ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
‘অর্থকষ্টে’ সরকার!
দিনে ৭-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং, শহরের চেয়ে গ্রামে সংকট তীব্রতর
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ
স্বাস্থ্য খাতে ৪২ হাজার কোটি টাকার বাজেটে হরিলুট! কাঠগড়ায় ড. ইউনূস টিকা না কিনে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকে আবেদন
মহামারিতে পরিণত হাম পরিস্থিতি, সন্নিকটে মানবিক বিপর্যয়
নববর্ষ কবে থেকে শুরু ও বাংলা মাসের নামকরণ কীভাবে হলো
বৈশাখের শোভাযাত্রা
হাজার হাজার হেক্টর বোরো জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, চাল উৎপাদনে ৭০ লাখ টন ঘাটতির সম্ভাবনা
বাংলাদেশে বোরো ধানের ভরা মৌসুমে সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল সরবরাহে সরকারের ব্যর্থতায় কৃষকদের চরম ভোগান্তি চলছে। মার্চ-এপ্রিল ২০২৬ সালে দেশের বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার সেচপাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষকরা পাম্প থেকে পাম্পে ঘুরে মাত্র ২-৫ লিটার ডিজেল সংগ্রহ করতে পারছেন, যা জমিতে সময়মতো পানি দিতে যথেষ্ট নয়। ফলে বোরো ধানের ক্ষেত শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে, চারা ঝলসে যাচ্ছে এবং ফলন মারাত্মকভাবে কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলে (রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী) সংকট সবচেয়ে তীব্র। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় অধিকাংশ সেচপাম্প বন্ধ, জমি শুকিয়ে চৌচির। কৃষকরা বলছেন, “ডিজেল না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ৫ লিটারের বেশি পাচ্ছি না।”
রাজশাহী, নাটোর,
নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে সেচ ব্যাহত। কক্সবাজারে ৭,১৪৬টি সেচপাম্পের মধ্যে ৪,২০০টির বেশি অচল, অন্তত ২৫,০০০ হেক্টর জমি ঝুঁকিতে। মানিকগঞ্জে কৃষক মোহাম্মদ ইউসুফের মতো অনেকে শুকনো জমিতে চারা ঝলসে যেতে দেখছেন। গোপালগঞ্জে ৮২,৫৯৩ হেক্টর বোরো আবাদের মধ্যে ২৫,৬৫৪ হেক্টর ডিজেলচালিত সেচের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু তেল না পাওয়ায় সেচ বন্ধ। খুলনা, বগুড়া, বরিশাল, জামালপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, মুন্সীগঞ্জসহ দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলেও একই চিত্র। কোথাও কোথাও খোলা বাজারে ডিজেল ১২০-১৫০ টাকা লিটারে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা, যা সেচ খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে ইলেকট্রিক পাম্পও অচল থাকায় ডিজেলের চাপ আরও বেড়েছে। প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, কারণ তাদের সামর্থ্য নেই বেশি দামে তেল
কেনার। বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ও সম্ভাব্য ক্ষতি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ৫০.৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা থেকে প্রায় ২.২৪ থেকে ২.২৭ কোটি টন বোরো ধান উৎপাদনের আশা করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে ২.০১-২.১৩ কোটি টনের কাছাকাছি উৎপাদন হয়েছে। বোরো মৌসুম দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৫৪% যোগান দেয়। সেচের অভাবে ১,৩২,০০০ হেক্টরের বেশি জমির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত নাও হতে পারে বলে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন। USDA-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, সেচ ও সার সংকটের কারণে বোরো ফলন কমে ১.৯২ কোটি টন-এ নেমে আসতে পারে, যা পূর্ববর্তী অনুমানের তুলনায় ১৫% কম। ফলে মোট ধান উৎপাদন ৩.৯ কোটি টন থেকে
