যাদের কাছে একুশ বিপজ্জনক: যে সংগঠন বায়ান্নেও ছিল না, একাত্তরেও ছিল না – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
     ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ

যাদের কাছে একুশ বিপজ্জনক: যে সংগঠন বায়ান্নেও ছিল না, একাত্তরেও ছিল না

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৫:৫২ 17 ভিউ
একটা সংগঠনের কথা চিন্তা করুন, যারা ১৯৫২ সালে পাকিস্তানি শাসকের পক্ষ নিয়েছিল, ১৯৭১ সালে গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল, আর তারপর থেকে আজ পর্যন্ত সেই ইতিহাস ঢাকার জন্য প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে একটাই কাজ করে যাচ্ছে। শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া নাকি শিরক, প্রভাতফেরি নাকি হিন্দুয়ানি রীতি, একুশের গান নাকি ইসলামবিরোধী। জামায়াতে ইসলামী আর তাদের ভাবশিষ্য সংগঠনগুলোর এই বয়ান প্রতি বছর নতুন মোড়কে আসে, কিন্তু ভেতরের কাজটা একই। কাজটা হলো একুশকে সাম্প্রদায়িক রঙ দিয়ে দেওয়া। এখন প্রশ্ন হলো, কেন? শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে কি এই আপত্তি? তাহলে ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলমান ছাত্ররা যখন শহীদদের স্মরণে রোজা রাখলেন, মসজিদে মসজিদে মোনাজাত হলো, আর ঠিক সেই

দিনই শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া হলো, তখন তো কোনো বিরোধ ঘটেনি। রোজাদার মুসলমান ছাত্র আর হিন্দু ছাত্র একসাথে হেঁটেছে প্রভাতফেরিতে। কেউ কারো ধর্মে হস্তক্ষেপ করেনি, কেউ কাউকে জিজ্ঞেস করেনি তুমি কোন ধর্মের। ভাষার জন্য যারা মরেছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এই সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবে, কোনো মতাদর্শের ম্যানুয়াল দেখে না। জামায়াত সেই ইতিহাস জানে। জেনেই এড়িয়ে যায়। কারণটা সহজ। একুশকে যদি হিন্দুয়ানি বা ইসলামবিরোধী বলা যায়, তাহলে ১৯৭১ নিয়ে কথা উঠলে বলা যাবে এই আন্দোলন আসলে ভারতের চক্রান্ত ছিল, পাকিস্তান ভাঙার ষড়যন্ত্র ছিল। একটা মিথ্যা আরেকটা মিথ্যাকে আড়াল করে। বায়ান্নকে অস্বীকার করতে পারলে একাত্তরের রাজাকারিকেও একটু হলেও বৈধতা দেওয়া যায়। এই

হিসাবটা জামায়াতের রাজনীতির একেবারে ভেতরের সুতো। আল-বদর, আল-শামস বানিয়ে বুদ্ধিজীবী হত্যায় যে সংগঠন সরাসরি অংশ নিয়েছিল, তার কাছ থেকে একুশের ব্যাখ্যা শোনার কোনো কারণ নেই। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা সেই ব্যাখ্যা দিতে থাকে, আর প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে নতুন প্রজন্মের একটা অংশ সেই বয়ান পায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ায়, মাদ্রাসার বয়ানে আসে, মসজিদের ওয়াজে ঢোকে। এই বয়ানের বিপরীতে দাঁড় করাতে হবে আসল ইতিহাসটা। জহির রায়হানের আরেক ফাল্গুন উপন্যাসে যে রোজাদার তরুণেরা ফাল্গুন মাসে শহীদদের স্মরণে উপবাস করছে, সেই দৃশ্যটা মনে রাখা দরকার। রমজান না থাকলেও মুসলমান ছাত্ররা রোজা রেখেছিল, কারণ ভাষার জন্য যারা মরেছে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এই পথটা তাদের কাছে স্বাভাবিক মনে

হয়েছিল। সেখানে ধর্ম আর সংস্কৃতি আলাদা হয়ে যায়নি, একে অপরের বিরোধও হয়নি। জামায়াত সেই স্বাভাবিকতাকে ভয় পায়। কারণ সেই স্বাভাবিকতার মধ্যে তাদের রাজনীতির কোনো জায়গা নেই।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
রক্তঝরা ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের চিরন্তন প্রেরণা ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন বৈধতা পেতে শর্ত, ইউনুসের দেশবিরোধী চুক্তি বাস্তবায়ন আবার শুরু হলো বিএনপির অন্যতম রাজনৈতিক কর্মসূচি-চাঁদাবাজি! যাদের কাছে একুশ বিপজ্জনক: যে সংগঠন বায়ান্নেও ছিল না, একাত্তরেও ছিল না হলফনামায় ২ কোটি থাকলেও এক হাজার কোটি টাকার ‘নগদ’ কিনতে চান ব্যারিস্টার আরমান! ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন শুধুমাত্র ভাষা আন্দোলন ছিল না ১৯৭১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ কার্যালয়ে আগুন দেওয়ায় আ’লীগ নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল ভাষার মাসে ভাষার মিনারে রাজাকারের জয়গান : শহীদ মিনার এখন কার? ড. ইউনূসকে ‘সবচেয়ে বড় রাজাকার’ আখ্যা সাংবাদিক পান্নার, পাঠ্যপুস্তকে নাম অন্তর্ভুক্তির দাবি শেখ মুজিবঃ ছাত্রনেতা থেকে জননেতা শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এ বায়ান্নর বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই ২১শে ফেব্রুয়ারি আমরা উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন কাটালাম – শেখ মুজিবের শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বাণী অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ‘জামায়াতের হাত থেকে বাঁচতে নাকে রুমাল দিয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়েছে মানুষ’: সাংবাদিক নুরুল কবির হলফনামায় সম্পদ ২ কোটি, হাজার কোটি টাকার ‘নগদ’ কিনতে চান ব্যারিস্টার আরমান গণভোট ও সংবিধান সংশোধনের নামে আলী রীয়াজের বিরুদ্ধে ২৩০০ কোটি টাকা লুটপাট ও অর্থপাচারের অভিযোগ ড. ইউনূসকে ‘সবচেয়ে বড় রাজাকার’ আখ্যা সাংবাদিক পান্নার, পাঠ্যপুস্তকে নাম অন্তর্ভুক্তির দাবি খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা সরকারের ‘কম্প্রোমাইজ’, থাকতে পারে আমেরিকার চাপ: সাংবাদিক মাহবুব কামাল