ভুয়া সফটওয়্যারে শেয়ারবাজার থেকে ৬৫০ কোটি টাকার মহালুট! ৪৫ হাজার বিনিয়োগকারীর আমানত লুটে উধাও ৭ হাউজ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভুয়া সফটওয়্যারে শেয়ারবাজার থেকে ৬৫০ কোটি টাকার মহালুট! ৪৫ হাজার বিনিয়োগকারীর আমানত লুটে উধাও ৭ হাউজ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ |
শেয়ারবাজারে কাজ করা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর নানান অনিয়ম রোধে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের গচ্ছিত অর্থ আত্মসাৎ ঠেকানোর লক্ষ্যে অকস্মাৎ ঝটিকা অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ উদ্দেশ্যে আট সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে একটি স্থায়ী যৌথ তদারকি টিম। যেখানে বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) থেকে দুজন করে প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। উক্ত পরিদর্শক দলে যোগ্য সদস্য মনোনীত করার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট চারটি সংস্থাকে ইতোমধ্যেই আলাদা চিঠি পাঠিয়েছে বিএসইসি। গঠিত এই দলটি আগাম কোনো তথ্য না দিয়েই স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলারদের অফিসে হাজির হয়ে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ চালাবে। এর মাধ্যমে কনসোলিডেটেড কাস্টমার্স অ্যাকাউন্ট (সিসিএ),

গ্রাহকদের পোর্টফোলিও বা শেয়ার এবং নগদ টাকার হিসাব, বাজার পরিচালনা সংক্রান্ত আইনকানুন ও মার্জিন ঋণসহ যাবতীয় কাজ যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হবে। কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজে ভুয়া বা নকল ব্যাক-অফিস সফটওয়্যারের ব্যবহার, বিনিয়োগকারীকে না জানিয়ে গোপনে শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া এবং সিসিএ-তে থাকা গচ্ছিত টাকা সরিয়ে ফেলার মতো ভয়ংকর কিছু জালিয়াতি উন্মোচিত হওয়ার পরই মূলত এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডিএসইর সম্প্রতি প্রস্তুতকৃত এক তদারকি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, ৭টি ব্রোকারেজ হাউজের বিরুদ্ধেই প্রায় ৪৫ হাজার সাধারণ আমানতকারীর ৫৬৩ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং মূল্যবান শেয়ার চুরির শক্ত প্রমাণ মিলেছে। ওই প্রতিবেদনে সব মিলিয়ে মোট ঘাটতি ৬৫০ কোটি টাকার সীমানা ছাড়িয়েছে বলেও উল্লেখ পাওয়া

যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে গত সোমবার ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনা সভায় বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে নজরদারি আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্রোকারদের নানান রকমের জটিলতা থাকতে পারে। এর মধ্যে কিছু হয়তো স্রেফ নিয়মকানুন সংক্রান্ত, তবে কোথাও কোথাও কনসোলিডেটেড কাস্টমার্স অ্যাকাউন্টে (সিসিএ) বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়ে বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকে। তার অভিমত, এই শ্রেণির দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করে হঠাৎ ঝটিকা পরিদর্শন বাড়ানো প্রয়োজন। পূর্বের কিছু ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সিসিএ-তে ঘাটতি ধরা পড়ার পর অর্থ

পরিশোধ করা হলেও পরবর্তীতে সেই টাকা আবার বের করে নেওয়া হয়েছে। এমন প্রতারণা রুখতে বিএসইসি ও ডিএসই সম্মিলিতভাবে নিয়মিত সারপ্রাইজ ভিজিট চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে। ডিএসইর সরেজমিন তদন্তের তথ্যানুসারে, প্রতারণার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত আসল সফটওয়্যারের বদলে ভুয়া কিংবা সমান্তরাল অন্য সফটওয়্যার চালানো। এর মাধ্যমে ডিএসই ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চোখে এক সেট মিথ্যা হিসাব ঝুলিয়ে দেওয়া হতো, অথচ ব্রোকারেজ হাউজ তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে রাখত মূল ও ভিন্ন ডেটা। ফলে প্রকৃত আর্থিক অবস্থা গোপন রেখে আমানতকারীর টাকা ও শেয়ার হাতিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। জালিয়াত চক্রের আরেক কৌশল ছিল সিডিবিএল সিস্টেমে ঢুকে গ্রাহকের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে নিজেদের

