সহস্র বছরের জ্ঞানের বাতিঘর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১২ আগস্ট, ২০২৫

সহস্র বছরের জ্ঞানের বাতিঘর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১২ আগস্ট, ২০২৫ |
কায়রোর আকাশে ভোরের আলো ফুটতেই মিনারের গায়ে এসে পড়ে সোনালি রোদ। নীল নদের হাওয়া ভেসে আসে পুরনো গলিঘুঁজির ভেতর দিয়ে। সেই পুরনো শহরের বুকে দাঁড়িয়ে আছে এক অমর প্রতিষ্ঠান—আল-আজহার। এটি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং সময়ের বুকে খোদাই হয়ে থাকা সহস্র বছরের এক মহাকাব্য, যেখানে মিলেমিশে আছে জ্ঞানের সাধনা, সংস্কৃতির উত্তরাধিকার ও সভ্যতার ইতিহাস। ৯৭০ খ্রিস্টাব্দে ফাতেমীয় খলিফা আল-মু‘ইজ লি-দীনিল্লাহ নতুন রাজধানী কায়রো গড়ে তোলেন। তার নির্দেশে নির্মিত হয় এক শ্বেতপাথরের মসজিদ, নাম রাখা হয় ‘আল-আজহার’ অর্থাৎ উজ্জ্বলতম, নির্মলতম। নামের উৎস নবী মুহাম্মদ সা.–এর কন্যা ফাতিমা আল-জাহরা, যার পবিত্র মর্যাদা ও উজ্জ্বলতার প্রতীক হয়ে দাঁড়াল এই স্থাপনা। প্রথমে এটি ছিল

শুধু উপাসনার স্থান; কিন্তু অচিরেই মসজিদের আঙিনায় শুরু হয় পাঠদান। ৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের—যা আজ বিশ্বের প্রাচীনতম চলমান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম। শুরুতে এখানে পাঠদান হতো কুরআনের তাফসির, হাদিস, ফিকহ, আরবি ব্যাকরণ ও বালাগাত। ক্রমে যুক্ত হয় দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র ও গণিত—সবই ইসলামী নৈতিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে। একসময় যখন ইউরোপ ডুবে ছিল মধ্যযুগের অন্ধকারে, তখন আল-আযহারের প্রাঙ্গণ থেকে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়ত আন্দালুসিয়ার পথে, হয়ে পৌঁছাত ইউরোপের নবজাগরণের দ্বারে। আফ্রিকার মরুভূমি থেকে এশিয়ার সাগরপাড় পর্যন্ত, সুদূর মালয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে মরক্কোর অন্তরীপ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ছুটে আসত এই বিদ্যাপীঠে। ইতিহাসের ঝড়ঝাপটা থামাতে পারেনি আল-আজহারকে। ফাতেমীয় শাসনের পতনের পর

আইয়ুবী রাজবংশ ক্ষমতায় এসে শিয়া প্রভাব হ্রাস করলেও এর আলোকরশ্মি নিভে যায়নি। বরং মমলুক যুগে এবং পরবর্তীতে উসমানীয় শাসনে আল-আজহার হয়ে ওঠে সমগ্র ইসলামী বিশ্বের জ্ঞান, ফতোয়া ও নৈতিক দিকনির্দেশনার সর্বোচ্চ কেন্দ্র। এখান থেকে নির্ধারিত হতো ধর্মীয় মতবাদ, সামাজিক দিকনির্দেশনা, এমনকি রাজনৈতিক অবস্থানও। এর টিকে থাকার অন্যতম রহস্য ছিল ওয়াকফ—দান ও ট্রাস্টের অর্থনৈতিক কাঠামো। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্যবসায়ী, শাসক ও সাধারণ মানুষ সম্পদ দান করেছেন আল-আজহারে, যা একে দিয়েছে রাজনৈতিক চাপ থেকে স্বাধীনতা এবং জ্ঞানচর্চার অবিচল শক্তি। এই স্বনির্ভরতা একে করেছে কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং জ্ঞানের সার্বভৌম দুর্গ। প্রাচীন আল-আজহারের পাঠদানের দৃশ্য ছিল অনন্য। শিক্ষক বসতেন মসজিদের স্তম্ভের পাশে,

