ডি.টিিএন. রাছেল রানা
আরও খবর
দুর্ভিক্ষের সকল লক্ষণ দৃশ্যমান কৃষি ও উৎপাদন ব্যবস্থায়: তবে কি সেদিকেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ?
সামনে বিএনপি-আ.লীগ পেছনে প্রশাসন সিন্ডিকেট
চরম পর্যায়ে লোডশেডিং: ভোগান্তিতে বাড়ছে জনরোষ, নিরাপত্তা শঙ্কায় বিদ্যুৎকর্মীরা
সারাদেশে ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে লোডশেডিংয়ের নতুন রেকর্ডঃ বন্ধ ৪১ বিদ্যুতকেন্দ্র
রাষ্ট্র রক্ষার দায় ও বিচারবিভাগীয় তদন্ত বন্ধের রহস্য: শেখ হাসিনার ভাষণের দুটি মৌলিক প্রশ্ন
খোদ চাঁদপুরেই মধ্যবিত্তের নাগালের অনেক বাইরে সাধের ইলিশ, ডিমের কেজিও ৬ হাজার
এনসিটিবিতে দুর্নীতির পাহাড়: এক বছরে ২৭১১ কোটি টাকার মহালুটপাট
‘মাজারবিদ্বেষীদের’ সঙ্গে নিয়ে শেষ দিনে ‘মাজারে ডিসিগিরি’ করে গেলেন সারওয়ার আলম
সিলেটে শেষ দিনে সবচেয়ে বড় ‘নাটক’ করে গেছেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। ২১ জুন তাকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবু সোমবার (২২ জুন) তিনি সিলেটে ‘ডিসিগিরি’ করে গেছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল—“জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে”, অর্থাৎ ওটা ছিল তার তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার বা বদলি। সারওয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেছিলেন সোমবারই তিনি মন্ত্রণালয়ে যোগদান করবেন। কিন্তু সোমবার সকালে দেখা গেল অন্য চিত্র। সারওয়ার আলমকে সিলেটের ডিসি পদ থেকে ‘প্রত্যাহার’ করা হলেও তিনি শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে যান, এবং তার স্থাপিত দানবাক্সগুলো খুলেন এবং সেগুলোর গণনা করা হয়।
অথচ যে প্রশাসনিক ক্ষমতায় তিনি দানবাক্স বসিয়েছিলেন, সে প্রশাসনিক ক্ষমতা তার
ছিল না। তিনি সিলেটের ডিসি না থাকলেও তিনি ডিসির ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন। আচ্ছা, এই ক্ষমতার ব্যবহার প্রসঙ্গ বাদ দিলাম, হয়ত তার ক্ষমতা ছিল, নয়তো না— এই বিতর্কে যাচ্ছি না। তিনি মাজারের দানবাক্সে নিয়ে গেলেন কাদের? তার এই দলের মাজার-সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগী কেউ ছিল না। তিনি সঙ্গী করেছেন তাদের, যারা নানা সময়ে সিলেটের শাহজালাল-শাহপরানের মাজারে শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড ও মদ-গাঁজার আসর বসে বলে প্রোপ্যাগান্ডা চালায়। টাকা গোনার সময়ে একটা চিঠি পাওয়ার কথা জানানো হলো। সবগুলো মিডিয়ায় এই সংবাদ এসেছে। এই চিঠিতে চিঠির প্রেরকের নাম ছিল না। তবে সাংবাদিকদের সামনে যিনি চিঠি পড়েছেন, তাকে চেনে অনেকেই। টাকা পাওয়ার কথা, ডলার-পাউন্ড-রিয়াল পাওয়ার কথা, স্বর্ণ পাওয়ার
কথা জানিয়েছেন ওই ব্যক্তি গণমাধ্যমকে। চেনা এই ব্যক্তিটির নাম হচ্ছে হাফিজ মাওলানা মুফতি আহমাদুল হক উমামা। তিনি ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। উমামার রাজনৈতিক পরিচয় হচ্ছে তিনি ছাত্র জমিয়ত কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। হাফিজ মাওলানা মুফতি আহমাদুল হক উমামার এই এতটুকু পরিচয়ই যথেষ্ট না। তিনি মূলত মাজার-সংস্কৃতি বিদ্বেষী স্থানীয় এক ধর্মীয় ছাত্রনেতা। সিলেটে নানা সময়ে মাজারে-মাজারে যে ‘ধর্মবিরোধী’ কর্মকাণ্ড ঘটে, এনিয়ে তিনি সোচ্চার থাকা একজন। মাজারে যান না তিনি, যাওয়ার কথাও না; কারণ তার ভাষায় মাজারে শরিয়তবিরোধী কাজ হয়। তবে আজকে তিনি মাজারে গেছেন, এবং টাকা গোনা প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছেন,
যা তার নিজের মুখে বলেছেন। চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একদিকে যখন মাজারে-মাজারে মব হচ্ছিল, ভক্ত-আশেকানদের মারধর করা হচ্ছিল, তখন মাজারবিরোধী অন্য অনেক কর্মসূচির মতো সিলেটে ‘হযরত শাহজালাল রহ. তাওহিদী কাফেলা’ নামের একটা সংগঠন নগরের বন্দরবাজারে মানববন্ধন করে। ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে হজরত শাহজালাল-শাহপরান (রহ.)-সহ দেশের ওলি-আউলিয়ার মাজারে সমাজ ও শরিয়তবিরোধী কার্যকলাপ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানানো হয়। ওই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন বর্তমান মন্ত্রী এবং ওই সংগঠনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। এই মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আলোচ্য ব্যক্তি হাফিজ মাওলানা মুফতি আহমাদুল হক উমামা। সরকার যখন সারওয়ার আলমকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবং
জনপ্রশাসন মন্ত্রী বলছেন সারওয়ার আলমের বদলির সঙ্গে মাজারকেন্দ্রিক কোনো-কিছু জড়িত নয়; তখন এই সারওয়ার আলমকে নিয়ে সিলেটকে উত্তপ্ত করার দুরভিসন্ধি আঁটছে ধর্মীয় মৌলবাদী চক্র। বরাবরের মতো এখানে প্রকাশ্যে জামায়াত নেই; তবে আছে জমিয়ত, খেলাফতের সব অংশ এবং অন্যান্য সকল ধর্মভিত্তিক দল। এদের কেউ মাজার-সংস্কৃতির সমর্থক নয়, তবে সারওয়ার আলমের সঙ্গে ঠিকই তারা টাকা গুনতে গেছে দল বেঁধে। নিজেদের মতো করে বক্তব্য দিয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ নানা জায়গায় নানা কর্মসূচি পালন করেছে। এই লেখায় যে মাজারবিরোধী জমিয়ত নেতার কথা বললাম, একটা ভিডিয়োতে তার দেওয়া বক্তব্য শুনলাম। উনি বলেছেন হাজার টাকার নোট বেশি, বেশি পাঁচশ’ টাকার নোট… মাত্র চারদিনে ১৭ লাখের বেশি
জমা হয়েছে বলে জানাচ্ছেন তারা। গত বৃহস্পতিবার মাজারের দানবাক্স স্থাপন করে জেলা প্রশাসন। সাধারণত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মাজারে ভক্ত-আশেকানদের ভিড় বাড়ে। এই সময়ে মানুষ মানত ও দানের অর্থও দান করে। তবে মানত ও দানের অর্থে হাজার টাকার নোটের আধিক্যের কথা বলছেন যে গণনায় সংশ্লিষ্টরা— এটা কি তবে পরিকল্পিত কিছু? কোনো ‘ম্যাটিকুলাস প্ল্যান’-এর অংশ এটা? এই সন্দেহ করছি, নিশ্চয় এর কারণ আছে? প্রথমত: সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপনে যেখানে বলা হয়েছিল— “জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে”, এবং তিনি নিজেই যেখানে জানিয়েছিলেন সোমবারই তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দেবেন— সেখানে কেন তিনি আগেভাগে কাউকে না জানিয়ে, সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে
প্রত্যাহারের পরেও জেলা প্রশাসকের ক্ষমতার ব্যবহার করলেন? দ্বিতীয়ত: মাজারে লাখ লাখ টাকা প্রতিদিন জমা হয়— এটা প্রমাণ করতে কি দানবাক্স খোলার সিদ্ধান্ত নিলেন? কারণ মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপনের পর তিনি আইনত আর সিলেটের ডিসি নন। তৃতীয়ত: এই যে হাজার টাকার নোট ও পাঁচশ’ টাকার নোট বেশি পাওয়া গেল— এটা কি বিশেষ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন, বিশেষ কিছু প্রমাণ করতে তড়িঘড়ি করে দানবাক্সে ঢোকানো হয়েছে? কারা ঢোকাল? চতুর্থত: ডিসি সারওয়ার আলম মাজার ব্যবস্থাপনা বা দানবাক্স খোলা ও বন্ধ নিয়ে গত ১৭ জুন নিজের স্বাক্ষরিত যে ‘অফিস আদেশ’ এবং ১০ সদস্যের যে কমিটি গঠন করলেন, সে কমিটিতে জেলা প্রশাসক নেই। অথচ দেখা গেল তিনি নিজেই সেই দানবাক্স খুলতে গেলেন? এটা কি নিজের বানানো কমিটিকে নিজেই অগ্রাহ্য করলেন না? পঞ্চমত: তিনি বড় একটা দল নিয়ে মাজারে গেলেন, দানবাক্স খুললেন, টাকা গুনলেন। তিনি যাদের সঙ্গে নিলেন তারা মাজার প্রাঙ্গণে তার নামে স্লোগান দিল। তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, সরকারের সিদ্ধান্ত মানতে তিনি বাধ্য। অথচ তার সফরসঙ্গীরা স্লোগান তুললেন “সিলেটে দরকার, ডিসি সারওয়ার”— এটা স্পষ্টতই সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ পরিপন্থি আচরণ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাজনৈতিক সরকারের নিয়ন্ত্রণে থেকে এভাবে সরকারের সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করতে কি পারেন তিনি? এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? তবে যখন সিলেটের মাজার প্রাঙ্গণ সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত তখন এটা বের করা খুব বেশি কঠিন বলে মনে হচ্ছে না। তবু প্রশ্ন এখানে স্বাভাবিক যে এই সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পাওয়া কি সম্ভব, কারণ নতুন করে স্থাপিত ক্যামেরাগুলোর নিয়ন্ত্রণ জেলা প্রশাসনের। জেলা প্রশাসন যখন বিশেষ উদ্দেশ্যে মাজারে এত কিছু করছে, তখন কি প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে?
