স্বাধিকার আন্দোলনের অগ্নিঝরা মার্চঃ ৩রা মার্চ ১৯৭১- বঙ্গবন্ধুর আহ্ববানে সারা দেশে হারতাল পালিত, যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত পূর্ব পাকিস্থান – ইউ এস বাংলা নিউজ




শরিফুল হাসান
আপডেটঃ ৩ মার্চ, ২০২৬

স্বাধিকার আন্দোলনের অগ্নিঝরা মার্চঃ ৩রা মার্চ ১৯৭১- বঙ্গবন্ধুর আহ্ববানে সারা দেশে হারতাল পালিত, যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত পূর্ব পাকিস্থান

শরিফুল হাসান
আপডেটঃ ৩ মার্চ, ২০২৬ |
পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) স্বাধিকার ও মুক্তির আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছিল ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথমদিন থেকে। ১ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করার পর থেকে জনতার ক্ষোভ ফুঁসে উঠেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারা প্রদেশে হরতাল পালিত হয়। এই দিনকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়েছে, কারণ এটি ছিল জাতীয় পরিষদের প্রথম অধিবেশনের নির্ধারিত দিন। সারা প্রদেশে অভূতপূর্ব হরতাল ও অসহযোগ আন্দোলনসকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা পূর্ব পাকিস্তানে সম্পূর্ণ হরতাল পালিত হয়েছে। অফিস-আদালত, কল-কারখানা, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট সবকিছু বন্ধ ছিল। রাস্তায় জনতার মিছিল ও

শোভাযাত্রা চলেছে। ঢাকায় পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ছাত্রনেতা রব ও সিরাজুল আলম খান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। বঙ্গবন্ধু উপস্থিত থাকলেও তিনি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা না করে অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের আহ্বান জানান। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন (পাকিস্তান অবজার্ভার, ইত্তেফাক ও অন্যান্য সূত্র অনুসারে): পূর্ব পাকিস্তানে অভূতপূর্ব শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হয়েছে। জনতা অস্ত্রহীন অবস্থায় রাস্তায় নেমেছে। ঢাকা শহর মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ “জয় বাংলা” স্লোগানে মুখরিত। চট্টগ্রাম, যশোর, খুলনায় কিছু সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে অহিংস। বিশেষ ঘটনা: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ ও জাতীয় শোক পল্টন ময়দানে ছাত্রনেতাদের দ্বারা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। এতে বলা হয়েছে:

“বাংলাদেশ স্বাধীন। আমরা বাঙালি জাতি আজ থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করছি।” বঙ্গবন্ধু এই ঘোষণাকে সমর্থন না করে অহিংস আন্দোলনের পথ বেছে নেন। তিনি বলেন, “আমরা অস্ত্র তুলে নেব না, কিন্তু অসহযোগ করব।” এই দিনকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন: “জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তানে শোকের ছায়া। হরতাল সফল।” (পাকিস্তান অবজার্ভার, ৪ মার্চ ১৯৭১) হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভে আলোড়িত পূর্ববঙ্গের কয়েকটি শহর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত। কম করেও ৬৮ জন গুলিবিদ্ধঃ সফল হরতালে জনজীবন স্তব্ধ (যুগান্তর, ৪ঠা মার্চ, ১৯৭১) “ছাত্র-জনতার মিছিলে স্বাধীনতার স্লোগান। বঙ্গবন্ধু অহিংস পথের আহ্বান জানিয়েছেন।” (ইত্তেফাক ও স্থানীয় প্রতিবেদন) পাকিস্থানি সেনাবাহিনীর গুলি ও প্রতিরোধ কিছু স্থানে সেনাবাহিনী কারফিউ ভঙ্গকারীদের ওপর

গুলি চালায়। চট্টগ্রামে সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হয়। তবে সামগ্রিকভাবে জনতা অহিংস থাকার চেষ্টা করে। বঙ্গবন্ধু ২ মার্চের প্রেস কনফারেন্সে বলেন, “এটি গণতন্ত্র নয়, স্বৈরাচার। আমরা প্রতিরোধ করব।” সংবাদপত্রের প্রতিবেদন: “সেনাবাহিনীর গুলিতে কয়েকজন নিহত। জনতা অস্ত্রহীন প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।” (বিদেশি সংবাদপত্র ও স্থানীয় রিপোর্ট) “৩ মার্চ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন হরতাল। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ।” ৭ মার্চের অপেক্ষা বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছেন, ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসভায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। জনতা অধীর আগ্রহে সেই দিনের অপেক্ষায় রয়েছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ৩ মার্চ ছিল অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম পূর্ণ দিন। এই দিনের হরতাল ও জনসভা ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ভিত্তি তৈরি করে, যেখানে বঙ্গবন্ধু বলেন, “এবারের সংগ্রাম

আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এই দিনের ঘটনাবলি পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীনতার দিকে অগ্রসর করে। জনতার প্রতিরোধ অব্যাহত থাকে পুরো মার্চ মাস ধরেই।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নতুন প্রেমে পড়েছেন প্রভা? হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু মমতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়া সায়নী ঘোষ এবার বিদ্রোহী শিবিরে যেসব কারণে খালাস পেলেন ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রী তামিমা বিশ্বকাপে প্রথম মুখোমুখি হতে পারেন মেসি-রোনালদো সাইবার সুরক্ষা আইনে কন্টেন্ট অপসারণসহ যেসব বড় পরিবর্তন আসছে আ.লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেফতার কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামির বাড়িতে আগুন, নিহত ৩ জনই প্রতিবেশী বয়স, লিগ ও তারকার হিসাব-নিকাশে বিশ্বকাপের চিত্র যেমন তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল! ২১ বছর পর ওয়ানডে-তে অস্ট্রেলিয়া বধ কক্সবাজারে মা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ১০ জন মিলে গণধর্ষণ, আইসিইউতে কিশোরী হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন? বাংলাদেশে ছাত্র নিপীড়নঃ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন-কে হত্যা নোয়াখালীতে মিছিলকারী আওয়ামী লীগ কর্মীকে গুলি- বিএনপি-জামাইয়াতের আওয়ামীলীগ নিধনের নীলনকশা ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার সামনে টাইগাররা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের লোভে ৭ ব্যাংকে জিম্মি শিক্ষকদের সারাজীবনের সঞ্চয়