৬ শিশুর মৃত্যুতে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা, ৬ শতাধিক শিশুর খুনিরা দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ায়! ন্যায়বিচার কোথায়? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৮ জুন, ২০২৬

৬ শিশুর মৃত্যুতে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা, ৬ শতাধিক শিশুর খুনিরা দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ায়! ন্যায়বিচার কোথায়?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৮ জুন, ২০২৬ |
আইনের সামনে সবাই সমান — এটি বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট ঘোষণা। কিন্তু বাস্তবে এই মৌলিক অধিকার কতটুকু কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। এই দেশে এমন কিছু মানুষ ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা অপরাধ করলেও আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হয় না, মামলা টেকে না, বিচার হয় না। সুশীল মুখোশের আড়ালে অনিয়ম চলতেই থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে এই বৈষম্যের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দুটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে। একটিতে সরকার দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশংসা কুড়ালেও আরেকটিতে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর পরও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার কোনো উদ্যোগ নেই বললেই চলে। হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ: সমালোচনা দ্রুত ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ ঈদের আগের দিন

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে গত ২৭শে মে। ঘটনাটি সারাদেশে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে। সরকার তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অভিযোগ উঠেছে, জামায়াতে ইসলামীর মালিকানাধীন এই হাসপাতালটি ঘিরে দেশজুড়ে যে তুমুল সমালোচনা এবং ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, তাতে রাজনৈতিক দলটির মালিকানাধীন অন্যান্য হাসপাতাল ব্যবসায় ধস নামা ঠেকাতেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একে ‘আইওয়াশ’ আখ্যা দিয়েছেন অনেকেই। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৪ঠা জুন হাসপাতালটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সময় বাড়ানোর আবেদন করে। ৯ই জুন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাব সন্তোষজনক মনে না

করায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দ্য মেডিক্যাল প্র্যাক্টিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে পাঠানো এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আইনি সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ পৃথক মামলাও করেছে, যার তদন্ত চলমান। যদিও ইতিমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবারের সাথে আঁতাত করে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করে ফেলেছেন, এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রোগীমৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। অতীতে এ ধরনের

ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন হলেও সবধামাচাপা পড়ে গেছে। বেসরকারি হাসপাতালের মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় সব পরিস্থিতি ম্যানেজ করে নিয়েছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে আদ-দ্বীনের মতো প্রভাবশালী একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে সাহসী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এটি কেবল আদ-দ্বীনের জন্য নয়, চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও জনহয়রানিকারী সব বেসরকারি হাসপাতালের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। পল্লবীর রামিসা হত্যায় ছয় দিনে মৃত্যুদণ্ড: দ্রুত বিচারের অনন্য দৃষ্টান্ত একই সময়ে আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। রাজধানীর পল্লবীতে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় গত ১৯শে মে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার পর তার রক্তাক্ত ও খণ্ডিত মরদেহ পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। মাত্র ৬ দিনের মধ্যে ঢাকার একটি

আদালত এই মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় সারাদেশে শিশু হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। হামে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু: বিচারহীনতার নমুনা কিন্তু সব ক্ষেত্রে কি সরকার আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে? এই প্রশ্নটি উঠছে হামে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এভাবে এত বিপুল সংখ্যক শিশুর মৃত্যু আগে কখনো ঘটেনি। ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানিয়েছেন, সংস্থাটি ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অন্তত পাঁচটি চিঠি দিয়ে এবং ১০টি বৈঠকে সম্ভাব্য টিকা-সংকটের বিষয়ে সতর্ক করেছিল। ইউনিসেফের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনায় দেশে সময়মতো টিকা

পৌঁছায়নি। ফলে হামে এত শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, যার দায় সাবেক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও তার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং তথ্য উপদেষ্টা একাধিক বক্তৃতায় বলেছেন, সাবেক সরকারের অবহেলার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। তবু এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি এখনো গঠন করা হয়নি। উল্টো ড. ইউনূস বহাল তবিয়তে ভিআইপি প্রটোকল পাচ্ছেন, দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তার উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমও ধরাছোঁয়ার বাইরে। মামলা করতে গিয়েও প্রতিকার মেলেনি অনেক অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক মামলা করার উদ্যোগ নিলেও আদালত তাদের আবেদন গ্রহণ করেনি। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড.

ইউনূস ও তার সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করলে তা খারিজ করে দেওয়া হয়। হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করলে গত ১৯শে মে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ কেন ইনকোয়ারি কমিশন গঠন করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। রুলে কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে বলা হয়। আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলামের দায়ের করা আরেকটি রিটে সাবেক উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের কাছে আইনি নোটিশও পাঠানো হয়েছিল। তবে এই রিটগুলোতে এখনো কোনো কার্যকর প্রতিকার মেলেনি। ন্যায়বিচারের পথে এগিয়ে চলতে হবে আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল এবং রামিসা হত্যায় দ্রুত রায় নিঃসন্দেহে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। কিন্তু হামে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় না আনলে এই অগ্রগতি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। যদি প্রভাবশালীরা বিচারের ঊর্ধ্বে থাকেন, তাহলে সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের সেই ঘোষণা — ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান’ — কেবল কাগজে লেখা কথাই থেকে যাবে। হামে শিশুমৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও দোষীদের বিচার নিশ্চিত করাই হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সত্যিকারের পরীক্ষা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
৬ শিশুর মৃত্যুতে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা, ৬ শতাধিক শিশুর খুনিরা দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ায়! ন্যায়বিচার কোথায়? সরকারি ফ্ল্যাটের জন্য ওয়াশিং মেশিন-ওভেন জানালার পর্দা দাবি জামায়াতের এমপির চট্টগ্রামে মুক্তিপণের দাবিতে প্রতিবেশীর ৫ বছরের শিশুকে অপহরণের পর খুন করে লাশ গুম ‘আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না’—বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ছাত্রীদের গভীর রাতে অশালীন বার্তা প্রেরণ: ‘ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ ডিলিট হয়ে গেছে’ দাবি খুবি শিক্ষকের ‘সব সমালোচনা থেমে যাবে’, ইংল্যান্ডের বড় জয়ের পর বেলিংহাম একসময়ের পানির উৎস, এখন মরণফাঁদ: সাড়ে ৩০০ বছরের ইতিহাস এখন ময়লার ভাগাড় টানা একমাস পরীমনির রাত্রিকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন এডিসি সাকলায়েন প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ রোনালদো, কঙ্গোর ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ পয়েন্ট চ্যাটবটে দুর্ভেদ্য লকডাউন এবার জানা গেল মেসির কান্নার ‘আসল’ কারণ ম্যাচের আগে বিয়ার পান করেই ইংল্যান্ড সমর্থকদের খরচ ৪৯ লাখ টাকা রোনালদোকে কেন তুলে নেননি, ব্যাখ্যা দিলেন পর্তুগাল কোচ স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২৫০৮ টাকা দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ছয় দেশের ৭০ জন চিহ্নিত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আতিউরসহ ১০ কর্মকর্তা অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি দেওয়ার নামে প্রবাসীর টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ২ রেললাইনে ট্রাক উল্টে কুড়িগ্রামের সঙ্গে ১০ ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ স্ত্রী আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে আশুলিয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে যুবককে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