ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে অংশ নেয়ায় ছাত্রলীগ কর্মী মাহাবুব ঢ়াড়ী-কে পিটিয়ে হত্যা
‘মাজারবিদ্বেষীদের’ সঙ্গে নিয়ে শেষ দিনে ‘মাজারে ডিসিগিরি’ করে গেলেন সারওয়ার আলম
৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ—সংগ্রাম, ঐতিহ্য ও আগামীর অঙ্গীকার
হামে রেকর্ডসংখ্যক মৃত্যুতেও সরকারের সাফল্য দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী
চাইনিজ স্ক্যামারদের কাছে তরুণদের ডলারে বিক্রি
বিআরটিএর ওয়েবসাইট ক্লোন: এআই ক্যামেরার ভুয়া মামলায় গচ্চা লাখ লাখ টাকা, বিদেশি চক্রের ফাঁদ
শিশুশ্রম রোধে প্রয়োজন শক্তিশালী জন্ম নিবন্ধন আইন
শেখ হাসিনার নিজস্ব অর্থায়নের সিদ্ধান্ত: সংশয়ের পদ্মা সেতুতে চার বছরে আয় ৩৩৯২ কোটি টাকা
এক সময় যে পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা সংশয়, বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, উদ্বোধনের চার বছর পর সেই সেতুই এখন সরকারের অন্যতম বড় রাজস্ব আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিলের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। চার বছর পর সেই প্রকল্প থেকে টোল আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকার বেশি। একই সঙ্গে নিয়মিতভাবে সরকারের ঋণও পরিশোধ করছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
২০২২ সালের ২৬শে জুন যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে চলতি বছরের ২৩শে জুন পর্যন্ত পদ্মা সেতু ব্যবহার করেছে আড়াই কোটিরও বেশি যানবাহন। এ সময়ে টোল বাবদ
আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৩৯২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনের পর ২০২২ সালে ২৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৫টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয় ৪০২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে টোল আদায় দাঁড়ায় ৮১৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকায়। ২০২৪ সালে আদায় হয় ৮৩৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং ২০২৫ সালে ৮৮৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। চলতি বছরের ২৩ জুন পর্যন্ত আদায় হয়েছে আরও ৪৪৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, প্রতি বছরই পদ্মা সেতুর টোল আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে প্রকল্পটির আর্থিক সক্ষমতাও শক্তিশালী হচ্ছে। চলতি বছরের ঈদুল আজহাকে ঘিরে একদিনে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড
গড়েছে পদ্মা সেতু। গত ৫ জুন ২৪ ঘণ্টায় ৫২ হাজার ৪৮৭টি যানবাহন সেতুটি ব্যবহার করে। ওই দিন টোল আদায় হয় ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা, যা সেতু চালুর পর একদিনে সর্বোচ্চ আদায়। যে সিদ্ধান্ত বদলে দেয় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পদ্মা সেতু প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় যখন বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায়। সেই সময় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিয়ে দেশ-বিদেশে নানা প্রশ্ন ওঠে। অনেকেই মনে করেছিলেন, নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন বাংলাদেশের পক্ষে কঠিন হবে। তবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ অর্থ বিভাগের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। ৩২ হাজার ৬০৫
কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের মধ্যে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা সরকার ঋণ হিসেবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে দেয়। সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৫ই এপ্রিল থেকে ঋণ পরিশোধ শুরু করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত ১৬ কিস্তিতে সরকারকে ২ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। প্রতি কিস্তিতে গড়ে ১৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। শুধু ঋণ পরিশোধই নয়, টোল আদায়ের ওপর সরকারের প্রাপ্য ভ্যাটও নিয়মিত পরিশোধ করছে সেতু কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০৮ কোটি টাকা ভ্যাট জমা দেওয়া হয়েছে সরকারি কোষাগারে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) আলতাফ হোসেন শেখ বলেন, সেতু কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ঋণ পরিশোধ
