ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বহু নারী-শিশুকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ
তোফায়েল আহমেদ: ইতিহাসের এক অবিনাশী অধ্যায়
দূষণের মাত্রা বেড়েছে ঢাকার বাতাসে
স্বাধীনতোত্তর রাজনৈতিক সংগ্রামে তোফায়েল আহমেদ
‘মে মাসেই নারী ও শিশু নির্যাতন ৩২৬, ধর্ষণ বেড়েছে ৪৪ শতাংশ’
‘ভ্যানিটি ব্যাগে পদত্যাগপত্র’ — মতিউর রহমান চৌধুরীর দাবি সত্য হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অবৈধ?
হামে মৃত্যু ছাড়াল ৫৮৩ — থামছে না শিশুমৃত্যুর মিছিল
শিশু হত্যা ও ধর্ষণ: রাষ্ট্রের ব্যর্থতা নাকি সমাজের অবক্ষয়?
বাংলাদেশে শিশু হত্যা ও যৌন সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় দেশের কোথাও না কোথাও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ বা হত্যার খবর আসছে। যেকোনো সভ্য রাষ্ট্রে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অথচ বর্তমান বাস্তবতা বলছে, রাষ্ট্র সেই দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষত গত দুই বছরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অনুপস্থিতি জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নিরাপদ নয় কোথাও
শিশুরা সমাজের সবচেয়ে নিরীহ ও দুর্বল সদস্য। তবু আজ তারা ঘরে, স্কুলে, এমনকি পরিচিত পরিবেশেও নিরাপদ নয়। ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের পরেও অপরাধীরা রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদন্ত বা বিচারহীনতার সুযোগে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে।
“জিরো টলারেন্স”-এর বারবার ঘোষণা সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর পরিবর্তন আসেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অপরাধীরা জানে, রাজনৈতিক আশ্রয় বা দীর্ঘসূত্রী বিচার প্রক্রিয়ার সুযোগে শাস্তি এড়ানো সম্ভব। ফলে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধ থামছে না। শুধু বিবৃতি দেওয়া নয়, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং জনমনে নিরাপত্তার অনুভূতি ফিরিয়ে আনা। সংখ্যার পেছনে ধ্বংস হওয়া পরিবার পরিসংখ্যান বলছে ভয়াবহ কথা। ২০২৪ সালে ধর্ষণের রিপোর্ট হওয়া ঘটনার সংখ্যা ছিল ৩৩৭টি, আর ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৯-এ। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মাত্র প্রথম চার মাসেই অন্তত ৪৭৬ জন
নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, আরও ১৫৩ জন ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য বলছে, ভুক্তভোগীদের একটি বড় অংশের বয়স ১২ বছরের নিচে। অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধী পরিবারের পরিচিত — প্রতিবেশী, শিক্ষক বা আত্মীয়। এগুলো কেবল সংখ্যা নয়। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে আছে একটি ধ্বংস হওয়া পরিবারের গল্প। আয়েশা থেকে রামিসা — ভুলে যাওয়ার অভ্যাস মাগুরার আয়েশা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গোটা দেশ কেঁপে উঠেছিল। রাজনৈতিক নেতারা হেলিকপ্টারে চড়ে মাত্র আট বছরের আয়েশা জানাজায় যোগ দিয়েছিলেন, দিয়েছিলেন বড় বড় প্রতিশ্রুতি। তৎকালীন আইন উপদেষ্টা ৯০ দিনের মধ্যে বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সামাজিক মাধ্যম শোক, নিন্দা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে
