম, এটা তো আয়মান (মাহেরের ভগ্নিপতি) হতে পারে না, সে তো পা হারায়নি!’ মাহের তাঁর সন্দেহ ঘোচাতে সেই বন্দীর কাছে যান এবং দেখতে পান, তাঁর ভগ্নিপতি কেবল পা হারাননি, পাশাপাশি মানসিক ভারসাম্যও হারিয়েছেন। মাহের মূলত একটি ট্যাটু দেখে তাঁর ভগ্নিপতিকে চিনতে পারেন। মাহেরকে যেসব কারাগারে রাখা হয়েছিল মেজ্জেহ ছিল তার মধ্যে একটি। বছরের পর বছর বিনা বিচারে বন্দী থেকে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর এক সময় তিনি ভাবতে শুরু করেন, তিনি কখনোই আর কারাগার থেকে বের হতে পারবেন না। তবে দেরি হলেও মাহের, হালা এবং সাফির জীবনে ভালো কিছু ঘটেছে। তাঁরা মুক্তি পেয়েছেন আল-আসাদ পরিবারের বন্দীশালা থেকে এবং একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবেই। মাহের বলেন, ‘কারাগারের কাছাকাছি গোলাগুলির শব্দ শুনে আমরা সবাই আল্লাহু আকবার স্লোগান দিতে শুরু করি। আমরা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে, এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে।’ মাহের বলেন, ‘আমরা দরজা ভেঙে কারাগার থেকে বেরিয়ে এলাম, বিপ্লবীদের আলিঙ্গন করলাম, সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতায় সিজদাহ করলাম এবং নিরাপদে আমার বোনের বাড়িতে পৌঁছালাম। তিনি তাঁর পরিবার নিয়ে ইদলিবে থাকেন।’ আল-জাজিরা থেকে অনূদিত

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
Bangabandhu Was Not Just a Leader – He Was the Architect of a Successful History March 1971: From Political Deadlock to Declaration of Independence ৭ই মার্চের চেতনাকে ভয় পায় বলেই দমননীতি—ধানমন্ডিতে ৫ বছরের শিশুসহ পথচারী গ্রেপ্তার বাধা উপেক্ষা করে হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত বজ্রকণ্ঠ: ৫৫ বছরে ৭ মার্চের অবিনাশী চেতনা বরিশাল আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও গণতন্ত্র হত্যা জিরো টলারেন্সের সরকার, জিরো জবাবদিহির দেড় বছর রাজনীতির নামে পশুত্ব! বৃদ্ধা মায়ের রক্ত ঝরিয়ে কাপুরুষতার উৎসব বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল আওয়ামী লীগ সাইনবোর্ডে লেখা রাত ৮টা, কিন্তু ৭টার আগেই বন্ধ তেলের পাম্প! রক্তে রাঙানো ৫ই মার্চ: বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতার মহড়া কারাগারকে হত্যা কারখানায় পরিণত করা হয়েছে অবৈধ ইন্টারিম থেকে বিএনপি… স্বাধীনতা পদক তালিকায় বিতর্কিত চরিত্র মেজর জলিলের নাম: ঐতিহাসিক কিছু ঘটনা ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার ‘গ্রিন সিগন্যাল’, বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা: ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধে জিয়াউর রহমান ৭ই মার্চ: বাঙালির মুক্তির আহ্বান, ইতিহাসের অনন্ত শপথ সারাদিন রোজা রাখার পর পান করতে পারেন যেসব স্বাস্থ্যকর পানীয় ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ কিনা- প্রশ্নের জবাবে শাহবাগের ওসি: সাংবাদিক হয়ে উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করেন কেন? দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ আছে মাত্র চার দিনের চানখারপুলে সাউন্ডবক্সে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোয় আটক অন্তত ৪ মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের ধাক্কা দেশের জ্বালানি ও শিল্পখাতে: উত্তরণের পথ দেখছেন না উদ্যোক্তারা ব্রঙ্কসে ডে কেয়ারে ফেন্টানলের মজুদ, ১ শিশুর মৃত্যু