ভাষার মাসে ভাষার মিনারে রাজাকারের জয়গান : শহীদ মিনার এখন কার? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ভাষার মাসে ভাষার মিনারে রাজাকারের জয়গান : শহীদ মিনার এখন কার?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
একুশে ফেব্রুয়ারি। ভাষা শহীদদের স্মরণের দিন। এই দিনে ভাষা সৈনিক অলি আহাদের মেয়ে রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলা হলো শহীদ মিনারে। যে মানুষটার বাবা রাজপথে দাঁড়িয়ে ভাষার জন্য লড়েছিলেন, সেই মানুষটা নিজের ভাষার শহীদদের ফুল দিতে পারলেন না। কারণটা কী, সেটা নিয়ে ব্যাখ্যা কেউ দেয়নি। দেবেও না। কারণ দেওয়ার মতো কোনো ব্যাখ্যা এর নেই। কিন্তু একই দিনে, একই মিনারে, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ফুল দিলেন। আর তাঁর সঙ্গে স্লোগান উঠল, "ভাষা সৈনিক গোলাম আজম, লও লও লও সালাম।" সেই গোলাম আজম, যিনি নিজেই একসময় বলে গেছেন বাংলা ভাষার আন্দোলন করা ভুল হয়েছে। এই লোককে ভাষা সৈনিক বানিয়ে শহীদ মিনারে

সালাম জানানো হচ্ছে। এর থেকে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে? জামায়াতে ইসলামী কী, এটা নতুন করে বলার দরকার নেই। একাত্তরে এই সংগঠন কী করেছিল, সেটা ইতিহাস জানে। যুদ্ধাপরাধের বিচারে এই দলের নেতাদের ফাঁসি হয়েছে। তারপরেও এই দল বেঁচে আছে, রাজনীতি করছে, শহীদ মিনারে আসছে এবং রাজাকারদের ভাষা সৈনিক বানাচ্ছে। এটা সম্ভব হচ্ছে কারণ তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার মানুষের অভাব হয়নি কোনোকালে। বিএনপি সেই পৃষ্ঠপোষকতার ইতিহাস বহন করছে জন্মের পর থেকে। জিয়াউর রহমান সেনানিবাসে বসে যে দল বানিয়েছিলেন, সেই দলের রাজনৈতিক মেরুদণ্ড তৈরিই হয়েছিল জামায়াতকে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়ার মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতার পরে নিষিদ্ধ হওয়া জামায়াতকে ফিরিয়ে আনার কাজটা জিয়াই করেছিলেন। এরপরের ইতিহাস তো

সবার জানা। জোট, ভোট, মন্ত্রিত্ব, আবার জোট। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক কোনো সুবিধার রাজনীতি নয়, এটা একটা দীর্ঘ পারস্পরিক আশ্রয়ের সম্পর্ক। এখন নতুন একটা দৃশ্য যোগ হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের আমীরের সঙ্গে ফুল দিচ্ছেন হাসিমুখে, প্রটোকল দিচ্ছেন। যেই শহীদ মিনার থেকে তিনি একসময় এক দফার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই মিনারেই তিনি রাজাকার এ. টি. এম. আজহারের সঙ্গে দাঁড়িয়েছেন। এনসিপি বলছে এটা নির্বাচনী জোট, আদর্শিক জোট নয়। কিন্তু রাজাকারের সঙ্গে পুষ্পস্তবক কি নির্বাচনী কারণে দেওয়া হয়? শহীদ মিনারে দাঁড়ানোর একটা প্রতীকী অর্থ আছে। সেই প্রতীকটার সঙ্গে আপনি কাকে নিয়ে দাঁড়াচ্ছেন, সেটাও একটা বার্তা। বিএনপি এই পুরো ঘটনায় কোথায়? তারা চুপ। কারণ এই

চুপ থাকাটাই তাদের রাজনীতি। জামায়াত যা করছে সেটা তাদের পক্ষে যাচ্ছে, তাহলে আপত্তি কীসের। বছরের পর বছর ধরে বিএনপি এই খেলাটাই খেলে আসছে। সামনে থেকে বলবে গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ভাষার অধিকার, আর পেছনে গিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বসে হিসাব মেলাবে। এই দুই মুখের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সাধারণ মানুষের, যারা এখনো ভাবে কোনো একটা দল হয়তো আলাদা। আলাদা কেউ না। ক্ষমতার কাছাকাছি গেলে সবাই একই জায়গায় পৌঁছায়। অলি আহাদের মেয়ে ফুল দিতে পারেন না, আর রাজাকারের নামে সালাম ওঠে শহীদ মিনারে। এটাই এই রাজনীতির আসল চেহারা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
‘ছিন্ন বিশ্বে’ একতার গান মালয়েশিয়ায় ৫ মাসে ৩০ হাজারের বেশি অভিবাসী আটক হোয়াইট হাউসকে আরিয়ানার হুঁশিয়ারি, ‘বর্বর কাজে’ আমার গান ব্যবহার করবেন না ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই চিকিৎসাসামগ্রীর গুদাম শিক্ষা বাজেট বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই: শিক্ষা অধিকার সংসদ আদ্‌-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল, হাসপাতাল ছাড়ছেন রোগীরা সিপিবির প্রতিক্রিয়া: বাজেটে নেই ব্যয় কমানোর আশাবাদ, বাড়বে বৈষম্য খুলনায় বাড়ির সামনে গুলি করে বিএনপি নেতা ঢাকাইয়া রফিককে হত্যা কার্যালয়ে চোরের হানা, নাশকতা চেষ্টার দাবি অ্যাটর্নি জেনারেল কুদ্দুসের ‘একই আকাশ, একই বাতাস’: বাংলাদেশ-ভারতের অভিন্ন স্বপ্নের কথা বললেন নতুন ভারতীয় দূত দীনেশ ত্রিবেদী শিশু ফাহিমা ধর্ষণ-হত্যা: ৩৩ দিন পর আদালতে চার্জশিট আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে পতন প্রতিবেশীর শয়নকক্ষে মিলল শিশু ‘রাকার’ বস্তাবন্দি লাশ বিজয়ের ৫২তম জন্মদিনে ভক্তদের জন্য থাকছে বিশেষ উপহার ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল দেখতে চান বাংলাদেশের ক্রীড়ামন্ত্রী দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ পলাশ বিশ্বকাপের মাঝেই চলে গেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকা ব্রিতো মেক্সিকো সিটিতে বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধন ৩ লাল কার্ডের নাটকীয় উদ্বোধনী ম্যাচে দ. আফ্রিকাকে হারাল মেক্সিকো পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারালো দক্ষিণ কোরিয়া