ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বাঙালীর দ্রোহের ভাষা, প্রতিবাদী হুঙ্কার, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর শিষ্টাচারের কি কুৎসিত অবনতি!
মতামত || উভলিঙ্গ নির্বাচন
গণভোট: বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়াকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা
কারা ফটকের পাঁচ মিনিট……
রঙ বদলের মানুষেরা!
হ্যাঁ কিংবা না কোনো শব্দেই আমরা আওয়ামী লীগ তথা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি যেন কথা না বলি।কারণ এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ফাঁদটাই হলো আমাদের মুখ খুলিয়ে দেওয়া।
ইউনুস থেকে মাচাদো: নোবেল শান্তি পুরস্কার কি সরকার পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে?
জুলাই শহীদ গেজেটঃ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় নোংরা রাজনীতি ও প্রতারণা!
২০২৪ সালের ৬ই জুন থেকে ৫ই আগস্ট জুলাই আন্দোলনের এই সময়কালকে কেউ বলে ‘বিপ্লব’, কেউ বলে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান’। কিন্তু দিন গড়াতেই এখন দেশবাসীর কাছে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে,
জুলাই – আগস্টের তথাকথিত এই আন্দোলন ছিলো ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’এর ছদ্মাবরণে অনেক পক্ষের সন্মিলিত ষড়যন্ত্র, যার অর্থায়ন করেছে স্বাধীনতাবিরোধী ও পাকিস্তানপন্থি সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী জঙ্গি গোষ্ঠী।
যার উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচিত সরকার উৎখাত করার মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিকের গুরুত্বপূর্ণ দেশ, বাংলাদেশের উপর দেশী-বিদেশী স্বার্থান্বেষী পক্ষের দীর্ঘমেয়াদী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার করা।
“ওয়েল ডিজাইন্ড পিউর মেটিকিউলাস প্ল্যান”, যার লক্ষ্য একদিকে যেমন ছিলো বাংলাদেশকে ১৯৭১ পূর্ববর্তী ভাবধারায় ফিরিয়ে নিয়ে উগ্রবাদী ধর্মব্যবসায়ীদের হাতে দেশটা তুলে দিয়ে দেশে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের রাজত্ব
কায়েম করে গৃহযুদ্ধে পতিত করা। অন্যদিকে এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য ছিলো ভারত ও ভারতের অখন্ডতা হুমকির মুখে ফেলা। ৫ই আগস্ট বেলা ১২টার কিছু আগে ‘আইএসপিআর’ সকল মিডিয়ায় বার্তা পাঠায় — “অল্প সময়ের মধ্যেই সেনাবাহিনী প্রধান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন।” সমস্ত টিভি চ্যানেল ও মিডিয়া এটিকে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে স্ক্রলে প্রচার শুরু করে। এর আগেই সকাল ১১টার মধ্যেই রাজধানী’র অন্যতম প্রবেশমুখ উত্তরায় সেনাবাহিনী ব্যারিকেড সরিয়ে মিছিলকারীদের জন্য পথ নির্বিঘ্ন ও উন্মুক্ত করে দেয়। এই পথ দিয়েই ১২টার আগেই গণভবন অভিমুখে মিছিল শুরু হয়, যার ভিডিও দ্রুত অনলাইনে ভাইরাল হয়। ‘সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ’ দিবেন এমন ঘোষণা, সারাদেশে সেনাবাহিনীর পরিবর্তিত পক্ষাবলম্বন ও সরকারবিরোধীদের বাধাহীন
মিছিলের দৃশ্য দেখে মূলতঃ সবার বদ্ধমূল ধারণা হয়ে যায় যে ‘ক্ষমতার পটপরিবর্তন আসন্ন’ এবং পরবর্তীতে তাই-ই হয়। ফলে ১২টার আগেই অনেক স্থানে আন্দোলনকারী নামের দুর্বৃত্তরা পুলিশ, আনসার ও বিজিবি সদস্য এবং আওয়ামী লীগ ও তার সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে আক্রমণ ও হত্যা শুরু করে। সেনাপ্রধান ভাষণ দেওয়ার আগে জামায়াত – বিএনপিসহ নামধারী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মব্যবসায়ী নেতাদের সাথে জরুরী বৈঠক করেন। সেনাপ্রধান কয়েকবার সময় পরিবর্তন করে প্রথমে দুপুর ২টা, এরপর ৩টা নির্ধারিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিকেল ৩টা ৪০ থেকে ৩টা ৫০ মিনিটে ‘জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ’ দেন এবং তা সরাসরি সমস্ত ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। এর আগেই দুপুর ১টার আগেই
গুজব ছড়িয়ে যায় – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে দেশত্যাগ করেছেন। মূলত সেনাপ্রধানের ভাষণ দেয়ার খবর প্রচারের আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে ছিটকে পড়েছিলেন। তার ক্ষমতা ও যোগাযোগ রুদ্ধ হয়ে যায়। এরপর জামায়াত-বিএনপি ও জঙ্গি সংগঠন সমূহের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় দেশজুড়ে শুরু হয় সশস্ত্র হামলা ও টার্গেট কিলিং। জুলাই আন্দোলনে মৃতের সংখ্যা আসলে কতো? সোশ্যাল মিডিয়ায় গণহত্যার গুজব ছড়িয়ে জনসম্পৃক্ততা তৈরি আপনাদের নিশ্চয়ই মনে থাকবে, ১৪ই জুলাই থেকেই ৪ঠা আগস্টের রাত পর্যন্ত প্রতিদিন প্রতিক্ষণে সুপরিকল্পিতভাবে সারা দেশে প্রতিদিন ‘ছাত্রদের উপরে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ আক্রমণ করে গণহত্যা চালিয়ে হাজার হাজার ছাত্রকে হত্যা করেছ এবং লাশ গুম করেছে” – এমন গুজব রটানো হয়েছে।
অনলাইনে হাজার হাজার বট আইডি দিয়ে এই গুজব ব্যাপকভাবে প্রচার করে। এমনকি বাংলাদেশের আমেরিকান দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও ১৪ই জুলাই গুজব ছড়ানো হয় যে, ‘ঢাকায় পুলিশের গুলিতে ২ জন ছাত্র নিহত হয়েছে’। ১৪ তারিখ রাত থেকেই ফেসবুকে শত শত আইডি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্র মৃত্যুর গুজব ছড়ানো শুরু হয়, যা পরেরদিন ১৫ তারিখ থেকে ব্যাপক আকার ধারন করে। অথচ ১৬ই জুলাইয়ের আগে সারা দেশে কোথাও কোন আন্দোলনকারী নিহত হয়নি। কিছুক্ষণ পরেই এই মিথ্যা খবরের পোস্ট আমেরিকান দূতাবাসের ফেসবুক পেজ থেকে ডিলেট করে দেয়া হয়। কিন্তু তার আগেই এই গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি পরেরদিন ১৫ই জুলাই
মার্কিন পরাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিক মুশফিক সজল আনসারীর প্রশ্নের জবাবে ঢাকায় দুইজন ছাত্রের মৃত্যুর দাবি করেন। যদিও তিনি এই তথ্যের সূত্রের কোন কথা উল্লেখ করেননি। সারাদেশে ছাত্র মৃত্যুর এই অপপ্রচার ও গুজব সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনেক শিক্ষিত-মেধাবী ও সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে এবং আবেগে আপ্লুত হয়ে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। শুধু তথাকথিত আন্দোলন চলাকালেই না, ৫ই আগস্টের পর মেটিকিউলাস ডিজাইনের সব স্টেকহোল্ডার প্রথম থেকে দাবি করেছিলো জুলাই – আগস্ট মাসে আন্দোলন দমন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকার আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মী ও সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে সারাদেশে ব্যাপক গণহত্যা চালিয়ে ৪ হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে। হাজার
হাজার হত্যার বয়ানকে প্রতিষ্ঠিত করতে ভলকার তুর্ক এর সহয়তা পরবর্তীতে সেই সংখ্যা কমে হয় ৩ হাজার। কিন্তু ৩ হাজার জনের তথ্যপ্রমাণও দিতে না পেরে সংখ্যাটা তারা ২ হাজারে নামিয়ে আনে। এরপরে এক পর্যায়ে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪শত দাবি করা শুরু হয়। তারপরও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকম সংখ্যা দাবি করা হয়। যেমনঃ ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় নিহতের সংখ্যা ১,৫৮১ জন। তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় নাহিদ ইসলাম, ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০২৪ দাবি করেন নিহতের সংখ্যা ৮০০ জন। প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেইজে ১১ই নভেম্বর ২০২৪ নিহতের সংখ্যা ৮৭২ জন প্রচার করা হয়। ৩০শে এপ্রিল (২০২৫) বগুড়ায় এক সমাবেশে সারজিস আলম দাবি করেন নিহতের সংখ্যা ১,০০০ জনের বেশি। ৩০শে এপ্রিল (২০২৫) ঢাকার মিরপুরে এক সমাবেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ দাবি করেন নিহতের সংখ্যা ১,৪০০ জনের বেশি। ২০২৪ সালের শেষের দিকে ছাত্র সমন্বয়ক ও তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম উনার ফেসবুক পেইজে দাবী করেছিলেন দুই সহস্রাধিক শহিদ আছেন। পরবর্তীতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের তদন্তদল বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনাকারী কতিপয় ছাত্রের সাক্ষাতকারের ভিত্তিতে একটা কাল্পনিক “ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট” বানিয়ে উল্লেখ করে ‘১লা জুলাই থেকে ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত সর্বমোট নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪ শত জন হতে পারে’, যার মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থক, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত আছে। অন্যদিকে ১৩ই সেপ্টেম্বর (২০২৪) এইচআরএসএস এক প্রতিবেদনে জানায় ১৬ই জুলাই থেকে ৯ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৭৫ জন নিহত হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় এই সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। অবশেষে ১৫ই জানুয়ারি (২০২৫) সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় তথাকথিত ‘জুলাই শহীদ গেজেট’। সেখানে প্রথম দফায় ৮৩৪ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। ৩০শে জুন (২০২৫) প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হালনাগাদ করে আরো ১০ জন অন্তর্ভুক্ত করার পর মোট নিহতের সংখ্যা হয় ৮৪৪ জন। পরবর্তীতে ৩রা আগস্ট (২০২৫) আবারও প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশোধনী দিয়ে গেজেট থেকে ৮ জনের নাম বাদ দিয়ে নিহতের সংখ্যা ৮৩৬ জন হয়েছে। ৫ই আগস্ট (২০২৫) প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জুলাই ঘোষণাপত্রে বলেন, রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তবে কোটা সংস্কারের তথাকথিত আন্দোলনকে বেগবান করতে এবং সাধারণ মানুষকে সরকারের প্রতি বিরূপ করতে শুধু মৃত্যুর গুজবই ছড়ানো হয়নি, অনেক ক্ষেত্রে হত্যাও করা হয়েছে। কোথাও পিটিয়ে, কোথাও আগুনে পুড়িয়ে, কোথাও কুপিয়ে, আবার কোথাও গুপ্ত ঘাতক দিয়ে ৭.৬২ বুলেটের মাধ্যমে। অন্তর্বর্তী সরকারের “জুলাই শহীদ” এর সংজ্ঞা অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ঘোষিত ‘জুলাই শহীদ’ সংজ্ঞায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “শুধুমাত্র সেই সকল ব্যক্তিরাই ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে বিবেচিত হবেন, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা ক্ষমতাসীন দলের আক্রমণের কারণে যারা নিহত হয়েছেন।” অর্থাৎ সংজ্ঞানুসারে ‘শহীদ’ হওয়ার নির্ধারিত সময়কাল আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন থাকা ও শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করা/ সেনাপ্রধান দেশে ও দেশবাসীর দায়িত্ব নেয়া পর্যন্ত। সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে সেই সময়কালে কেউ আঘাতের কারণে আহত হয়ে যদি পরবর্তী সময়ে মারা যায় – তাদের নাম। অথচ ‘শহীদ’ সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শত শত জুলাই আন্দোলন বহির্ভূত নাম অন্তর্ভুক্ত করে এই শহীদ গেজেটের তালিকা দীর্ঘ করা হয়েছে। জুলাই শহীদ গ্যাজেট ভারী হয়েছে আন্দোলনকারীদের হাতে নিহতদের নামে ৪ঠা আগস্ট থেকে শুরু করে ৫ই আগস্ট দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর এবং সেনাবাহিনী প্রধান ঘোষণা দিয়ে দেশ ও দেশবাসীর দায়িত্ব নেয়ার পর সারাদেশের বিভিন্ন পুলিশলাইন্স ও ৫০০+ থানা-ফাঁড়িতে হামলা করে হাজার হাজার অস্ত্র ও গুলি লুট করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বরত পুলিশ-আনসার-বিজিবির উপর হামলা করে তাদের হত্যা করে। সেই সময় সরকারি সম্পদ ও জীবনরক্ষার্থে পুলিশ-আনসার- বিজিবির ছোড়া গুলিতে নিহত প্রায় ৩০০ জনের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শহীদ গেজেট দীর্ঘ করার কুটিলতায় এতে সড়ক দুর্ঘটনায়, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, হিটস্ট্রোকে, কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে, চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে, ধর্ষণের অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত প্রায় অর্ধশত নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরো অন্তর্ভুক্ত আছে কারাগারে হামলা করতে গিয়ে, কারাগার ভেঙে পালাতে গিয়ে, লুট করা অস্ত্রের আত্মঘাতী গুলিতে নিহতদের নামও। গেজেটে আছে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট করার সময় নিজেদের দেয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত প্রায় অর্ধশতাধিক নাম। গেজেটভুক্ত ৮৩৬ জনের মধ্যে প্রায় ১০০ জনেরও বেশি মৃত্যুর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যই নেই- এরা কার্যত “অদৃশ্য” বা ‘নোবডি’। প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের পরে। অর্ধশতাধিকের মৃত্যু হয়েছে তথাকথিত আন্দোলনকারীদের হাতেই। শতাধিক, প্রায় ৩০০ জনের অধিকাংশই ষড়যন্ত্রকারীদের ভাড়া করা স্নাইপারের ৭.