ছিল না। তিনি সিলেটের ডিসি না থাকলেও তিনি ডিসির ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন। আচ্ছা, এই ক্ষমতার ব্যবহার প্রসঙ্গ বাদ দিলাম, হয়ত তার ক্ষমতা ছিল, নয়তো না— এই বিতর্কে যাচ্ছি না। তিনি মাজারের দানবাক্সে নিয়ে গেলেন কাদের? তার এই দলের মাজার-সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগী কেউ ছিল না। তিনি সঙ্গী করেছেন তাদের, যারা নানা সময়ে সিলেটের শাহজালাল-শাহপরানের মাজারে শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড ও মদ-গাঁজার আসর বসে বলে প্রোপ্যাগান্ডা চালায়। টাকা গোনার সময়ে একটা চিঠি পাওয়ার কথা জানানো হলো। সবগুলো মিডিয়ায় এই সংবাদ এসেছে। এই চিঠিতে চিঠির প্রেরকের নাম ছিল না। তবে সাংবাদিকদের সামনে যিনি চিঠি পড়েছেন, তাকে চেনে অনেকেই। টাকা পাওয়ার কথা, ডলার-পাউন্ড-রিয়াল পাওয়ার কথা, স্বর্ণ পাওয়ার
কথা জানিয়েছেন ওই ব্যক্তি গণমাধ্যমকে। চেনা এই ব্যক্তিটির নাম হচ্ছে হাফিজ মাওলানা মুফতি আহমাদুল হক উমামা। তিনি ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। উমামার রাজনৈতিক পরিচয় হচ্ছে তিনি ছাত্র জমিয়ত কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। হাফিজ মাওলানা মুফতি আহমাদুল হক উমামার এই এতটুকু পরিচয়ই যথেষ্ট না। তিনি মূলত মাজার-সংস্কৃতি বিদ্বেষী স্থানীয় এক ধর্মীয় ছাত্রনেতা। সিলেটে নানা সময়ে মাজারে-মাজারে যে ‘ধর্মবিরোধী’ কর্মকাণ্ড ঘটে, এনিয়ে তিনি সোচ্চার থাকা একজন। মাজারে যান না তিনি, যাওয়ার কথাও না; কারণ তার ভাষায় মাজারে শরিয়তবিরোধী কাজ হয়। তবে আজকে তিনি মাজারে গেছেন, এবং টাকা গোনা প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছেন,
যা তার নিজের মুখে বলেছেন। চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একদিকে যখন মাজারে-মাজারে মব হচ্ছিল, ভক্ত-আশেকানদের মারধর করা হচ্ছিল, তখন মাজারবিরোধী অন্য অনেক কর্মসূচির মতো সিলেটে ‘হযরত শাহজালাল রহ. তাওহিদী কাফেলা’ নামের একটা সংগঠন নগরের বন্দরবাজারে মানববন্ধন করে। ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে হজরত শাহজালাল-শাহপরান (রহ.)-সহ দেশের ওলি-আউলিয়ার মাজারে সমাজ ও শরিয়তবিরোধী কার্যকলাপ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানানো হয়। ওই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন বর্তমান মন্ত্রী এবং ওই সংগঠনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। এই মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আলোচ্য ব্যক্তি হাফিজ মাওলানা মুফতি আহমাদুল হক উমামা। সরকার যখন সারওয়ার আলমকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবং
জনপ্রশাসন মন্ত্রী বলছেন সারওয়ার আলমের বদলির সঙ্গে মাজারকেন্দ্রিক কোনো-কিছু জড়িত নয়; তখন এই সারওয়ার আলমকে নিয়ে সিলেটকে উত্তপ্ত করার দুরভিসন্ধি আঁটছে ধর্মীয় মৌলবাদী চক্র। বরাবরের মতো এখানে প্রকাশ্যে জামায়াত নেই; তবে আছে জমিয়ত, খেলাফতের সব অংশ এবং অন্যান্য সকল ধর্মভিত্তিক দল। এদের কেউ মাজার-সংস্কৃতির সমর্থক নয়, তবে সারওয়ার আলমের সঙ্গে ঠিকই তারা টাকা গুনতে গেছে দল বেঁধে। নিজেদের মতো করে বক্তব্য দিয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ নানা জায়গায় নানা কর্মসূচি পালন করেছে। এই লেখায় যে মাজারবিরোধী জমিয়ত নেতার কথা বললাম, একটা ভিডিয়োতে তার দেওয়া বক্তব্য শুনলাম। উনি বলেছেন হাজার টাকার নোট বেশি, বেশি পাঁচশ’ টাকার নোট… মাত্র চারদিনে ১৭ লাখের বেশি
