ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
‘বিদেশের বন্ধু নিয়ে শোকাতুর ইউনূস নিজের দেশের শিশুদের গণমৃত্যুতে নির্বিকার’
ইউনূস-নুরজাহানের সৃষ্ট হামের টিকা সংকট ও শিশুমৃত্যুঃ সাবেক মুখপাত্র শফিকুল ইউনিসেফ-আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপালেন দুর্নীতির দায়
বাংলাদেশে ধর্ষণ মহামারি: মাদ্রাসা থেকে রাজপথ — নিরাপদ নয় কোনো শিশু, কোনো নারী
বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স-২০২৬ কি আদৌ মুক্ত ও জবাবদিহিতামূলক সংবাদ মাধ্যমের পক্ষে?
‘সক্ষমতা বাড়াতে’ দরপত্র ছাড়াই র্যাবের জন্য ১৬৩টি গাড়ি সরাসরি ক্রয়ের অনুমোদন
বাংলাদেশে সাংবাদিক নিপিড়ন ও বিশ্ব প্রেক্ষাপট
মুন্সীগঞ্জে হত্যাকাণ্ড: নিউইয়র্কে ভাতিজার ১৫ বছরের কারাদণ্ড
হিমাগারে সংরক্ষন ব্যায়বহুল বিধায় আলু ফেলে দিচ্ছেন চাষিরা, সামনে কৃষি সংকটের আশঙ্কা
আলু উৎপাদনে দেশের অন্যতম প্রধান অঞ্চল রংপুর। এবার ফলন ভালো হলেও চাষিদের মুখে হাসি নেই। ভরা মৌসুমে আলুর অস্বাভাবিক মূল্যপতনে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে অনেকে রাস্তায় আলু ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ ও চাষিরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামীতে আলু চাষে বড় ধরনের অনীহা তৈরি হতে পারে, যা কৃষি খাতে নতুন সংকটের জন্ম দিতে পারে।
চাষিরা জানান, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে তাদের খরচ পড়েছে ১৩ থেকে ১৫ টাকা। কিন্তু বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৯ টাকায়। হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধি, বৈরী আবহাওয়ায় পচন ধরা এবং সংরক্ষণের অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
অনেক কৃষক আলু ঘরে রেখেও বড় অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন। গঙ্গাচড়া উপজেলার চেংমারী গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, “৩০০ শতক জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। পাইকাররা ৩-৪ টাকা কেজি দর দেওয়ায় ঘরে তুলে রাখি। কিন্তু পচন ধরায় শেষ পর্যন্ত ৫০ বস্তা আলু রাস্তায় ফেলে দিতে হয়েছে। ১০ টাকা কেজিও পেলে অন্তত কিছু ঋণ শোধ করা যেত।” একই গ্রামের কৃষক পারভীন আক্তার ৫০০ শতক জমিতে আলু চাষ করে দেড় লাখ টাকার গরু বিক্রি করেছিলেন। তিনি জানান, বাড়িতে রাখা ২০০ বস্তা আলু টানা বৃষ্টি ও আর্দ্রতায় পচে গেছে। রংপুরের কাউনিয়া, মিঠাপুকুর, পীরগাছা, পীরগঞ্জ, বদরগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় শত শত বস্তা পচা আলু
রাস্তার ধারে ফেলে রাখার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। ক্ষতির পরিমাণ ১,০০০ থেকে ১,৩০০ কোটি টাকা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুসারে, চলতি মৌসুমে রংপুরে ১৬ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। প্রতি কেজিতে ৬-৮ টাকা লোকসান হওয়ায় শুধু মূল্য ধসের কারণেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬৩ কোটি টাকা। হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধি ও পচনের কারণে মোট ক্ষতি ১,০০০ থেকে ১,৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামীতে চাষ কমার আশঙ্কারংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগে আলুর আবাদের এলাকা গত বছরের তুলনায় ২১ হাজার ৯১৯ হেক্টর কমেছে। উৎপাদনও কমেছে প্রায় ৩.৮১ লাখ