ছেয়ে গিয়েছিল। তারপর? কিছুই বদলায়নি। কিছু মাস পরে সাত বছরের ইরাকে সীতাকুণ্ডের জঙ্গলে গলা কাটা অবস্থায় একা হাঁটতে দেখা যায় — ধর্ষণচেষ্টা ব্যর্থ হলে হামলাকারী তার গলায় আঘাত করে। ইরাকেও বাঁচানো যায়নি। মিরপুরে ছোট্ট রামিসাকে মায়ের কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও নিজের ঘরেই ধর্ষণ করা হয়, তারপর হত্যা করে তার ক্ষুদে দেহ টুকরো টুকরো করা হয়। আমাদের শিশুরা কোথায় নিরাপদ? এই দেশে একের পর এক শিশু ধর্ষিত হয়, কেউ কেউ মারা যায়, জাতি প্রতিবাদে ফেটে পড়ে, নতুন হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করে, সামাজিক মাধ্যম শোকে ভেসে যায়। তারপর ধীরে ধীরে সবাই ভুলে যায়। তালিকায় যোগ হয় আরেকটি নাম। সরকার গতানুগতিক বিবৃতি দেয় — যেন এটুকুই তার কাজ। ভাগ্য
সহায় হলে অপরাধী কখনো কখনো ধরা পড়ে। দিন যায়, মাস যায়, বছর — এমনকি দশকও পেরিয়ে যায়, তবু বিচার আসে না। স্বপ্নশূন্য পরিবারগুলো অনেক সময় সন্তানের হত্যাকারী বা ধর্ষকের শাস্তি না দেখেই মৃত্যুবরণ করে। কে বলবে, এই দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড? শিকড়ের সমস্যা বিদ্যালয়, পরিবার ও সমাজে শিশু সুরক্ষাবিষয়ক পর্যাপ্ত শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অভাবে শিশুরা সহিংসতার শিকার হচ্ছে সহজেই। পাশাপাশি মাদক, বেকারত্ব ও নৈতিক অবক্ষয় অপরাধপ্রবণতাকে ইন্ধন দিচ্ছে — এসব ক্ষেত্রে সরকারের কোনো দৃশ্যমান সাফল্য নেই। সবচেয়ে মর্মান্তিক হলো, শিশু হত্যার অনেক ঘটনা রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের আড়ালে চাপা পড়ে যায়। অথচ প্রতিটি নিহত শিশু একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি জাতির
ভবিষ্যৎ। রাজনৈতিক দোষারোপের বাইরে এসে কাজ করতে হবে এই সংকট মোকাবেলায় এখন রাজনৈতিক দোষারোপের বাইরে এসে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শিশু নির্যাতনের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন, আইনের কঠোর প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রকৃত প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ছাড়া এই সংকট কেবল আরও ঘনীভূত হবে। স্কুল ও মাদ্রাসায় শিশু সুরক্ষানীতি ও সহজলভ্য অভিযোগ ব্যবস্থা থাকতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তাশিক্ষা দিতে হবে। অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। শিশুদের প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলাও সমানভাবে জরুরি। একটি রাষ্ট্র তখনই সফল, যখন তার শিশুরা নিরাপদ। সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সরকারের সাফল্যের সব দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে
তোলা এখন জাতির সবচেয়ে জরুরি দাবি। আর সেই দাবি পূরণে রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান — সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। আর কত শিশুর লাশের পর রাষ্ট্র জেগে উঠবে — এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এখনই।
“জিরো টলারেন্স”-এর বারবার ঘোষণা সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর পরিবর্তন আসেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অপরাধীরা জানে, রাজনৈতিক আশ্রয় বা দীর্ঘসূত্রী বিচার প্রক্রিয়ার সুযোগে শাস্তি এড়ানো সম্ভব। ফলে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধ থামছে না। শুধু বিবৃতি দেওয়া নয়, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং জনমনে নিরাপত্তার অনুভূতি ফিরিয়ে আনা। সংখ্যার পেছনে ধ্বংস হওয়া পরিবার পরিসংখ্যান বলছে ভয়াবহ কথা। ২০২৪ সালে ধর্ষণের রিপোর্ট হওয়া ঘটনার সংখ্যা ছিল ৩৩৭টি, আর ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৯-এ। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মাত্র প্রথম চার মাসেই অন্তত ৪৭৬ জন
নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, আরও ১৫৩ জন ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য বলছে, ভুক্তভোগীদের একটি বড় অংশের বয়স ১২ বছরের নিচে। অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধী পরিবারের পরিচিত — প্রতিবেশী, শিক্ষক বা আত্মীয়। এগুলো কেবল সংখ্যা নয়। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে আছে একটি ধ্বংস হওয়া পরিবারের গল্প। আয়েশা থেকে রামিসা — ভুলে যাওয়ার অভ্যাস মাগুরার আয়েশা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গোটা দেশ কেঁপে উঠেছিল। রাজনৈতিক নেতারা হেলিকপ্টারে চড়ে মাত্র আট বছরের আয়েশা জানাজায় যোগ দিয়েছিলেন, দিয়েছিলেন বড় বড় প্রতিশ্রুতি। তৎকালীন আইন উপদেষ্টা ৯০ দিনের মধ্যে বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সামাজিক মাধ্যম শোক, নিন্দা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে
ছেয়ে গিয়েছিল। তারপর? কিছুই বদলায়নি। কিছু মাস পরে সাত বছরের ইরাকে সীতাকুণ্ডের জঙ্গলে গলা কাটা অবস্থায় একা হাঁটতে দেখা যায় — ধর্ষণচেষ্টা ব্যর্থ হলে হামলাকারী তার গলায় আঘাত করে। ইরাকেও বাঁচানো যায়নি। মিরপুরে ছোট্ট রামিসাকে মায়ের কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও নিজের ঘরেই ধর্ষণ করা হয়, তারপর হত্যা করে তার ক্ষুদে দেহ টুকরো টুকরো করা হয়। আমাদের শিশুরা কোথায় নিরাপদ? এই দেশে একের পর এক শিশু ধর্ষিত হয়, কেউ কেউ মারা যায়, জাতি প্রতিবাদে ফেটে পড়ে, নতুন হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করে, সামাজিক মাধ্যম শোকে ভেসে যায়। তারপর ধীরে ধীরে সবাই ভুলে যায়। তালিকায় যোগ হয় আরেকটি নাম। সরকার গতানুগতিক বিবৃতি দেয় — যেন এটুকুই তার কাজ। ভাগ্য
সহায় হলে অপরাধী কখনো কখনো ধরা পড়ে। দিন যায়, মাস যায়, বছর — এমনকি দশকও পেরিয়ে যায়, তবু বিচার আসে না। স্বপ্নশূন্য পরিবারগুলো অনেক সময় সন্তানের হত্যাকারী বা ধর্ষকের শাস্তি না দেখেই মৃত্যুবরণ করে। কে বলবে, এই দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড? শিকড়ের সমস্যা বিদ্যালয়, পরিবার ও সমাজে শিশু সুরক্ষাবিষয়ক পর্যাপ্ত শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অভাবে শিশুরা সহিংসতার শিকার হচ্ছে সহজেই। পাশাপাশি মাদক, বেকারত্ব ও নৈতিক অবক্ষয় অপরাধপ্রবণতাকে ইন্ধন দিচ্ছে — এসব ক্ষেত্রে সরকারের কোনো দৃশ্যমান সাফল্য নেই। সবচেয়ে মর্মান্তিক হলো, শিশু হত্যার অনেক ঘটনা রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের আড়ালে চাপা পড়ে যায়। অথচ প্রতিটি নিহত শিশু একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি জাতির
ভবিষ্যৎ। রাজনৈতিক দোষারোপের বাইরে এসে কাজ করতে হবে এই সংকট মোকাবেলায় এখন রাজনৈতিক দোষারোপের বাইরে এসে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শিশু নির্যাতনের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন, আইনের কঠোর প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রকৃত প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ছাড়া এই সংকট কেবল আরও ঘনীভূত হবে। স্কুল ও মাদ্রাসায় শিশু সুরক্ষানীতি ও সহজলভ্য অভিযোগ ব্যবস্থা থাকতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তাশিক্ষা দিতে হবে। অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। শিশুদের প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলাও সমানভাবে জরুরি। একটি রাষ্ট্র তখনই সফল, যখন তার শিশুরা নিরাপদ। সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সরকারের সাফল্যের সব দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে
তোলা এখন জাতির সবচেয়ে জরুরি দাবি। আর সেই দাবি পূরণে রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান — সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। আর কত শিশুর লাশের পর রাষ্ট্র জেগে উঠবে — এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এখনই।



