মৃণ্ময় সেন
আরও খবর
উৎপাদনশীলতার সক্ষমতা, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সনদ
অটিজম, স্নায়ুবৈচিত্র্যতা আন্দোলন এবং অন্তর্ভুক্তির হিসেব-নিকেশ
স্কুলে এসে শিশুরা যেন পাঠ্যপুস্তকে বৈষম্য না দেখে—এই অবদান শেখ হাসিনার একান্ত
২৬ মার্চ-বাংলাদেশের জন্মদিন
শেখ মুজিব-বাঙালির একমাত্র মাহানায়ক
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন: ভুল কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ব্যবচ্ছেদ
শেখ হাসিনার ‘চক্ষু রাঙানি উপেক্ষা’ বনাম বর্তমানের ‘অনুমতি ভিক্ষা’: কোন পথে বাংলাদেশ?
যুক্তরাষ্ট্রের তেল-গ্যাস লবির সফল কৌশলঃ ইউনুসের মাধ্যমে বাংলাদেশের ১০ কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল
গ্লোবাল তেল-গ্যাস আমদানি-রপ্তানি প্রায় সম্পূর্ণভাবে আমেরিকা নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো গোপন সংবাদ নয়। ইরাকে আক্রমণ, মধ্যপ্রাচ্যের ওপেককে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ, ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা, ভেনেজুয়েলার উপর নিষেধাজ্ঞা, রাশিয়ার তেল-গ্যাস রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা এবং সব মূল্য ডলারে পরিশোধ করানো—এগুলোই তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার।
প্রশ্ন হচ্ছে, এই নিয়ন্ত্রণে আমেরিকার লাভ কী? নিজে তো তেল রপ্তানি করে না, বরং আমদানিই করে। লাভ হচ্ছে—বিশ্বের তেল-গ্যাস উত্তোলন কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগই আমেরিকান। সৌদি (যারা আস্তে আস্তে আমেরিকার শেয়ার কিনে নিচ্ছে), কাতার থেকে শুরু করে বাংলাদেশের গ্যাসফিল্ড থেকেও গ্যাস তোলে আমেরিকার কোম্পানি। চুক্তি অনুযায়ী উত্তোলিত তেল-গ্যাসের ৩০-৬০% এর মালিক থাকে সেই কোম্পানি এবং সেই গ্যাস তারা ওই দেশের সরকারের কাছেই
বিক্রি করে। অর্থাৎ একটা কূপ খনন করে ৩০-৫০ বছর ধরে টাকা তুলে নেয় অন্য দেশ থেকে। তেল থেকে যত লাভ হয় এবং যত নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়, কয়লায় কিন্তু তাদের সে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ নেই। কয়লা রপ্তানিকারক দেশ মূলত ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া। এদের রুটে আমেরিকার কন্ট্রোল কম, সরকারেও কম। কয়লা উত্তোলনে আমেরিকানদের দক্ষতাও তেল-গ্যাসের মতো নয়। এজন্য আমেরিকা গত দশকে পরিবেশ লবি দিয়ে নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়। বাংলাদেশে যখন আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসে, তখন দেশের বিদ্যুৎ খাত প্রায় এককভাবে গ্যাসের উপর নির্ভরশীল ছিল। ৫৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে ৪৫০০ মেগাওয়াট ছিল শুধুমাত্র গ্যাসভিত্তিক। কয়লায় ছিল মাত্র
২৫০ মেগাওয়াট। আর এই গ্যাস উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ করতো আমেরিকা। পরবর্তীতে দেশীয় গ্যাস উত্তোলন কমতে শুরু করলে সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালাতে বাধ্য হয় গ্যাস আমদানিতে। সেই আবার আমেরিকার পকেটে টাকা যায়। লীগ সরকার বুঝতে পারে, এই ফাঁদ থেকে বের হতে হবে। তারা বিভিন্ন দেশের সাথে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বানানোর আলোচনা শুরু করে। এর ফলে নির্মিত হয় রামপাল, পায়রা, মাতারবাড়ির মতো বিদ্যুৎকেন্দ্র। দেশীয় কয়লা উত্তোলন বাড়িয়ে চীনের সহায়তায় বড়পুকুরিয়ার ক্যাপাসিটি ৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়। এছাড়া রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত হয় রূপপুর, যেখান থেকে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে। এভাবে দেশের এনার্জি মিক্স ধীরে ধীরে ডাইভার্সিফাইড হতে শুরু করে। বাংলাদেশ যখন কয়লা কেন্দ্র আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়,
