ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু
সন্তান জন্মদানে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে সিজার করার হার, প্রতিকার জানালেন বিশেষজ্ঞরা
হামের মহামারি: ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনে ডাকসুর বাধা, ঢামেকের পাশে অস্থায়ী ব্যবস্থা ফিল্ড হাসপাতাল
হাম ও উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৪৪৫ জন
দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ শিশু মৃত্যু
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ জনের মৃত্যু
পা দেখেই ধরা পড়বে হার্টের বিপদ, যেভাবে বুঝবেন সতর্ক সংকেত
মৃত্যু মিছিলে চট্টগ্রাম: হাম ও নিউমোনিয়ায় বিপর্যস্ত চমেক হাসপাতাল, ৪ মাসে মৃত্যু ২৮৫ শিশুর
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে হাম এবং হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু পরিস্থিতি এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত চার মাসেই প্রাণ হারিয়েছে ২৮৫টি শিশু। হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই; ওষুধের পর্যাপ্ত মজুদের দাবি থাকলেও চড়া দামে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে নিঃস্ব হচ্ছেন অভিভাবকরা। সব মিলিয়ে এক মানবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে বন্দরনগরীর এই প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে শিশু মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। জানুয়ারিতে ৬৫ জন ও ফেব্রুয়ারিতে ৬০ জন ব্রঙ্কোনিউমোনিয়ায় মারা গেলেও মার্চ ও এপ্রিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়। এপ্রিলে এক মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৯০ জন শিশুর। গত বছরের তুলনায় এ বছর শিশু মৃত্যুর হার
কয়েকগুণ বেশি, যা স্পষ্টতই একটি জনস্বাস্থ্য সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ওয়ার্ডে ঠাঁই নেই, এক বেডে তিন পরিবার ৬ মে, বুধবার ভোর থেকে দুপুর গড়াতেই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ২৮০ ছাড়িয়ে যায়। সিট সংকটের কারণে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিটি বেডে এখন ৩ জন করে শিশু রাখা হচ্ছে। মায়েদের নিয়ে একেকটি বেডে ৬-৭ জনের গাদাগাদি অবস্থা। কক্সবাজারের পেকুয়া থেকে আসা ১১ মাস বয়সী তাবাসসুম কিংবা ফেনীর ১০ মাস বয়সী জান্নাতুল—সবারই গল্প এক। কেউ হাম নিয়ে ভর্তি হয়ে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে, কেউবা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কয়েকদিন পর আবারও ফিরে আসছে খিঁচুনি বা শ্বাসকষ্ট নিয়ে। ওষুধ সংকট ও ‘পাচার’ রহস্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, স্টোরে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ আছে। কিন্তু বাস্তবতা
ভিন্ন। পিআইসিইউতে ভর্তি এক শিশুর পিতা আহাদ উদ্দিন আক্ষেপ করে জানান, গত ছয় দিনে তাকে ২০-২৫ হাজার টাকার ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। নার্সদের অভিযোগ, জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন: Meropenem) চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না। অন্যদিকে, অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের স্টোর থেকে প্রতিদিন হাতব্যাগে করে ওষুধ বাইরে পাচার হচ্ছে। তল্লাশির ব্যবস্থা না থাকায় এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারী সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রি করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকদের অসহায়ত্ব শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা বলেন, “স্রোতের মতো রোগী আসছে, কাউকে ফেরানোর উপায় নেই।” বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এবারের হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া অত্যন্ত জটিল। সাধারণ নিউমোনিয়া ৫-৭ দিনে সুস্থ হলেও হাম আক্রান্তদের সুস্থ হতে দ্বিগুণ সময় লাগছে।
অনেক শিশুর ক্ষেত্রে ৬০ লিটার পর্যন্ত হাইফ্লো ন্যাজেল ক্যানেলা দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করতে হচ্ছে। ২০টি পিআইসিইউ বেডের ১৫টিই এখন হাম আক্রান্ত শিশুদের দখলে। অপুষ্টির অভিশাপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অধিকাংশ শিশুই মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে। অপুষ্টির কারণে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় হামের সংক্রমণ দ্রুত নিউমোনিয়া বা ব্রেইন ইনফেকশনে রূপ নিচ্ছে। পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্সের অভাবে এই বিশাল সংখ্যক রোগীকে সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
কয়েকগুণ বেশি, যা স্পষ্টতই একটি জনস্বাস্থ্য সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ওয়ার্ডে ঠাঁই নেই, এক বেডে তিন পরিবার ৬ মে, বুধবার ভোর থেকে দুপুর গড়াতেই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ২৮০ ছাড়িয়ে যায়। সিট সংকটের কারণে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিটি বেডে এখন ৩ জন করে শিশু রাখা হচ্ছে। মায়েদের নিয়ে একেকটি বেডে ৬-৭ জনের গাদাগাদি অবস্থা। কক্সবাজারের পেকুয়া থেকে আসা ১১ মাস বয়সী তাবাসসুম কিংবা ফেনীর ১০ মাস বয়সী জান্নাতুল—সবারই গল্প এক। কেউ হাম নিয়ে ভর্তি হয়ে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে, কেউবা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কয়েকদিন পর আবারও ফিরে আসছে খিঁচুনি বা শ্বাসকষ্ট নিয়ে। ওষুধ সংকট ও ‘পাচার’ রহস্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, স্টোরে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ আছে। কিন্তু বাস্তবতা
ভিন্ন। পিআইসিইউতে ভর্তি এক শিশুর পিতা আহাদ উদ্দিন আক্ষেপ করে জানান, গত ছয় দিনে তাকে ২০-২৫ হাজার টাকার ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। নার্সদের অভিযোগ, জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন: Meropenem) চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না। অন্যদিকে, অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের স্টোর থেকে প্রতিদিন হাতব্যাগে করে ওষুধ বাইরে পাচার হচ্ছে। তল্লাশির ব্যবস্থা না থাকায় এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারী সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রি করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকদের অসহায়ত্ব শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা বলেন, “স্রোতের মতো রোগী আসছে, কাউকে ফেরানোর উপায় নেই।” বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এবারের হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া অত্যন্ত জটিল। সাধারণ নিউমোনিয়া ৫-৭ দিনে সুস্থ হলেও হাম আক্রান্তদের সুস্থ হতে দ্বিগুণ সময় লাগছে।
অনেক শিশুর ক্ষেত্রে ৬০ লিটার পর্যন্ত হাইফ্লো ন্যাজেল ক্যানেলা দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করতে হচ্ছে। ২০টি পিআইসিইউ বেডের ১৫টিই এখন হাম আক্রান্ত শিশুদের দখলে। অপুষ্টির অভিশাপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অধিকাংশ শিশুই মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে। অপুষ্টির কারণে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় হামের সংক্রমণ দ্রুত নিউমোনিয়া বা ব্রেইন ইনফেকশনে রূপ নিচ্ছে। পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্সের অভাবে এই বিশাল সংখ্যক রোগীকে সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।