৬২ মিমি গুলিতে নিহত হয়েছে, যা পুলিশ, আনসার ব্যবহার করে না। এই গেজেটের অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৮০% পথচারী, পোষাক শ্রমিক, টং দোকানের কর্মচারী, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, টাইলস মিস্ত্রী, দিনমজুর, কৌতুহলী উৎসুক জনতা, কিশোর গ্যাং সদস্যসহ অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ যাদের কোটা – চাকরি – শিক্ষা বা তথাকথিত আন্দোলনের সাথে বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা ছিলো না। এদের পরিবার প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে দেয়া আর্থিক সহায়তার চেক গ্রহণের সময় সকলেই দাবি করেছেন তাদের নিহত সদস্য কোনভাবেই আন্দোলনের সাথে কোনরকম সম্পৃক্ত ছিলো না। অথচ ৫ই আগস্টের পরে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যখন নিহত ব্যক্তিদেরকে ‘জুলাই শহীদ’ ঘোষণা দেয়া হয় এবং তাদের পরিবারকে এককালীন ৩০ লক্ষ টাকা, মাসিক ভাতা, ঢাকায় ফ্ল্যাট, চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ও নানারকম সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়, তখন থেকেই প্রতিটা নিহতের পরিবারের বক্তব্য পরিবর্তন হয়ে যায়। প্রত্যেক নিহত ব্যক্তি হয়ে যায় ‘বিশাল জুলাই যোদ্ধা’য়। “জুলাই শহীদ গ্যাজেট” এক বিশাল স্ক্যাম তথাকথিত এই শহীদ গেজেট এক বিশাল স্ক্যাম। ভূয়া নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ‘শহীদ গেজেট’ এর তালিকা দীর্ঘ করার জন্য এবং কর্তৃপক্ষের জালিয়াতি খুঁজে না পাওয়ার লক্ষ্যে এটি তৈরি করার সময় সর্বোচ্চ রকমের কূটিলতা ও চতুরতার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। গেজেটভুক্ত ব্যক্তিদের নিহত হওয়ার তারিখ-সময়-ঘটনাস্থল কিছুই উল্লেখ নাই। নিহত ব্যক্তির বয়স-পেশাও উল্লেখ করা হয় নাই। অনেক ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ নাম উল্লেখ না করে ডাক নাম, পিতা-পুত্র দু’জনের নামই এক শব্দে ও অসম্পূর্ণ ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। হাস্যকরভাবে পুত্রের নাম বাংলায় আর পিতার নাম ইংরেজী ফন্টে লিখা আছে একাধিক। পিতা-পুত্রের নাম প্রায় একই পাওয়া গেছে একাধিক। নামের বানান একেকজন একেক রকম লিখতেই পারে, কিন্তু একেবারে সুপরিচিত স্থানের সহজ বানানও ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে গেজেটে। আবার কারো জন্ম-জীবন-জীবিকা-পড়লেখা-মৃত্যুবরণ এবং নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের অর্থাৎ সবকিছু শহরে হলেও গেজেটে বর্তমান ঠিকানা বাদ দিয়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে শুধুমাত্র গ্রামের ঠিকানা। এমনকি একাধিক ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে থানা-জেলা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ইউনিয়নের নাম দেয়া আছে। আবার কোনো রকম হোল্ডিং নম্বর, গ্রাম-পাড়া-মহল্লা ছাড়াই শুধুমাত্র থানা-জেলা উল্লেখ আছে অনেকের ঠিকানায়। গেজেট তৈরির সময়ে বিভাগ বা জেলা বা থানাওয়ারী কোন পদ্ধতি অনুরসণ করা হয়নি। মূলত নিহত কারো তথ্য খুঁজে পাওয়া বা যাচাই করা প্রায় অসাধ্য করে তোলা হয়েছে এই গেজেটে। তথাকথিত এই শহীদ গেজেট দীর্ঘ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলিকে দায়ী করে হত্যাকাণ্ডের দায় চাপিয়ে গণহত্যাকারী বিশেষণে প্রচার করার অপচেষ্টা করা হয়েছে খোদ নোবেল বিজয়ী ড ইউনুসের দপ্তর থেকেই। এই অপচেষ্টারই অংশ হিসাবে ‘জুলাই শহীদ গেজেট’ দীর্ঘ করতে এতে ৫ই আগস্টেরও সপ্তাহান্তে সড়ক দুর্ঘটনায়, দীর্ঘ ৫মাস পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, হিটস্ট্রোকে, দীর্ঘদিনের পুরাতন কিডনি রোগে, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে, চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে, সপ্তাহান্তে ধর্ষণের অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, পানিতে ডুবে প্রায় অর্ধশতাধিক নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট করার সময় নিজেদের দেয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহতদের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তথাকথিত শহীদ গেজেটে। অর্থাৎ যাদের রক্ত লেগে আছে এই দখলদার গোষ্ঠীর হাতে তাদের নামও অন্তর্ভুক্ত করে এক দিকে যেমন তালিকা দীর্ঘ করা হয়েছে, আরেকদিকে প্রায় ৫৪% তালিকাভুক্তের এই মৃত্যুর দায় চাপানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সরকার ও আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উপরে। অথচ ৫ই আগস্ট দুপুর থেকেই সারাদেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মী এমনকি সমর্থকরাও নিজ নিজ বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। জুলাই শহীদ গ্যাজেটে জঙ্গিদের হাতে নিহত হওয়া পুলিশ সদস্যরা পুর্বের প্রতিবেদনঃ জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ১৮ ৪ঠা আগস্ট সারা দেশে প্রায় ৫০০টির বেশি থানায় হামলা করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটপাট করে, পুলিশ সদস্যদের হত্যা করে থানাভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সেদিন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় হামলা করে ওসিসহ ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে কুপিয়ে, পিটিয়ে হত্যা করে। এর আগে ২০শে জুলাই (২০২৪) রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকায় এএসআই মো. মোক্তাদিরকে লাঠি, রড ও পাইপ দিয়ে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে সারা শরীরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মো. মোক্তাদির ছিলেন ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। এএসআই মোক্তাদিরের কথা নিশ্চয় আপনাদের মনে আছে? ভুলে গেছেন তার কথা! ঠিক আছে মনে করিয়ে দিচ্ছি। ২০শে জুলাই কোটা আন্দোলনের নামে জুলাই ষড়যন্ত্রে জামায়াত-শিবিরের জঙ্গিরা এএসআই মোক্তাদিরকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করেছে। ঢাকার মাতুয়াইলে পরিবার নিয়ে বাস করতেন মোক্তাদির। সেদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি একটি ছোট প্লাস্টিকের শপিং ব্যাগে পুলিশের পোশাক নিয়ে সাদা পোশাকে বাসা থেকে বের হয়ে পল্টন ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দপ্তরে ডিউটি করতে রওয়ানা হন। যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ পৌঁছালে তথাকথিত আন্দোলনের বিক্ষোভকারী নামধারী জঙ্গিরা মোক্তাদিরকে থামিয়ে তল্লাশি করে। এক পর্যায়ে তার কাছে পুলিশের আইডি কার্ড এবং শপিং ব্যাগে পুলিশের পোশাক দেখে তাকে নৃশংসভাবে লাঠি, রড, পাইপ দিয়ে পিটিয়ে এবং চাপাতি, রামদা দিয়ে কুপিয়ে তার মাথা তিনভাগ করে ও চেহারা বিকৃত করে বীভৎসভাবে হত্যা করে। এখানেই নৃশংসতার শেষ হয়নি। জামায়াত, শিবির ও জঙ্গি খুনিরা মোক্তাদিরের মৃতদেহের পায়ে তার দিয়ে বেঁধে অমানবিকভাবে রায়েরবাগ ফুটওভার ব্রিজে ঝুলিয়ে রাখে। দীর্ঘ সময় ধরে অনেক প্রচেস্টার পরে মোক্তাদিরের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও র্যাব। নিহত এএসআই মোক্তাদিরের হত্যার দায় আওয়ামী লীগ সরকার ও সংগঠনের উপরে চাপাতে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তথাকথিত শহীদ গেজেটের ১৬০ নম্বরে তার নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মোক্তাদির হত্যার আগেরদিন ১৯শে জুলাই ঢাকার বনশ্রী এলাকায় একই কায়দায় পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলায় পুলিশ পরিদর্শক মো. মাসুদ পারভেজ ভূঁইয়াকে। তিনি সপরিবারে বাস করতেন বনশ্রীর ই ব্লকে। ১৯শে জুলাই (২০২৪) ছুটির দিনে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি বাসা থেকে নিচে নামেন। তাকে এলাকার প্রায় সকলেই পরোপকারী ও সজ্জন মানুষ হিসাবে চিনতেন। আন্দোলনকারী নামধারী সন্ত্রাসী জঙ্গিরা তাকে পুলিশ সদস্য হিসাবে চিনতে পেরে বনশ্রী ফরাজী হাসপাতালের সামনে তার উপরে সশস্ত্র হামলা করে লাঠি, রড, পাইপ দিয়ে পিটিয়ে এবং দা, চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। এসময় হামলাকারীরা মাসুদ পারভেজের দুইটি মোবাইল ফোন এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। আহতাবস্থায় তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১শে জুলাই বেলা ১১টার দিকে মো. মাসুদ পারভেজ ভূঁইয়া মারা যান। একইভাবে জুলাই ষড়যন্ত্রের কুশীলবরা মো. মাসুদ পারভেজ ভূঁইয়ার নামও তথাকথিত জুলাই শহীদ গেজেটের ৪৫৬ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করে এই হত্যার দায়ও আওয়ামী লীগ সরকারের উপরে চাপিয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগের পরে সারা দেশের সমস্ত থানা, ফাঁড়ি, পুলিশ লাইন্সে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ হত্যার মহোৎসব শুরু করে জামায়াত-শিবির-বিএনপি-ছাত্রদলসহ জুলাই ষড়যন্ত্রের পক্ষের সকল রাজনৈতিক ও ধর্মাশ্রয়ী ধর্মভিত্তিক সংগঠন ও উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী। হত্যা করে সহস্রাধিক পুলিশ সদস্যকে, কিন্তু সরকারের হিসাবে এই সংখ্যাটা ৪৪ জনের বেশী এগোয়নি। মো. শাহিদুল আলম নিহত আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অন্যতম একজন। মো. শাহিদুল আলম ছিলেন ট্রাফিক বিভাগের কন্সটেবল পদে কর্মরত। ৪ঠা আগস্ট (২০২৪) ডিউটি করে রাতে বাসায় ফিরেন। পরদিন ৫ই আগস্ট সকালেই আবার উত্তরার জসীমউদ্দীন সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ডিউটিতে যোগ দেন। ডিউটিরত অবস্থায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে উত্তরা পূর্ব থানার সামনে কর্তব্য পালনে যান। প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগের পরে উত্তরা পূর্ব থানাতে পুলিশের উপরে দফায় দফায় সসস্ত্র হামলা চালায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী আন্দোলনকারী নামধারী সন্ত্রাসীরা। প্রথম হামলার সময়েই রাস্তায় ডিউটিরত ট্রাফিক কন্সটেবল মো. শাহিদুল আলমকে ইউনিফর্মে পেয়ে উম্মত্ত মবগোষ্ঠী তার উপরে হামলে পড়ে। তাকে রড, লাঠি, পাইপ দিয়ে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। তার হত্যার দায়ও অস্বীকার করতে এবং তথাকথিত কাল্পনিক গণহত্যার তালিকা দীর্ঘ করতে তথাকথিত শহীদ গেজেটের ৮১ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মো. শাহিদুল আলমের নাম। জুলাই শহীদ গ্যাজেটে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের দ্বারা হত্যা করা সাধারন মানুষের নাম শুধু পুলিশ সদস্যই না, জুলাই ষড়যন্ত্র সফল করতে হত্যা করা হয়েছে তথাকথিত আন্দোলনে অংশ নেয়া ব্যক্তিদেরকেও, তেমনই একজন হলেন বগুড়ার মো. সেলিম রেজা ওরফে সেলিম হোসেন। তিনি বগুড়া লাইট হাউজ স্কুল ও কলেজের প্রধান শিক্ষক ছিলো। তথাকথিত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম থেকেই ছাত্রদের সাথে অংশ নিয়েছেন ও নানা রকম সহযোগিতা করেছেন। ৪ঠা আগস্ট বেলা ১১টায় আন্দোলনে গিয়ে দুই দফা টিয়ারশেল এবং একবার ককটেলের মুখে পড়ে বাসায় ফিরে যান সেলিম। পরবর্তীতে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আবারও আন্দোলনে যোগ দিতে সাতমাথা যাওয়ার একটু পরেই পুলিশের ধাওয়া খেয়ে সেলিম হোসেন স্বপক্ষীয় বিক্ষোভকারীদের একটা অংশের সাথে ডাকবাংলোর ভেতরে আশ্রয় নেন। সেখানেই বিক্ষোভকারী দুর্বৃত্তরা সেলিম হোসেনকে রড দিয়ে পিটিয়ে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। সেলিম হোসেনের নাম তথাকথিত শহীদ গেজেটের ৫১৮ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই ঘটনায় নিহত সেলিম রেজা ওরফে সেলিম হোসেন এর বাবা সেকেন্দার আলী বাদী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০১ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৩৫০ জনকে আসামি করে ১৬ই আগস্ট (২০২৪) বগুড়ার সদর থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করে। শুধু পিটিয়ে বা কুপিয়েই না, আগুনে পুড়িয়েও নিরীহ মানুষদেরকে হত্যা করেছে বিকৃত মানসিকতার নির্মম আন্দোলনকারী জঙ্গি উম্মাদরা। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোডের হাজি ইব্রাহীম খলিল কমপ্লেক্সের (প্রিয়ম নিবাস) দ্বিতীয় তলায় আছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক, শিমরাইল শাখা। সেই ব্যাংকের ইন্টোরিয়রের কাজ করার জন্য গিয়েছিলো সোহেল আহমদ, আব্দুস সালাম, সেলিম মন্ডল, ফয়সাল মন্ডলসহ কয়েকজন। ঐ একই ভবনের ৫ম তলায় ছিলো হাইওয়ে পুলিশের ব্যারাক। ২০শে জুলাই (২০২৪) দুপুরে জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘বিক্ষোভকারী’দের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। তাদের লক্ষ্য করে ইট মারতে মারতে এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিক্ষোভকারীরা টায়ার নিয়ে এসে পেট্রল ঢেলে ঐ ভবনের নিচতলায় ও সিঁড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ক্রমশঃ আগুন ছড়িয়ে যায় পুরো বিল্ডিংয়ে। সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যদের হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার করা হয় এবং প্রাণ বাঁচাতে ভবনে থাকা অন্য লোকজন যে যার মতো করে বেরিয়ে আসে। প্রচন্ড ধোঁয়া ও আগুনের উত্তাপে সোহেল, সালাম ও সেলিম বেরিয়ে আসতে পারে নাই। তারা জীবন্ত দগ্ধ হয়ে যায় ব্যাংকের ভেতরেই। জুলাই ষড়যন্ত্রকারীদের সহিংস আচরণের কারণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অনেক চেষ্টা করেও সেদিন আগুন নেভাতে পারেনি, পরদিন ২১ তারিখ আগুন নেভানো সম্ভব হলেও বিক্ষোভকারীদের কারণে উদ্ধারকাজ শুরু করা যায়নি। অগ্নিসংযোগের ২ দিন পর ২২শে জুলাই দুপুরে প্রিয়ম ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে সোহেল আহমদ, আব্দুস সালাম ও সেলিম মন্ডল এর অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তথাকথিত গণহত্যায় সরকার ও আওয়ামী লীগের খুনের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখাতে মৃত সোহেল আহমদকে ৪৪২, আব্দুস সালামকে ৪৮৫ এবং সেলিম মন্ডলকে ৫২৬ নম্বরে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার ১১ মাস পর ৩০শে জুন (২০২৫) সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আব্দুস সালামকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তার বড় ভাই আল-আমিন ও নিহত সেলিম মণ্ডলের বড় ভাই ওয়াজেদ আলী বাদী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৭০/৮০ জনকে আসামি করে আলাদা ২টি হত্যা মামলা দায়ের করে! অবাক করা ব্যাপার, আব্দুস সালামকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে একই থানায় একইদিন একই সময়ে ঐ ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে! দুটি মামলার এজাহারে বাদী ভিন্ন হলেও নিহত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ‘আব্দুস সালাম’র নাম! পরবর্তীতে একটি মামলার বাদী ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘নিহত আব্দুস সালাম আমার ভাই না। আমার ভাই সেলিম মণ্ডল। তার মৃত্যু গুলিতে নয়, আগুনে পুড়ে হয়েছে। আমি অশিক্ষিত মানুষ। এজাহার থানার পুলিশ লিখেছে, আমি কিছু জানিনা। শুধু স্বাক্ষর দিয়েছি।’ নিহত সোহেল এর মৃত্যুর ঘটনায় তার বন্ধু / সহকর্মী পরিচয় দেয়া আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে ২২শে মে (২০২৫) সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এজাহারে লিখে ‘ব্যাংকের ভেতর কাজ করার সময় আওয়ামী লীগের লোকজন ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন প্রাণ বাঁচাতে আমি লাফিয়ে পড়লেও আমার বন্ধু সোহেল ভেতরে আটকা পড়ে আগুনে পুড়ে তার মৃত্যু হয়’। ২য় মামলার বাদী আল-আমিন বলেন, ‘আমার ভাই আব্দুস সালামকে আওয়ামী লীগের লোকজন গুলি করার পর ডাচ-বাংলা ব্যাংকে আশ্রয় নেয়। সে সময় ব্যাংকে আগুন ধরিয়ে দিলে আমার ভাই পুড়ে মারা যায়।‘ হিংস্র আন্দোলনকারীরা ট্রাকসহ আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে ট্রাকের হেল্পার কিশোর মো. আব্দুল মজিদকে। পরিবারের অভাবের কারণে ২০২৪ সালের মে মাসে চট্টগ্রামে ট্রাকের হেলপার হিসেবে চাকরি নেয় মজিদ। ১৯শে জুলাই মালামাল নামিয়ে খালি ট্রাক নিয়ে চট্টগ্রামে ফেরার পথে হাজীগঞ্জ রেললাইন পার হতেই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ব্যারিকেডে আটকা পড়ে মজিদ। এই সময় আন্দোলনকারী নামের দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত শক্তিশালী দাহ্যপদার্থ দিয়ে মজিদকেসহ ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে। মুহূর্তেই আগুনে ভস্মীভূত হয় পুরো ট্রাক এবং গাড়িতেই অগ্নিদগ্ধ হয় কিশোর মজিদ। স্থানীয়রা মজিদকে উদ্ধার করে প্রথমে হাজীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করে। আশংকাজনক অবস্থায় ২০শে জুলাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর ২৫শে জুলাই সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মজিদ। মজিদের হত্যা দায় শেখ হাসিনার উপরে চাপাতে তার নাম গেজেটের ৩৮ নম্বরে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যশোরে হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল’ লুট করতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের হাতে নিহত ২৩ জনের নাম জুলাই গেজেটে পূর্বের প্রতিবেদনঃ যশোরের জাবির হোটেল লুটতে গিয়ে নিহত ১৯ জনের নাম উঠেছে জুলাই শহীদ’দের তালিকায় ৫ই আগস্ট জুলাই ষড়যন্ত্রের প্রথম পর্ব সফল হয় প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ এবং সেনাপ্রধানের দেশ ও জনগণের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে। সেদিন বিজয় উৎসব পালনের নামে তথাকথিত আন্দোলনকারীরা সারাদেশে তাদেরই প্রায় অর্ধশতাধিক সহযোগীকে আগুনে পুড়িয়ে, কুপিয়ে হত্যা করে। এদেরকেই আবার তথাকথিত আন্দোলনে শহীদ ঘোষণা করে গেজেটভুক্ত করা হয়। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এসব দূর্বৃত্তদের পরিবারকে দেয়া হয় মোটা অংকের অর্থ। ফ্ল্যাট মাসিক ভাতা ও চাকরিসহ অন্যান্য সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। ৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী জীবন বাঁচাতে দেশত্যাগের পরে বিকালে সাড়ে ৩টার দিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে যশোর শহরে একটি বিজয় মিছিল হয়। ঐ মিছিল থেকে দুর্বৃত্তরা যশোরের চিত্রা মোড়ে অবস্থিত আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্য শাহিন চাকলাদারের ১৬ তলাবিশিষ্ট অভিজাত পাঁচ তারকা ‘হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল’ এ হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। বালিশ, কাঁথা, বিছানা চাদর থেকে শুরু করে হোটেলের খাট, ফ্রিজ, এসি, টিভিসহ বিলাসবহুল সমস্ত জিনিসপত্র লুটপাট শুরু করে। দুর্বৃত্তদের একটি গ্রুপ হোটেলটির বেসমেন্ট থেকে উপরে উঠে ১২, ১৩ ও ১৪ তলাসহ উপরের বিভিন্ন ফ্লোরে ভাঙচুর লুটপাট ও হোটেলের বারে মদ্যপানে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন নিচে অবস্থান করা আরেকটি গ্রুপ বেসমেন্ট ও গ্রাউন্ডফ্লোরে গান পাউডার ও পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহুর্তে সেই আগুন ছড়িয়ে যায় পুরো ১৬ তলা ভবনে। ফলে ওপরের ফ্লোরে থাকা অনেকেই আগুন ও ধোঁয়ার কারণে নিচে নামতে পারেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে স্বীকার করা হয় এবং বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয় এই ঘটনায় ইন্দোনেশিয়ার এক নাগরিকসহ ২৪ জন নিহত হয় এবং গুরুতর আহত হয় প্রায় সমসংখ্যক। নিহত ২৩ জন লুটপাটকারীর নামই তথাকথিত আন্দোলনে শহীদ হিসাবে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে! তথাকথিত শহীদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গেজেট নং- ২৯ রোকনুজ্জামান রাকিব, গেজেট নং- ৩০ মো. শাওয়ান্ত মেহতাব (প্রিয়), গেজেট নং- ৩১ মো. তারেক রহমান, গেজেট নং- ৩২, মো. আলামিন বিশ্বাস, গেজেট নং- ৬৯ আবরার মাসনুন নীল, গেজেট নং-১১০ মো. ইউসুপ আলী, গেজেট নং- ১১৩ মো. আব্দুল্লাহ ইবনে শহীদ, গেজেট নং- ১১৫ মো. মেহেদী হাসান আলিফ, গেজেট নং- ১৭৭ সাকিব, গেজেট নং- ৩৩৩ মো. সাকিবুল হাসান মাহি, গেজেট নং- ৩৩৫ রুহান ইসলাম, গেজেট নং- ৩৩৬ সামিউর রহমান সাদ, গেজেট নং- ৩৩৮ মেহেদী হাসান, গেজেট নং- ৩৩৯ ফয়সাল হোসেন, গেজেট নং- ৩৪১ মো. হাফিজ উদ্দিন, গেজেট নং- ৩৪২ মো. সোহানুর রহমান, গেজেট নং- ৩৪৩ মো. সিফাত ফেরদৌস ওরফে সিফাত হোসেন, গেজেট নং- ৩৪৭ রাসেল রানা, গেজেট নং- ৫২২ ফজল মাহাদী চয়ন, গেজেট নং- ৬৯১ মো. রিয়াদ শেখ, গেজেট নং- ৭৯৬ সৈয়দ মিথুন মোরশেদ, গেজেট নং- ৭৯৮ মো. খালিদ হোসেন শান্ত এবং গেজেট নং- ৮৪৩ আঃ আজীজ চাঁন। স্থানীয়ভাবে এই হামলা, লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে শতাধিক মৃত্যুর দাবি থাকলেও বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত নিহতের সর্বমোট ২৪ জনের নাম প্রকাশ হলেও আলাদাভাবে নিহত আরো ৮ জনের নাম খুঁজে পাওয়া যায় যাদের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সেই ৮ জন হলোঃ ১) আল আমিন, ২) আবুল বাসার, ৩) রিফাত আহমেদ রিয়াদ, ৪) আলমগীর হোসেন আলম, ৫) আবু সাঈদ রাসা, ৬) মাহিন, ৭) সেজান হোসেন এবং ৮) রাতুল। এই ঘটনায় ১৮ই আগস্ট (২০২৪) ‘জাবির ইন্টারন্যাশনাল’ এর মালিক শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু জাবির ইন্টারন্যাশনাল লুটপাট ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ২শ’ সন্ত্রাসীকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দায়ের করা এই মামলায় যশোর পুলিশ অপরাধী হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মী-সমর্থকদেরকেই আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করছে। জুলাই আন্দোলনকারীদের বিজয় মিছিল করে হত্যার উৎসব ৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর বিকালে আন্দোলনকারী নামধারী দুর্বৃত্তরা বিজয় মিছিল থেকে যশোর সদর উপজেলা প্রকল্প অফিসার ফিরোজ আহমেদের লোন অফিস পাড়ার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং লুটপাট চালায়। সেই সময়ে বাড়িতে ফিরোজ আহমেদের স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান আটকা পড়ে। ফিরোজ আহমেদ আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যেই তার পরিবারকে উদ্ধার করলেও আগুনের তাপে ও ফুসফুসে ধোঁয়া ঢুকে দমবন্ধ হয়ে তিনি নিজে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে যশোর শহরেব ইবনে সিনা হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টায় মারা যান। হাসপাতাল ইস্যুকৃত ফিরোজ আহমেদের মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘ফেইলিওর ডিউ টু সার্ডেন কার্ডিয়াক ডেথ, স্মোক ইনহেলেশন”। ফিরোজ আহমেদের নাম গেজেটে ৭৯৭ নম্বরে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ৫ই আগস্ট বিকালে জামায়াত, বিএনপি ও ‘জুলাই ষড়যন্ত্রকারীরা বরগুনার আমতলী উপজেলাতে বিজয় মিছিল নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের বাড়ি ভাঙচুর শেষে অগ্নিসংযোগ করে। সেই বাসার দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন রেনেটা ওষুধ কোম্পানির সেলসম্যান আল আমিন হোসেনসহ কয়েকজন। নিচতলার আগুন ছড়িয়ে দ্বিতীয় তলায় চলে আসলে ঐসময়ে ঘুমিয়ে থাকা আল আমিনসহ তার কয়েকজন সহকর্মীর শরীরে আগুন লাগে। শরীরে আগুন নিয়েই সবাই দ্বিতীয় তলা থেকে লাফিয়ে রাস্তায় পড়ে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেলে নিয়ে যায়। পরদিন আল আমীনকে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ই আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টায় আল আমিন মারা যায়। আল আমিনের নাম আছে গেজেটে ২৮৬ নম্বরে। ৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করার পরে বিকেলে নাটোর-২ আসনের সংসদ সসস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের বাসভবন ‘জান্নাতি প্যালেস’-এ হামলা ও ভাঙচুর চালায় বিজয় মিছিলকারী দুর্বৃত্তরা। এদের একটা অংশ ভবনের উপরের তলায় লুটপাটে ব্যস্ত থাকে আর অন্যরা ভবনে অগ্নিসংযোগ করে দেয় আগুনের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় লুটপাট করতে যাওয়া শাওন খান সিয়াম (গেজেট নং- ২৮৮), মিকদাদ হোসেন খান (গেজেট নং-২৮৯), মো. শরিফুল ইসলাম (মোহন) (গেজেট নং- ২৯০) এবং ইয়াসিন আলী (গেজেট নং-২৯১) সর্বমোট ৪ জন ঘটনাস্থলেই ধোঁয়ায় দমবন্ধ ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। শুধুমাত্র মেহেদী হাসান রবিন (গেজেট নং- ২৯২) জান্নাতী প্যালেস থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বের হতে সক্ষম হলেও তার শরীর ভয়াবহ রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিকটজনদের সহায়তায় অগ্নিদগ্ধ মেহেদী হাসান প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। এরপর অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ই আগস্ট ভোরে মারা যায়। এই ঘটনায় শেখ হাসিনার নামে একাধিক মামলা করা হয়। নিহত মিকদাদ হোসাইনের বাবা স্থানীয় জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন খান ও নিহত শরিফুল ইসলাম মোহনের ভাই সাবেক ছাত্রশিবির নেতা এস এম সেলিম মাসুম ১৭ই সেপ্টেম্বর (২০২৪) এবং নিহত ইয়াসিনের বাবা ফজের আলী ১৮ই আগস্ট দুপুরে শেখ হাসিনা ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ ও অনেককে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। নিহত মেহেদী হাসান রবিন এর মামা পরিচয়ে জনৈক সোহেল রানা ২৬শে আগস্ট সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলসহ ১৩৫ জনের নামে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করার পর ৫ই আগস্ট বিকালে জামায়াত- বিএনপির নেতৃত্বে তথাকথিত জুলাই আন্দোলনকারী দুর্বৃত্তরা লালমনিরহাটে সশস্ত্র বিজয় মিছিল বের করে। সেই মিছিল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুমন খানের জনশূন্য বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এই সময়ে বাসার ভিতরে লুটপাটে ব্যস্ত থাকা আল শাহ রিয়াদ (গেজেট নং- ৭১৩), মো. জোবায়ের হোসেন (গেজেট নং- ৭১৪), মো. শাহরিয়ার আল আফরোজ শ্রাবণ (গেজেট নং- ৭১৫), মো. জাহিদুর রহমান (গেজেট নং- ৭২৯), মো. রাজিব উল করিম সরকার (গেজেট নং- ৭৮২) এবং মো. রাদীফ হোসেন রুশো (গেজেট নং- ৭৮৩) বাড়ীর ভেতরে আটকা পড়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হয়। নিহত ৬ জনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বাড়ীর মালিক সাখাওয়াত হোসেন সুমন খানসহ আওয়ামী লীগের ৩৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০/৩৫ জনকে আসামি করে লালমনিরহাট সদর থানায় গত ২৭শে মে (২০২৫) একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে জনৈক আরমান আরিফ। আগ সন্ধ্যায় সসস্ত্র বিজয় মিছিল শেষে জামায়াত, বিএনপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার বালিয়াডাঙ্গী মোড়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বেশ কয়েকটি দোকানপাটে হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। হামলাকারীরা লুটপাট শেষে সবগুলি দোকানে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় একটি দোকানের ভিতরে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে হামলাকারীদের মধ্যে ৬ জন গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়। এটা একটু এডিট হবে, আমি সংশোধন করেছিলাম .. ৫ই আগষ্ট সন্ধ্যায় একদল দুর্বৃত্ত ঠাকুরগাঁও রোড এলাকায় বালিয়াডাঙ্গী মোড়ে বেশ কয়েকটি দোকানপাটে হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এরপর ঐ মোড়েই পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মো. একরামুদ্দৌলা ওরফে সাহেবের বাড়িতে হামলা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এসময় আগুনে দগ্ধ হয়ে হামলাকারীদের মধ্যে ৬ জন গুরুতর আহত হয়। হাসপাতাল নেয়ার পথে মারা যায় ছিটচিলারং গ্রামের আইনুল হকের ছেলে ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ও হরিহরপুর গ্রামের প্রয়াত সইফ উদ্দিনের ছেলে সাহান পারভেজ নামের একজন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আরাজি পাইকপাড়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে রাকিবুল হাসান রকি ও ছিটচিলারং গ্রামের ফজলে আলমের ছেলে রায়হানুল নামের দু’জন। হাসপাতাল নেয়ার পথে মারা যায় মো. সাহান পারভেজ (গেজেট নং- ৮০২) ও মো. আল মামুন (গেজেট নং- ৮০৭)। পরে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ আগস্ট (২০২৪) রাকিবুল হাসান রকি (গেজেট নং- ৮০৩) এবং মো. রায়হানুল হাসান (গেজেট নং- ৮০৪) মারা যায়। রাকিবুল হাসান রকি’র পিতা জাকির হোসেন বাদী হয়ে ২১শে আগস্ট (২০২৪) আওয়ামী লীগের ৭৭ জনের নাম উল্লেখ করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি এবং রায়হানের পিতা জামায়াত নেতা ফজলে আলম ২রা সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের ৯১ জনের নাম উল্লেখ করে ঠাকুরগাঁওয়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। কামাল হোসেন ৫ই আগস্ট (২০২৪) বাসা থেকে বের হয়। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরদিন ৬ই আগস্ট সকালে তার বাসার মোবাইলে অজ্ঞাত কেউ কল করে খবর দেয় কামালের দগ্ধ লাশ ঢাকার ধানমন্ডিতে ৩২ নম্বরে পাওয়া গেছে। তার পরনে থাকা গেঞ্জির পেছনে ‘কামাল’ নামটি লেখা ছিল। সঙ্গে থাকা মুঠোফোন থেকে সিম বের করে স্থানীয় একজন পরিবারকে কল করে মৃত্যুর খবর দেয়। জুলাইয়ের সন্ত্রাসী আর জঙ্গিদের ধানমন্ডি৩২ এ হামলায় নিহতরা এবার একটু পেছনে যাই, ৫আগস্ট প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগের পরে দুপুরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন তথা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরসহ আশপাশের ৫টি বাড়ি এবং সান্তুর রেস্ট্যুরেন্টে উচ্ছৃঙ্খল তথাকথিত আন্দোলনকারী দুর্বৃত্তরা হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়, অগ্নিসংযোগ করে। এই চারটি বাড়িই বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কাজে ব্যবহার হয়ে আসছিল। ৬ই আগস্ট সকালে ধানমন্ডি ৩২ এর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের পূর্ব দিকের ৩ নম্বর বাড়িতে ৪ জন লুটপাটকারীর অগ্নিদগ্ধ লাশের সন্ধান মেলে। সকাল ৮টার দিকে উপস্থিত কয়েকজন লাশগুলো উদ্ধার করে জাদুঘরের সামনে ফুটপাথে রাখে। দুইটি লাশ এতটাই বিকৃত হয়ে যায় যে চেনার উপায় ছিলো না। উদ্ধারকারী, পথশিশু ইমরান ও অন্যান্য স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায় নিহতরা জাদুঘর থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করতে ভিতরে ঢুকে আগুনে আটকা পড়ে মারা গেছে। শহীদ গেজেটে কামালের সিরিয়াল নম্বর ৪৬০। ধর্ষন ও হত্যা করে বিজয় উদযাপন, নিহতদের নামও জুলাই গেজেটে ৫ই আগস্ট থেকে দীর্ঘদিন দেশের প্রায় সকল থানার কার্যক্রম স্থবির হয়ে ছিলো। পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় ছিলো না। প্রথম দিকে বেশ কয়েকদিন থানাগুলিতে বিএনপি, জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের প্রতিনিধিরা কার্যক্রম চালিয়েছে। ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাতেও দায়িত্ব পালন করেছে ছত্রদের আঞ্চলিক সমন্বয়ক ও প্রতিনিধিরা। যাত্রাবাড়ী এলাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে তল্লাশি চালানো হয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের খোঁজে। তল্লাশির নামে হয়রানি, চাঁদাবাজিও চলতে থাকে সমান তালে। ১৩ই আগস্ট (২০২৪) তল্লাশি করতে গিয়ে ইয়াসিন ও শরীফসহ কয়েকজন একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থানরত কুমিল্লা থেকে আসা এক দম্পতিকে আটক করে পুরুষটিকে এক কক্ষে আটকে রেখে নারীটিকে অন্য কক্ষে নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ছাড়া পেয়ে ধর্ষিতা নারী ও তার স্বামী যাত্রাবাড়ী থানা পাহারার দায়িত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছে অভিযোগ নিয়ে যায়। যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পাহারারত কিছু ছাত্র ও স্থানীয় মানুষ ইয়াসিন ও শরীফকে আটক করে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে আসে। সেখানেই তাদেরকে কয়েক দফা গণপিটুনি দেয়া হয়। একপর্যায়ে মো. সাইদুল ইসলাম ইয়াছিন ও সাইফ আরাফাত শরীফ গণপিটুনিতে মারা যায়। ধর্ষক ইয়াসিন ও শরীফও জুলাই শহীদ হিসাবে গেজেটভুক্ত হয়েছে! ইয়াসিনের গেজেট নং- ১৫৭ ও শরীফের গেজেট নং- ৮২৭। এই ঘটনায় ২রা সেপ্টেম্বর (২০২৪) নিহত সাইফ আরাফাত শরীফ এর মা মোসা. মরিয়ম শামীম ওসমান ও নজরুল ইসলাম বাবুসহ আওয়ামী লীগের ৯৪ জনকে আসামি করে একটি এবং সাইদুল ইসলাম ইয়াছিনের মা শিল্পী আক্তার শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩ জন আসামি করে যাত্রাবাবাড়ি থানায় হত্যা মামলা করে। চাঁদাবাজি করে গণপিটুনিতে নিহতের নাম জুলাই গ্যাজেটে ৫ই আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এলাকায় সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিত আবু সাঈদ নিজ এলাকা, ডেমরা বাহির ট্যাংরা এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস করে তাণ্ডব শুরু করে। অনেকের গদি ও দোকানপাটসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও ভাঙচুর করে। ৯ই আগস্ট আবু সাঈদ পুনরায় তার বাহিনী নিয়ে ঐ এলাকায় গিয়ে চাঁদাবাজির জন্য তাণ্ডব শুরু করলে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দেয় এবং কুপিয়ে, চোখ উপড়ে হত্যা করে তার লাশ ওরিয়েন্টাল স্কুলের দক্ষিণ পাশে ফেলে রাখে। আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত ও নতুন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা দখলের পরে চাঁদাবাজি করতে যেয়ে নিহত আবু সাইদের নাম ১৭৯ নম্বরে তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে ‘জুলাই শহীদ’ গেজেটে! এই ঘটনার পরদিন ১০ই আগস্ট ১৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। হাসনাতের ডাকে আনসারদের উপর হামলায় নিহতের নাম জুলাই গেজেটে আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতের পর আগস্টের শেষ সপ্তাহে আনসার সদস্যরা চাকরি জাতীয়করনের দাবিতে আন্দোলনের এক পর্যায়ে ২৫শে আগস্ট সারাদিন সচিবালয় ঘেরাও করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলো। রাতে হাসনাত আব্দুল্লাহ একদল ছাত্র ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী নিয়ে সচিবালয়ে আনসারদের কর্মসূচি বানচালের চেস্টা করে। আনসার সদস্যদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে হাসনাত নিজে আক্রান্ত হওয়ার মিথ্যা দাবিতে ফেসবুকে লাইভ প্রচার করে সকলকে সচিবালয়ে উপস্থিত হতে বলে। তার আহ্বানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা এলাকা থেকে ছাত্র, জামায়াত-বিএনপি, শিবির, ছাত্রদলসহ ধর্মীয় ও জঙ্গি সংগঠনের নেতাকর্মীরা সচিবালয়ে ছুটে যায় এবং আনসার সদস্যদের উপরে হামলা করে। হাসনাত আব্দুল্লাহর ডাকে আনসার সদস্যদের উপরে হামলা করতে দক্ষিণ গোড়ানের রেন্ট এ কার চালক শাহিনের ছেলে সরকারি কবি নজরুল কলেজের ছাত্র হাসান আহমেদ। এ কথা জানতে পেরে ছেলেকে বাসায় ফিরিয়ে আনতে সচিবালয়ে যান মো. শাহীন হাওলাদার। বয়সের কারণে তাকেও আনসার সদস্য ভেবে তার উপরে হামলা করা হয়। হাসনাত আব্দুল্লাহর সমর্থকদের গণপিটুনিতে আহত হয় শাহীন হাওলাদার। আহতাবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ঠা সেপ্টেম্বর মারা যায়। ‘জুলাই শহীদ’ গেজেটের ৬৭৭ নম্বরে রয়েছে সরকার উৎখাতের প্রায় এক মাস পরের ঘটনায় মারা যাওয়া শহীদ মো. শাহীন হাওলাদারের নাম। জুলাই আন্দোলনকারীদের দখল ও লুটপাটে নিহতদের নাম জুলাই গ্যাজেটে আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতের সপ্তাহধিক কাল পরে ১৪ই আগস্ট সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর ওয়ারি থানাধীন হাটখোলা এলাকায় ফকির বানু টাওয়ারের পাশের গলিতে ‘ফ্ল্যাট নিয়ে দ্বন্দ্বের জের’ ধরে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী হামলায় খুন হয় দুই ভাই নুরুল আমিন ভূঁইয়া ও আল আমিন ভূঁইয়া। সন্ত্রাসীদের এই খুনও নথিভুক্ত হয় শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের গণহত্যার তালিকায়। আল আমিন ভূঁইয়ার নাম শহীদ হিসাবে গেজেটভুক্ত হয়েছে ৭৭৬ নম্বরে। ৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ ও সরকার উৎখাতের পরের দিন ৬ই আগস্ট ভোরে ঢাকার লালবাগ এলাকায় ফজরের নামাজ শেষে গ্যারেজে ফিরছিলেন রিক্সাচালক মো. শাহিনুর আলম। এমন সময় পুলিশ শূন্য লালবাগ থানার সামনে অজ্ঞাতস্থান থেকে ছুটে আসা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় শাহিনুর আলম। লালবাগ থানা থেকে ৫ই আগস্ট রাতের মধ্যেই সমস্ত পুলিশ নিরাপদ স্থানে সরে যায়। তারপর থেকেই লালবাগ থানা ছিলো পুলিশ বা জনশূন্য। ঐ রাতেই লালবাগ থানায় হামলা করে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এলাকাবাসীর অনেকের ধারণা থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের গুলিতেই মারা গেছেন শাহিনুর। সৌভাগ্যবান মো. শাহিনুর আলম শহীদী মর্যদায় তথাকথিত ‘জুলাই শহীদ’ হিসাবে ৭২৮ নম্বরে গেজেটভুক্ত হয়েছে! শাহিনুরের ভাই মো. মাজেদুল ইসলাম ২৭শে আগস্ট লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার নম্বর ১০। মামলায় লালমনিরহাটের সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন, সাবেক পৌর মেয়র রেজাউল করিম স্বপনসহ লালমনির হাটের ৭৩ জন স্থানীয় নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। ৬ই আগস্ট ভোরে শাহিনুরকে লালবাগ এলাকায় উল্লেখিত ব্যক্তিরা গুলি করে হত্যা করে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। ৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগের পরে সারাদেশের মত ঢাকার উত্তরাতেও বিজয় মিছিলের নামে জঙ্গি হামলা, লুটপাট, খুন ও নৈরাজ্য শুরু হয়। সেদিন বিকালে রাজধানীর উত্তরায় সরকার উৎখাতের বিজয় উদযাপন করতে নিজ এলাকায় অনুষ্ঠিত বিজয় মিছিলে অংশ নেয় তথাকথিত আন্দোলনের পক্ষে সক্রিয় থাকা মো. রবিউল ইসলাম লিমন। হঠাৎ মিছিল থেকে উম্মত্ত মব তাকেই রংপুরের আবু সাঈদের হত্যাকারী পুলিশ কর্মকর্তা সন্দেহে গণপিটুনি দেয়া শুরু করে। প্রচন্ড মারধর করার পর তাকে তার বাসা থেকে সামান্য একটু দূরে উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় গাছের সাথে উল্টো করে ঝুলিয়ে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। লিমনকে মারতে বাধা দিতে যেয়ে তার চাচা মারাত্মকভাবে আহত হন। তার পরিবার থেকে লাশ আনতে গেলে উম্মত্ত মব কখনও লিমনকে ‘আবু সাইদের হত্যাকারী পুলিশ’, কখনও ‘ছাত্রলীগের ক্যাডার’ বলে তার লাশ না দিয়ে গাছেই ঝুলিয়ে রেখে আনন্দ উদযাপন করতে থাকে। নিহত লিমনের স্ত্রীর ফেসবুক পোস্টের লিংক রবিউল ইসলাম লিমনের শহীদ গেজেটে নম্বর ৩৭৪। পূর্ব শত্রুতার জেরে নিহতের নাম জুলাই গ্যাজেটে ৫ই আগস্ট ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর সারাদেশের মতো কুষ্টিয়াতেও আনন্দ মিছিল হয়। সেই মিছিলে অংশ নিয়ে মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে শহরের আমলাপাড়ায় ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা এলাকার দ্বন্দ্বের কারণে পূর্বশত্রুতার জের ধরে সবুজসহ তার কয়েজন সঙ্গীর উপর ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে এলোপাথাড়ি কুপায়। এতে সবুজ গুরুতর আহত হয়ে ঐদিনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যায়। নিহত মো. সবুজও শহীদ গেজেটে ৫২ নম্বরে তালিকাভুক্ত হয়েছে। ১৭ই আগস্ট (২০২৪) কুষ্টিয়া মডেল থানায় নিহতের স্ত্রী রেশমা খাতুন বাদী হয়ে শহর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক বাবুলসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। ৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগ ও ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বিজয় মিছিলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিপক্ষের হামলার পৃথক ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের দুই স্থানে দুইজন নিহত হয়েছে। একজন নিহত হয়েছে শহরের চাষাঢ়ায়, আরেকজন আড়াইহাজার থানায়। ৫ই আগস্ট সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানাধীন বালুয়াকান্দী গ্রামে বিজয় মিছিলে অংশ নিয়ে মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মো. শফিকুল নিহত হয়। প্রতিপক্ষ একদল সন্ত্রাসী পূর্শত্রুতার জের ধরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ধারালো দা ও রামদা দ্বারা শফিকুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে। নিহত শফিকুলের গেজেট নম্বর ৩৭৩। নিহত শফিকুলের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার বাদী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের নাম উল্লেখ করে আড়াইহাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ৫ই আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এলাকায়ও বিজয় মিছিল হয়। সেই মিছিলেই স্থানীয় প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় ঘটনাস্থলেই অর্থাৎ চাষাঢ়া শহিদ মিনার এলাকায় বদিউজ্জামান বদি নিহত হয়। নিহত বদিউজ্জামানও শহীদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তার গেজেট নম্বর ৪৯১। বদিউজ্জামানের স্ত্রী আদুরী খাতুন বাদী হয়ে ২১শে সেপ্টেম্বর (২০২৪) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। থানা লুটের অস্ত্রে অসাবধনতাবশত চলা গুলিতে নিহতের নাম জুলাই গ্যাজেটে ৫ই আগস্ট বিকেলে বিজয় মিছিল নিয়ে অন্যান্য দুর্বৃত্তদের সাথে চাটখিল থানায় হামলা ও লুটপাটে অংশ নেয় মো. ইমতিয়াজ হোসেন। থানা থেকে লুট করা একটি আগ্নেয়াস্ত্র কোমরে নিয়ে মোটর সাইকেলে স্থান ত্যাগ করে সে। এই সময় পথিমধ্যে সেই অস্ত্র থেকে একটি বুলেট বের হয়ে তার পায়ে লাগে। আহতাবস্থায় তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ইমতিয়াজ হোসেন রিয়াজের মৃত্যু হয়। নিজ অস্ত্রের আত্মঘাতী গুলিতে নিহত হওয়া ইমতিয়াজ হোসেনও তথাকথিত শহীদ গেজেটে ৪৯১ নম্বরে স্থান পেয়েছে। এই ঘটনার ৯ মাস পর ২১ মে (২০২৫) ইমতিয়াজ হোসেন রিয়াজের পিতা স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের ৫৭ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৭০/৮০ জনকে আসামী করে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে চাটখিল থানা পুলিশকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে আদালত ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে মামলা রুজু করার জন্য চাটখিল থানাকে নির্দেশ দেয়। সবশেষে কিছু প্রশ্নঃ গেজেটভুক্ত এসব তথাকথিত শহীদদের হত্যার দায় কার? কারা হত্যাকারী? এই হত্যাকাণ্ডগুলিও কি তথাকথিত গণহত্যার অংশ? লেখক পরিচিতিঃ মার্ক রুবেন, গবেষনা কর্মি অচেনা একজন, রাজনীতি বিশ্লেষক