তখন আমেরিকার ক্লাইমেট লবি এবং আর্থিক অস্ত্র (বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ) তাদের ষড়যন্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসে। এদের চাপে লীগ সরকারকে ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে সরে আসতে হয়। অথচ যেখানে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, চীনের মতো দেশে এখনও বিদ্যুতের ১৫-৫৫% আসে কয়লা থেকে। বাংলাদেশের মতো দেশকে জোর করে কয়লা থেকে সরিয়ে রাখলেও, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময় আমেরিকা ও তাদের মিত্ররা নিজেদের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে ২০২২-২৩ সালে কয়লার দাম তিন গুণ হয়ে যায়।লীগ সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল হয় যখন তারা ২০২৩-২৪ সালে ইস্টার্ন রিফাইনারির ধারণক্ষমতা তিন গুণ করার উদ্যোগ নেয়—১৫ লাখ টন থেকে ৪৫ লাখ টন। এটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি সহজ
হতো, অতিরিক্ত তেলের বাই-প্রোডাক্টগুলো দেশের প্লাস্টিক শিল্পের উন্নয়ন, বিটুমিন আমদানি হ্রাসসহ অনেক কাজে লাগতো। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আমেরিকার তাবেদার ইউনুস এক মাসের মধ্যে এই প্রকল্প বাতিল করে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে দেন। এছাড়া এই প্রকল্পের অংশীদার এস আলম গ্রুপকে শয়তান বানিয়ে তাদের নামে মামলা দিয়ে রাখা হয়, যাতে কোনোভাবেই প্রকল্পটি আর চলতে না পারে। বর্তমানে যে তেল-গ্যাসের সংকট চলছে, তার প্রভাব অনেকাংশে কম হতো যদি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পগুলো বাতিল না করা হতো এবং একটি বড় আকারের রিফাইনারি থাকতো।আমেরিকা তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য অনেক কিছু করে। বঙ্গবন্ধুকে সরিয়ে জিয়াকে ক্ষমতায় আনে, ২০০১ সালে লীগকে সরিয়ে খালেদাকে আনে, ২০২৪ সালে ছাত্র
আন্দোলনের নামে লীগকে সরিয়ে তার গোলাম ইউনুস এবং পরে মুচলেকা দেওয়া আরেক গোলাম তারেক জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানায়। সামনে হয়তো শফিকুল বা নাহিদকেও বসাবে। এভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের তেল-গ্যাস লবি ইউনুসের মাধ্যমে বাংলাদেশের ১০টি কয়লা প্ল্যান্ট বাতিল করে দেশকে তাদের উপর আরও নির্ভরশীল করে তুলছে।
বিক্রি করে। অর্থাৎ একটা কূপ খনন করে ৩০-৫০ বছর ধরে টাকা তুলে নেয় অন্য দেশ থেকে। তেল থেকে যত লাভ হয় এবং যত নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়, কয়লায় কিন্তু তাদের সে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ নেই। কয়লা রপ্তানিকারক দেশ মূলত ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া। এদের রুটে আমেরিকার কন্ট্রোল কম, সরকারেও কম। কয়লা উত্তোলনে আমেরিকানদের দক্ষতাও তেল-গ্যাসের মতো নয়। এজন্য আমেরিকা গত দশকে পরিবেশ লবি দিয়ে নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়। বাংলাদেশে যখন আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসে, তখন দেশের বিদ্যুৎ খাত প্রায় এককভাবে গ্যাসের উপর নির্ভরশীল ছিল। ৫৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে ৪৫০০ মেগাওয়াট ছিল শুধুমাত্র গ্যাসভিত্তিক। কয়লায় ছিল মাত্র