৩.২৪ কোটি টন-এ নেমে যেতে পারে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সেচ সংকট অব্যাহত থাকে তাহলে ১৫-২০% উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে, যা লক্ষ লক্ষ টন ধানের ক্ষতি। বোরো ধান দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। উৎপাদন কমলে বাজারে চালের সরবরাহ সরাসরি বাধাগ্রস্ত হবে। দেশের মোট চালের চাহিদা বছরে প্রায় ৩.৯ কোটি টনের কাছাকাছি। বোরোতে ১৫-২০% ঘাটতি হলে প্রায় ৭০ লাখ টন চালের সরবরাহ কমতে পারে। ফলে বাজারে চালের দাম বাড়বে, কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে এবং সরকারকে আরও বেশি চাল আমদানি করতে হবে। USDA অনুসারে আমদানি ৪০ লাখ টন পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য
চালের মূল্য সাধ্যের বাইরে চলে যেতে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে। কৃষকরা অবিলম্বে ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। সরকার কৃষিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে দাবি করলেও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন দুর্বল। পরিস্থিতি দ্রুত সামাল না দিলে খাদ্য উৎপাদন ও কৃষকদের জীবিকা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে সেচ ব্যাহত। কক্সবাজারে ৭,১৪৬টি সেচপাম্পের মধ্যে ৪,২০০টির বেশি অচল, অন্তত ২৫,০০০ হেক্টর জমি ঝুঁকিতে। মানিকগঞ্জে কৃষক মোহাম্মদ ইউসুফের মতো অনেকে শুকনো জমিতে চারা ঝলসে যেতে দেখছেন। গোপালগঞ্জে ৮২,৫৯৩ হেক্টর বোরো আবাদের মধ্যে ২৫,৬৫৪ হেক্টর ডিজেলচালিত সেচের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু তেল না পাওয়ায় সেচ বন্ধ। খুলনা, বগুড়া, বরিশাল, জামালপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, মুন্সীগঞ্জসহ দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলেও একই চিত্র। কোথাও কোথাও খোলা বাজারে ডিজেল ১২০-১৫০ টাকা লিটারে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা, যা সেচ খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে ইলেকট্রিক পাম্পও অচল থাকায় ডিজেলের চাপ আরও বেড়েছে। প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, কারণ তাদের সামর্থ্য নেই বেশি দামে তেল
কেনার। বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ও সম্ভাব্য ক্ষতি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ৫০.৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা থেকে প্রায় ২.২৪ থেকে ২.২৭ কোটি টন বোরো ধান উৎপাদনের আশা করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে ২.০১-২.১৩ কোটি টনের কাছাকাছি উৎপাদন হয়েছে। বোরো মৌসুম দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৫৪% যোগান দেয়। সেচের অভাবে ১,৩২,০০০ হেক্টরের বেশি জমির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত নাও হতে পারে বলে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন। USDA-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, সেচ ও সার সংকটের কারণে বোরো ফলন কমে ১.৯২ কোটি টন-এ নেমে আসতে পারে, যা পূর্ববর্তী অনুমানের তুলনায় ১৫% কম। ফলে মোট ধান উৎপাদন ৩.৯ কোটি টন থেকে
৩.২৪ কোটি টন-এ নেমে যেতে পারে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সেচ সংকট অব্যাহত থাকে তাহলে ১৫-২০% উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে, যা লক্ষ লক্ষ টন ধানের ক্ষতি। বোরো ধান দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। উৎপাদন কমলে বাজারে চালের সরবরাহ সরাসরি বাধাগ্রস্ত হবে। দেশের মোট চালের চাহিদা বছরে প্রায় ৩.৯ কোটি টনের কাছাকাছি। বোরোতে ১৫-২০% ঘাটতি হলে প্রায় ৭০ লাখ টন চালের সরবরাহ কমতে পারে। ফলে বাজারে চালের দাম বাড়বে, কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে এবং সরকারকে আরও বেশি চাল আমদানি করতে হবে। USDA অনুসারে আমদানি ৪০ লাখ টন পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য
চালের মূল্য সাধ্যের বাইরে চলে যেতে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে। কৃষকরা অবিলম্বে ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। সরকার কৃষিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে দাবি করলেও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন দুর্বল। পরিস্থিতি দ্রুত সামাল না দিলে খাদ্য উৎপাদন ও কৃষকদের জীবিকা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।