কায়েম করে গৃহযুদ্ধে পতিত করা। অন্যদিকে এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য ছিলো ভারত ও ভারতের অখন্ডতা হুমকির মুখে ফেলা। ৫ই আগস্ট বেলা ১২টার কিছু আগে ‘আইএসপিআর’ সকল মিডিয়ায় বার্তা পাঠায় — “অল্প সময়ের মধ্যেই সেনাবাহিনী প্রধান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন।” সমস্ত টিভি চ্যানেল ও মিডিয়া এটিকে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে স্ক্রলে প্রচার শুরু করে। এর আগেই সকাল ১১টার মধ্যেই রাজধানী’র অন্যতম প্রবেশমুখ উত্তরায় সেনাবাহিনী ব্যারিকেড সরিয়ে মিছিলকারীদের জন্য পথ নির্বিঘ্ন ও উন্মুক্ত করে দেয়। এই পথ দিয়েই ১২টার আগেই গণভবন অভিমুখে মিছিল শুরু হয়, যার ভিডিও দ্রুত অনলাইনে ভাইরাল হয়। ‘সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ’ দিবেন এমন ঘোষণা, সারাদেশে সেনাবাহিনীর পরিবর্তিত পক্ষাবলম্বন ও সরকারবিরোধীদের বাধাহীন
মিছিলের দৃশ্য দেখে মূলতঃ সবার বদ্ধমূল ধারণা হয়ে যায় যে ‘ক্ষমতার পটপরিবর্তন আসন্ন’ এবং পরবর্তীতে তাই-ই হয়। ফলে ১২টার আগেই অনেক স্থানে আন্দোলনকারী নামের দুর্বৃত্তরা পুলিশ, আনসার ও বিজিবি সদস্য এবং আওয়ামী লীগ ও তার সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে আক্রমণ ও হত্যা শুরু করে। সেনাপ্রধান ভাষণ দেওয়ার আগে জামায়াত – বিএনপিসহ নামধারী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মব্যবসায়ী নেতাদের সাথে জরুরী বৈঠক করেন। সেনাপ্রধান কয়েকবার সময় পরিবর্তন করে প্রথমে দুপুর ২টা, এরপর ৩টা নির্ধারিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিকেল ৩টা ৪০ থেকে ৩টা ৫০ মিনিটে ‘জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ’ দেন এবং তা সরাসরি সমস্ত ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। এর আগেই দুপুর ১টার আগেই
গুজব ছড়িয়ে যায় – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে দেশত্যাগ করেছেন। মূলত সেনাপ্রধানের ভাষণ দেয়ার খবর প্রচারের আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে ছিটকে পড়েছিলেন। তার ক্ষমতা ও যোগাযোগ রুদ্ধ হয়ে যায়। এরপর জামায়াত-বিএনপি ও জঙ্গি সংগঠন সমূহের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় দেশজুড়ে শুরু হয় সশস্ত্র হামলা ও টার্গেট কিলিং। জুলাই আন্দোলনে মৃতের সংখ্যা আসলে কতো? সোশ্যাল মিডিয়ায় গণহত্যার গুজব ছড়িয়ে জনসম্পৃক্ততা তৈরি আপনাদের নিশ্চয়ই মনে থাকবে, ১৪ই জুলাই থেকেই ৪ঠা আগস্টের রাত পর্যন্ত প্রতিদিন প্রতিক্ষণে সুপরিকল্পিতভাবে সারা দেশে প্রতিদিন ‘ছাত্রদের উপরে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ আক্রমণ করে গণহত্যা চালিয়ে হাজার হাজার ছাত্রকে হত্যা করেছ এবং লাশ গুম করেছে” – এমন গুজব রটানো হয়েছে।
অনলাইনে হাজার হাজার বট আইডি দিয়ে এই গুজব ব্যাপকভাবে প্রচার করে। এমনকি বাংলাদেশের আমেরিকান দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও ১৪ই জুলাই গুজব ছড়ানো হয় যে, ‘ঢাকায় পুলিশের গুলিতে ২ জন ছাত্র নিহত হয়েছে’। ১৪ তারিখ রাত থেকেই ফেসবুকে শত শত আইডি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্র মৃত্যুর গুজব ছড়ানো শুরু হয়, যা পরেরদিন ১৫ তারিখ থেকে ব্যাপক আকার ধারন করে। অথচ ১৬ই জুলাইয়ের আগে সারা দেশে কোথাও কোন আন্দোলনকারী নিহত হয়নি। কিছুক্ষণ পরেই এই মিথ্যা খবরের পোস্ট আমেরিকান দূতাবাসের ফেসবুক পেজ থেকে ডিলেট করে দেয়া হয়। কিন্তু তার আগেই এই গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি পরেরদিন ১৫ই জুলাই
মার্কিন পরাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিক মুশফিক সজল আনসারীর প্রশ্নের জবাবে ঢাকায় দুইজন ছাত্রের মৃত্যুর দাবি করেন। যদিও তিনি এই তথ্যের সূত্রের কোন কথা উল্লেখ করেননি। সারাদেশে ছাত্র মৃত্যুর এই অপপ্রচার ও গুজব সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনেক শিক্ষিত-মেধাবী ও সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে এবং আবেগে আপ্লুত হয়ে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। শুধু তথাকথিত আন্দোলন চলাকালেই না, ৫ই আগস্টের পর মেটিকিউলাস ডিজাইনের সব স্টেকহোল্ডার প্রথম থেকে দাবি করেছিলো জুলাই – আগস্ট মাসে আন্দোলন দমন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকার আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মী ও সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে সারাদেশে ব্যাপক গণহত্যা চালিয়ে ৪ হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে। হাজার
হাজার হত্যার বয়ানকে প্রতিষ্ঠিত করতে ভলকার তুর্ক এর সহয়তা পরবর্তীতে সেই সংখ্যা কমে হয় ৩ হাজার। কিন্তু ৩ হাজার জনের তথ্যপ্রমাণও দিতে না পেরে সংখ্যাটা তারা ২ হাজারে নামিয়ে আনে। এরপরে এক পর্যায়ে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪শত দাবি করা শুরু হয়। তারপরও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকম সংখ্যা দাবি করা হয়। যেমনঃ ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় নিহতের সংখ্যা ১,৫৮১ জন। তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় নাহিদ ইসলাম, ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০২৪ দাবি করেন নিহতের সংখ্যা ৮০০ জন। প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেইজে ১১ই নভেম্বর ২০২৪ নিহতের সংখ্যা ৮৭২ জন প্রচার করা হয়। ৩০শে এপ্রিল (২০২৫) বগুড়ায় এক সমাবেশে সারজিস আলম দাবি করেন নিহতের সংখ্যা ১,০০০ জনের বেশি। ৩০শে এপ্রিল (২০২৫) ঢাকার মিরপুরে এক সমাবেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ দাবি করেন নিহতের সংখ্যা ১,৪০০ জনের বেশি। ২০২৪ সালের শেষের দিকে ছাত্র সমন্বয়ক ও তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম উনার ফেসবুক পেইজে দাবী করেছিলেন দুই সহস্রাধিক শহিদ আছেন। পরবর্তীতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের তদন্তদল বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনাকারী কতিপয় ছাত্রের সাক্ষাতকারের ভিত্তিতে একটা কাল্পনিক “ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট” বানিয়ে উল্লেখ করে ‘১লা জুলাই থেকে ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত সর্বমোট নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪ শত জন হতে পারে’, যার মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থক, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত আছে। অন্যদিকে ১৩ই সেপ্টেম্বর (২০২৪) এইচআরএসএস এক প্রতিবেদনে জানায় ১৬ই জুলাই থেকে ৯ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৭৫ জন নিহত হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় এই সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। অবশেষে ১৫ই জানুয়ারি (২০২৫) সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় তথাকথিত ‘জুলাই শহীদ গেজেট’। সেখানে প্রথম দফায় ৮৩৪ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। ৩০শে জুন (২০২৫) প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হালনাগাদ করে আরো ১০ জন অন্তর্ভুক্ত করার পর মোট নিহতের সংখ্যা হয় ৮৪৪ জন। পরবর্তীতে ৩রা আগস্ট (২০২৫) আবারও প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশোধনী দিয়ে গেজেট থেকে ৮ জনের নাম বাদ দিয়ে নিহতের সংখ্যা ৮৩৬ জন হয়েছে। ৫ই আগস্ট (২০২৫) প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জুলাই ঘোষণাপত্রে বলেন, রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তবে কোটা সংস্কারের তথাকথিত আন্দোলনকে বেগবান করতে এবং সাধারণ মানুষকে সরকারের প্রতি বিরূপ করতে শুধু মৃত্যুর গুজবই ছড়ানো হয়নি, অনেক ক্ষেত্রে হত্যাও করা হয়েছে। কোথাও পিটিয়ে, কোথাও আগুনে পুড়িয়ে, কোথাও কুপিয়ে, আবার কোথাও গুপ্ত ঘাতক দিয়ে ৭.৬২ বুলেটের মাধ্যমে। অন্তর্বর্তী সরকারের “জুলাই শহীদ” এর সংজ্ঞা অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ঘোষিত ‘জুলাই শহীদ’ সংজ্ঞায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “শুধুমাত্র সেই সকল ব্যক্তিরাই ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে বিবেচিত হবেন, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা ক্ষমতাসীন দলের আক্রমণের কারণে যারা নিহত হয়েছেন।” অর্থাৎ সংজ্ঞানুসারে ‘শহীদ’ হওয়ার নির্ধারিত সময়কাল আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন থাকা ও শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করা/ সেনাপ্রধান দেশে ও দেশবাসীর দায়িত্ব নেয়া পর্যন্ত। সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে সেই সময়কালে কেউ আঘাতের কারণে আহত হয়ে যদি পরবর্তী সময়ে মারা যায় – তাদের নাম। অথচ ‘শহীদ’ সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শত শত জুলাই আন্দোলন বহির্ভূত নাম অন্তর্ভুক্ত করে এই শহীদ গেজেটের তালিকা দীর্ঘ করা হয়েছে। জুলাই শহীদ গ্যাজেট ভারী হয়েছে আন্দোলনকারীদের হাতে নিহতদের নামে ৪ঠা আগস্ট থেকে শুরু করে ৫ই আগস্ট দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর এবং সেনাবাহিনী প্রধান ঘোষণা দিয়ে দেশ ও দেশবাসীর দায়িত্ব নেয়ার পর সারাদেশের বিভিন্ন পুলিশলাইন্স ও ৫০০+ থানা-ফাঁড়িতে হামলা করে হাজার হাজার অস্ত্র ও গুলি লুট করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বরত পুলিশ-আনসার-বিজিবির উপর হামলা করে তাদের হত্যা করে। সেই সময় সরকারি সম্পদ ও জীবনরক্ষার্থে পুলিশ-আনসার- বিজিবির ছোড়া গুলিতে নিহত প্রায় ৩০০ জনের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শহীদ গেজেট দীর্ঘ করার কুটিলতায় এতে সড়ক দুর্ঘটনায়, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, হিটস্ট্রোকে, কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে, চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে, ধর্ষণের অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত প্রায় অর্ধশত নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরো অন্তর্ভুক্ত আছে কারাগারে হামলা করতে গিয়ে, কারাগার ভেঙে পালাতে গিয়ে, লুট করা অস্ত্রের আত্মঘাতী গুলিতে নিহতদের নামও। গেজেটে আছে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট করার সময় নিজেদের দেয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত প্রায় অর্ধশতাধিক নাম। গেজেটভুক্ত ৮৩৬ জনের মধ্যে প্রায় ১০০ জনেরও বেশি মৃত্যুর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যই নেই- এরা কার্যত “অদৃশ্য” বা ‘নোবডি’। প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের পরে। অর্ধশতাধিকের মৃত্যু হয়েছে তথাকথিত আন্দোলনকারীদের হাতেই। শতাধিক, প্রায় ৩০০ জনের অধিকাংশই ষড়যন্ত্রকারীদের ভাড়া করা স্নাইপারের ৭.