২৫০ মেগাওয়াট। আর এই গ্যাস উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ করতো আমেরিকা। পরবর্তীতে দেশীয় গ্যাস উত্তোলন কমতে শুরু করলে সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালাতে বাধ্য হয় গ্যাস আমদানিতে। সেই আবার আমেরিকার পকেটে টাকা যায়। লীগ সরকার বুঝতে পারে, এই ফাঁদ থেকে বের হতে হবে। তারা বিভিন্ন দেশের সাথে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বানানোর আলোচনা শুরু করে। এর ফলে নির্মিত হয় রামপাল, পায়রা, মাতারবাড়ির মতো বিদ্যুৎকেন্দ্র। দেশীয় কয়লা উত্তোলন বাড়িয়ে চীনের সহায়তায় বড়পুকুরিয়ার ক্যাপাসিটি ৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়। এছাড়া রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত হয় রূপপুর, যেখান থেকে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে। এভাবে দেশের এনার্জি মিক্স ধীরে ধীরে ডাইভার্সিফাইড হতে শুরু করে। বাংলাদেশ যখন কয়লা কেন্দ্র আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়,
তখন আমেরিকার ক্লাইমেট লবি এবং আর্থিক অস্ত্র (বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ) তাদের ষড়যন্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসে। এদের চাপে লীগ সরকারকে ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে সরে আসতে হয়। অথচ যেখানে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, চীনের মতো দেশে এখনও বিদ্যুতের ১৫-৫৫% আসে কয়লা থেকে। বাংলাদেশের মতো দেশকে জোর করে কয়লা থেকে সরিয়ে রাখলেও, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময় আমেরিকা ও তাদের মিত্ররা নিজেদের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে ২০২২-২৩ সালে কয়লার দাম তিন গুণ হয়ে যায়।লীগ সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল হয় যখন তারা ২০২৩-২৪ সালে ইস্টার্ন রিফাইনারির ধারণক্ষমতা তিন গুণ করার উদ্যোগ নেয়—১৫ লাখ টন থেকে ৪৫ লাখ টন। এটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি সহজ
হতো, অতিরিক্ত তেলের বাই-প্রোডাক্টগুলো দেশের প্লাস্টিক শিল্পের উন্নয়ন, বিটুমিন আমদানি হ্রাসসহ অনেক কাজে লাগতো। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আমেরিকার তাবেদার ইউনুস এক মাসের মধ্যে এই প্রকল্প বাতিল করে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে দেন। এছাড়া এই প্রকল্পের অংশীদার এস আলম গ্রুপকে শয়তান বানিয়ে তাদের নামে মামলা দিয়ে রাখা হয়, যাতে কোনোভাবেই প্রকল্পটি আর চলতে না পারে। বর্তমানে যে তেল-গ্যাসের সংকট চলছে, তার প্রভাব অনেকাংশে কম হতো যদি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পগুলো বাতিল না করা হতো এবং একটি বড় আকারের রিফাইনারি থাকতো।আমেরিকা তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য অনেক কিছু করে। বঙ্গবন্ধুকে সরিয়ে জিয়াকে ক্ষমতায় আনে, ২০০১ সালে লীগকে সরিয়ে খালেদাকে আনে, ২০২৪ সালে ছাত্র
আন্দোলনের নামে লীগকে সরিয়ে তার গোলাম ইউনুস এবং পরে মুচলেকা দেওয়া আরেক গোলাম তারেক জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানায়। সামনে হয়তো শফিকুল বা নাহিদকেও বসাবে। এভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের তেল-গ্যাস লবি ইউনুসের মাধ্যমে বাংলাদেশের ১০টি কয়লা প্ল্যান্ট বাতিল করে দেশকে তাদের উপর আরও নির্ভরশীল করে তুলছে।