লোকজনের নম্বর বসিয়ে দেওয়া। এর ফলে শেয়ার কেনাবেচার এসএমএস কিংবা নোটিফিকেশন আসল মালিকের মোবাইলে না গিয়ে পৌঁছে যেত অসাধু চক্রটির কাছে। যার সুযোগ নিয়ে বিনিয়োগকারীর অজান্তেই তাঁর শেয়ার বাজারে বিক্রি করে দিয়ে টাকা সরিয়ে ফেলা সহজ হতো। ডিএসইর নথিপত্র অনুযায়ী, আত্মসাতের শীর্ষে রয়েছে মশিউর সিকিউরিটিজ, যাদের বিরুদ্ধে ১৬১ কোটি টাকা লোপাটের সরাসরি অভিযোগ রয়েছে। এর ভেতরে কেবল সিসিএ-তেই ঘাটতি ছিল ৬৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং গ্রাহকদের না জানিয়ে শেয়ার বেচে দিয়ে মারা হয়েছে আরও ৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা—যা পৃথক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এছাড়াও, তামহা সিকিউরিটিজে ১৩৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা, সালতা ক্যাপিটালে ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজে প্রায়

৮০ কোটি টাকা (যদিও প্রাতিষ্ঠানিক নিরীক্ষায় তা দাঁড়িয়েছে ১০৫ কোটি টাকায়), বাংকো সিকিউরিটিজে ৬৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং শাহ মোহাম্মদ সগীর সিকিউরিটিজে ১৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা চুরির প্রমাণ মিলেছে। অন্যদিকে ব্লু চিপ সিকিউরিটিজের (যার পূর্বনাম ছিল খুরশিদ সিকিউরিটিজ) বিরুদ্ধেও আমানতকারীর প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকার শেয়ার হাতানো ও অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিনিয়োগকারীদের মূলধন ও শেয়ারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএসইসি ২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউজে অপরিবর্তনযোগ্য ও নিরাপদ ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার চালুর স্পষ্ট তাগিদ দিয়েছিল। তবে ডিএসইর হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে যে, ২৮০টি ব্রোকারেজ হাউজ নতুন প্রযুক্তির এই সফটওয়্যার গ্রহণ করলেও ১১৮টিতে গ্রাহকের তথ্য এবং ১০২টিতে লেজার

ও পোর্টফোলিও নতুন সিস্টেমে স্থানান্তরের কাজ তখনও ঝুলে ছিল। ২৪টি ব্রোকারেজ হাউজ তখনও পড়ে ছিল পুরনো প্রযুক্তিতে। অধিকন্তু, ১৩৫টি প্রতিষ্ঠান নিজেদের গ্রাহকদের লেনদেনের তথ্য ই-মেইল বা মেসেজের মাধ্যমে পাঠাতে অনিচ্ছুক। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কারিগরি কাঠামোর এমন সব দুর্বলতা জালিয়াতির ঝুঁকিকে প্রতিনিয়ত ত্বরান্বিত করে। স্রেফ নতুন সফটওয়্যার নেওয়ার তাগিদ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং বাস্তবে তা সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, সেটিও ঘনঘন পরীক্ষা করা জরুরি। এ প্রসঙ্গে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার বলেন, ‘অতীতে ঘটে যাওয়া প্রতিটি প্রতারণার ঘটনাই খুব গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই জাতীয় জালিয়াতি চিরতরে বন্ধে ডিএসই একটি স্বয়ংক্রিয় বিশেষ সফটওয়্যার তৈরির কাজ করছে, যা চালু হলে কনসোলিডেটেড কাস্টমার্স অ্যাকাউন্ট (সিসিএ) রিয়েল টাইমে নজরদারিতে রাখা যাবে এবং প্রতিদিনের হিসাব প্রতিদিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেলানো (রিকনসিলিয়েশন) সম্ভব হবে।’ তার বিশ্বাস, ‘কোনো ব্রোকারেজের তথ্যে বিন্দুমাত্র তফাত দেখা গেলেই সিস্টেম সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ট দেবে। ফলে অতি দ্রুত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাথে সাথেই সেখানে ঝটিকা অভিযান চালানো সম্ভব হবে।’ প্রতারণায় জড়িত সাতটি ব্রোকারেজ হাউজের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। মশিউর সিকিউরিটিজে ১৬১ কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি ধরা পড়ার পরপরই প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় ট্রেডিং ও ডিপি কার্যক্রম স্থগিত করে দেওয়া হয়। একইসাথে ভুক্তভোগী আমানতকারীদের অর্থ ও শেয়ার ফিরিয়ে দেওয়ার একটি প্রক্রিয়াও সচল রাখা হয়েছে। তামহা সিকিউরিটিজের যাবতীয় কাজকর্ম ২০২১ সালের নভেম্বরেই বন্ধের নির্দেশ দেয় ডিএসই। পরবর্তীতে বিএসইসির তদন্তে বেরিয়ে আসে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. হারুনুর রশীদ এবং তার পরিবারের সদস্যরা মিলে প্রায় দুই হাজার সাধারণ বিনিয়োগকারীর কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাদের ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে। সালতা ক্যাপিটালের সিসিএ অ্যাকাউন্টে ২০২৫ সালের নভেম্বরে পরিচালিত ডিএসইর এক ঝটিকা অভিযানে বড় ধরনের ঘাটতি উন্মোচিত হয়। যা নিয়ে পরবর্তীতে গভীর তদন্ত চালানো হলে ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও নগদ টাকা চুরির সত্যতা মেলে। অন্যদিকে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধেও বিপুল টাকা লোপাটের অভিযোগ ছিল। প্রতিষ্ঠানটির মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সেটির যাবতীয় কার্যক্রমও স্থায়ীভাবে রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। একইভাবে বাংকো সিকিউরিটিজের কার্যক্রমও ২০২১ সালে বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে শাহ মোহাম্মদ সগীর সিকিউরিটিজের ট্রেডিং রাইটস এনটাইটেলমেন্ট (টিআরই) সনদ ২০১৯ সালে বাতিল ও স্থগিত করে ডিএসই। এছাড়া ব্লু চিপ সিকিউরিটিজের নামেও গ্রাহকের শেয়ার বিক্রি, ভুয়া চেক প্রদান ও টাকা ফেরত না দেওয়ার দায়ে একাধিক আদালতে মামলা গড়িয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ আল-আমিন মন্তব্য করেন, ‘যেসব ব্রোকারেজ হাউজ আমানতকারীদের টাকা মেরে দিয়েছে, তাদের বেশিরভাগেরই বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী মামলা চলায় সেই অর্থ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। পাশাপাশি ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডে জমানো টাকাও ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত আমানতকারীর লোকসান পোষানোর জন্য কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়।’ তার মতে, ‘আইনি জটিলতা ও ঋণের বোঝা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব খেলাপী ব্রোকারেজ হাউজ বিক্রি করে টাকা তোলাও সহজ কাজ হবে না। তাই পুঁজিবাজারে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পাওনা অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানান, ‘ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সে লক্ষ্যে কমিশন সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং আইনি বিচার প্রক্রিয়াও সচল রাখা হয়েছে। আত্মসাৎ হওয়া টাকা দ্রুত উদ্ধার করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৮ সদস্যের এই জয়েন্ট টিমে বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই এবং সিডিবিএলের দুজন করে প্রতিনিধি থাকছেন। টিমটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলেই স্টক ব্রোকার ও ডিলারদের অফিসে হুটহাট তল্লাশি চালানো শুরু হবে। এই ঝটিকা অভিযানের সময় বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হবে সিসিএ অ্যাকাউন্টের স্থিতি, বাজার পরিচালনার আইনি প্রতিপালন, মার্জিন ঋণের সঠিক