শিক্ষার্থীরা গোল হয়ে তার চারপাশে। পাঠ চলত পাণ্ডুলিপি হাতে, আলোচনার মাধ্যমে। পরীক্ষা ছিল মৌখিক, আর সনদ মানে ছিল শিক্ষকের অনুমোদন—যা শুধু জ্ঞানের স্বীকৃতি নয়, নৈতিক আস্থারও প্রতীক। আজকের আল-আজহার বিশাল পরিসরে বিস্তৃত। ইসলামী জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি এখানে সমান গুরুত্বে পড়ানো হয় চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক বিজ্ঞান। এর অধীনে রয়েছে হাজারো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। আন্তর্জাতিক পরিসরে মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় ও নৈতিক দিকনির্দেশনায় আল-আজহারের বক্তব্য আজও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও প্রভাবশালী বলে বিবেচিত। আল-আজহারের আঙিনায় দাঁড়ালে মনে হয় সময় থমকে গেছে। মিনারের ছায়া পড়ে প্রাচীন ইটের গায়ে, লাইব্রেরির ধুলোমাখা পাণ্ডুলিপি ফিসফিস করে সহস্র বছরের গল্প বলে। এখানে হাঁটলে অনুভব

করা যায় নানা ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বপ্নের এক বিশাল মেলবন্ধন। রাজা-বাদশাহ এসেছে, গেছে; সাম্রাজ্য উঠেছে, ভেঙে পড়েছে; মানচিত্র রক্তে রঙিন হয়েছে—কিন্তু আল-আজহারের প্রদীপ কখনও নিভে যায়নি। তার আলো এখনও জ্বলে, জ্বালায় মন ও বুদ্ধির প্রদীপ, আর প্রতিদিন নতুন প্রজন্মকে ডেকে নেয় সত্য ও জ্ঞানের পথে। যতদিন মানুষ থাকবে অনুসন্ধানী, ততদিন কায়রোর এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠ হয়ে থাকবে মানব সভ্যতার অবিনাশী আলোকস্তম্ভ। লেখক: শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
৭৯ জনের বিশাল লটবহর নিয়ে ইউনূসের আজারবাইজান সফরে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থব্যয় চবি শাটল ট্রেনে রাজবন্দিদের মুক্তি চেয়ে ছাত্রলীগের পোস্টার দেখে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্পর্কে অসত্য তথ্য দিচ্ছেন মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো প্রাণ বাঁচাতে পালাচ্ছেন নিহত উক্যছাইং-এর পিতা প্রতি সিগারেট সর্বনিম্ন ১৭, সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব ২৪-২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের ৪৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ইউনূস-নুরজাহান জুটির ব্যয় মাত্র ১৭% পৃথিবীর কোনো দেশ আমাদের মতো দ্রুত টিকা যোগাড় করতে পারেনি, দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চট্টগ্রামে বেপরোয়া শিবির-সাজ্জাদের বাহিনী: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা না দিলে শরীর ঝাঁজরা করে দেওয়ার হুমকি বৈদেশিক ঋণে জর্জরিত পাকিস্তান, ৯ মাসে বৃদ্ধি ২০ শতাংশ: বাড়ছে দাতা সংস্থার চাপও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর কারণ খুঁজতে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি ‘ব্যাগ ভরে টাকা নিলে মিলছে পকেট ভরা বাজার’, লাগামহীন দামে মেজাজ চড়া ক্রেতাদের বিবাহবিচ্ছেদের পর যেভাবে শাহিদকে বড় করে তোলেন নীলিমা আজিম ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত পরিকল্পিতভাবে মুসলিম ভোট সরিয়ে কি বিজেপিকে জেতানো হলো? ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ঘটনা সাজানো মনে করেন মার্কিনিরা কে-পপের পথেই এবার কে-বিউটি চালু হচ্ছে ‘ই-লোন’ সেবা, ঘরে বসেই মিলবে ব্যাংক ঋণ চীনা প্রেসিডেন্টের চার দফা শান্তি প্রস্তাবে সমর্থন ইরানের স্কুলে যাওয়ার কথা বলে একসঙ্গে ৪ ছাত্রী নিখোঁজ আইসিসির সুখবর পেলেন সৈকত