করছে। টোল আয়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট হিসেবে দিতে হয়। পাশাপাশি সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও রয়েছে। তবে যে হারে টোল আদায় বাড়ছে, তাতে খুব দ্রুতই প্রকল্পটি ব্রেক-ইভেন পর্যায়ে পৌঁছাবে। সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ বলেন, পদ্মা সেতুর টোল আদায়ের পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। তবে আর্থিক সাফল্যের বাইরেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ করা এবং ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় অর্জন। সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪৫ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের পুরো অর্থ উঠে আসবে। অর্থাৎ উদ্বোধনের প্রায় ২২ বছরের মধ্যেই দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। চার বছর
পূর্তিতে পদ্মা সেতুর আয়, ঋণ পরিশোধের অগ্রগতি এবং ক্রমবর্ধমান যান চলাচল দেখাচ্ছে, এক সময়ের বিতর্কিত ও সংশয়ের প্রকল্পটি এখন দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে।
আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৩৯২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনের পর ২০২২ সালে ২৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৫টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয় ৪০২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে টোল আদায় দাঁড়ায় ৮১৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকায়। ২০২৪ সালে আদায় হয় ৮৩৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং ২০২৫ সালে ৮৮৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। চলতি বছরের ২৩ জুন পর্যন্ত আদায় হয়েছে আরও ৪৪৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, প্রতি বছরই পদ্মা সেতুর টোল আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে প্রকল্পটির আর্থিক সক্ষমতাও শক্তিশালী হচ্ছে। চলতি বছরের ঈদুল আজহাকে ঘিরে একদিনে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড
গড়েছে পদ্মা সেতু। গত ৫ জুন ২৪ ঘণ্টায় ৫২ হাজার ৪৮৭টি যানবাহন সেতুটি ব্যবহার করে। ওই দিন টোল আদায় হয় ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা, যা সেতু চালুর পর একদিনে সর্বোচ্চ আদায়। যে সিদ্ধান্ত বদলে দেয় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পদ্মা সেতু প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় যখন বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায়। সেই সময় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিয়ে দেশ-বিদেশে নানা প্রশ্ন ওঠে। অনেকেই মনে করেছিলেন, নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন বাংলাদেশের পক্ষে কঠিন হবে। তবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ অর্থ বিভাগের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। ৩২ হাজার ৬০৫
কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের মধ্যে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা সরকার ঋণ হিসেবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে দেয়। সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৫ই এপ্রিল থেকে ঋণ পরিশোধ শুরু করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত ১৬ কিস্তিতে সরকারকে ২ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। প্রতি কিস্তিতে গড়ে ১৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। শুধু ঋণ পরিশোধই নয়, টোল আদায়ের ওপর সরকারের প্রাপ্য ভ্যাটও নিয়মিত পরিশোধ করছে সেতু কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০৮ কোটি টাকা ভ্যাট জমা দেওয়া হয়েছে সরকারি কোষাগারে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) আলতাফ হোসেন শেখ বলেন, সেতু কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ঋণ পরিশোধ
করছে। টোল আয়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট হিসেবে দিতে হয়। পাশাপাশি সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও রয়েছে। তবে যে হারে টোল আদায় বাড়ছে, তাতে খুব দ্রুতই প্রকল্পটি ব্রেক-ইভেন পর্যায়ে পৌঁছাবে। সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ বলেন, পদ্মা সেতুর টোল আদায়ের পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। তবে আর্থিক সাফল্যের বাইরেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ করা এবং ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় অর্জন। সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪৫ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের পুরো অর্থ উঠে আসবে। অর্থাৎ উদ্বোধনের প্রায় ২২ বছরের মধ্যেই দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। চার বছর
পূর্তিতে পদ্মা সেতুর আয়, ঋণ পরিশোধের অগ্রগতি এবং ক্রমবর্ধমান যান চলাচল দেখাচ্ছে, এক সময়ের বিতর্কিত ও সংশয়ের প্রকল্পটি এখন দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে।