৬২ মিমি গুলিতে নিহত হয়েছে, যা পুলিশ, আনসার ব্যবহার করে না। এই গেজেটের অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৮০% পথচারী, পোষাক শ্রমিক, টং দোকানের কর্মচারী, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, টাইলস মিস্ত্রী, দিনমজুর, কৌতুহলী উৎসুক জনতা, কিশোর গ্যাং সদস্যসহ অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ যাদের কোটা – চাকরি – শিক্ষা বা তথাকথিত আন্দোলনের সাথে বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা ছিলো না। এদের পরিবার প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে দেয়া আর্থিক সহায়তার চেক গ্রহণের সময় সকলেই দাবি করেছেন তাদের নিহত সদস্য কোনভাবেই আন্দোলনের সাথে কোনরকম সম্পৃক্ত ছিলো না। অথচ ৫ই আগস্টের পরে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যখন নিহত ব্যক্তিদেরকে ‘জুলাই শহীদ’ ঘোষণা দেয়া হয় এবং তাদের পরিবারকে এককালীন ৩০ লক্ষ টাকা, মাসিক ভাতা, ঢাকায় ফ্ল্যাট, চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ও নানারকম সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়, তখন থেকেই প্রতিটা নিহতের পরিবারের বক্তব্য পরিবর্তন হয়ে যায়। প্রত্যেক নিহত ব্যক্তি হয়ে যায় ‘বিশাল জুলাই যোদ্ধা’য়। “জুলাই শহীদ গ্যাজেট” এক বিশাল স্ক্যাম তথাকথিত এই শহীদ গেজেট এক বিশাল স্ক্যাম। ভূয়া নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ‘শহীদ গেজেট’ এর তালিকা দীর্ঘ করার জন্য এবং কর্তৃপক্ষের জালিয়াতি খুঁজে না পাওয়ার লক্ষ্যে এটি তৈরি করার সময় সর্বোচ্চ রকমের কূটিলতা ও চতুরতার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। গেজেটভুক্ত ব্যক্তিদের নিহত হওয়ার তারিখ-সময়-ঘটনাস্থল কিছুই উল্লেখ নাই। নিহত ব্যক্তির বয়স-পেশাও উল্লেখ করা হয় নাই। অনেক ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ নাম উল্লেখ না করে ডাক নাম, পিতা-পুত্র দু’জনের নামই এক শব্দে ও অসম্পূর্ণ ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। হাস্যকরভাবে পুত্রের নাম বাংলায় আর পিতার নাম ইংরেজী ফন্টে লিখা আছে একাধিক। পিতা-পুত্রের নাম প্রায় একই পাওয়া গেছে একাধিক। নামের বানান একেকজন একেক রকম লিখতেই পারে, কিন্তু একেবারে সুপরিচিত স্থানের সহজ বানানও ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে গেজেটে। আবার কারো জন্ম-জীবন-জীবিকা-পড়লেখা-মৃত্যুবরণ এবং নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের অর্থাৎ সবকিছু শহরে হলেও গেজেটে বর্তমান ঠিকানা বাদ দিয়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে শুধুমাত্র গ্রামের ঠিকানা। এমনকি একাধিক ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে থানা-জেলা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ইউনিয়নের নাম দেয়া আছে। আবার কোনো রকম হোল্ডিং নম্বর, গ্রাম-পাড়া-মহল্লা ছাড়াই শুধুমাত্র থানা-জেলা উল্লেখ আছে অনেকের ঠিকানায়। গেজেট তৈরির সময়ে বিভাগ বা জেলা বা থানাওয়ারী কোন পদ্ধতি অনুরসণ করা হয়নি। মূলত নিহত কারো তথ্য খুঁজে পাওয়া বা যাচাই করা প্রায় অসাধ্য করে তোলা হয়েছে এই গেজেটে। তথাকথিত এই শহীদ গেজেট দীর্ঘ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলিকে দায়ী করে হত্যাকাণ্ডের দায় চাপিয়ে গণহত্যাকারী বিশেষণে প্রচার করার অপচেষ্টা করা হয়েছে খোদ নোবেল বিজয়ী ড ইউনুসের দপ্তর থেকেই। এই অপচেষ্টারই অংশ হিসাবে ‘জুলাই শহীদ গেজেট’ দীর্ঘ করতে এতে ৫ই আগস্টেরও সপ্তাহান্তে সড়ক দুর্ঘটনায়, দীর্ঘ ৫মাস পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, হিটস্ট্রোকে, দীর্ঘদিনের পুরাতন কিডনি রোগে, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে, চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে, সপ্তাহান্তে ধর্ষণের অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, পানিতে ডুবে প্রায় অর্ধশতাধিক নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট করার সময় নিজেদের দেয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহতদের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তথাকথিত শহীদ গেজেটে। অর্থাৎ যাদের রক্ত লেগে আছে এই দখলদার গোষ্ঠীর হাতে তাদের নামও অন্তর্ভুক্ত করে এক দিকে যেমন তালিকা দীর্ঘ করা হয়েছে, আরেকদিকে প্রায় ৫৪% তালিকাভুক্তের এই মৃত্যুর দায় চাপানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সরকার ও আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উপরে। অথচ ৫ই আগস্ট দুপুর থেকেই সারাদেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মী এমনকি সমর্থকরাও নিজ নিজ বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। জুলাই শহীদ গ্যাজেটে জঙ্গিদের হাতে নিহত হওয়া পুলিশ সদস্যরা পুর্বের প্রতিবেদনঃ জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ১৮ ৪ঠা আগস্ট সারা দেশে প্রায় ৫০০টির বেশি থানায় হামলা করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটপাট করে, পুলিশ সদস্যদের হত্যা করে থানাভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সেদিন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় হামলা করে ওসিসহ ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে কুপিয়ে, পিটিয়ে হত্যা করে। এর আগে ২০শে জুলাই (২০২৪) রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকায় এএসআই মো. মোক্তাদিরকে লাঠি, রড ও পাইপ দিয়ে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে সারা শরীরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মো. মোক্তাদির ছিলেন ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। এএসআই মোক্তাদিরের কথা নিশ্চয় আপনাদের মনে আছে? ভুলে গেছেন তার কথা! ঠিক আছে মনে করিয়ে দিচ্ছি। ২০শে জুলাই কোটা আন্দোলনের নামে জুলাই ষড়যন্ত্রে জামায়াত-শিবিরের জঙ্গিরা এএসআই মোক্তাদিরকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করেছে। ঢাকার মাতুয়াইলে পরিবার নিয়ে বাস করতেন মোক্তাদির। সেদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি একটি ছোট প্লাস্টিকের শপিং ব্যাগে পুলিশের পোশাক নিয়ে সাদা পোশাকে বাসা থেকে বের হয়ে পল্টন ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দপ্তরে ডিউটি করতে রওয়ানা হন। যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ পৌঁছালে তথাকথিত আন্দোলনের বিক্ষোভকারী নামধারী জঙ্গিরা মোক্তাদিরকে থামিয়ে তল্লাশি করে। এক পর্যায়ে তার কাছে পুলিশের আইডি কার্ড এবং শপিং ব্যাগে পুলিশের পোশাক দেখে তাকে নৃশংসভাবে লাঠি, রড, পাইপ দিয়ে পিটিয়ে এবং চাপাতি, রামদা দিয়ে কুপিয়ে তার মাথা তিনভাগ করে ও চেহারা বিকৃত করে বীভৎসভাবে হত্যা করে। এখানেই নৃশংসতার শেষ হয়নি। জামায়াত, শিবির ও জঙ্গি খুনিরা মোক্তাদিরের মৃতদেহের পায়ে তার দিয়ে বেঁধে অমানবিকভাবে রায়েরবাগ ফুটওভার ব্রিজে ঝুলিয়ে রাখে। দীর্ঘ সময় ধরে অনেক প্রচেস্টার পরে মোক্তাদিরের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও র্যাব। নিহত এএসআই মোক্তাদিরের হত্যার দায় আওয়ামী লীগ সরকার ও সংগঠনের উপরে চাপাতে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তথাকথিত শহীদ গেজেটের ১৬০ নম্বরে তার নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মোক্তাদির হত্যার আগেরদিন ১৯শে জুলাই ঢাকার বনশ্রী এলাকায় একই কায়দায় পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলায় পুলিশ পরিদর্শক মো. মাসুদ পারভেজ ভূঁইয়াকে। তিনি সপরিবারে বাস করতেন বনশ্রীর ই ব্লকে। ১৯শে জুলাই (২০২৪) ছুটির দিনে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি বাসা থেকে নিচে নামেন। তাকে এলাকার প্রায় সকলেই পরোপকারী ও সজ্জন মানুষ হিসাবে চিনতেন। আন্দোলনকারী নামধারী সন্ত্রাসী জঙ্গিরা তাকে পুলিশ সদস্য হিসাবে চিনতে পেরে বনশ্রী ফরাজী হাসপাতালের সামনে তার উপরে সশস্ত্র হামলা করে লাঠি, রড, পাইপ দিয়ে পিটিয়ে এবং দা, চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। এসময় হামলাকারীরা মাসুদ পারভেজের দুইটি মোবাইল ফোন এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। আহতাবস্থায় তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১শে জুলাই বেলা ১১টার দিকে মো. মাসুদ পারভেজ ভূঁইয়া মারা যান। একইভাবে জুলাই ষড়যন্ত্রের কুশীলবরা মো. মাসুদ পারভেজ ভূঁইয়ার নামও তথাকথিত জুলাই শহীদ গেজেটের ৪৫৬ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করে এই হত্যার দায়ও আওয়ামী লীগ সরকারের উপরে চাপিয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগের পরে সারা দেশের সমস্ত থানা, ফাঁড়ি, পুলিশ লাইন্সে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ হত্যার মহোৎসব শুরু করে জামায়াত-শিবির-বিএনপি-ছাত্রদলসহ জুলাই ষড়যন্ত্রের পক্ষের সকল রাজনৈতিক ও ধর্মাশ্রয়ী ধর্মভিত্তিক সংগঠন ও উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী। হত্যা করে সহস্রাধিক পুলিশ সদস্যকে, কিন্তু সরকারের হিসাবে এই সংখ্যাটা ৪৪ জনের বেশী এগোয়নি। মো. শাহিদুল আলম নিহত আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অন্যতম একজন। মো. শাহিদুল আলম ছিলেন ট্রাফিক বিভাগের কন্সটেবল পদে কর্মরত। ৪ঠা আগস্ট (২০২৪) ডিউটি করে রাতে বাসায় ফিরেন। পরদিন ৫ই আগস্ট সকালেই আবার উত্তরার জসীমউদ্দীন সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ডিউটিতে যোগ দেন। ডিউটিরত অবস্থায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে উত্তরা পূর্ব থানার সামনে কর্তব্য পালনে যান। প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগের পরে উত্তরা পূর্ব থানাতে পুলিশের উপরে দফায় দফায় সসস্ত্র হামলা চালায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী আন্দোলনকারী নামধারী সন্ত্রাসীরা। প্রথম হামলার সময়েই রাস্তায় ডিউটিরত ট্রাফিক কন্সটেবল মো. শাহিদুল আলমকে ইউনিফর্মে পেয়ে উম্মত্ত মবগোষ্ঠী তার উপরে হামলে পড়ে। তাকে রড, লাঠি, পাইপ দিয়ে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। তার হত্যার দায়ও অস্বীকার করতে এবং তথাকথিত কাল্পনিক গণহত্যার তালিকা দীর্ঘ করতে তথাকথিত শহীদ গেজেটের ৮১ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মো. শাহিদুল আলমের নাম। জুলাই শহীদ গ্যাজেটে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের দ্বারা হত্যা করা সাধারন মানুষের নাম শুধু পুলিশ সদস্যই না, জুলাই ষড়যন্ত্র সফল করতে হত্যা করা হয়েছে তথাকথিত আন্দোলনে অংশ নেয়া ব্যক্তিদেরকেও, তেমনই একজন হলেন বগুড়ার মো. সেলিম রেজা ওরফে সেলিম হোসেন। তিনি বগুড়া লাইট হাউজ স্কুল ও কলেজের প্রধান শিক্ষক ছিলো। তথাকথিত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম থেকেই ছাত্রদের সাথে অংশ নিয়েছেন ও নানা রকম সহযোগিতা করেছেন। ৪ঠা আগস্ট বেলা ১১টায় আন্দোলনে গিয়ে দুই দফা টিয়ারশেল এবং একবার ককটেলের মুখে পড়ে বাসায় ফিরে যান সেলিম। পরবর্তীতে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আবারও আন্দোলনে যোগ দিতে সাতমাথা যাওয়ার একটু পরেই পুলিশের ধাওয়া খেয়ে সেলিম হোসেন স্বপক্ষীয় বিক্ষোভকারীদের একটা অংশের সাথে ডাকবাংলোর ভেতরে আশ্রয় নেন। সেখানেই বিক্ষোভকারী দুর্বৃত্তরা সেলিম হোসেনকে রড দিয়ে পিটিয়ে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। সেলিম হোসেনের নাম তথাকথিত শহীদ গেজেটের ৫১৮ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই ঘটনায় নিহত সেলিম রেজা ওরফে সেলিম হোসেন এর বাবা সেকেন্দার আলী বাদী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০১ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৩৫০ জনকে আসামি করে ১৬ই আগস্ট (২০২৪) বগুড়ার সদর থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করে। শুধু পিটিয়ে বা কুপিয়েই না, আগুনে পুড়িয়েও নিরীহ মানুষদেরকে হত্যা করেছে বিকৃত মানসিকতার নির্মম আন্দোলনকারী জঙ্গি উম্মাদরা। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোডের হাজি ইব্রাহীম খলিল কমপ্লেক্সের (প্রিয়ম নিবাস) দ্বিতীয় তলায় আছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক, শিমরাইল শাখা। সেই ব্যাংকের ইন্টোরিয়রের কাজ করার জন্য গিয়েছিলো সোহেল আহমদ, আব্দুস সালাম, সেলিম মন্ডল, ফয়সাল মন্ডলসহ কয়েকজন। ঐ একই ভবনের ৫ম তলায় ছিলো হাইওয়ে পুলিশের ব্যারাক। ২০শে জুলাই (২০২৪) দুপুরে জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘বিক্ষোভকারী’দের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। তাদের লক্ষ্য করে ইট মারতে মারতে এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিক্ষোভকারীরা টায়ার নিয়ে এসে পেট্রল ঢেলে ঐ ভবনের নিচতলায় ও সিঁড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ক্রমশঃ আগুন ছড়িয়ে যায় পুরো বিল্ডিংয়ে। সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যদের হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার করা হয় এবং প্রাণ বাঁচাতে ভবনে থাকা অন্য লোকজন যে যার মতো করে বেরিয়ে আসে। প্রচন্ড ধোঁয়া ও আগুনের উত্তাপে সোহেল, সালাম ও সেলিম বেরিয়ে আসতে পারে নাই। তারা জীবন্ত দগ্ধ হয়ে যায় ব্যাংকের ভেতরেই। জুলাই ষড়যন্ত্রকারীদের সহিংস আচরণের কারণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অনেক চেষ্টা করেও সেদিন আগুন নেভাতে পারেনি, পরদিন ২১ তারিখ আগুন নেভানো সম্ভব হলেও বিক্ষোভকারীদের কারণে উদ্ধারকাজ শুরু করা যায়নি। অগ্নিসংযোগের ২ দিন পর ২২শে জুলাই দুপুরে প্রিয়ম ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে সোহেল আহমদ, আব্দুস সালাম ও সেলিম মন্ডল এর অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তথাকথিত গণহত্যায় সরকার ও আওয়ামী লীগের খুনের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখাতে মৃত সোহেল আহমদকে ৪৪২, আব্দুস সালামকে ৪৮৫ এবং সেলিম মন্ডলকে ৫২৬ নম্বরে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার ১১ মাস পর ৩০শে জুন (২০২৫) সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আব্দুস সালামকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তার বড় ভাই আল-আমিন ও নিহত সেলিম মণ্ডলের বড় ভাই ওয়াজেদ আলী বাদী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৭০/৮০ জনকে আসামি করে আলাদা ২টি হত্যা মামলা দায়ের করে! অবাক করা ব্যাপার, আব্দুস সালামকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে একই থানায় একইদিন একই সময়ে ঐ ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে! দুটি মামলার এজাহারে বাদী ভিন্ন হলেও নিহত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ‘আব্দুস সালাম’র নাম! পরবর্তীতে একটি মামলার বাদী ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘নিহত আব্দুস সালাম আমার ভাই না। আমার ভাই সেলিম মণ্ডল। তার মৃত্যু গুলিতে নয়, আগুনে পুড়ে হয়েছে। আমি অশিক্ষিত মানুষ। এজাহার থানার পুলিশ লিখেছে, আমি কিছু জানিনা। শুধু স্বাক্ষর দিয়েছি।’ নিহত সোহেল এর মৃত্যুর ঘটনায় তার বন্ধু / সহকর্মী পরিচয় দেয়া আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে ২২শে মে (২০২৫) সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এজাহারে লিখে ‘ব্যাংকের ভেতর কাজ করার সময় আওয়ামী লীগের লোকজন ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন প্রাণ বাঁচাতে আমি লাফিয়ে পড়লেও আমার বন্ধু সোহেল ভেতরে আটকা পড়ে আগুনে পুড়ে তার মৃত্যু হয়’। ২য় মামলার বাদী আল-আমিন বলেন, ‘আমার ভাই আব্দুস সালামকে আওয়ামী লীগের লোকজন গুলি করার পর ডাচ-বাংলা ব্যাংকে আশ্রয় নেয়। সে সময় ব্যাংকে আগুন ধরিয়ে দিলে আমার ভাই পুড়ে মারা যায়।‘ হিংস্র আন্দোলনকারীরা ট্রাকসহ আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে ট্রাকের হেল্পার কিশোর মো. আব্দুল মজিদকে। পরিবারের অভাবের কারণে ২০২৪ সালের মে মাসে চট্টগ্রামে ট্রাকের হেলপার হিসেবে চাকরি নেয় মজিদ। ১৯শে জুলাই মালামাল নামিয়ে খালি ট্রাক নিয়ে চট্টগ্রামে ফেরার পথে হাজীগঞ্জ রেললাইন পার হতেই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ব্যারিকেডে আটকা পড়ে মজিদ। এই সময় আন্দোলনকারী নামের দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত শক্তিশালী দাহ্যপদার্থ দিয়ে মজিদকেসহ ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে। মুহূর্তেই আগুনে ভস্মীভূত হয় পুরো ট্রাক এবং গাড়িতেই অগ্নিদগ্ধ হয় কিশোর মজিদ। স্থানীয়রা মজিদকে উদ্ধার করে প্রথমে হাজীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করে। আশংকাজনক অবস্থায় ২০শে জুলাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর ২৫শে জুলাই সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মজিদ। মজিদের হত্যা দায় শেখ হাসিনার উপরে চাপাতে তার নাম গেজেটের ৩৮ নম্বরে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যশোরে হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল’ লুট করতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের হাতে নিহত ২৩ জনের নাম জুলাই গেজেটে পূর্বের প্রতিবেদনঃ যশোরের জাবির হোটেল লুটতে গিয়ে নিহত ১৯ জনের নাম উঠেছে জুলাই শহীদ’দের তালিকায় ৫ই আগস্ট জুলাই ষড়যন্ত্রের প্রথম পর্ব সফল হয় প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ এবং সেনাপ্রধানের দেশ ও জনগণের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে। সেদিন বিজয় উৎসব পালনের নামে তথাকথিত আন্দোলনকারীরা সারাদেশে তাদেরই প্রায় অর্ধশতাধিক সহযোগীকে আগুনে পুড়িয়ে, কুপিয়ে হত্যা করে। এদেরকেই আবার তথাকথিত আন্দোলনে শহীদ ঘোষণা করে গেজেটভুক্ত করা হয়। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এসব দূর্বৃত্তদের পরিবারকে দেয়া হয় মোটা অংকের অর্থ। ফ্ল্যাট মাসিক ভাতা ও চাকরিসহ অন্যান্য সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। ৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী জীবন বাঁচাতে দেশত্যাগের পরে বিকালে সাড়ে ৩টার দিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে যশোর শহরে একটি বিজয় মিছিল হয়। ঐ মিছিল থেকে দুর্বৃত্তরা যশোরের চিত্রা মোড়ে অবস্থিত আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্য শাহিন চাকলাদারের ১৬ তলাবিশিষ্ট অভিজাত পাঁচ তারকা ‘হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল’ এ হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। বালিশ, কাঁথা, বিছানা চাদর থেকে শুরু করে হোটেলের খাট, ফ্রিজ, এসি, টিভিসহ বিলাসবহুল সমস্ত জিনিসপত্র লুটপাট শুরু করে। দুর্বৃত্তদের একটি গ্রুপ হোটেলটির বেসমেন্ট থেকে উপরে উঠে ১২, ১৩ ও ১৪ তলাসহ উপরের বিভিন্ন ফ্লোরে ভাঙচুর লুটপাট ও হোটেলের বারে মদ্যপানে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন নিচে অবস্থান করা আরেকটি গ্রুপ বেসমেন্ট ও গ্রাউন্ডফ্লোরে গান পাউডার ও পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহুর্তে সেই আগুন ছড়িয়ে যায় পুরো ১৬ তলা ভবনে। ফলে ওপরের ফ্লোরে থাকা অনেকেই আগুন ও ধোঁয়ার কারণে নিচে নামতে পারেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে স্বীকার করা হয় এবং বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয় এই ঘটনায় ইন্দোনেশিয়ার এক নাগরিকসহ ২৪ জন নিহত হয় এবং গুরুতর আহত হয় প্রায় সমসংখ্যক। নিহত ২৩ জন লুটপাটকারীর নামই তথাকথিত আন্দোলনে শহীদ হিসাবে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে! তথাকথিত শহীদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গেজেট নং- ২৯ রোকনুজ্জামান রাকিব, গেজেট নং- ৩০ মো. শাওয়ান্ত মেহতাব (প্রিয়), গেজেট নং- ৩১ মো. তারেক রহমান, গেজেট নং- ৩২, মো. আলামিন বিশ্বাস, গেজেট নং- ৬৯ আবরার মাসনুন নীল, গেজেট নং-১১০ মো. ইউসুপ আলী, গেজেট নং- ১১৩ মো. আব্দুল্লাহ ইবনে শহীদ, গেজেট নং- ১১৫ মো. মেহেদী হাসান আলিফ, গেজেট নং- ১৭৭ সাকিব, গেজেট নং- ৩৩৩ মো. সাকিবুল হাসান মাহি, গেজেট নং- ৩৩৫ রুহান ইসলাম, গেজেট নং- ৩৩৬ সামিউর রহমান সাদ, গেজেট নং- ৩৩৮ মেহেদী হাসান, গেজেট নং- ৩৩৯ ফয়সাল হোসেন, গেজেট নং- ৩৪১ মো. হাফিজ উদ্দিন, গেজেট নং- ৩৪২ মো. সোহানুর রহমান, গেজেট নং- ৩৪৩ মো. সিফাত ফেরদৌস ওরফে সিফাত হোসেন, গেজেট নং- ৩৪৭ রাসেল রানা, গেজেট নং- ৫২২ ফজল মাহাদী চয়ন, গেজেট নং- ৬৯১ মো. রিয়াদ শেখ, গেজেট নং- ৭৯৬ সৈয়দ মিথুন মোরশেদ, গেজেট নং- ৭৯৮ মো. খালিদ হোসেন শান্ত এবং গেজেট নং- ৮৪৩ আঃ আজীজ চাঁন। স্থানীয়ভাবে এই হামলা, লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে শতাধিক মৃত্যুর দাবি থাকলেও বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত নিহতের সর্বমোট ২৪ জনের নাম প্রকাশ হলেও আলাদাভাবে নিহত আরো ৮ জনের নাম খুঁজে পাওয়া যায় যাদের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সেই ৮ জন হলোঃ ১) আল আমিন, ২) আবুল বাসার, ৩) রিফাত আহমেদ রিয়াদ, ৪) আলমগীর হোসেন আলম, ৫) আবু সাঈদ রাসা, ৬) মাহিন, ৭) সেজান হোসেন এবং ৮) রাতুল। এই ঘটনায় ১৮ই আগস্ট (২০২৪) ‘জাবির ইন্টারন্যাশনাল’ এর মালিক শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু জাবির ইন্টারন্যাশনাল লুটপাট ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ২শ’ সন্ত্রাসীকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দায়ের করা এই মামলায় যশোর পুলিশ অপরাধী হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মী-সমর্থকদেরকেই আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করছে। জুলাই আন্দোলনকারীদের বিজয় মিছিল করে হত্যার উৎসব ৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর বিকালে আন্দোলনকারী নামধারী দুর্বৃত্তরা বিজয় মিছিল থেকে যশোর সদর উপজেলা প্রকল্প অফিসার ফিরোজ আহমেদের লোন অফিস পাড়ার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং লুটপাট চালায়। সেই সময়ে বাড়িতে ফিরোজ আহমেদের স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান আটকা পড়ে। ফিরোজ আহমেদ আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যেই তার পরিবারকে উদ্ধার করলেও আগুনের তাপে ও ফুসফুসে ধোঁয়া ঢুকে দমবন্ধ হয়ে তিনি নিজে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে যশোর শহরেব ইবনে সিনা হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টায় মারা যান। হাসপাতাল ইস্যুকৃত ফিরোজ আহমেদের মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘ফেইলিওর ডিউ টু সার্ডেন কার্ডিয়াক ডেথ, স্মোক ইনহেলেশন”। ফিরোজ আহমেদের নাম গেজেটে ৭৯৭ নম্বরে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ৫ই আগস্ট বিকালে জামায়াত, বিএনপি ও ‘জুলাই ষড়যন্ত্রকারীরা বরগুনার আমতলী উপজেলাতে বিজয় মিছিল নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের বাড়ি ভাঙচুর শেষে অগ্নিসংযোগ করে। সেই বাসার দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন রেনেটা ওষুধ কোম্পানির সেলসম্যান আল আমিন হোসেনসহ কয়েকজন। নিচতলার আগুন ছড়িয়ে দ্বিতীয় তলায় চলে আসলে ঐসময়ে ঘুমিয়ে থাকা আল আমিনসহ তার কয়েকজন সহকর্মীর শরীরে আগুন লাগে। শরীরে আগুন নিয়েই সবাই দ্বিতীয় তলা থেকে লাফিয়ে রাস্তায় পড়ে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেলে নিয়ে যায়। পরদিন আল আমীনকে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ই আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টায় আল আমিন মারা যায়। আল আমিনের নাম আছে গেজেটে ২৮৬ নম্বরে। ৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করার পরে বিকেলে নাটোর-২ আসনের সংসদ সসস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের বাসভবন ‘জান্নাতি প্যালেস’-এ হামলা ও ভাঙচুর চালায় বিজয় মিছিলকারী দুর্বৃত্তরা। এদের একটা অংশ ভবনের উপরের তলায় লুটপাটে ব্যস্ত থাকে আর অন্যরা ভবনে অগ্নিসংযোগ করে দেয় আগুনের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় লুটপাট করতে যাওয়া শাওন খান সিয়াম (গেজেট নং- ২৮৮), মিকদাদ হোসেন খান (গেজেট নং-২৮৯), মো. শরিফুল ইসলাম (মোহন) (গেজেট নং- ২৯০) এবং ইয়াসিন আলী (গেজেট নং-২৯১) সর্বমোট ৪ জন ঘটনাস্থলেই ধোঁয়ায় দমবন্ধ ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। শুধুমাত্র মেহেদী হাসান রবিন (গেজেট নং- ২৯২) জান্নাতী প্যালেস থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বের হতে সক্ষম হলেও তার শরীর ভয়াবহ রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিকটজনদের সহায়তায় অগ্নিদগ্ধ মেহেদী হাসান প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। এরপর অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ই আগস্ট ভোরে মারা যায়। এই ঘটনায় শেখ হাসিনার নামে একাধিক মামলা করা হয়। নিহত মিকদাদ হোসাইনের বাবা স্থানীয় জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন খান ও নিহত শরিফুল ইসলাম মোহনের ভাই সাবেক ছাত্রশিবির নেতা এস এম সেলিম মাসুম ১৭ই সেপ্টেম্বর (২০২৪) এবং নিহত ইয়াসিনের বাবা ফজের আলী ১৮ই আগস্ট দুপুরে শেখ হাসিনা ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ ও অনেককে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। নিহত মেহেদী হাসান রবিন এর মামা পরিচয়ে জনৈক সোহেল রানা ২৬শে আগস্ট সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলসহ ১৩৫ জনের নামে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করার পর ৫ই আগস্ট বিকালে জামায়াত- বিএনপির নেতৃত্বে তথাকথিত জুলাই আন্দোলনকারী দুর্বৃত্তরা লালমনিরহাটে সশস্ত্র বিজয় মিছিল বের করে। সেই মিছিল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুমন খানের জনশূন্য বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এই সময়ে বাসার ভিতরে লুটপাটে ব্যস্ত থাকা আল শাহ রিয়াদ (গেজেট নং- ৭১৩), মো. জোবায়ের হোসেন (গেজেট নং- ৭১৪), মো. শাহরিয়ার আল আফরোজ শ্রাবণ (গেজেট নং- ৭১৫), মো. জাহিদুর রহমান (গেজেট নং- ৭২৯), মো. রাজিব উল করিম সরকার (গেজেট নং- ৭৮২) এবং মো. রাদীফ হোসেন রুশো (গেজেট নং- ৭৮৩) বাড়ীর ভেতরে আটকা পড়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হয়। নিহত ৬ জনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বাড়ীর মালিক সাখাওয়াত হোসেন সুমন খানসহ আওয়ামী লীগের ৩৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০/৩৫ জনকে আসামি করে লালমনিরহাট সদর থানায় গত ২৭শে মে (২০২৫) একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে জনৈক আরমান আরিফ। আগ সন্ধ্যায় সসস্ত্র বিজয় মিছিল শেষে জামায়াত, বিএনপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার বালিয়াডাঙ্গী মোড়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বেশ কয়েকটি দোকানপাটে হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। হামলাকারীরা লুটপাট শেষে সবগুলি দোকানে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় একটি দোকানের ভিতরে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে হামলাকারীদের মধ্যে ৬ জন গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়। এটা একটু এডিট হবে, আমি সংশোধন করেছিলাম .. ৫ই আগষ্ট সন্ধ্যায় একদল দুর্বৃত্ত ঠাকুরগাঁও রোড এলাকায় বালিয়াডাঙ্গী মোড়ে বেশ কয়েকটি দোকানপাটে হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এরপর ঐ মোড়েই পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মো. একরামুদ্দৌলা ওরফে সাহেবের বাড়িতে হামলা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এসময় আগুনে দগ্ধ হয়ে হামলাকারীদের মধ্যে ৬ জন গুরুতর আহত হয়। হাসপাতাল নেয়ার পথে মারা যায় ছিটচিলারং গ্রামের আইনুল হকের ছেলে ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ও হরিহরপুর গ্রামের প্রয়াত সইফ উদ্দিনের ছেলে সাহান পারভেজ নামের একজন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আরাজি পাইকপাড়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে রাকিবুল হাসান রকি ও ছিটচিলারং গ্রামের ফজলে আলমের ছেলে রায়হানুল নামের দু’জন। হাসপাতাল নেয়ার পথে মারা যায় মো. সাহান পারভেজ (গেজেট নং- ৮০২) ও মো. আল মামুন (গেজেট নং- ৮০৭)। পরে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ আগস্ট (২০২৪) রাকিবুল হাসান রকি (গেজেট নং- ৮০৩) এবং মো. রায়হানুল হাসান (গেজেট নং- ৮০৪) মারা যায়। রাকিবুল হাসান রকি’র পিতা জাকির হোসেন বাদী হয়ে ২১শে আগস্ট (২০২৪) আওয়ামী লীগের ৭৭ জনের নাম উল্লেখ করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি এবং রায়হানের পিতা জামায়াত নেতা ফজলে আলম ২রা সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের ৯১ জনের নাম উল্লেখ করে ঠাকুরগাঁওয়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। কামাল হোসেন ৫ই আগস্ট (২০২৪) বাসা থেকে বের হয়। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরদিন ৬ই আগস্ট সকালে তার বাসার মোবাইলে অজ্ঞাত কেউ কল করে খবর দেয় কামালের দগ্ধ লাশ ঢাকার ধানমন্ডিতে ৩২ নম্বরে পাওয়া গেছে। তার পরনে থাকা গেঞ্জির পেছনে ‘কামাল’ নামটি লেখা ছিল। সঙ্গে থাকা মুঠোফোন থেকে সিম বের করে স্থানীয় একজন পরিবারকে কল করে মৃত্যুর খবর দেয়। জুলাইয়ের সন্ত্রাসী আর জঙ্গিদের ধানমন্ডি৩২ এ হামলায় নিহতরা এবার একটু পেছনে যাই, ৫আগস্ট প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগের পরে দুপুরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন তথা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরসহ আশপাশের ৫টি বাড়ি এবং সান্তুর রেস্ট্যুরেন্টে উচ্ছৃঙ্খল তথাকথিত আন্দোলনকারী দুর্বৃত্তরা হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়, অগ্নিসংযোগ করে। এই চারটি বাড়িই বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কাজে ব্যবহার হয়ে আসছিল। ৬ই আগস্ট সকালে ধানমন্ডি ৩২ এর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের পূর্ব দিকের ৩ নম্বর বাড়িতে ৪ জন লুটপাটকারীর অগ্নিদগ্ধ লাশের সন্ধান মেলে। সকাল ৮টার দিকে উপস্থিত কয়েকজন লাশগুলো উদ্ধার করে জাদুঘরের সামনে ফুটপাথে রাখে। দুইটি লাশ এতটাই বিকৃত হয়ে যায় যে চেনার উপায় ছিলো না। উদ্ধারকারী, পথশিশু ইমরান ও অন্যান্য স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায় নিহতরা জাদুঘর থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করতে ভিতরে ঢুকে আগুনে আটকা পড়ে মারা গেছে। শহীদ গেজেটে কামালের সিরিয়াল নম্বর ৪৬০। ধর্ষন ও হত্যা করে বিজয় উদযাপন, নিহতদের নামও জুলাই গেজেটে ৫ই আগস্ট থেকে দীর্ঘদিন দেশের প্রায় সকল থানার কার্যক্রম স্থবির হয়ে ছিলো। পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় ছিলো না। প্রথম দিকে বেশ কয়েকদিন থানাগুলিতে বিএনপি, জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের প্রতিনিধিরা কার্যক্রম চালিয়েছে। ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাতেও দায়িত্ব পালন করেছে ছত্রদের আঞ্চলিক সমন্বয়ক ও প্রতিনিধিরা। যাত্রাবাড়ী এলাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে তল্লাশি চালানো হয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের খোঁজে। তল্লাশির নামে হয়রানি, চাঁদাবাজিও চলতে থাকে সমান তালে। ১৩ই আগস্ট (২০২৪) তল্লাশি করতে গিয়ে ইয়াসিন ও শরীফসহ কয়েকজন একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থানরত কুমিল্লা থেকে আসা এক দম্পতিকে আটক করে পুরুষটিকে এক কক্ষে আটকে রেখে নারীটিকে অন্য কক্ষে নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ছাড়া পেয়ে ধর্ষিতা নারী ও তার স্বামী যাত্রাবাড়ী থানা পাহারার দায়িত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছে অভিযোগ নিয়ে যায়। যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পাহারারত কিছু ছাত্র ও স্থানীয় মানুষ ইয়াসিন ও শরীফকে আটক করে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে আসে। সেখানেই তাদেরকে কয়েক দফা গণপিটুনি দেয়া হয়। একপর্যায়ে মো. সাইদুল ইসলাম ইয়াছিন ও সাইফ আরাফাত শরীফ গণপিটুনিতে মারা যায়। ধর্ষক ইয়াসিন ও শরীফও জুলাই শহীদ হিসাবে গেজেটভুক্ত হয়েছে! ইয়াসিনের গেজেট নং- ১৫৭ ও শরীফের গেজেট নং- ৮২৭। এই ঘটনায় ২রা সেপ্টেম্বর (২০২৪) নিহত সাইফ আরাফাত শরীফ এর মা মোসা. মরিয়ম শামীম ওসমান ও নজরুল ইসলাম বাবুসহ আওয়ামী লীগের ৯৪ জনকে আসামি করে একটি এবং সাইদুল ইসলাম ইয়াছিনের মা শিল্পী আক্তার শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩ জন আসামি করে যাত্রাবাবাড়ি থানায় হত্যা মামলা করে। চাঁদাবাজি করে গণপিটুনিতে নিহতের নাম জুলাই গ্যাজেটে ৫ই আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এলাকায় সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিত আবু সাঈদ নিজ এলাকা, ডেমরা বাহির ট্যাংরা এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস করে তাণ্ডব শুরু করে। অনেকের গদি ও দোকানপাটসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও ভাঙচুর করে। ৯ই আগস্ট আবু সাঈদ পুনরায় তার বাহিনী নিয়ে ঐ এলাকায় গিয়ে চাঁদাবাজির জন্য তাণ্ডব শুরু করলে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দেয় এবং কুপিয়ে, চোখ উপড়ে হত্যা করে তার লাশ ওরিয়েন্টাল স্কুলের দক্ষিণ পাশে ফেলে রাখে। আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত ও নতুন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা দখলের পরে চাঁদাবাজি করতে যেয়ে নিহত আবু সাইদের নাম ১৭৯ নম্বরে তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে ‘জুলাই শহীদ’ গেজেটে! এই ঘটনার পরদিন ১০ই আগস্ট ১৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। হাসনাতের ডাকে আনসারদের উপর হামলায় নিহতের নাম জুলাই গেজেটে আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতের পর আগস্টের শেষ সপ্তাহে আনসার সদস্যরা চাকরি জাতীয়করনের দাবিতে আন্দোলনের এক পর্যায়ে ২৫শে আগস্ট সারাদিন সচিবালয় ঘেরাও করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলো। রাতে হাসনাত আব্দুল্লাহ একদল ছাত্র ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী নিয়ে সচিবালয়ে আনসারদের কর্মসূচি বানচালের চেস্টা করে। আনসার সদস্যদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে হাসনাত নিজে আক্রান্ত হওয়ার মিথ্যা দাবিতে ফেসবুকে লাইভ প্রচার করে সকলকে সচিবালয়ে উপস্থিত হতে বলে। তার আহ্বানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা এলাকা থেকে ছাত্র, জামায়াত-বিএনপি, শিবির, ছাত্রদলসহ ধর্মীয় ও জঙ্গি সংগঠনের নেতাকর্মীরা সচিবালয়ে ছুটে যায় এবং আনসার সদস্যদের উপরে হামলা করে। হাসনাত আব্দুল্লাহর ডাকে আনসার সদস্যদের উপরে হামলা করতে দক্ষিণ গোড়ানের রেন্ট এ কার চালক শাহিনের ছেলে সরকারি কবি নজরুল কলেজের ছাত্র হাসান আহমেদ। এ কথা জানতে পেরে ছেলেকে বাসায় ফিরিয়ে আনতে সচিবালয়ে যান মো. শাহীন হাওলাদার। বয়সের কারণে তাকেও আনসার সদস্য ভেবে তার উপরে হামলা করা হয়। হাসনাত আব্দুল্লাহর সমর্থকদের গণপিটুনিতে আহত হয় শাহীন হাওলাদার। আহতাবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ঠা সেপ্টেম্বর মারা যায়। ‘জুলাই শহীদ’ গেজেটের ৬৭৭ নম্বরে রয়েছে সরকার উৎখাতের প্রায় এক মাস পরের ঘটনায় মারা যাওয়া শহীদ মো. শাহীন হাওলাদারের নাম। জুলাই আন্দোলনকারীদের দখল ও লুটপাটে নিহতদের নাম জুলাই গ্যাজেটে আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতের সপ্তাহধিক কাল পরে ১৪ই আগস্ট সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর ওয়ারি থানাধীন হাটখোলা এলাকায় ফকির বানু টাওয়ারের পাশের গলিতে ‘ফ্ল্যাট নিয়ে দ্বন্দ্বের জের’ ধরে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী হামলায় খুন হয় দুই ভাই নুরুল আমিন ভূঁইয়া ও আল আমিন ভূঁইয়া। সন্ত্রাসীদের এই খুনও নথিভুক্ত হয় শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের গণহত্যার তালিকায়। আল আমিন ভূঁইয়ার নাম শহীদ হিসাবে গেজেটভুক্ত হয়েছে ৭৭৬ নম্বরে। ৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ ও সরকার উৎখাতের পরের দিন ৬ই আগস্ট ভোরে ঢাকার লালবাগ এলাকায় ফজরের নামাজ শেষে গ্যারেজে ফিরছিলেন রিক্সাচালক মো. শাহিনুর আলম। এমন সময় পুলিশ শূন্য লালবাগ থানার সামনে অজ্ঞাতস্থান থেকে ছুটে আসা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় শাহিনুর আলম। লালবাগ থানা থেকে ৫ই আগস্ট রাতের মধ্যেই সমস্ত পুলিশ নিরাপদ স্থানে সরে যায়। তারপর থেকেই লালবাগ থানা ছিলো পুলিশ বা জনশূন্য। ঐ রাতেই লালবাগ থানায় হামলা করে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এলাকাবাসীর অনেকের ধারণা থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের গুলিতেই মারা গেছেন শাহিনুর। সৌভাগ্যবান মো. শাহিনুর আলম শহীদী মর্যদায় তথাকথিত ‘জুলাই শহীদ’ হিসাবে ৭২৮ নম্বরে গেজেটভুক্ত হয়েছে! শাহিনুরের ভাই মো. মাজেদুল ইসলাম ২৭শে আগস্ট লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার নম্বর ১০। মামলায় লালমনিরহাটের সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন, সাবেক পৌর মেয়র রেজাউল করিম স্বপনসহ লালমনির হাটের ৭৩ জন স্থানীয় নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। ৬ই আগস্ট ভোরে শাহিনুরকে লালবাগ এলাকায় উল্লেখিত ব্যক্তিরা গুলি করে হত্যা করে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। ৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগের পরে সারাদেশের মত ঢাকার উত্তরাতেও বিজয় মিছিলের নামে জঙ্গি হামলা, লুটপাট, খুন ও নৈরাজ্য শুরু হয়। সেদিন বিকালে রাজধানীর উত্তরায় সরকার উৎখাতের বিজয় উদযাপন করতে নিজ এলাকায় অনুষ্ঠিত বিজয় মিছিলে অংশ নেয় তথাকথিত আন্দোলনের পক্ষে সক্রিয় থাকা মো. রবিউল ইসলাম লিমন। হঠাৎ মিছিল থেকে উম্মত্ত মব তাকেই রংপুরের আবু সাঈদের হত্যাকারী পুলিশ কর্মকর্তা সন্দেহে গণপিটুনি দেয়া শুরু করে। প্রচন্ড মারধর করার পর তাকে তার বাসা থেকে সামান্য একটু দূরে উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় গাছের সাথে উল্টো করে ঝুলিয়ে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। লিমনকে মারতে বাধা দিতে যেয়ে তার চাচা মারাত্মকভাবে আহত হন। তার পরিবার থেকে লাশ আনতে গেলে উম্মত্ত মব কখনও লিমনকে ‘আবু সাইদের হত্যাকারী পুলিশ’, কখনও ‘ছাত্রলীগের ক্যাডার’ বলে তার লাশ না দিয়ে গাছেই ঝুলিয়ে রেখে আনন্দ উদযাপন করতে থাকে। নিহত লিমনের স্ত্রীর ফেসবুক পোস্টের লিংক রবিউল ইসলাম লিমনের শহীদ গেজেটে নম্বর ৩৭৪। পূর্ব শত্রুতার জেরে নিহতের নাম জুলাই গ্যাজেটে ৫ই আগস্ট ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর সারাদেশের মতো কুষ্টিয়াতেও আনন্দ মিছিল হয়। সেই মিছিলে অংশ নিয়ে মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে শহরের আমলাপাড়ায় ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা এলাকার দ্বন্দ্বের কারণে পূর্বশত্রুতার জের ধরে সবুজসহ তার কয়েজন সঙ্গীর উপর ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে এলোপাথাড়ি কুপায়। এতে সবুজ গুরুতর আহত হয়ে ঐদিনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যায়। নিহত মো. সবুজও শহীদ গেজেটে ৫২ নম্বরে তালিকাভুক্ত হয়েছে। ১৭ই আগস্ট (২০২৪) কুষ্টিয়া মডেল থানায় নিহতের স্ত্রী রেশমা খাতুন বাদী হয়ে শহর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক বাবুলসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। ৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগ ও ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বিজয় মিছিলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিপক্ষের হামলার পৃথক ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের দুই স্থানে দুইজন নিহত হয়েছে। একজন নিহত হয়েছে শহরের চাষাঢ়ায়, আরেকজন আড়াইহাজার থানায়। ৫ই আগস্ট সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানাধীন বালুয়াকান্দী গ্রামে বিজয় মিছিলে অংশ নিয়ে মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মো. শফিকুল নিহত হয়। প্রতিপক্ষ একদল সন্ত্রাসী পূর্শত্রুতার জের ধরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ধারালো দা ও রামদা দ্বারা শফিকুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে। নিহত শফিকুলের গেজেট নম্বর ৩৭৩। নিহত শফিকুলের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার বাদী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের নাম উল্লেখ করে আড়াইহাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ৫ই আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এলাকায়ও বিজয় মিছিল হয়। সেই মিছিলেই স্থানীয় প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় ঘটনাস্থলেই অর্থাৎ চাষাঢ়া শহিদ মিনার এলাকায় বদিউজ্জামান বদি নিহত হয়। নিহত বদিউজ্জামানও শহীদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তার গেজেট নম্বর ৪৯১। বদিউজ্জামানের স্ত্রী আদুরী খাতুন বাদী হয়ে ২১শে সেপ্টেম্বর (২০২৪) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। থানা লুটের অস্ত্রে অসাবধনতাবশত চলা গুলিতে নিহতের নাম জুলাই গ্যাজেটে ৫ই আগস্ট বিকেলে বিজয় মিছিল নিয়ে অন্যান্য দুর্বৃত্তদের সাথে চাটখিল থানায় হামলা ও লুটপাটে অংশ নেয় মো. ইমতিয়াজ হোসেন। থানা থেকে লুট করা একটি আগ্নেয়াস্ত্র কোমরে নিয়ে মোটর সাইকেলে স্থান ত্যাগ করে সে। এই সময় পথিমধ্যে সেই অস্ত্র থেকে একটি বুলেট বের হয়ে তার পায়ে লাগে। আহতাবস্থায় তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ইমতিয়াজ হোসেন রিয়াজের মৃত্যু হয়। নিজ অস্ত্রের আত্মঘাতী গুলিতে নিহত হওয়া ইমতিয়াজ হোসেনও তথাকথিত শহীদ গেজেটে ৪৯১ নম্বরে স্থান পেয়েছে। এই ঘটনার ৯ মাস পর ২১ মে (২০২৫) ইমতিয়াজ হোসেন রিয়াজের পিতা স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের ৫৭ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৭০/৮০ জনকে আসামী করে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে চাটখিল থানা পুলিশকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে আদালত ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে মামলা রুজু করার জন্য চাটখিল থানাকে নির্দেশ দেয়। সবশেষে কিছু প্রশ্নঃ গেজেটভুক্ত এসব তথাকথিত শহীদদের হত্যার দায় কার? কারা হত্যাকারী? এই হত্যাকাণ্ডগুলিও কি তথাকথিত গণহত্যার অংশ? লেখক পরিচিতিঃ মার্ক রুবেন, গবেষনা কর্মি অচেনা একজন, রাজনীতি বিশ্লেষক