টন।চাষিরা বলছেন, প্রতি বছর এমন লোকসানের পর আগামী মৌসুমে অনেকেই আলু চাষে আগ্রহ হারাবেন। পীরগঞ্জের কৃষক মাহমুদুল হাসান বলেন, “সরকার যদি সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা না করে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না করে, তাহলে আলু চাষ আর করব না।” মিঠাপুকুরের কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, “সিন্ডিকেটের কারণে দাম নিয়ে প্রতিবছর টেনশন। সরকার যদি আলু সংগ্রহ অভিযান চালু করে এবং রপ্তানি সহজ করে, তাহলেই সমস্যা কাটবে। না হলে ভবিষ্যতে আলুর উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যাবে।”বর্তমানে আলু রপ্তানিও খুবই কম। এ বছর এখন পর্যন্ত মাত্র ১২৬ টন আলু রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় নগণ্য। কৃষিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি চাষিরা লোকসানের কারণে আলু চাষ ছেড়ে
দেন, তাহলে দেশে আলুর উৎপাদন কমে গিয়ে দাম বেড়ে যাওয়া এবং খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। তাই সরকারের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ, ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ ও রপ্তানি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।
অনেক কৃষক আলু ঘরে রেখেও বড় অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন। গঙ্গাচড়া উপজেলার চেংমারী গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, “৩০০ শতক জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। পাইকাররা ৩-৪ টাকা কেজি দর দেওয়ায় ঘরে তুলে রাখি। কিন্তু পচন ধরায় শেষ পর্যন্ত ৫০ বস্তা আলু রাস্তায় ফেলে দিতে হয়েছে। ১০ টাকা কেজিও পেলে অন্তত কিছু ঋণ শোধ করা যেত।” একই গ্রামের কৃষক পারভীন আক্তার ৫০০ শতক জমিতে আলু চাষ করে দেড় লাখ টাকার গরু বিক্রি করেছিলেন। তিনি জানান, বাড়িতে রাখা ২০০ বস্তা আলু টানা বৃষ্টি ও আর্দ্রতায় পচে গেছে। রংপুরের কাউনিয়া, মিঠাপুকুর, পীরগাছা, পীরগঞ্জ, বদরগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় শত শত বস্তা পচা আলু
রাস্তার ধারে ফেলে রাখার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। ক্ষতির পরিমাণ ১,০০০ থেকে ১,৩০০ কোটি টাকা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুসারে, চলতি মৌসুমে রংপুরে ১৬ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। প্রতি কেজিতে ৬-৮ টাকা লোকসান হওয়ায় শুধু মূল্য ধসের কারণেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬৩ কোটি টাকা। হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধি ও পচনের কারণে মোট ক্ষতি ১,০০০ থেকে ১,৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামীতে চাষ কমার আশঙ্কারংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগে আলুর আবাদের এলাকা গত বছরের তুলনায় ২১ হাজার ৯১৯ হেক্টর কমেছে। উৎপাদনও কমেছে প্রায় ৩.৮১ লাখ
টন।চাষিরা বলছেন, প্রতি বছর এমন লোকসানের পর আগামী মৌসুমে অনেকেই আলু চাষে আগ্রহ হারাবেন। পীরগঞ্জের কৃষক মাহমুদুল হাসান বলেন, “সরকার যদি সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা না করে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না করে, তাহলে আলু চাষ আর করব না।” মিঠাপুকুরের কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, “সিন্ডিকেটের কারণে দাম নিয়ে প্রতিবছর টেনশন। সরকার যদি আলু সংগ্রহ অভিযান চালু করে এবং রপ্তানি সহজ করে, তাহলেই সমস্যা কাটবে। না হলে ভবিষ্যতে আলুর উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যাবে।”বর্তমানে আলু রপ্তানিও খুবই কম। এ বছর এখন পর্যন্ত মাত্র ১২৬ টন আলু রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় নগণ্য। কৃষিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি চাষিরা লোকসানের কারণে আলু চাষ ছেড়ে
দেন, তাহলে দেশে আলুর উৎপাদন কমে গিয়ে দাম বেড়ে যাওয়া এবং খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। তাই সরকারের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ, ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ ও রপ্তানি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।