জমা হয়েছে বলে জানাচ্ছেন তারা। গত বৃহস্পতিবার মাজারের দানবাক্স স্থাপন করে জেলা প্রশাসন। সাধারণত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মাজারে ভক্ত-আশেকানদের ভিড় বাড়ে। এই সময়ে মানুষ মানত ও দানের অর্থও দান করে। তবে মানত ও দানের অর্থে হাজার টাকার নোটের আধিক্যের কথা বলছেন যে গণনায় সংশ্লিষ্টরা— এটা কি তবে পরিকল্পিত কিছু? কোনো ‘ম্যাটিকুলাস প্ল্যান’-এর অংশ এটা? এই সন্দেহ করছি, নিশ্চয় এর কারণ আছে? প্রথমত: সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপনে যেখানে বলা হয়েছিল— “জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে”, এবং তিনি নিজেই যেখানে জানিয়েছিলেন সোমবারই তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দেবেন— সেখানে কেন তিনি আগেভাগে কাউকে না জানিয়ে, সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে
প্রত্যাহারের পরেও জেলা প্রশাসকের ক্ষমতার ব্যবহার করলেন? দ্বিতীয়ত: মাজারে লাখ লাখ টাকা প্রতিদিন জমা হয়— এটা প্রমাণ করতে কি দানবাক্স খোলার সিদ্ধান্ত নিলেন? কারণ মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপনের পর তিনি আইনত আর সিলেটের ডিসি নন। তৃতীয়ত: এই যে হাজার টাকার নোট ও পাঁচশ’ টাকার নোট বেশি পাওয়া গেল— এটা কি বিশেষ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন, বিশেষ কিছু প্রমাণ করতে তড়িঘড়ি করে দানবাক্সে ঢোকানো হয়েছে? কারা ঢোকাল? চতুর্থত: ডিসি সারওয়ার আলম মাজার ব্যবস্থাপনা বা দানবাক্স খোলা ও বন্ধ নিয়ে গত ১৭ জুন নিজের স্বাক্ষরিত যে ‘অফিস আদেশ’ এবং ১০ সদস্যের যে কমিটি গঠন করলেন, সে কমিটিতে জেলা প্রশাসক নেই। অথচ দেখা গেল তিনি নিজেই সেই দানবাক্স খুলতে গেলেন? এটা কি নিজের বানানো কমিটিকে নিজেই অগ্রাহ্য করলেন না? পঞ্চমত: তিনি বড় একটা দল নিয়ে মাজারে গেলেন, দানবাক্স খুললেন, টাকা গুনলেন। তিনি যাদের সঙ্গে নিলেন তারা মাজার প্রাঙ্গণে তার নামে স্লোগান দিল। তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, সরকারের সিদ্ধান্ত মানতে তিনি বাধ্য। অথচ তার সফরসঙ্গীরা স্লোগান তুললেন “সিলেটে দরকার, ডিসি সারওয়ার”— এটা স্পষ্টতই সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ পরিপন্থি আচরণ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাজনৈতিক সরকারের নিয়ন্ত্রণে থেকে এভাবে সরকারের সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করতে কি পারেন তিনি? এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? তবে যখন সিলেটের মাজার প্রাঙ্গণ সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত তখন এটা বের করা খুব বেশি কঠিন বলে মনে হচ্ছে না। তবু প্রশ্ন এখানে স্বাভাবিক যে এই সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পাওয়া কি সম্ভব, কারণ নতুন করে স্থাপিত ক্যামেরাগুলোর নিয়ন্ত্রণ জেলা প্রশাসনের। জেলা প্রশাসন যখন বিশেষ উদ্দেশ্যে মাজারে এত কিছু করছে, তখন কি প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে?