ব্যবহার এবং আনুসঙ্গিক অন্যান্য নথিপত্র। বিএসইসি যেভাবে পরিদর্শনের পরিকল্পনা এঁকেছে অভিযানের দিন সকালে প্রতিনিধিরা প্রথমে কমিশনের নিজস্ব কার্যালয়ে এক জায়গায় মিলিত হবেন। এরপর সন্দেহজনক লেনদেন, পূর্বের নানা অনিয়ম ও অন্যান্য ঝুঁকি নির্দেশকের ওপর ভিত্তি করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রোকারেজ হাউজের তালিকা থেকে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে অভিযানের জন্য বেছে নেওয়া হবে। পছন্দ করার পরপরই পরিদর্শনকারী দলকে নির্বাচিত সেই ব্রোকারেজ হাউজের কাছাকাছি এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তারা নির্দিষ্ট এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে বিএসইসির সদর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ প্রধানকে হুট করে পরিদর্শনের প্রাতিষ্ঠানিক চিঠি পৌঁছে দেওয়া হবে। চিঠি পাওয়ার সাথে সাথেই টিমটি ওই অফিসে ঢুকে তাদের তল্লাশি ও তলব প্রক্রিয়া শুরু করবে। এভাবে আগাম কোনো ইঙ্গিত বা ভাবার সময় না দিয়েই অভিযান চালানোর ছক কষা হয়েছে, যাতে তথ্য-উপাত্ত গোপন করা, সফটওয়্যারে হাত দেওয়া কিংবা জালিয়াতির প্রমাণ মুছে ফেলার ন্যূনতম সুযোগও অসাধুরা না পায়। বিষয়টি নিশ্চিত করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির এক পরিচালক জানান, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ধারাবাহিক অনিয়ম এবং গ্রাহকদের জমানো টাকা লোপাটের কারণে শেয়ারবাজারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থায় বড়সড় ধস নেমেছে। এতে করে বাজারে নতুন পুঁজি আসা তো বন্ধ হয়েইছে, উপরন্তু সক্রিয় থাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীর সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে কমছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্রোকারেজগুলোর ওপর প্রতিনিয়ত নজরদারি বৃদ্ধি ও নিয়মিত ঝুঁকিনির্ভর তল্লাশির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। সরাসরি অভিযানের মাধ্যমে অপরাধীদের ধরে শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীর আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
উড়োজাহাজ থেকে ২০ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন নিয়েও সংসদে বিতর্ক ইউনিয়নেও প্রশাসক বিএনপি নেতারা, ভোট বন্ধের শঙ্কা জামায়াতের সিরিয়ার কাছে তিন গোলের হার বাংলাদেশের দ্বাদশ শ্রেণি পার না হওয়ার আক্ষেপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক কারিনা দুধ ছাড়াও ক্যালসিয়াম পাবেন যেসব খাবার থেকে শুভ জন্মাষ্টমী আজ রাউজানে বিএনপির সমর্থককে গুলি করে হত্যা সেফটি ভালভের ত্রুটি, অনিশ্চিত রূপপুরের বিদ্যুৎ ডিভিসি ও কংসাবতী বাঁধের পানি ছাড়ায় পশ্চিমবঙ্গে বন্যার শঙ্কা শুধু জনপ্রিয়তা তার পরিচয়ের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা নয়: জয়া আনারস খাওয়ার ৮ উপকারিতা ইরানে ‘যখন খুশি’ হামলার হুমকি ট্রাম্পের বেনজীরের অবস্থান জানতে ইন্টারপোলে আবারও চিঠি সিঙ্গাপুরে চার জাতি টুর্নামেন্ট: ব্রাজিলের মুখোমুখি জাপান প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের ভিজিটিং কার্ডে করছাড় আবেদন: ছেলের প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ সুবিধা দাবি! রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ব্যক্তিগত জেট নয়, বিমানের লিজ নেওয়া বোয়িং নিয়ে বঙ্গবন্ধুর নামে অপপ্রচার অক্সফোর্ড ম্যাট্রিক্স তুলে ধরে জাতিসংঘে জার্মান আওয়ামী লীগ: দল নিষিদ্ধকরণকে চ্যালেঞ্জ করে হস্তক্ষেপ আহ্বান ট্রেনে ইন্টারনেট চালু হতেই চুরির মহোৎসব, উধাও স্টারলিংকের মূল্যবান যন্ত্র শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা: শুধু টোলনির্ভর নয়, ভেবে রেখেছিলেন সাধারণের টোলমুক্ত যাতায়াতের কথাও