সংরক্ষিত বনের ভেতরে এলজিইডির রাস্তা: বন বিভাগের আপত্তি উপেক্ষা করে অনড় স্থানীয় সংসদ সদস্য – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৯ জুন, ২০২৬

সংরক্ষিত বনের ভেতরে এলজিইডির রাস্তা: বন বিভাগের আপত্তি উপেক্ষা করে অনড় স্থানীয় সংসদ সদস্য

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৯ জুন, ২০২৬ |
পরিবেশ আইন ও বন বিভাগের তীব্র আপত্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ‘বৈতরণি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে’র বুক চিরে চলছে দুটি সড়ক নির্মাণের কর্মযজ্ঞ। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে পাহাড় ও টিলা কেটে বনের ভেতরে এই রাস্তা বানানোর নেপথ্যে খোদ স্থানীয় সংসদ সদস্যের তৎপরতা ও ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) দেওয়ার তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ১ হাজার ৫৩১ একরের এই বিশাল চিরহরিৎ বনাঞ্চল খণ্ডিত হলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হবে এবং গাছ চোর ও ভূমিদস্যুদের অবাধ রাজত্ব তৈরি হবে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় আইআরআইডিপি-৩ প্রকল্পের অধীনে সাতকানিয়ার দোহাজারী রেঞ্জের বৈতরণি বিটের ভেতর

দিয়ে দুটি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয় প্রায় আট মাস আগে। সড়ক দুটি হলো— ‘বড়ুয়া পাড়া সড়ক’ (৫৭০ মিটার) এবং ‘সুয়ালক সেতু থেকে সিদ্দিক খামার সড়ক’ (৬০০ মিটার)। বন বিভাগের নথি বলছে, বড়ুয়া পাড়া সড়কের পুরো অংশই এবং সিদ্দিক খামার সড়কের প্রায় ১৭০ মিটার সরাসরি সংরক্ষিত বনের ভেতরে পড়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বনের ভেতরের উঁচু পাহাড় ও টিলা কেটে ইতিপূর্বেই সড়কের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, টিলার গায়ে রয়ে গেছে মাটি কাটার ক্ষতচিহ্ন। অথচ এই রাস্তার আশেপাশে মাত্র তিন থেকে চারটি ঘর ছাড়া আর কোনো জনবসতিই নেই! সংরক্ষিত বনের ভেতর রাস্তা তৈরিতে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই লিখিত আপত্তি জানিয়ে আসছে বন বিভাগ। গত

১৭ই মে বন বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সড়ক নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিক ভূপ্রকৃতি নষ্ট হয়েছে এবং বর্ষায় মারাত্মক ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে রাস্তা হলে মানুষের যাতায়াত বাড়বে, যার সুযোগ নিয়ে বন দখল, গাছ কাটা ও বনসম্পদ পাচারের ঝুঁকি তৈরি হবে। বনের ভেতর এ ধরনের সড়ক নির্মাণের কোনো আইনি সুযোগ নেই।” বন বিভাগের বাধার মুখে এলজিইডি কাজ সাময়িক বন্ধ রাখলেও সড়কটি করতে মরিয়া স্থানীয় সংসদ সদস্য (চট্টগ্রাম-১৪) মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন আহমেদ। তিনি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠিয়েছেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা

করে সড়ক দুটি দরকার। সেখানে রাস্তাঘাটের অবস্থা খুব খারাপ। আমি ডিও লেটার দিয়েছি মানুষের স্বার্থে। তবে বনের জায়গায় সমস্যা থাকলে ওই অংশ বাদ দিয়ে বাকি কাজ করা যেতে পারে।” এলজিইডির চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল মতিন জানান, এমপির মৌখিক অনুরোধ ও ছবি পাঠানোর পরও বন বিভাগের লিখিত অনুমতি না থাকায় তাঁরা ঠিকাদারকে নতুন করে কাজ শুরুর অনুমতি দেননি। দেশের আইনপ্রণেতা হয়ে সংরক্ষিত বন ধ্বংসের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে চরম উদ্বেগজনক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্বও বন রক্ষা করা। তাই কোনো

সংসদ সদস্যের উদ্যোগে সংরক্ষিত বনের ভেতর সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে।” পরিবেশ ও উন্নয়ন—এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে এখন থমকে আছে বৈতরণির পাহাড় কাটার কাজ। তবে সচেতন মহলের দাবি, উন্নয়নের নামে জলবায়ু সংকটের এই যুগে ফুসফুসসম সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় করার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করা হোক।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
‘আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না’—বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম পর্তুগালের বিশ্বকাপ ‘এখনই শেষ হয়ে যায়নি’: রোনালদো ৮০% ছেলেই আনফিট তাই ছাত্রীকে লিভ টুগেদারের প্রস্তাব অধ্যাপকের এক হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক জুলাইযোদ্ধাকে গণপিটুনির পর পুলিশে সোপর্দ, করতেন মাদকবিরোধী সংগঠনও ফেনীতে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলের জেরে ৫ ছাত্রলীগ কর্মীকে আটকের পর কারাগারে সংরক্ষিত বনের ভেতরে এলজিইডির রাস্তা: বন বিভাগের আপত্তি উপেক্ষা করে অনড় স্থানীয় সংসদ সদস্য সাভারে মাদ্রাসার টয়লেট থেকে পাকিস্তানে তৈরি রিভলবার-গুলি উদ্ধার একাত্তেরর লজ্জাজনক পরাজয়ের পর আবারও বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানি সাবমেরিন হামে শিশুমৃত্যুর দায়ে ইউনূস-নুরজাহানের বিচার দাবিতে মহাখালীতে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল গুপ্ত সংগঠন শিবির নেতা জিসানের পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল দ্বিতীয় ম্যাচের আগে সুখবর পেল ব্রাজিল ঐতিহাসিক চুক্তিতে ইরানের বিজয় চাইনিজ স্ক্যামারদের কাছে তরুণদের ডলারে বিক্রি ইরান থেকে তেল কেনার উদ্যোগ ক্রিপ্টোতে প্রতিদিন পাচার কয়েকশ কোটি টাকা পাকিস্তানের চা, আতিথেয়তা ও বিয়ের ঐতিহ্যের প্রেমে মার্কিন কূটনীতিক এক আপেল, দুই রঙ! নিউজিল্যান্ডে বিরল আপেল দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় জীবিত বাবাকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ বলা নিয়ে মুখ খুললেন জামায়াত এমপি সবার সামনে সামান্থাকে ‘লাভ ইউ’ বলতে নারাজ রাজ, কিন্তু কেন? ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়া খুবি অধ্যাপকের কুশপুত্তলিকা দাহ, জুতা নিক্ষেপ