ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
নারী সেজে থাকা সেই ছাত্রদল নেতা বাস্তবে দেখতে কেমন, দেখুন ছবিতে
মির্জা ফখরুল: কিছু অশুভ শক্তি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়
নিজের জেন্ডার তথ্য গোপন, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
কুষ্টিয়া যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত, নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন
এনসিপি নেতা তাহসিন: চীনের দুঃখ হোয়াংহো, জামায়াতের দুঃখ আমির হামজা
সংসদে আমির হামজাকে ইঙ্গিত করে রুমিন ফারহানার ক্ষোভ
আমির হামজার বিরুদ্ধে আরও এক মামলা, সমন জারি
‘আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে জাতিসংঘের চিঠি’ বিষয়টি নিয়ে যা জানা গেল
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে বলা হচ্ছে যে, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ওপর থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ওপর ৬০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে এমন দাবিটি মিথ্যা। আসলে, জাতিসংঘ একটি চিঠিতে শুধু জানিয়েছিল যে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষের রাজনীতিতে অংশগ্রহণে অনিয়মিত সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এই চিঠিটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে দাবিটি অনলাইনে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেছে, গণমাধ্যম বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকার বা তারেক রহমানকে
এমন চিঠি পাঠানোর কোনো প্রমাণ নেই। এমনকি দাবিতে ব্যবহৃত প্রথম ভিডিওতেও সাংবাদিক কাজী রুনাকে ৬০ দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কোনো দাবি করতে দেখা বা শোনা যায়নি। বরং তিনি জানান, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় জাতিসংঘ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে একটি চিঠি প্রেরণ করে। চিঠিতে বলা হয়, দলটির নিষিদ্ধ কার্যক্রমের কারণে জনসাধারণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে এবং জাতিসংঘ এ সংক্রান্ত ১০টি প্রশ্ন উত্থাপন করে। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে মূল চিঠিটির সন্ধান পাওয়া যায়। চিঠিটি থেকে জানা যায়, এটি ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পাঠানো হয়। চিঠিতে
মূলত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নেওয়া পদক্ষেপ, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা, গণগ্রেফতার, এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের কাছে তথ্য ও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা, দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম ও প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করা, ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান (“অপারেশন ডেভিল হান্ট”) পরিচালনা করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম শুরু করা- মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এসব পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার, সংগঠনের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকারকে সীমিত করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (ICCPR)-এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে
শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায্য বিচারের নিশ্চয়তা, আইনজীবীদের নিরাপত্তা, আটক ব্যক্তিদের প্রতি আচরণ এবং হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ বাংলাদেশের সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে জোর দিয়ে বলেছে যে সন্ত্রাসবিরোধী আইন বা অন্যান্য আইনি কাঠামো যেন রাজনৈতিক দল দমন বা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ সীমিত করার জন্য ব্যবহার না করা হয় এবং মানবাধিকার, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তবে চিঠিটির কোনো অংশে ৬০ দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে কিছু বলতে দেখা যায়নি। বরং লক্ষ্য করা যায়, চিঠিতে উল্লেখ করা হয় চিঠির বক্তব্য ও তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো
যেকোনো উত্তর ৬০ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ, এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, ৬০ দিন বিষয়ক এই কথাটিকেই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে। সুতরাং, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্যে জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা।
এমন চিঠি পাঠানোর কোনো প্রমাণ নেই। এমনকি দাবিতে ব্যবহৃত প্রথম ভিডিওতেও সাংবাদিক কাজী রুনাকে ৬০ দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কোনো দাবি করতে দেখা বা শোনা যায়নি। বরং তিনি জানান, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় জাতিসংঘ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে একটি চিঠি প্রেরণ করে। চিঠিতে বলা হয়, দলটির নিষিদ্ধ কার্যক্রমের কারণে জনসাধারণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে এবং জাতিসংঘ এ সংক্রান্ত ১০টি প্রশ্ন উত্থাপন করে। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে মূল চিঠিটির সন্ধান পাওয়া যায়। চিঠিটি থেকে জানা যায়, এটি ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পাঠানো হয়। চিঠিতে
মূলত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নেওয়া পদক্ষেপ, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা, গণগ্রেফতার, এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের কাছে তথ্য ও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা, দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম ও প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করা, ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান (“অপারেশন ডেভিল হান্ট”) পরিচালনা করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম শুরু করা- মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এসব পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার, সংগঠনের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকারকে সীমিত করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (ICCPR)-এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে
শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায্য বিচারের নিশ্চয়তা, আইনজীবীদের নিরাপত্তা, আটক ব্যক্তিদের প্রতি আচরণ এবং হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ বাংলাদেশের সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে জোর দিয়ে বলেছে যে সন্ত্রাসবিরোধী আইন বা অন্যান্য আইনি কাঠামো যেন রাজনৈতিক দল দমন বা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ সীমিত করার জন্য ব্যবহার না করা হয় এবং মানবাধিকার, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তবে চিঠিটির কোনো অংশে ৬০ দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে কিছু বলতে দেখা যায়নি। বরং লক্ষ্য করা যায়, চিঠিতে উল্লেখ করা হয় চিঠির বক্তব্য ও তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো
যেকোনো উত্তর ৬০ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ, এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, ৬০ দিন বিষয়ক এই কথাটিকেই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে। সুতরাং, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্যে জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা।



